Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

ডায়াবেটিসে খাবার সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা : বেশি বেশি মিষ্টি খেলেই যে ডায়াবেটিস হবে, তা ঠিক নয়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 55 বার

প্রকাশিত: September 1, 2012 | 2:19 AM

Details

অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ  : ডায়াবেটিসে খাবার সম্পর্কে অনেক ভ্রান্ত ধারণা  আছে। এগুলো নিছকই ভ্রান্ত ধারণা। যেমন- বেশি মিষ্টি বা চিনি খেলে ডায়াবেটিস হয়। আসলে বেশি মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয় না। মিষ্টি শর্করা জাতীয় খাবার। ভাত, রুটি, এগুলোও শর্করা জাতীয় খাবার। পেটের ভেতরে অবস্থিত অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হরমোন ‘ইনসুলিন’ রক্তের শর্করা বা গ্লুকোজ ভেঙ্গে শরীরে শক্তি উত্পন্ন করে। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ না হলে বা কম হলে রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। এ অবস্থাই ডায়াবেটিস। কোন কারণে ইনসুলিন কাজ করতে না পারলেও ডায়াবেটিস হয়। সুতরাং বেশি বেশি মিষ্টি খেলেই যে ডায়াবেটিস হবে, তা ঠিক নয়। তবে একসঙ্গে বেশি মিষ্টি খেলে হঠাত্ করেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হয়ে যাবে এবং অগ্ন্যাশয়ের  উপর  বাড়তি চাপ পড়বে। তখন এটা সমস্যা। তাছাড়া বেশি মিষ্টি মানে বেশি ক্যালরি গ্রহণ। সেক্ষেত্রে ঠিকমত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম না করলে সে ক্যালরি শরীরে জমা হবে এবং শরীর মোটা হয়ে যাবে। তাতে ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। ডায়াবেটিক খাবার নির্বাচনে অনেক নিয়ম কানুন মানতে হয়। আসলে অ-নে-ক নিয়ম মানতে হয় না। যা করতে হয় তা হলো: আহার হবে পরিকল্পিত। দৈনন্দিন কাজকর্মের চাহিদা মেটাবে রোজকার খাবার। খাবারটা অন্যদের খাবারের মত স্বাভাবিক খাবারই। তবে তা হতে হয় শরীরের ক্যালরির চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত এবং সুষম। তাতে যেসব শর্করাজাতীয় খাবার খেলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে, এমন পূর্ণ দানাশস্য বা গোটাশস্যের শর্করা ও আঁশ এবং সবজি থাকবে বেশি, আর তেল-চর্বি থাকবে কম। যেসব ফলে শর্করার পরিমাণ বেশি, সেসব ফলও খেতে হবে পরিমিত। খাবার হতে হবে এমন যাতে ব্যায়াম বা প্রয়োজনে ওষুধের মাধ্যমে রক্তের চিনির মাত্রা থাকবে মেটামুটি স্বাভাবিক মাত্রায়।  ডায়াবেটিস হলে পছন্দের সব খাবার খাওয়াই বন্ধ হয়ে যায়! আসলে তা নয়। তবে খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে। এবং অবশ্যই পরিকল্পিত উপায়ে। হয়তো পরিমাণটা একটু কমাতে হতে পারে। ডায়াবেটিস হলে সব সময়  বিশেষ ‘ডায়াবেটিক’ খাবারই খেতে হবে। এমনটি সঠিক নয়। বাড়ির অন্য সদস্যরা যে খাবার খাবে, ডায়াবেটিস রোগীও সে খাবার থেকেই খেতে পারবে। তফাত্টা

শুধু ক্যালরি, শর্করার ধরন, আমিষ, সবজি আর তেল-চর্বির দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য শর্করা জাতীয় খাবার খারাপ। খাবারে শর্করা জাতীয় খাবার থাকতেই হবে। এ খাবার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং একটু হিসেব করে খেতে হবে। যেসব শর্করা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা তাড়াতাড়ি বাড়ায়, সেগুলো কম খেতে হবে। যেমন, চিনি, মিষ্টি, বেশি ছাঁটা চালের ভাত, ময়দার রুটি। যেসব শর্করা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায়, সেগুলো খাওয়া যাবে বেশি। যেমন, লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, সবজি, গোটা শস্যদানা। তবে ক্যালরিটা হিসেবে রাখতে হবে অবশ্যই। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য আমিষ জাতীয় খাবার ভালো। আমিষ হতে হবে পরিমিত। মোট ক্যালরির ১৫% থেকে ২০% যেন আসে আমিষ থেকে। বেশি আমিষ ভালো নয়। মাংসের আমিষের সাথে খাওয়া হয়ে যায় স্যাচ্যুরেটেড চর্বি, যা হূদরোগের ঝুঁকি বাড়াবে। ডায়াবেটিস হলে ওষুধের মাত্রা কম বেশি করে বা সমন্বিত করে যত খুশি এবং যা খুশি খাওয়া যাবে। ইনসুলিন বা অন্য ওষুধের মাত্রাটা একটু বাড়িয়ে দিয়ে একটু বেশি খেয়ে নিলেও বিপত্তি হতে পারে। বাড়তি ক্যালরির কোন প্রয়োজন নেই। ওষুধ নিলেও খাবার হতে হবে পরিমিত এবং সুষম। ডায়াবেটিসে কৃত্রিম মিষ্টি বিপজ্জনক। কৃত্রিম মিষ্টি চিনির চেয়ে বেশি মিষ্টি। তবে ক্যালরি কম। আমেরিকান ডায়াবেটিস এসোসিয়েশন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য এসপারটেন, সুক্রালোজ, ইত্যাদি কৃত্রিম মিষ্টির অনুমোদন দিয়েছে। যে খাবার খেয়ে ডায়াবেটিস রোগী ডাক্তারের পরামর্শমত ব্যায়ামের মাধ্যমে কিংবা ব্যায়াম ও ওষুধের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারবেন এবং পাবেন প্রয়োজনীয় ক্যালরি, সেটাই হবে আসল ‘ডায়াবেটিক খাবার’। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে রক্তের তেল-চর্বির মাত্রাও।

লেখক:বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগকমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV