Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

জলবায়ু পরিবর্তন: ৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 179 বার

প্রকাশিত: February 11, 2013 | 11:37 PM

ডেস্ক: তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ বা হিমবাহ গলনের ফলে প্রতিক্ষণ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শতকরা ১৭ ভাগ এলাকা পানির নিচে চলে যাবে। ভূমি ক্ষয় হবে। এর ফলে এ সময়ের মধ্যে এদেশের ২ কোটি থেকে ৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে কানাডার টরেন্টো থেকে প্রকাশিত অনলাইন দ্য স্টার এ কথা বলেছে ৯ই ফেব্রুয়ারি। এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী শরণার্থীতে পরিণত হবে। তারা তাদের ভূমি হারাবে। ফলে তারা দেশের ভূ-ভাগের ভিতরের দিকে অগ্রসর হবে। সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করবে। এরই মধ্যে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত কমে গেছে। আবার যখন বৃষ্টি হচ্ছে তখন মুষলধারে হচ্ছে। খরার ব্যাপ্তি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বেড়েছে। তা আরও প্রলয়ংকরী হয়ে উঠছে। আইপিসিসি’র রিপোর্টের অন্যতম লেখক আতিক রহমান বলেন, গ্রিন হাউজ গ্যাস হ্রাসের অভাবে এসব ঘটনা খুব দ্রুতগতিতে ঘটতে পারে। এখনও যদি আমরা এর গতি থামাতে পারি তাহলেও সবকিছু ঠিকঠাক হতে অনেক সময় নেবে। তিনি বাস করেন ঢাকায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ কেন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন। বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণের দেশ। এটি সমতল। এখানে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা সহ বড় বড় নদীগুলোর অববাহিকায় বসবাস ১৫ কোটি মানুষের। দেশের বেশির ভাগ অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ মিটার উঁচুতে। উপকূলের অনেক এলাকার উচ্চতা ৩ থেকে ৪ ফুট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ শতাব্দীর শেষের দিকে বাংলাদেশের বিশাল অংশ পানির নিচে চলে যাবে। এতে শুধু ওই ভূভাগ অদৃশ্যই হবে তা নয়। আইপিসিসি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তাতে বাংলাদেশের বেশির ভাগ আবাদি জমি কেড়ে নেবে। বিশ্বের অন্য যেকোন দেশের তুলনায় তা হবে সবচেয়ে বেশি ভূ-ভাগ। ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ধান উৎপাদন কমে যেতে পারে শতকরা ১০ ভাগ। গমের উৎপাদন কমতে পারে শতকরা ৩০ ভাগ। যে দেশ গরিব ও উন্নয়নশীল তাদের জন্য এটা একটি বড় ঝুঁকি। ওই রিপোর্টে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ২০০৯ সালের আইলা’র আঘাতের পর দুর্ভোগের শিকার মানুষদের দুর্দশা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এখনও আইলার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত মানুষগুলো ঠিকমতো অর্থনৈতিকভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন নি। তারা চাষের জমি হারিয়েছেন। হালের বলদ হারিয়েছেন। এখন বেঁচে থাকার অবলম্বন সামান্যই। বাধ্য হয়েই অনেকে অন্য জেলায় চলে গিয়েছেন। কেউ গিয়েছেন যশোরে। কেউ গিয়েছেন সাতক্ষীরা। কেউ গিয়েছেন খুলনা। কেউ বা বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বা গিয়েছেন। এভাবেই তারা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এতে তুলে ধরা হয়েছে জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল যখন পানিতে নিমজ্জিত হবে তখন সেখানকার মানুষ এভাবেই কাজের সন্ধানে, বসবাসের ঠাঁই খুঁজতে, বেঁচে থাকার তাড়নায় এলাকা ছেড়ে বাস্তুচ্যুতে পরিণত হবে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ মানুষ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ২৫ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। কানাডার মোট জনসংখ্যার ৭ গুণের সমান এ সংখ্যা। এ মানুষগুলোকে ২০৫০ সালের মধ্যে এমন বিপদের মুখোমুখি হতে হবে। তারা মরুভূমি থেকে যেখানে পানি বিপদের কারণ নয় সেখানে ছুটবে। উপকূল থেকে দেশের ভূ-ভাগের দিকে ধাবিত হবে, যেখানে তারা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে নিরাপদে থাকবে। নিচু ভূমি থেকে ছুটবে উঁচু স্থানে। তারা ছুটবে চাকরি ও নিরাপত্তার সন্ধানে। তারা আশ্রয় নেবে নিকটবর্তী শহরে। কেউ পাশের দেশে আশ্রয়ের জন্য দেশ ছাড়বে। কেউ চিরদিনের জন্য দেশ ছাড়বে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে করুণ পরিণতি ভোগ করবে যে দেশ তাহলো মালদ্বীপ ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত ছোট ছোট দ্বীপ। এগুলো এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ অদৃশ্য হয়ে যাবে। গত শতাব্দীতে মালদ্বীপের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ সেন্টিমিটার। পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে আরও ৫৬ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে ওই উচ্চতা।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ