Wednesday, 21 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

গত বছর ঈদে হুমায়ূন আহমেদ মায়ের জন্য আমেরিকা থেকে একটি দামি সোয়েটার পাঠিয়েছিলেন : ঈদের কথা স্মরণ করে হুমায়ূন জননীর চোখে জল

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 48 বার

প্রকাশিত: August 17, 2012 | 3:43 PM

আলমগীর শাহরিয়ার: গত বছর ঈদে হুমায়ূন আহমেদ মায়ের জন্য আমেরিকা থেকে একটি দামি সোয়েটার পাঠিয়েছিলেন। ঈদের দিন ফোন করে দীর্ঘ সময় মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছেন। খোঁজখবর নিয়েছেন শরীর স্বাস্থ্যের। গত ঈদের সময়কার স্মৃতিচারণ করে হুমায়ূন জননীর চোখে এবার কেবল জল আর জল। সময়ের ব্যবধানে মাত্র একটি বছর। আমেরিকার নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কঠিন কর্কটক্রান্তি রোগের সঙ্গে সংগ্রাম করে পরাস্ত লেখক হুমায়ূন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পরিবার পরিজন আর জননী আয়েশা ফয়েজের সঙ্গে কোনদিন ঈদ করবেন না। মাকে নিয়ে ধানমন্ডির দখিন হাওয়া থেকে ছোট ভাই আহসান হাবিবের পল্লবীর বাসায় যাবেন না। মাসব্যাপী রমজানের পর মানুষজন ঈদ-আনন্দের উৎসব আয়োজনে ব্যতিব্যস্ত। এমন সময় গত পরশু শোকার্ত জননী আয়েশা ফয়েজের সঙ্গে দেখা করে কুশল জানার পর ঈদ প্রসঙ্গ তুললে বলেন, এই ঈদ কি আর আমার জন্য? শোকে কাতর জননী সন্তানের সঙ্গে কাটানো ঈদের স্মৃতিচারণ করলেন। বললেন, ১৯৯৯ সালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ করেছিলেন নেপালে। অনেক আনন্দ হয়েছিল সেবার। সে যাত্রার সবাই আছে, কেবল নেই একটি মানুষ। জানালেন, আমেরিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার প্রবল বিশ্বাস ছিল হুমায়ূন সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন। লক্ষ কোটি মানুষের দোয়া ও ভালবাসা তাকে আরও সাহস যুগিয়েছিল। কিন্তু এমন অকালে চলে যাওয়ার অবর্ণনীয় কষ্ট এ মায়ের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করছে নিরন্তর। সে বেদনা ফুটে ওঠে যখন বলেন, ও আমাকে কবর দেবে, আমি কেন ওকে কবর দেবো? মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের সবচেয়ে নির্ভরশীল মানুষটিকে হারিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তিনি হারিয়েছিলেন তার প্রিয়তম স্বামী। নিজের জীবনের এসব সুখ দুঃখের গল্প লিখেছেন তার ২০০৮ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘জীবন যে রকম’ গ্রন্থে, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের পর বেঁচে থাকার জন্য আমি আমার সংগ্রাম শুরু করেছিলাম। আমার সেই সংগ্রাম শেষ হয়েছে। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে, মানুষ হয়েছে। তাদের নিজেদের ছেলেমেয়ে, সংসার হয়েছে। সবাইকে নিয়ে পৃথিবীর এক মাথা থেকে আরেক মাথাজুড়ে আজ আমার কত বড় সংসার। একা শুরু করেছিলাম, এখন আর একা নই, পাশে কতজন এসে দাঁড়িয়েছে।’ মুক্তিযুদ্ধে স্বামী হারিয়ে অসহায় পরিবার নিয়ে কঠিন সংগ্রাম করে গড়ে তুলেছিলেন সংসার। দেশের উজ্জ্বল ব্যতিক্রম মা হিসেবে ভূষিত হয়েছেন রত্নগর্ভা মা পুরস্কারে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হারালেন প্রিয়পুত্র হুমায়ূন আহমেদকে। সে শোকে বিপর্যস্ত জননী আসছে ঈদে সন্তানকে দেখতে পাবেন না স্মরণ করে নীরবে অশ্রু ফেললেন। কথা প্রসঙ্গে বলেন, তার শহীদ স্বামী ফয়জুর রহমান কোন সম্পদ রেখে যাননি। সন্তানদের জন্য রেখে গিয়েছিলেন নীতি ও আদর্শের শিক্ষা। সে পথ ধরে আজ হাঁটছেন সবাই। কথা প্রসঙ্গে আরও জানা গেল, ঈদে প্রিয় সন্তানকে কাছে পাবেন না তবে সন্তানের কবর দেখতে যাবেন নুহাশ পল্লীতে। কথা বলার এক ফাঁকে সঙ্গে থাকা মানবজমিন ঈদ সংখ্যা এগিয়ে দিই তার দিকে। তিনি একের পর এক পাতা ওল্টান। বিভিন্ন জায়গায় হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লেখা ও ছবি দেখে পরম মমতায় তাকান। কিছু পড়েনও। সবশেষে ঈদ সংখ্যার সাদা কালো প্রচ্ছদে হুমায়ূন আহমেদের ছবির দিকে নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকেন অনেকক্ষণ। আহসান হাবীবের পল্লবীর বাসার ছিমছাম পরিপাটি বসার ঘরে পশ্চিম দেয়ালে র‌্যাকে রাখা বইয়ের বিশাল সংগ্রহ। আছে হুমায়ূন আহমেদের একটি বিশাল পোর্ট্রেটও। একবার ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ, আরেকবার পোট্রেটের দিকে তাকান। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে নতুন করে খোঁজে পেয়ে যেন মিল অমিল খোঁজেন। আলগোছ সযতনে প্রচ্ছদে হাত বোলান। প্রিয় সন্তানের মুখাবয়বে জননীর আদরমাখা হাত। প্রচ্ছদের এক কোণে চাঁদের দিকে তাকান। হয়ত অনুভব করেন হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় জ্যোৎস্না প্রহর। চোখে পরা চশমার ফাঁক গলে নীরবে গড়িয়ে পড়ে ক’ফোঁটা অশ্রু। জিজ্ঞেস করতে কৌতূহল হয়, হুমায়ূন জননীর কি তখন মনে পড়েছে সন্তানের লেখা গানের কথাগুলো, চান্নি পসর চান্নি পসর আহারে আলো/কে বেসেছে কে বেসেছে তাহারে ভাল/কে দিয়েছে নিশি রাইতে দুধের চাদর গায়/কে খেলেছে চন্দ্র খেলা ধবল ছায়ায়।মানবজমিন
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ