গুরুতর সব অভিযোগ তবু বহাল বাংলাদেশের তিন রাষ্ট্রদূত
রাহীদ এজাজ : পরিবারের লোকজন নিয়োগ দিয়ে দূতাবাস চালাচ্ছেন ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। ওমানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ‘অসৌজন্যমূলক আচরণের মাধ্যমে’ সে দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। আর নেপালের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দূতাবাসে আত্মীয়করণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভিসা ফি আদায়ের অভিযোগও উঠেছে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাজেদা রফিকুন্নেছার বিরুদ্ধে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিজ পরিবারের তিন সদস্যকে দূতাবাসে নিয়োগ দিয়েছেন পেশাদার কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত মাজেদা রফিকুন্নেছা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বোন মাকসুদা সাফিউন নেছাকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন। ছয় মাসের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত মাকসুদার বেতন ধরা হয়েছে ফিলিপাইনের মুদ্রায় ২৪ হাজার পেসো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ হাজার টাকা)। ৭ অক্টোবর স্বামী আবদুল মান্নান মিয়াকে ছয় মাসের জন্য সেক্রেটারি বা কনস্যুলার কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রদূত। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের বেতনও ধরা হয়েছে ২৪ হাজার পেসো। মেয়ে নওমী মান্নানকে স্থানীয় সচিব পদে নিয়োগে দিয়েছেন তিনি। তাঁর বেতন ধরা হয়েছে ২২ হাজার পেসো বা প্রায় ৪৪ হাজার টাকা।
এই রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভিসা ফি আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। সাড়ে চার হাজার পেসো ভিসা ফির জায়গায় তিনি আদায় করছেন সাড়ে সাত হাজার পেসো।
জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত মাজেদা রফিকুননেসা ৩ মার্চ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না। আমি আমার বক্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওমানের রাজধানী মাসকটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ করছেন। গত বছরের শুরুতে ওমানের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সামনে দেশটি সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এর পর থেকে ওমান সরকারি পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখছে না।
সাবেক সাংসদ নুরুল আলম চৌধুরী ২০১০ সালের মে মাসে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন। ওমানে কর্মরত বাংলাদেশি ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমানে প্রবাসীদের সংগঠন বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে সে দেশের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন রাষ্ট্রদূত। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা। তাঁরা তাঁদের অসন্তোষ লিখিতভাবে জানান। পরে রাষ্ট্রদূত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কোনো মন্ত্রণালয় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে না।
রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দেন। ৩ মার্চ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্পর্ক যদি খারাপ হয়, তাহলে বাংলাদেশের এক লাখ ৪০ হাজার লোক আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কীভাবে এল?’
নুরুল আলমের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের মধ্যে আঞ্চলিকতা উসকে দেওয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, তা-ও নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এসব যারা বলছে, তারা কুৎসা রটাচ্ছে।
জাকার্তায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনেন জর্ডানের এক নারী। দেশটির রাজধানী আম্মানে দায়িত্ব পালনের সময় গোলাম মোহাম্মদ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে উল্টো বেকায়দায় পড়েন আম্মানে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কাজ করেছেন এমন এক কর্মী। আর ঢাকায় কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি অনু বিভাগের মহাপরিচালক মুহাম্মদ শামসুল হকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বারবার তদন্ত দল পাঠানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কূটনীতিক বলেন, একই ধরনের অভিযোগে মুজিবর রহমান ভুঁইয়াকে দ্রুত টোকিও থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু গোলাম মোহাম্মদ এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। তিনি বলেন, কূটনীতিকদের পেশাগত উৎকর্ষতার স্বার্থেই শৃঙ্খলার বিষয়টি জরুরি।
টোকিওতে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুজিবর রহমান ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দূতাবাসে কর্মরত এক জাপানি নারী শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ আনেন। এরপর দ্রুত একটি তদন্ত দল পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি এখন পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে সংযুক্ত আছেন।
নিম চন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ঝুলাঝুলি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠমান্ডুতে রাষ্ট্রদূত নিমচন্দ্র ভৌমিকের বিরুদ্ধে গত বছরের মে মাসে করা তদন্তে বেশ কিছু অভিযোগের প্রমাণ মেলে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুস্তাফা কামালের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি গত জুলাইয়ে বলেছিলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত দল কাঠমান্ডু যাবে। গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরেকটি তদন্ত দল কাঠমান্ডু সফর করে। বেইজিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদের নেতৃত্বাধীন দলটি বেশ কয়েক দিন নেপালে অবস্থান করে অভিযোগের সত্যতা পান। নিম চন্দ্রের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে আছে আর্থিক অনিয়ম, কূটনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত আচরণ ও ছাত্র ভর্তিতে ঘুষ গ্রহণ। প্রথম তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে সে ধরনের জোরালো কোনো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, নিম চন্দ্রের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রথম আলো
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








