চলে গেলেন ‘আইগড’ খ্যাত প্রযুক্তির ভবিষ্যত্দ্রষ্টা স্টিভস জবস

আইটি কর্ণার ডেস্ক : আইপড, আইফোন, আইপ্যাড, আইম্যাক ইত্যাদি বিশ্বসেরা ‘আই’ পণ্যগুলো দিয়ে ‘আই জেনারেশন’কে প্রযুক্তিপণ্যে বুঁদ করে রাখার সুবাদে প্রযুক্তিভূবনের ‘আইগড’ খ্যাতি পাওয়া প্রযুক্তির ভবিষ্যত্দ্রষ্টা স্টিভস জবস প্রয়াত হয়েছেন। শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক সিইও স্টিভ জবস অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার অ্যাপল এর ওয়েবসাইটে এই খবরটি নিশ্চিত করা হয়। ৫৬ বছর বয়সী স্টিভ জবস মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক কন্যা এবং দুই পুত্র রেখে গেছেন। তিনি ২০০৪ সাল থেকে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে ভুগছিলেন।
চলতি বছরের ২৪ আগস্ট স্টিভ জবস শারীরিক অসুস্থতজনিত কারণে অ্যাপল এর সিইও পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তবে তিনি অ্যাপল এর চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন এবং অ্যাপল এর নীতি নির্ধারণী নানান বিষয়ে নিজেকে জড়িত রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেনসৃজনশীলতা ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জবসের অসামান্য দক্ষতার কারণে অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম প্রধান কম্পিউটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ক্রমে অ্যাপল ও স্টিভ জবস পরস্পরের সমার্থক হয়ে ওঠে। এখানে উল্লেখ্য, বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের হিসেব অনুযায়ী ২০১০ সালে জবসের সম্পদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ৬.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। সেই হিসেব অনুযায়ী আমেরিকার ধনীদের তালিকায় জবসের অবস্থান ৪২ নম্বরে।
স্টিভ জবস এর মৃত্যুর খবর জানিয়ে অ্যাপল এর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজকের বিশ্বের অগণিত উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছে স্টিভ জবস এর উদ্ভাবনী শক্তি, মেধা এবং প্রাণশক্তি যা পৃথিবীকে সময়ের চেয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তার মৃত্যুতে অ্যাপল হারালো একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং সৃজনশীল প্রতিভাকে; আর বিশ্ব হারালো একজন অসাধারণ মানুষকে।
তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাম ওবামা বলেছেন, একজন উদ্ভাবক হিসেবে স্টিভ জবস ছিলেন ভিন্ন ধারায় চিন্তা করার মত সাহসী। তিনি বিশ্বাস করতেন তিনি পৃথিবীকে বদলে দিতে সক্ষম এবং সে ক্ষমতা প্রকৃত অর্থেই তার ছিল। তার মৃত্যুতে পৃথিবী একজন স্বপ্নদ্রষ্টাকে হারালো।
প্রযুক্তি বিশ্বে শোকের ছায়া ঃ স্টিভ জবস এর মৃত্যুতে প্রযুক্তি বিশ্বেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অ্যাপল এর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্টান ফেসবুক বা মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তিরাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, স্টিভ জবস এর মাধ্যমে পৃথিবী এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ করেছে। আগামী কয়েক প্রজন্ম বিশ্বব্যাপী তার প্রভাব অনুভব করবে। তার সাথে আমরা যারা কাজ করতে পেরেছি, তারা নিজেদের ধন্য মনে করি। অন্যদিকে, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ বলেছেন, স্টিভ জবস দেখিয়েছেন কীভাবে একজন তার নির্মিত পণ্যের দ্তারা বিশ্বকে বদলে দিতে পারেন। এদিকে সনি কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও জানিয়েছেন স্টিভ জবস এর মৃত্যুতে ডিজিটাল যুগ তার আলোকবর্তিকাকে হারালো।অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শোকবার্তা জানানো হয়।
স্টিভ জবস এবং অ্যাপল ঃ সত্তরের দশকে স্টিভ জবস এবং তার বন্ধু ওজনিয়াক একসঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। সেই থেকে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে এক নতুন যুগকে যে যুগের মূলে রয়েছে স্টিভ জবস এর অসামান্য মেধা, দূরদর্শিতা এবং সৃজনশীলতার স্বাক্ষর। বর্তমান বিশ্ব যে পার্সোনাল কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তার সূত্রপাত ওই স্টিভ জবস এবং ওজনিয়াক এর প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। আশির দশকে অ্যাপল পৃথিবীকে পরিচয় করিয়ে দেয় এই অভাবনীয় যন্ত্রের সাথে। এরপর অভ্যন্তরীন কোন্দলের শিকার হয়ে আশির দশকের মাঝামাঝি স্টিভ জবস অ্যাপল ছেড়ে দিলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপলকে পার করতে হয় এক কঠিন সময়।
এই সময়ে অবশ্য তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আরেক বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যানিমেশন চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিক্সার প্রতিষ্ঠা করেন। এই পিক্সার এর হাত ধরেই টয় স্টোরি, আ বাগস লাইফ, মনস্টার ইনক, ফাইন্ডিং নিমো, কারস এর মত বিশ্বের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় সব অ্যানিমেশন ছবি তৈরি হয়।
ক্রমাগত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় অ্যাপলকে। পাশাপাশি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং অন্যান্য সফটওয়্যার দিয়ে মাইক্রোসফট তখন পরিণত হয় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানে। শেষ পর্যন্ত আবার অ্যাপল এ ফিরে আসেন স্টিভ জবস। আর তারপরেই চলতি দশকের শুরু থেকে বিশ্ব আবার প্রত্যক্ষ করে একজন দূরদর্শী এবং অসামান্য সৃজনশীল ব্যক্তির প্রতিভার চূড়ান্ত স্বাক্ষর। একে একে তৈরি হল আইপড, আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাকবুক এর মত বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তম সব পণ্য। বিশ্বব্যাপী সঙ্গীতশিল্প যখন ডিজিটাল পাইরেসি সংক্রান্ত বিষয়ে নাকাল, তখন তিনি নিয়ে এলেন আইপড এর মত অভাবনীয় এক পণ্য। তার উদ্ভাবনীর স্বাক্ষরের তালিকায় আরো রয়েছে আইটিউনস স্টোর এবং অ্যাপ স্টোর। মোবাইল ফোনের বিস্তার যখন পৃথিবী জুড়ে, তখন তিনি নিয়ে এলেন আইফোন। প্রচলিত সব ফোনকে টেক্কা দিয়ে বিশ্ব এই প্রথম দেখল স্পর্শকাতর পর্দা কী করে দখল করে নেয় পৃথিবীকে। আর তারপর অ্যাপল এর আইপ্যাড তো বদলে দিয়েছে কম্পিউটিং এর ইতিহাস। এভাবেই তার কর্মজীবনের পুরো সময়টা জুড়েই পৃথিবীকে উপহার দিয়েছেন বৈপ্লবিক সব প্রযুক্তি। আর তার কারণেই আজ বিশ্ব হারাল একজন প্রকৃত স্বপ্নবাজকে যিনি নিজের ক্ষমতার উপর পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ভরশীল এবং তার স্বপ্ন দিয়ে বদলে দিতে পারেন সময়কে।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








