জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু তিন কারণে
জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু হয়েছে তিন কারণে। নিউ ইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিলার জানান, শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা, হৃদযন্ত্রের বৈকল্য ও কিডনির ক্রমব্যর্থতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ক্যান্সারে তার মৃত্যু হয়নি। উত্তর আমেরিকার প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ঠিকানা এ রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, চেয়ার থেকে তিনি কিভাবে পড়ে গেলেন, প্রচণ্ড আঘাত পেলেন, সেলাই খুলে গেল এবং পরে ইনফেকশন হলো- তা নিয়ে নানা প্রশ্ন। এখানে কার অবহেলা ও উদাসীনতা ছিল? চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার এক দিন পর কেন তাকে হাসপাতালে নেয়া হলো? মাজহার কেন হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে গেলেন? চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা মিডিয়ার কাছে শুধু লুকানো হয়নি, চিকিৎসককেও অন্ধকারে রাখা হয়। হাসপাতালই বা কেন বদল করা হলো? জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনের বরাত দিয়ে ‘ঠিকানা’ জানায়, তিনি যখন হাসপাতালে পৌঁছান তখন স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিট। ভেনটিলেশনে ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি ব্যথায় প্রচণ্ড কোঁকাচ্ছিলেন। ডা. মিলার ব্যথা কমানোর জন্য কড়া ডোজের ওষুধ দিয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। ডাক্তারকে খুব চিন্তিত দেখা যায়। বারবার দেহের রক্তচাপ পরীক্ষা করছিলেন। চোখ রাখছিলেন মনিটরের ওপর। তখন ডাক্তার বলছিলেন, রক্তচাপ ১২০/৭০-এর উপরে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি তার রক্তচাপ দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ৬০ থেকে ৫০, ৫০ থেকে ৪০, ৪০ থেকে ৩০। একসময় দেখা গেল, মনিটরে রক্তচাপের রেখাটি লম্বা একটানা রেখায় পরিণত হয়েছে। আমরা তখন বুঝলাম সব শেষ। আমাদের প্রিয় লেখক দেশের গর্ব আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। ডা. মিলার বললেন, সরি। মৃত্যুর সময় উল্লেখ করলেন ১টা ২২ মিনিট। শাওন তখন কাঁদছেন। বাসার নম্বর ১১৫১১। ১১৫-১১৬ স্ট্রিটের মাঝখানে, ১১১ এভিনিউর উপর। বাসার সামনে দাঁড়িয়ে জাফর ইকবাল, তার স্ত্রী ড. ইয়াসমীন হক, বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী এস আই টুটুল, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহা, তার স্ত্রী রুমা সাহা, নাট্য অভিনেতা জামাল উদ্দিন হোসেন, রওশন আরা হোসেনসহ আরও অনেকেই। ড. জাফর ইকবালকে ধরে ছোট বাচ্চার মতো কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন এস আই টুটুল। বলতে লাগলেন- আমাদের দেখার আর কেউ রইলো না, আমরা এতিম হয়ে গেলাম। টুটুলের চোখের পানি দেখে জাফর ইকবাল নিজেই কেঁদে উঠলেন। কি সান্ত্বনা দিবেন টুটুলকে। অনেকক্ষণ বুকে জড়িয়ে রাখলেন আর দোয়া করতে বললেন। বাসার লিভিং রুমে অনেকেই বসা। উপর থেকে বন্ধ দরজা ভেদ করে শাওনের কান্না এবং বিলাপের শব্দ আসছে। উপস্থিত সবাই তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কান্নার মধ্যে সে বলতে লাগলো ‘আমি এখন কি করবো? দেশের কোটি কোটি মানুষ দোয়া করলেন, কিন্তু কিছুই কাজে এলো না! মা তহুরা আলী এমপি মেয়েকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। প্রকাশক মাজহারুল ইসলামকে দেখা গেল ড. জাফর ইকবালকে ধরে অশ্রুহীন কান্না করতে। মুখ দিয়ে শব্দ হচ্ছে, চোখে নেই কোন পানি। তা-ও আবার কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী। কথা ছিল হুমায়ূন আহমেদের লাশ নিয়ে ২০শে জুলাই দেশের উদ্দেশে রওনা দেয়া। কিন্তু প্রকাশক মাজহারুল ইসলামের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি ছয়টি টিকিট চেয়েছেন বিজনেস ক্লাসে। স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেন তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আমরা চারটির বেশি টিকিট দিতে পারবো না। তিনি বলেন, প্রতিটি টিকিটের দাম পড়েছে প্রায় ৬৫০০ ডলার। মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, তিনি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের লোক। সুতরাং তিনি যা বলবেন, তা-ই হবে। ড. মোমেন বলেন, বিজনেস ক্লাসের টিকিট চাওয়ার কারণে ২০শে জুলাই লাশ পাঠানো গেল না, সিট পাওয়া যায়নি। ২১শে জুলাই এমিরেটসের রাতের ফ্লাইটে টিকিট পাওয়া গেল। সেই অনুযায়ী ২১শে জুলাই রাত ১১টা ২০ মিনিটে তারা লাশ নিয়ে চলে গেলেন। অন্য একজন বললেন, যেখানে তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে লাশ নিয়ে যাওয়া উচিত এবং দাফন করা উচিত সেখানে মাজহারদের কাছে বড় হলো বিজনেস ক্লাসের টিকিট। মাজহারদের কাছে হুমায়ূন আহমেদের লাশ বড় কথা নয়, কিভাবে আরামে বাংলাদেশে যাওয়া যায় সেটাই বড় কথা। লাশের সঙ্গে ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই সন্তান নিষাদ, নিনিত, শাওনের মা তহুর আলী এমপি, সেঁজুতি আফরোজ এবং প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং