জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অধিষ্ঠিত করতে চার শর্ত পূরণে লড়ছে বাংলাদেশ
কাজী সোহাগ: জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অধিষ্ঠিত করতে চারটি শর্ত দিয়েছে জাতিসংঘ। এগুলো হচ্ছে- সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যমে সাধারণ পরিষদে নতুন ম্যান্ডেট গ্রহণ করতে হবে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে, যার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশকে নিতে হবে, জাতিসংঘের এডভাইজরি কমিটি অন এডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যান্ড বাজেটারি কোয়েন্সশ (এসিএবিকিউ) এবং ফিফথ কমিটির অনুমোদন লাগবে এবং সর্বশেষ শর্তে বলা হয়েছে- যখন সাধারণ পরিষদ এ বিষয়ে সকল সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, শুধুমাত্র তখনই জাতিসংঘ সচিবালয় বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে অধিষ্ঠিত করার ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন হবে। এসব শর্ত পূরণে এখন লড়ছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে বিষয়টির সমাধান কবে হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রসঙ্গত বাংলা হবে জাতিসংঘের সপ্তম দাপ্তরিক ভাষা। বর্তমানে ছয়টি ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, রাশিয়ান, চাইনিজ ও এরাবিক। এর মধ্যে ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। এদিকে জাতিসংঘে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অধিষ্ঠিত করা হবে ব্যয়বহুল। এজন্য বছরে গড়ে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলার বা ৪৪০ কোটি টাকা। এছাড়া জাসিংঘের যে কোন বাংলা অনুবাদে প্রতি পৃষ্ঠায় খরচ হবে ২৫শ’ মার্কিন ডলার। বর্তমান ডলার হিসেবে টাকার পরিমাণ হবে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার টাকা। অন্য কোন দেশ এই ব্যয়ভার বহনে অংশীদার না হতে চাইলে বাংলাদেশকে পুরো ব্যয়ভার বহন করতে হবে। এদিকে বাংলা ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেয়া এক উত্তরে বলেছেন, নতুন যে কোন ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণায় বিষয়টির সঙ্গে বিশাল আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি বলেন, কতিপয় বন্ধুপ্রতিম দেশ ছাড়া বেশির ভাগ দেশই এ ধরনের একটি নতুন ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হলে তার আর্থিক দায়-দায়িত্বকে গ্রহণ করবে সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। তিনি বলেন, একইসঙ্গে বাংলাদেশকে সমর্থন দানের প্রতিদানে তাদের কি লাভ হবে সে সম্পর্কেও প্রশ্ন করেছে। এদিকে শর্ত পূরণ করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরই অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের মাধ্যমে আর্থিক বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন ও সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবগুলো সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলার প্রতি সদস্য দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একইসঙ্গে ওইসব ভাষণে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার পক্ষে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন চেয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে বিষয়টি স্বাগতিক সরকারের কাছে বারবার তুলে ধরে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১০ সালের ২১শে এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে অধিষ্ঠিত করতে প্রস্তাবিত রেজুলেশনে সমর্থন দেয়ার অনুরোধ করেন। তবে এ অনুরোধে সব দেশ সাড়া দেয়নি। প্রসঙ্গত ২০০৯ সালের ৬ই এপ্রিল বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে অধিষ্ঠিত করতে সংসদে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেয় সরকার।মানবজমিন
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests