কক্সবাজার জেলার রামুর ১১টি বৌদ্ধ বিহার ও ২০ টি বাড়িতে আগুন : রামু তাণ্ডবে বিএনপি এমপির মদদ, বিদেশি অপশক্তি জড়িত!
চট্টগ্রামে বৌদ্দদের বাড়ি জালীয়ে দেয়া হচ্ছে, মন্দির ভাংগা হচ্ছে পুলিশ নিরব দর্শক!
http://www.youtube.com/watch?
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করে ছবি সংযুক্ত করায় কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ১১ টি বৌদ্ধ বিহার ও ২০ টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে উত্তেজিত জনতা। এছাড়াও তারা বুদ্ধ মূর্তি ভাংচুর করেছে বলেও জানা গেছে। গতকাল শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০ টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে রামুর চৌমুহনীতে জমা হতে থাকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। একপর্যায়ে তারা চৌমুহনীর বাস স্টেশনের পার্শ্ববর্তী বৌদ্ধ পল্লীতে হানা দেয়। এ সময় তারা উত্তর পাশের বড়ুয়া পাড়ায় প্রায় ১৫টি বসত ঘর পুড়িয়ে দেয়। ৫০টিরও বেশি বসত ঘর এবং দোকানপাট ভাংচুর করে। ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলে প্রশাসনের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।
রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, উত্তম কুমার বড়ুয়া নামের এক ফেইসবুক আইডিতে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করে ছবি সংযুক্ত করা হয়। মুহুর্তেই এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মুসল্লীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ‘পবিত্র কোরআন শরীফের অবমাননা মুসলমানরা কোনদিন মেনে নেবে না’ তারা শ্লোগানের মাধ্যমে বলেন, ।
যেসব মন্দির অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেগুলো হল, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার, মৈত্রী বিহার, বড় ক্যাং, লাল চিং, সাদা চিং, উত্তর মিঠাছড়ি বনবিহার, ভূবন শান্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, উখিয়ার ঘোনা জেতবন বিহার, জাদি পাড়া আর্য্য মিত্র বিহার, উত্তর ফতেখাঁরকুল বিবেকারাম বিহার, চাকমারকুল বড়ুয়া পাড়া বিহার।
রামু তাণ্ডবে বিএনপি এমপির মদদ, বিদেশি অপশক্তি জড়িত!
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বৌদ্ধবসতিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। এ ঘটনার পেছনে ঘটনার মৌলবাদীরা ছাড়াও স্থানীয় বিএনপির সংসদ সদস্য জড়িত রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিদেশি কয়েকটি মৌলবাদী সংগঠন উস্কানি দিয়েছে । তবে আগামীকালের মধ্যে ঘটনা সঙ্গে কারা জড়িত তা জানা যাবে।
আজ রবিবার সন্ধ্যায় রামু উপজেলার ১১টিবৌদ্ধ মন্দির ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন শেষে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর একথা বলেন। পুরনো বিমানবন্দরে হেলিকপ্টার থেকে নেমেই তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলিপ বড়ুয়া, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন, র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান ও র্যাবের ইন্টেলিজেন্ট উইংয়ের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল হাসান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামুর এ ঘটনার সঙ্গে বিদেশি সামপ্রদায়িক অপশক্তি জড়িত। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় এলাকাবাসী জানান, ব্যাপক পরিমান গান পাউডার, বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্য কেরোসিন ও পেট্রোল ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার মূল হোতা উত্তম বড়ুয়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার কর্মচারী। ঘটনার পর থেকে উত্তম বড়ুয়া নিখোঁজ রয়েছে। তারা বাবা নেই, বোন ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঐ কমিটি ১০ দিনের মদ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে।
ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সেনাবাহিনী ও র্যাবের পক্ষ থেকে ৩০টি তাবু সরবরাহ করা হয়েছে। পাশপাশি ত্রান ও পুর্নবাস মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে পর্যন্ত পরিমানে খাবারের ব্যবস্থা এবং গৃহ নির্মানের জন্য স্থানীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ হামলা পূর্বকরিকল্পিত না হলে এটা সম্ভব হতো না। হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে দ্রূত বিচারের আওতায় আনার সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে। এর আগে কক্সবাজারেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, দুপুরে রামুর ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনায় জড়িত দূর্বৃত্তদেরও শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি ও আওয়ামীলীগ সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে, ভিন্ন রাজনীতির কতিপয় নেতাকর্মিসহ উগ্র মৌলবাদিরা মন্দির ও বসতঘরে অগ্নি সংযোগ এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। এদেশে সকল সমপ্রদায়ের সম অধিকারে ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি ধর্মে মর্যাদা রক্ষা করাও সকল সমপ্রদায়ের লোকদের সম দায়িত্ব। কতিপয় ব্যক্তির সামাজিক সাইটের বিষয়টিকে নিয়ে যারা বৌদ্ধ বিহারসহ বাড়িঘর পুড়ে দিয়েছে, তাদের দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।
এসময় পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত বিহারের ও বসতঘর পুড়ানোর ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে তিনি পুলিশের কমকর্তাদের নির্দেশ দেন।
শিল্পী মন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া বলেন, অসামপ্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ এদেশের সম্মানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিনষ্ট করতে কিছু স্বার্থান্বেষী ও উশৃংখল সংগঠন উঠে পড়ে লেগেছে। মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত এ সম্মানকে ভূলণ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে, দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








