Monday, 27 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

চিকিৎসায় অবহেলা- ক্ষতিপূরণ বাবদ ২২৪ কোটি টাকা পেলেন নিউইয়র্কে এক বাংলাদেশী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 27 বার

প্রকাশিত: February 6, 2013 | 2:10 PM

 এনা, নিউইয়র্ক : চিকিৎসায় অবজ্ঞা ও গাফিলতির খেসারত হিসেবে নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের সন্নিকটে অবস্থিত এলমহার্স্ট হাসপাতালকে ২৮ মিলিয়ন ডলার (২২৪ কোটি টাকা) দিতে হচ্ছে এক বাংলাদেশীকে। ক্ষতিপূরণ আদায়ের এ মামলা পরিচালনা করেন ট্রায়াল এটর্নি এডওয়ার্ড রাফেল এবং তার সহযোগিতায় ছিলেন বাংলাদেশী এটর্নি মঈন চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রে কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে এই প্রথম কোন বাংলাদেশী এত অধিক পরিমাণের ক্ষতিপূরণ পেলেন। গত ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার বাংলাদেশী শিশুর পক্ষে নিউ ইয়র্ক সিটির হাসপাতালের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলার এ রায় দেয়া হয়। মামলার বিবরণে প্রকাশ, গত ২০০৯ই সালে ৩ বছরের একটি বাংলাদেশী শিশু জ্বর ও খিচুনি নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটির এলমহার্স্ট হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু যে সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল তার সঠিক কারণ ডাক্তাররা শনাক্ত করতে পারেননি। এই কারণে প্রায় ৪ দিন পর শিশুটি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে মা-বাবার অনুরোধে ডাক্তাররা শিশুটিকে নিউ ইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসার পর ডাক্তাররা শিশুটিকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। কিনু্ত শিশুটির মস্তিষ্কের নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যায়। এর ফলে শিশুটি চির জীবনের জন্য বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে শিশুটির উন্নত চিকিৎসা চলছে। এ সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন যে, এলমহার্স্ট হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই শিশুটির মস্তিষ্কের নার্ভ ড্যামেজ হয়েছে। প্রেসবাইটেরিয়ান হাসপাতালের চিকিৎসকরা মনে করছেন সৃষ্টিকর্তা চাইলে তাকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতেও পারেন। বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট পিতা-মাতা এহেন অবস্থার প্রায় এক বছর পর এক্সিডেন্ট কেইসেস ও মেডিকেল ম্যালপ্রেক্টিস কেইসে অভিজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের লাইসেন্সপ্রাপ্ত এটর্নি-এট-ল মঈন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মঈন চৌধুরী শিশুর মা-বাবার কাছ থেকে করুণ কাহিনী শুনতে পেরে সন্দেহ করেন যে, কর্তব্যরত ডাক্তার কর্তৃক সঠিক ওষুধ প্রয়োগ না করার কারণেই হয়তো শিশুটির মস্তিষ্কে ক্ষতিসাধন ও বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে। অন্যথায় ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় শিশুটির মস্তিস্কের ক্ষতি সাধন হবে কেন? অতঃপর মঈন চৌধুরী তার সহযোগী এটর্নি এডওয়ার্ডের সহযোগিতায় শিশুটির জন্মের পর থেকে সব চিকিৎসার নথিপত্র সংগ্রহ করেন এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে হলফনামাসহ অভিমত সংগ্রহ করে নিশ্চিত হন যে, এলমহার্স্ট হাসপাতালের ডাক্তারদের অবহেলার কারণেই এ মারাত্মক ক্ষতি হয়। এলমহার্স্ট হাসপাতাল নিউইয়র্ক সিটির অধীনস্থ হাসপাতাল বিধায় যথারীতি নিউইয়র্ক সিটি এবং নিউইয়র্ক হেল্‌্‌থ অ্যান্ড হসপিটাল করপোরেশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে বাদী পক্ষে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা তাদের বিশেষজ্ঞ মতামত ও সাক্ষ্য প্রদান করেন। তারা বলেন, এটি কোন দুর্ঘটনা নয়। এই শিশুটির করুণ অবস্থার কারণ হচ্ছে এলমহার্স্ট হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তারদের অবহেলা। অপরপক্ষে নিউ ইয়র্ক সিটিও তাদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতামত ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন যাতে তারা দাবি করে বলেন যে, এলমহার্স্ট হাসপাতাল শিশুটিকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করেছে এবং এতে ডাক্তারদের কোন অবহেলা ছিল না, এটি ছিল একটি নিছক দুর্ঘটনা। তারপরও মামলা চলাকালে নিউ ইয়র্ক সিটি তাদের এটর্নির মাধ্যমে ৩ মিলিয়ন ডলার সমঝোতার প্রস্তাব দিলে বাদীপক্ষ ও তার এটর্নিরা প্রস্তাবটি ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী পর্যাপ্ত নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেন। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের আইনজীবীরা তাদের ক্লায়েন্টদের পক্ষে অনড় থেকে আদালতের মাধ্যমে মামলার বিচারের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন। জুরি সিলেকশন শুরু হয় জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে। সম্ভাব্য জুরির তালিকা থেকে দীর্ঘ ইন্টারভিউর মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও যোগ্য ৯ (নয়) জুরি সদস্য নির্বাচন করতে ৬ দিন অতিবাহিত হয়। এরপর ট্রায়াল শুরু হওয়ার পূর্বক্ষণে নিউ ইয়র্ক সিটির এটর্নি মামলায় তাদের নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে ২৮ মিলিয়ন ডলারের স্ট্রাকচার্ড সেটেলমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে এলে বাদী পক্ষ ও এটর্নিরা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে এই প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আদালতের মাধ্যমে মামলাটির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হয়। এই ক্ষতিপূরণ মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে এটর্নি মঈন চৌধুরীসহ সর্বমোট ১১ এটর্নি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV