Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

ডলারের তীব্র সঙ্কট দাম বেড়ে ৮৬ টাকা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 188 বার

প্রকাশিত: January 9, 2012 | 11:15 PM

এমএম মাসুদ: দেশে ডলারের তীব্র সঙ্কট চলছে। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় শুধু রেমিট্যান্স আর রপ্তানি আয় দিয়ে ডলারের চাহিদার যোগান দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো। ফলে আকাশ ছুঁয়েছে ডলারের দাম। প্রতিনিয়তই বাড়ছে সঙ্কট। গতকালও কার্ব মার্কেটে (খোলা) এক ডলার পেতে ব্যয় করতে হয়েছে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা। অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এক ডলারের বিক্রয় দাম দেয়া হয়েছে ৮২ টাকা ৬৫ পয়সা। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স এলেও ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়েনি। বরং কমেছে অনেক গুণ। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম যেভাবে হারাচ্ছে তাতে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের  অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি, আমদানি, বিনিয়োগসহ অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আগামীদিনেও পড়বে। জানা গেছে, ডলার সঙ্কটের মূল কারণ- হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়ে যাওয়া। এমন কি সঠিক সময়ে চাহিদা মতো এলসি খুলতে না পারায় একশ্রেণীর ব্যবসায়ী আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করছেন। আর অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় মেটাতে কার্ব মার্কেট থেকে চড়া দামে ডলার কিনে তা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে দিচ্ছেন। ডলারের এই ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় ১৬ শতাংশ অবমূল্যায়নের কারণে যে কোন পণ্য আনতে এখন ২৫ শতাংশ বেশি ব্যয় ধরতে হচ্ছে। আবার সেই ডলারও দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো। অনেক ব্যাংককেই দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় ডলার পেতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে ধর্ণা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকেও মিলছে না প্রয়োজনীয় যোগান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল প্রতি ডলারের বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে ৮২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬৫ পয়সায়। অথচ গত বছরের ৪ঠা জানুয়ারি প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৭০ টাকা ২৫ পয়সায়। এই হিসাবে গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান এতটা কমেনি। এদিকে, ব্যাংকিং চ্যানেলে এক ডলার পেতে গতকাল ব্যয় করতে হয়েছে ৮৩ দশমিক ৫০ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেখানো হয়েছে ৮২ দশমিক ৬৫ টাকা। গত সপ্তাহের শেষ দিনে এ রেট ছিল ৮১ দশমিক ৫০ টাকা। আর কার্ব মার্কেটে এক ডলার পেতে গতকাল ব্যয় করতে হয়েছে ৮৬ টাকারও বেশি। চাহিদা মেটাতে ব্যাংকগুলোও কার্ব মার্কেটের শরণাপন্ন হচ্ছে। ফলে এ সঙ্কট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ডলারের দাম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সামপ্রতিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় এক টাকার মতো করে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি অর্থনীতিকেও বেসামাল করে তুলেছে। তিনি বলেন, ডলারের দাম বাড়ার কারণে সরকারকে বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। ডিসেম্বরে সর্বশেষ তেলের দাম বাড়ানো সংক্রান্ত তথ্যবিবরণীতেও তা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে দুুই দফা তেলের দাম বাড়িয়ে যে টাকা বেশি আয় হয়েছিল, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে তার পুরোটাই চলে গেছে। ডলারের দর অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি একে আজাদও। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডলারের দর বৃদ্ধি অর্থনীতির সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিসিসিআই সভাপতি আফিস ইব্রাহিম। গত সোমবার সংগঠনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও সঙ্কটাপন্ন। এ সময় তিনি সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। এদিকে ডলারের দর বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিকেই দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। মূলত ভাড়াভিত্তিক ও কুইক রেন্টালসহ ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি যোগাতেই বৈদেশিক মুদ্রায় টান পড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল যোগান দিচ্ছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয়। আগামী ছয় মাসে কেবল তেল আমদানি করতেই আগের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-নভেম্বর সময়ে জ্বালানি তেল আমদানির জন্য এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ১১৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে যা ১২ শতাংশ কমেছিল। এই সময়ে সার্বিক আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ বেশ বেড়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা রেকর্ড ১১৪ কোটি ৪৪ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন বছরের শেষ মাসে। এর আগে এক মাসে কখনোই এ পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে আসেনি। আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার বিপরীতে ডলারের দর (ক্রয়-বিক্রয়) ঠিক (নির্ধারণ) করে দিত। আর সে দরেই ডলার কেনাবেচা হতো। কিন্তু ২০০৩ সালে দেশে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (ফ্লাটিং এক্সচেঞ্জ রেট) চালু হয়। এই ব্যবস্থায় বাজারের ওপর নির্ভর করেই ডলারের দাম নির্ধারিত হয়।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ