Friday, 23 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

চিরঞ্জীব কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু-রহস্য উন্মোচনে তদন্ত চাই

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 29 বার

প্রকাশিত: July 27, 2012 | 1:01 AM

অনন্ত পারভেজ: খবরগুলো বিচলিত হওয়ার মতো। চিরঞ্জীব কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা ও মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তার অকাল মৃত্যুর হিমালয়-তুল্য দুঃখ-বেদনার সঙ্গে এসে এখন মানুষের মধ্যে যুক্ত হচ্ছে তীব্র উদ্বেগ আর নানা সন্দেহ, আশঙ্কা।  মার্কিন চিকিৎসকগণ বলেছেন, তিন কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কারণগুলোর মধ্যে তার প্রধান ব্যাধি ক্যান্সার নেই। তাহলে কি মার্কিন চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্রুটি ছিল? সেটা বলা যাবে না। কেননা তারা ক্যান্সারের চিকিৎসা সঠিকভাবেই দিয়েছেন। তবে যে তিন কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে ব্যাপারে তারা চিকিৎসা দিলেন না কেন?  ক্যান্সার ঠেকিয়েও  হুমায়ূন যেসব কারণে মারা গেলেন, সতর্ক থাকলে সেগুলো মৃত্যুর উপাদানে পরিণত হতো না।  এ কথা কি মার্কিন চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা জানতেন না? হুমায়ূনের সঙ্গে যারা ছিলেন, তারা জরুরি মুহূর্তে কোথায় ছিলেন, কি করছিলেন? তার কি যথাযথ চিকিৎসা হয়েছিল? এখানে কি অবহেলা মতো কিছু ঘটেছিল? তাই আমেরিকায় হুমায়ূনের চিকিৎসা সংক্রান্ত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। হুমায়ূনের চিকিৎসায় সহায়তাকারীদের আচরণ ও গতিবিধির সঙ্গে চিকিৎসা কার্যক্রমের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা দরকার। শিল্পী ফেরদৌস আরা নিউ ইর্য়কে হুমায়ূনকে সুস্থ-স্বাভাবিক দেখে এলেন আর সেই স্বাভাবিক মানুষটিই একেবারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন! রহস্য বৈকি। হুমায়ূনের মরদেহ একদিন পরে ঢাকা এলো কেন? এভাবে তার মৃতদেহ পরে থাকাটাও কম রহস্যজনক নয়। উত্তর আমেরিকার বাংলা সংবাদপত্র এবং অসংখ্য ওয়েব সাইটে প্রতিনিয়ত আরো যেসব খবর প্রকাশ পাচ্ছে তাতে হুমায়ূনের মৃত্যু স্বাভাবিক না রহস্যজনক সেটাই এক বিরাট জিজ্ঞাসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জিজ্ঞাসার উত্তর সকলেই জানতে চায়। এই রহস্যের মীমাংসা হওয়া দরকার। সাধারণত বিখ্যাতদের চিকিৎসা নিয়ে আমরা নিয়মিত আপডেট দেখি। চিকিৎসার ধারাবাহিক বিবরণও মিডিয়ায় প্রকাশ হয়ে থাকে। আমেরিকায় হুমায়ূনের সঙ্গে যারা ছিলেন, তারা কেউই এখন পর্যন্ত পুরো বিষয়টি জাতির সামনে উপস্থাপিত করেন নি; চিকিৎসার ভালো-মন্দ দিক, তাদের কার্যক্রম ইত্যাদি সম্পর্কেও তারা কিছুই খুলে বলেন নি। নিঃসন্দেহে সেটা তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ ব্যাপারে তারা উদাসীন থাকলে তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েই সন্দেহ উত্থাপিত হবে। অতএব সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে পুরো চিকিৎসা কার্যক্রমের দিন-ক্ষণ অনুযায়ী একটি ধারাবাহিক ও স্বচ্ছ ঘটনাপঞ্জি অতিদ্রুত প্রকাশ করার দাবি জানাই। প্রয়োজনে সরকার বা অন্য কোনও সংস্থার পক্ষেও একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানাই। কারণ হুমায়ূন আহমেদ বাঁচার জন্যে আমেরিকা গিয়েছিলেন। সরকারও সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল। প্রবাসী বাংলাদেশীরাও যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন। মরণ ব্যাধি ক্যান্সারকেও কাবু করে এনেছিলেন তিনি। তারপরেও তাকে মৃত্যু মুখে পতিত হতে হয়েছে। কেন? এটা সমগ্র জাতিই জানতে চায়। লক্ষ লক্ষ হুমায়ূনভক্ত মানুষও বিষয়টির একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত চায়। যতদ্রুত তদন্ত হবে, ততদ্রুতই রহস্য, সন্দেহ ও উদ্বেগের অবসান হবে। আমরা আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে বিচলিত ও উদ্বিগ্ন মানুষদের শান্ত করবেন। নচেৎ হুমায়ূনের লেখার জগতের মতোই তার মৃত্যুও বিরাট রহস্য ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে থেকে যাবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নোবেলজয়ী লাতিন ঔপন্যাসিক পঁচাশি বছর বয়েসী গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ১৯৯৯ সাল থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত। এক যুগেরও বেশি সময় ক্যান্সারকে ঠেকিয়ে রেখে তিনি দিব্যি সুস্থভাবে বেঁচে আছেন। তার হাত দিয়েই বের হয়েছে ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড’ এবং ‘লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা’-এর মতো কালজয়ী উপন্যাস। হুমায়ূন আহমেদের হাত দিয়েও কি বাংলা সাহিত্যের কোটি কোটি পাঠক আরও অসংখ্য মহৎ গল্প, উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র পেতে পারতো না? তার অকাল মৃত্যু মানুষ মেনে নিতে পারছে না। তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য বা সন্দেহ বা উদাসীনতাও মেনে নিতে পারবে না। বিশেষত মৃত্যু-রহস্য মানুষ কখনওই মেনে নেয় না। বিখ্যাতদের মৃত্যু-রহস্য তো মানতেই পারে না। চোখের সামনে থেকে উদাহরণও দেওয়া যায়। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতকে তেজস্ক্রিয় পোলেনিয়াম-এর সাহায্যে খুন করা হয়েছিল মর্মে জর্ডানের এক চিকিৎসকের তোলা অভিযোগের উত্তর খুঁজতে আরাফাতের দেহ কবর থেকে তুলে আনার ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিন সরকার ও আরাফাতের স্ত্রী-পরিবারের পক্ষ থেকেও এই পরীক্ষায় কোনও আপত্তি নেই। হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে সব তথ্য প্রকাশিত হলেও কারো আপত্তি থাকার কথা নয়। রহস্য-উন্মোচনের প্রয়োজনে ২০০৪ সালে মৃত আরাফাতের লাশ যদি আট বছর পর কবর থেকে তোলা যায়, তাহলে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা ও  বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করায় বাধা কোথায়?
** সম্পাদকীয় নোটঃ মতামত লেখকের নিজস্ব।মানবজমিন
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ