জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তে জাতিসংঘের সহায়তা কামনা করেছেন জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকরা। এ দাবিতে গতকাল বনে জাতিসংঘ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে স্মারকলিপি দেন বনে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটি। সকাল ৯টা থেকে ৩০ মিনিট ব্যাপী এ মানববন্ধনে বাঙালি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও ডয়েসেভেলের কর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের বরাবর পাঠানো স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনও খুনিকে চিহ্নিত বা আটক করতে পারেনি পুলিশ, বরং পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। এটি জনসাধারণের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিচার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা মনে করছি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে আমরা কোন আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। আমরা এ বিষয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করি। মানববন্ধনে অংশ নেয়া মার্কিন নাগরিক ও সাগর সরওয়ারের ডয়েসেভেলের সাবেক সহকর্মী সারাহ বেরনিং বলেন, আমরা এ হত্যাকাণ্ডে স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি। শুধু এ ঘটনাই নয়, সারা বিশ্বেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দাবি করছি। সাগর সরওয়ারের সহকর্মী মারিনা জোয়াদার বলেন, তদন্ত নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। এটি স্বচ্ছ নয়। এছাড়া বিচার বিভাগের একটি নির্দেশের কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য সরবরাহের বিষয়টি খর্ব করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। মানববন্ধনে অংশ নেয়া ডয়েসেভেলের আন্তর্জাতিক বিভাগের কর্মী ক্রিস্টিন রাবে বলেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে আমি হতাশ। এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডের আড়ালে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কিনা। অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবাদ জানাতে এখানে এসেছি। এর বিচার করতে হবে। বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মাযহারুল ইসলাম বলেন, জাতিসংঘ যেন এ তদন্তে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করেন- এটিই আমাদের আবেদন। আমরা জাতিসংঘের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানাতে চাই। মানববন্ধন শেষে জাতিসংঘের মহাসচিব বরাবর উপস্থিত সবার স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি জমা দেয়া হয়। জাতিসংঘ বন কার্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডুকো জুকানভিক ওই চিঠি গ্রহণ করেন। জার্মানিতে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিরা জানিয়েছেন, সাগর-রুনির খুনিদের খুঁজে বের না করা ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ, আন্দোলন কর্মসূচি চলবে। ১৮ই মার্চ ঢাকায় সাংবাদিকদের সমাবেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বার্লিনে বাঙালিদের একটি সমাবেশ করা হবে। একই দিন একই সময়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সংহতি সমাবেশ করার আহ্বান জানান প্রবাসীরা। উল্লেখ্য, সাগর সরওয়ার ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত জার্মানির আন্তর্জাতিক বেতারে ডয়েসেভেলেতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি সপরিবারের বন শহরে অবস্থান করেন। এরপর তারা গত বছর দেশে ফিরে যান এবং বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। মেহেরুন রুনি ফিরে যান এটিএন বাংলায়।
মামলা করবেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো ও অপপ্রচারের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান। গতকাল এটিএন বাংলার এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। রিপোর্টে মাহফুজুর রহমান বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরা শুধু এটিএন বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেনি, সরকার ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও মর্যাদা ক্ষণ্ন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আশা করি, সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। ওদিকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছাড়ানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশী মহিউদ্দীন আহমেদকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটিএন বাংলার ওই রিপোর্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, অতীতেও অনেক সাইবার ক্রিমিনালকে ধরা হয়েছে। এখন যারা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
বিচার দাবিতে চট্টগ্রামে প্রতিবাদ: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে চট্টগ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সাংবাদিকরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) যৌথভাবে এ সমাবেশ আয়োজন করে। এতে বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান ছাড়াও অপর অংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ বক্তব্য দেন। বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি গত ১১ই ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নিজের বাসায় খুন হন। হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় এক মাস পার হলেও খুনিদের চিহ্নিত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ওদিকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)। এ সংগঠনের এশিয়া অঞ্চলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড সামপ্রতিক মাস এবং বছরগুলোর মধ্যে অর্জিত অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
মানবজমিন
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








