তরফের সৈয়দ বংশ ও লাকসাম নবাব পরিবার
সৈয়দ কামালউদ্দিন আহমদ: ইতিহাস পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, পাক-ভারত উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব কুমিল্লার লাকসাম-পশ্চিমগাঁও নিবাসী স্বীয় মহিমায় সমুজ্জ্বল হোমনাবাদ পরগণার জমিদার প্রখ্যাত নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণীর বংশ পরম্পরায় তরফ সৈয়দ বংশীয়গণের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এই পরিবারের সাথে আত্মীয়তার সূত্রে সম্পৃক্ততা সমগ্র বাংলাদেশ জুড়েই বিস্তৃত। প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বাংলাদেশের লাকসাম-পশ্চিম গাঁও যে পরিবারটি অবস্থান করছে। সেটি ভারত উপমহাদেশের একটি ঐতিহাসিক জমিদার পরিবার। আজ সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অধিকাংশ মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর ভেতর প্রায় সবগুলো পরিবারের সাথেই পশ্চিম গাঁয়ের আতœীয়তার যোগসূত্র রয়েছে। এ সমস্ত ঐতিহ্যবাহী পরিবারসমূহের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিচার বিশ্লেষণ করলে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তাঁদের মধ্যে যেমন অনেক প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী জমিদার বা শাসক ছিলেন। তেমনি ছিলেন বহু সংখ্যক উদারচেতা-মহামানবের ন্যায় প্রজাহিতৈষী দানশীল ব্যক্তি। যাঁরা সবসময়ই গরীব-দুঃখী মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এসেছেন বলে সমাজে স্বীকৃত।
যুগে যুগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সমাজে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। এই মহামারীর প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত সমাজের অসহায়ত্ব ও দুর্দশাগ্রস্ত জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁরা অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখেন। এক্ষেত্রে যিনি তাঁর বিভিন্ন কীর্তির মাঝে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে রয়েছেন। যিনি ছিলেন অন্ধকার যুগে আলোর দিশারী, নারী শিক্ষার অগ্রদূত, প্রজাহিতৈষী ও প্রখ্যাত দানশীল ব্যক্তিত্ব-মহীয়সী নারী ভারত উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী। যাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তৎকালীন সময়ে তিনি একজন প্রখ্যাত নবাব এবং বিখ্যাত কবি হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। এ প্রসঙ্গে আলোচনার প্রারম্ভে ভারতবর্ষে পরগণার সৃষ্টি এবং ‘হোমনাবাদ পরগণার’ উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা আবশ্যক। মুলত এর সৃষ্টি বা উৎপত্তি কখন-কিভাবে হলো তা দেখা যাক।
এ ব্যাপারে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, পাঠান স¤্রাট শের শাহের রাজত্বকাল (১৫৩৯-৪৫খৃঃ) সংক্ষিপ্তকাল হলেও এ দেশের শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাজস্ব ব্যবস্থায় তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি সমগ্র সা¤্রাজ্যকে বিভিন্ন সরকার এবং সরকারসমূহকে বিভিন্ন পরগণায় বিভক্ত করেছেন। তাঁর সমগ্র সা¤্রাজ্য সর্বমোট ১১৬০০টি পরগণায় বিভক্ত হয়েছিল বলে প্রাচীন গ্রন্থসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে। ত্রিপুরা বা বর্তমান কুমিল্লা জেলায় কতটি পরগণা ছিল সঠিকভাবে তার হিসাব নিরুপণ করা যায়নি। তবে স¤্রাট আকবরের রাজত্বকালে তাঁর রাজস্ব মন্ত্রী ‘রাজা টোডরমল’ ১৫৮২ সালে যে রাজস্ব তালিকা (তুমার জমা) প্রস্তুত করেন। তাতে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় ২১টি পরগণার উল্লেখ রয়েছে। এ সমস্ত পরগণা সম্পর্কে জেলা গেজেটিয়ারে (১১২-১৩ পৃষ্ঠায়) বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া এপ্রসঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের জনৈক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট লেখক মিস্টার ওয়েবস্টার যে বর্ণনা দিয়েছেন তা নি¤œরূপ; লাকসামের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ৩৯৭টি মহলে বিভক্ত হোমনাবাদ পরগণার আয়তন ২২৯ বর্গমাইল। এর বার্ষিক মোট রাজস্ব ছিল-১,০৮,১১১ টাকা। প্রথমে এই পরগণাটি একটি ক্ষুদ্র রাজ্য ছিল এবং এর পূর্ববর্তী দলিল পত্রে ‘হোমনা বাজু’ নামে পরিচিত ছিল।
“হোমনাবাদ পরগণার ইতিহাস’ সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলার ইতিহাস ভিত্তিক বিভিন্ন লেখকের লেখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদিনুযায়ী তাছাড়া বিশিষ্ট লেখক-সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ শাহ সৈয়দ এমদাদুল হক কর্তৃক রচিত “হোমনাবাদের ইতিহাস” থেকে জানা যায় যে, উক্ত গ্রন্থের প্রণেতা যিনি কি না ঐ পরগণার একজন জমিদারও ছিলেন। তিনি হোমনাবাদের অবস্থান সম্পর্কে বলেন-“ছাতার পাইয়া অর্জ্জুনতলা কেশারপাড় প্রভৃতি ১৭ সহ¯্র একর উর্ধ পরিমিত ভূমির ৪৩টি মৌজা জেলা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার অধীন হইয়াছে। এক্ষণে চান্দিনা থানায় এই পরগণার ৩২, লাকসাম ৩৩৫, চৌদ্দগ্রাম ১৩৯ ও বেগমগঞ্জে ৪৩টি মোট ৫৪৯টি মৌজা আছে। উহার পরিমাণ ফল ২৩০ বর্গমাইল। তাকেই আমরা বস্তনিষ্ঠ বলে ধরে নিতে পারি।”
ভারত উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণীর পূর্ব পূরুষ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পরিলক্ষিত হয় যে, দিল্লীর স¤্রাট শাহ আলম ওরফে বাহাদুর শাহ দ্বিতীয় এর সময়ে তাঁর ভাতিজীর বিবাহ হয় বাগদাদের আব্বাসীয় রাজ বংশীয় শাহজাদা আমির মির্জা আব্দুল আজিজ সাহেবের সাথে। স¤্রাটের নির্দেশক্রমে তাঁর সুযোগ্য পুত্র ত্রিপুরা বিজয়ী মির্জা আমির আগোয়ান খাঁ ওরফে শাহজাদা জাহান্দর খাঁ বিদ্রোহ দমনার্থে লক্ষাধিক পদাতিক সৈন্য-সামন্ত নিয়ে বঙ্গে আগমন করেন। বিদ্রোহ দমনান্তে তিনি দিল্লী ফিরে যান; কিন্তু তৎপুত্র মির্জা আমির হুমায়ূন খাঁ ওরফে বাহরুজ খাঁ মতান্তরে ভুরু খাঁ বঙ্গে থেকে যান। তাঁর কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে স¤্রাট তাঁকে ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্গত হোমনাবাদ পরগণাসহ কয়েকটি পরগণা পুরস্কার স্বরূপ এতদাঞ্চলের জায়গিরদার হিসেবে এক সনদ প্রদান করেন। জায়গিরদার বলতে: চাকরির বেতন বা মাইনের পরিবর্তে মহামান্য স¤্রাট কর্তৃক প্রদত্ত ভূসম্পত্তির উপস্বত্ব ভোগের অধিকার বা তদাঞ্চলের জমিদারকে বুঝায়। ঐ বংশীয় জমিদারগণ কুমিল্লা-চান্দিনার অন্তর্গত মহীচাল বা মহীচাইল নামক স্থানে বসবাস করতেন।
পশ্চিম গাঁও নবাব বাড়ীর বংশ পরিক্রমায় দেখা যায়- পশ্চিম গায়ের আদিম মুসলমান জমিদার ছিলেন সাধুবর গাজী সাহেদা। তাঁরই মাজার পশ্চিম গাঁও নবাব বাড়ীর মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে অবস্থিত। কথিত আছে ১২৮০ হিঃ সনে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন-নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী সাহেবার মাতা আরফাননেসা চৌধুরাণী সাহেবা। উক্ত মসজিেেদর পশ্চিম দিকে আরো একটি ‘এক গম্বুজি মসজিদ’ বিদ্যমান। যা প্রখ্যাত জমিদার গাজী সাহেদা সাহেব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তৎকালীন সময়ের এই প্রভাবশালী জমিদার গাজী সাহেদার কোন পুত্র সন্তানাদি ছিল কিনা এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন পশ্চিম গায়ের তৎপরবর্তী জমিদারগণ গাজী সাহেদার অনুজ গাজী আহমদ বংশীয়।
উল্লেখ্য যে, “হোমনাবাদের ইতিহাস” লেখক সৈয়দ এমদাদুল হক ওরফে লাল মিয়া সাহেব নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা এয়াকুব আলী চৌধুরীর হস্ত লিখিত একটি নসবনামার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, জমিদার গাজী সাহেদার বিরাহিম গাজী এবং নসরত গাজী নামে দু’পুত্র ছিলেন। বিরাহিম গাজীর তিনপুত্র ঃ দৌলত গাজী, খোদাবক্স গাজী এবং ইলাবক্স গাজী। এই তিন ভাইয়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা দৌলত গাজীর নামানুসারেই তদাঞ্চলে ‘দৌলতগঞ্জ বাজার’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীকালে দৌলতগাজীর (পৌত্র) ইমামবক্স গাজী চৌধুরী পশ্চিম গাঁও থেকে ভাইকসারে গিয়ে স্বীয় বাসস্থান নির্মাণ করে ভাউকসার চৌধুরী বাড়ীর গোড়াপত্তন করেন। তাঁর পুত্র এনায়েত গাজী চৌধুরী প্রথম বিবাহ করেন ইলাবক্স গাজী চৌধুরী সাহেবের কন্যা চাচাতোবোন আফিয়া বেগম চৌধুরাণীকে। তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন কুমিল্লা শহরস্থ ঐতিহ্যবাহী মুন্সিবাড়ী নিবাসী মুন্সি ফয়েজউদ্দিন আহমদ এডভোকেট সাহেবের কন্যা উলফতুন্নেসা খাতুনকে। তাঁদের পুত্রই হচ্ছেন ভাউকসারের প্রভাবশালী জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী। উল্লেখ্য যে, মুন্সি ফয়েজউদ্দিন আহাম্মদের পূর্ব পুরুষ ছিলেন- ত্রিপুরা রাজ্যের সদর আলা (প্রধান বিচারক) ও নবীনগর থানার বর্তমান উপজেলার অন্তর্গত ইব্রাহিমপুর পরগণার জমিদার মুন্সি নাসিরউদ্দিন আহাম্মদ। তাঁরই সুযোগ্য পৌত্র বা নাতি ছিলেন খানবাহাদুর আমিরউদ্দিন আহাম্মদ। তিনি ছিলেন মুন্সিবাড়ীর প্রতিষ্ঠাতা।
খোদাবক্স গাজী চৌধুরী সাহেবের কন্যা ফেদাই বিবি চৌধুরাণীর বিবাহ হয় তাঁরই চাচাতোভাই দৌলত গাজী চৌধুরীর পুত্র জাফর গাজী চৌধুরীর নিকট। তাঁদের একমাত্র কন্যা লালবানু চৌধুরাণী ওরফে পাশা বিবির বিবাহ হয় ——নিবাসী———পুত্র সৈয়দ আব্দুর রহমান সাহেবের নিকট। তাঁদের একমাত্র কন্যা সৈয়দা ভানু বিবি চৌধুরাণী বিখ্যাত ছিলেন। সৈয়দা ভানু বিবির প্রথম বিবাহ হয় ———নিবাসী ইমাম আলী চৌধুরী সাহেবের নিকট। তাঁদের একমাত্র পুত্র হাসান আলী চৌধুরী। সৈয়দা ভানু বিবির দ্বিতীয় বিবাহ হয় বর্তমান কুমিল্লা জেলার লাঙ্গল কোট উপজেলার অন্তর্গত দেওভান্ডার মীর বাড়ী নিবাসী মীর সৈয়দ তমিজউদ্দিন চৌধুরী সাহেবের সহিত। ঐ পক্ষের পুত্র মীর সৈয়দ বক্সআলী চৌধুরী, তিনি দেওভান্ডার মীর বাড়ীতেই বসবাস করতেন। তিনি বিবাহ করেন কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুল্লাই চৌধুরী বাড়ীর মোহাম্মদ জামান চৌধুরীর কন্যা গোলাপজান বিবি চৌধুরাণীকে। পরবর্তীতে তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝলম চৌধুরী বাড়ীতে স্থায়ীভাবে হিজরত করেন। তাঁদের এক কন্যা সৈয়দা আরফাননেসা চৌধুরী। তাঁর বিবাহ হয় কুমিল্লা দক্ষিণচর্থা নবাব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ রওশন আলী সাহেবের পুত্র সৈয়দ জুলফিকার হায়দার চৌধুরী সাহেবের নিকট। উনার পৈত্রিক নিবাস ছিল-বর্তমান ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার অন্তর্গত কসবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহপুর মীর বাড়ী। তাঁদের পূর্বপুরুষ ছিলেন বঙ্গাধিপতি সৈয়দ আলাউদ্দিন হুসেন শাহের প্রধান সেনাপতি সৈয়দ আবু জাফর।
সৈয়দ জুলফিকার হায়দার চৌধুরী সাহেবের পুত্র সৈয়দ বশারত আলী চৌধুরী বিবাহ করেন ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহপুর মীর বাড়ী নিবাসী মীর সৈয়দ আকরাম আলী সাহেবের কন্যা সৈয়দা ছালিমা খাতুনকে। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। উল্লেখ্য তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আলীনগর সৈয়দ বাড়ী। সৈয়দ বাশারত আলী চৌধুরী দ্বিতীয় বিবাহ করেন চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পূর্ব পাঁচরিয়া চৌধুরী বাড়ী নিবাসী আকবর আলী চৌধুরী সাহেবের কন্যা ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরাণীকে। তাঁদের পুত্রই ছিলেন খাঁনবাহাদুর নবাব সৈয়দ হুচ্ছাম হায়দার চৌধুরী। তিনি বিবাহ করেন ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পেরাকান্দি নবাব বাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর নবাব কাজী সিরাজুল ইসলাম সাহেবের কন্যা কাজী লুৎফুন্নেসা খাতুন ওরফে বাদশাহ বিবিকে। বাদশাহ বিবির পিতামহ ছিলেন কাজী মোহাম্মদ কাজেম উদ্দিন। তাঁদের দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান ছিলেন।
তাঁদের জ্যেষ্ঠপুত্র নবাবজাদা সৈয়দ ওসমান হায়দার। তিনি বিবাহ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৌলাই জমিদার বাড়ী নিবাসী জমিদার জালাল উদ্দিন আহমদ ওরফে খুর্শিদ মিয়া সাহেবের কন্যা হালিমা খাতুনকে। কনিষ্ঠ পুত্র নবাবজাদা সৈয়দ এহতেশাম হায়দার বিবাহ করেন কুমিল্লা জেলার ঐতিহ্যবাহী লাকসাম বাগিচাবাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর নবাব আলী নওয়াব চৌধুরী সাহেবের কন্যা———-কে। তাঁদের প্রথমা কন্যা নবাবজাদী সৈয়দা জোবেদা খাতুন। তাঁর বিবাহ হয় কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম গাঁও নবাব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ আজহারুল হক সাহেবের পুত্র খানবাহাদুর সৈয়দ মোহাম্মদ গাজীউল হক সাহেবের নিকট। দ্বিতীয়া কন্যা ঃ নবাবজাদী সৈয়দা মাহবুবা খাতুন। তাঁর বিবাহ হয়-ঢাকা জেলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা নবাব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ নাদিম রহমান ও সৈয়দা ফারহানা খাতুনের পুত্র সৈয়দ আব্দুল হাফিজ সাহেবের নিকট।
সৈয়দা ভানুবিবি চৌধুরাণীর দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দেওভান্ডার থেকে তাঁর পিত্রালয় পশ্চিম গায়ে ফিরে আসেন। অতঃপর তাঁকে ঘরদামাদি হিসেবে বিবাহ করেন কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার অন্তর্গত মহীচাল নিবাসী আমীর মির্জা মোতাহার খাঁ সাহেবের পুত্র জমিদার আমীর মির্জা সুলতান খাঁ ওরফে গোরাগাজী সাহেব। তাঁর পূর্ব পুরুষ ছিলেন ইরাক-বাগদাদের আব্বাসীয় রাজ বংশীয় অধস্তন পুরুষ শাহজাদা মির্জা আব্দুল আজিজ। এই মির্জা আব্দুল আজিজের পুত্রই হলেন-‘ত্রিপুরা বিজয়ী’ শাহজাদা মির্জা আমির আগোয়ান খাঁ। তাঁর পুত্র শাহজাদা আমীর মির্জা হুমায়ূন খাঁ ওরফে ভুরু খাঁর পুত্র শাহজাদা আমীর মির্জা মাসুম খাঁ, তাঁর পুত্র মোতহার খাঁ। তাঁর পুত্র জমিদার আমীর মির্জা সুলতান খাঁ ওরফে গোরাগাজী চৌধুরী। বিবাহের পর তিনি মহীচাল থেকে স্থানান্তরীত হয়ে পশ্চিম গাঁও নবাব বাড়ীতে গিয়ে খানেদামান্দ হিসেবে পরিবারভূক্ত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
সৈয়দা ভানুবিবি চৌধুরাণী এবং গোরাগাজী চৌধুরীর ঔরসজাত পুত্র হোসেন আলী চৌধুরী। তিনি বিবাহ করেন একই পরিবারে অর্থাৎ বাগিচাবাড়ী নিবাসী মনোয়ার গাজী চৌধুরীর পুত্র মোজাফফর গাজী চৌধুরীর কন্যা ময়মুন্নেসা চৌধুরাণী ওরফে ময়না বিবিকে। তাঁদের দুই পুত্র ও দুই কন্যা ছিলেন। প্রথমপুত্র আহমদ আলী চৌধুরী ও দ্বিতীয়পুত্র আশরফ আলী চৌধুরী। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। জ্যেষ্ঠকন্যা আফিয়া বেগম চৌধুরাণীর বিবাহ হয় কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাউকসার চৌধুরী বাড়ী নিবাসী ইমামবক্স গাজী চৌধুরী সাহেবের পুত্র এনায়েত গাজী চৌধুরী সাহেবের সাথে। তাঁদের তিনপুত্র ছিলেন-প্রথমপুত্র ঃ মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী, দ্বিতীয়পুত্র ঃ বক্তার গাজী চৌধুরী, তৃতীয়পুত্র ঃ মোবারক গাজী চৌধুরী। ইমামবক্স গাজী চৌধুরীর কনিষ্ঠকন্যা আমেনা বেগম চৌধুরাণীর বিবাহ হয়- ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল উপজেলার অন্তর্গত ভূঁইশ্বর মিয়াবাড়ী নিবাসী মুন্সি অদিয়ত উল্লাহ মিয়ার পুত্র মুন্সি হামিদুল আলম মজহর মিয়ার সাথে। তাঁদের একমাত্র পুত্র মুন্সি খুর্শেদ আলম।
হোসেন আলী চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র আহমদ আলী চৌধুরী বিবাহ করেন বর্তমান ফেনী সদর উপজেলার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী শর্শদী জমিদার বাড়ী নিবাসী মোহাম্মদ আসজদ চৌধুরীর কন্যা আরফাননেসা চৌধুরাণীকে। তাঁর পিতামহ ছিলেন জমিদার মোহাম্মদ আমজাদ চৌধুরী ওরফে ডেঙ্গু মিয়া সাহেব এবং তাঁর মাতামহ ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রাচীন ভুলুয়া সামন্ত রাজ্যের অন্তর্গত ধলীয়া জমিদার বাড়ী নিবাসী ফজিল আহাম্মদ চৌধুরী। মুলত উনারা ছিলেন-ভুলুয়া অন্তর্গত দাদরার রওশনাবাদ পরগণাসহ মোট আটটি পরগণার জমিদার বা দেশাধিপতি। এইমর্মে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে প্রাচীনকালের ভুলুয়া-দাদরার দেশাধিপতি বলতে তথাকথিত ভারত উপমহাদেশের ত্রিপুরা রাজ্যের অধিনস্ত ভুলুয়া সামন্ত রাজ্যর দাদরা অঞ্চলের অর্থাৎ বর্তমান নোয়াখালী ও ফেনী জেলার অধীনস্ত কয়েকটি পরগণাকে বুঝায়। লাকসাম বাগিচাবাড়ী নিবাসী আহমদ আলী চৌধুরীর ঔরসে এবং আরফাননেসা চৌধুরাণীর গর্ভে জন্মগ্রহনকারী দুই পুত্র ও তিন কন্যা সন্তান ছিলেন। যথাক্রমে ঃ- জ্যেষ্ঠপুত্র এয়াকুব আলী চৌধুরী এবং কনিষ্ঠপুত্র ইউসুফ আলী চৌধুরী। জ্যেষ্ঠকন্যা নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী, মেঝোকন্যা লতিফুন্নেসা চৌধুরাণী ও কনিষ্ঠকন্যা আমিরুন্নেসা চৌধুরাণী। তিনি শৈশবেই মৃত্যু বরন করেন।
স্বনামধন্য জমিদার আহমদ আলী চৌধুরীর ঔরসজাত সন্তানাদি ছিলেন মোট পাঁচজন। তাঁরা দু’ভাই ও তিন বোনদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা এয়াকুব আলী চৌধুরী, তিনি বিবাহ করেন————। কনিষ্ঠভ্রাতা ইউসুফ আলী চৌধুরী, তিনি বিবাহ করেন ভারতের পাটনা নবাব বাড়ী নিবাসী ———এবং খতিজা সুলতানা বেগমের কন্যা নবাবজাদী মোহাম্মদী বেগমকে। তাঁর মাতামহ (নানা) ছিলেন মির্জা মোহাম্মদ কাজেম ও মাতামহী (নানী) ছিলেন-পাটনার নবাবজাদী শাহজাদী বেগম। তাঁদের একমাত্র পুত্র খানবাহাদুর নবাব আলী নওয়াব চৌধুরী ওরফে মির্জা আওরঙ্গজেব, তিনি বিবাহ করেন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নরপতি সাহেববাড়ী নিবাসী সৈয়দ আমিনউদ্দিন হাসান সাহেবের কন্যা (উল্লেখ্য যে, তিনি সিলেটের পৃথিমপাশা-লংলা নিবাসী বিখ্যাত নবাব আলী আমজদ খানের পতœী ছিলেন, তাঁর অকাল মৃত্যুতে সৈয়দা ফাতেমা বানু বিধবা হন) সৈয়দা ফাতেমা বানুকে। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। মেঝোকন্যা লতিফুন্নেসা চৌধুরাণীর বিবাহ হয় ঢাকা আজিমপুর দায়রা শরীফ নিবাসী সৈয়দ লাক্বীয়ত উল্লাহ সাহেবের পুত্র সৈয়দ হাফিজ উল্লাহ সাহেবের সাথে। তাঁর পিতামহ ছিলেন আজিমপুর দায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা বিখ্যাত দরবেশ হযরত শাহ সুফী সৈয়দ মোহাম্মদ দায়েমুল্লাহ মাহীসওয়ার (রঃ)।
তাঁদের একমাত্র পুত্র শাহ সৈয়দ উবায়েদ উল্লাহ সাহেবের কোন পুত্র সন্তান না থাকায় তাঁদের একমাত্র কন্যা সৈয়দা মাসুদা বেগমকে লাকসাম নবাব বাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর সৈয়দ গাজীউল হক সাহেবের পুত্র সৈয়দ লতিফুল হক সাহেবের নিকট বিবাহ দিয়ে খানেদামান্দ হিসেবে আজিমপুর দায়রা শরীফের পরিবারভূক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের দু’পুত্র সন্তান ছিলেন। প্রথমপুত্র এ্যাডভোকেট সৈয়দ জিল্লুল হক, তিনি ছিলেন হযরত শাহ সৈয়দ নাসিরউদ্দিন সিপাহসালার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, তাঁর সহধর্মিনী স্কুল শিক্ষিকা নাসরীন ইসলাম। দ্বিতীয়পুত্র সৈয়দ মাহফুজুল হক এমএ এলএলবি, তিনি বিবাহ করেন নোয়াখালী জেলার পরশুরাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুতুমা চৌধুরী বাড়ী নিবাসী ডাঃ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী সাহেবের কন্যা শাহীন হক চৌধুরীকে। তাঁর আপন ভায়রাভাই ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। কন্ষ্ঠিকন্যা আমিরুন্নেসা চৌধুরাণী ছিলেন নিঃ সন্তান।
ভাইবোনদের মধ্যে সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলেন নবাব বেগম ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী। তাঁর শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকালের কিছু কথা যথাস্থানে বিন্যাস করা হয়েছে। তবে তাঁর বৈবাহিক সংক্রান্ত বিষয়ে মোহাম্মদ গাজী চৌধুরীর ব্যাপারে জল্পনা-কল্পনাসহ পারিবারিক পরিম-লে কিছু কাহিনীর জন্ম দিয়েছিল। অবশেষে যদিও স্বল্পকাল পরে সত্যি-সত্যিই তাঁর বিবাহ হয়েছিল-কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাউকসার চৌধুরী বাড়ী নিবাসী এনায়েত গাজী চৌধুরীর ঔরসে এবং উলফতুন্নেসা খাতুনের গর্ভে জন্মগ্রহনকারী অন্যতম পুত্র জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী সাহেবের নিকট। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী সাহেব ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার সরাইল পরগণার নাসিরনগর উপজেলাস্থ ঐতিহ্যবাহী নুরপুর মিয়াবাড়ী নিবাসী মুন্সি নাদিরুজ্জামান মিয়ার কন্যা নাজমুন্নেসা বিবিকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। মুন্সি নাদিরুজ্জামান মিয়া ছিলেন-ত্রিপুরা আদালতের প্রধান উকিল।
প্রখ্যাত জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী ও নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণীর বিয়ের একযুগ পূর্ত্তিকালেও তাঁদের কোন সন্তানাদি ছিলেন না। তবে পরবর্তীকালে তাঁরা কমল-কোমল-ফুটফুটে দু’জন কন্যাসন্তান লাভ করেন। এই কন্যাগণের লালন-পালন সম্পর্কিত বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য যথাস্থানে আলোচনা করা হবে। কন্যাগণ ছিলেন-আরশাদুন্নেসা চৌধুরাণী ও বদরুন্নেসা চৌধুরাণী। প্রথমা কন্যা আরশাদুন্নেসা চৌধুরাণীর বিবাহ হয় হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী পইল সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ নাজিরুল হক সাহেবের দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ ওয়াসেলুল হক সাহেবের নিকট। তাঁকে বিবাহ দিয়ে খানেদামান্দ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ভাউকসার জমিদার পরিবারে পরিবারভূক্ত করেন। তিনি ছিলেন-তরফ বিজেতা হযরত শাহ সৈয়দ নাসিরউদ্দিন সিপাহসালার (রঃ) অধস্তন পুরুষ। তখন থেকেই তিনি ভাউকসার চৌধুরী বাড়ীতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আরশাদুন্নেসা চৌধুরাণীর গর্ভে চার কন্যা জন্ম গ্রহন করার পর তিনি অকালে মৃত্যু বরণ করেন। কন্যাগণ যথাক্রমেঃ (প্রথম) সৈয়দা আম্মাতুল এলা আফিয়া খাতুন (দ্বিতীয়)—– (তৃতীয়) সৈয়দা সাজিয়া খাতুন (চতুর্থ) সৈয়দা সাদিয়া খাতুন।
১৮৭০ সালে আরশাদুন্নেসা চৌধুরাণীর প্রথমা কন্যা সৈয়দা উম্মে আফু আফিয়া খাতুন মতান্তরে সৈয়দা আম্মাতুল এলা আফিয়া খাতুনের বিবাহ হয় হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুলতানশী হাবিলী নিবাসী সৈয়দ ইবনে আলী সাহেবের সুযোগ্য পুত্র সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেবের নিকট। এই বিয়েতে বিশিষ্ঠ জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী তাঁর আদরের নাতনীকে উপঢৌকন হিসেবে কুমিল্লা শহরের উপকন্ঠে দক্ষিনচর্থার কাচারী বাড়ীটি দান করেন। বিয়ের পর সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেব এই বাড়ীতেই বসবাস করতেন। সৈয়দ আব্দুল জব্বার স্বনাম খ্যাত লোক ছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, তৎসময়ে তাঁর কর্মকা-ে সন্তুষ্টি লাভ করে বৃটিশ সরকার কর্তৃক“খানবাহাদুর”খেতাব প্রাপ্ত হয়েও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। কেননা তাঁর কাছে “খানবাহাদুর”খেতাবের চেয়ে “সৈয়দ” খেতাবটি অধিকতর গৌরবের ছিল। পরবর্তীকালে সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেবের ব্যক্তিগত প্রভাব ও জনপ্রিয়তার কারণেই ভাউকসারের জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরীর কুমিল্লার কাচারী বাড়ীটি ‘কুমিল্লা সৈয়দবাড়ী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তিনি মুসুরিখলার স্বনামধন্য পীর সাহেব শাহ আহসান উল্লাহ (নারিন্দার শাহ সাহেব) এর মুরীদ ছিলেন। সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেব অতিশয় বিদ্বান ও ধার্মিক ছিলেন। তিনি ছয় খ-ে ধর্মবিষয়ক পুস্তক ‘দীনিয়াত’ রচনা করে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্যে বিনামূল্যে মানুষের কাছে বিতরণ করেন।
সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেবের প্রথমা স্ত্রী সৈয়দা উম্মে আফু আফিয়া খাতুন মতান্তরে সৈয়দা আম্মাতুল এলা আফিয়া খাতুনের মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার নুরপুর সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ জুলফিকার হায়দার সাহেবের কন্যা সৈয়দা সাঈদা খাতুনকে। উক্ত পরিবারের বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে খোজ নিয়ে জানাযায় যে, নুরপুরে বসবাসকারী ঐ পরিবারের অধস্তন পুরুষগণ পরবর্তীকালের কোন একসময় একই উপজেলার অন্তর্গত গুণিয়াউক গ্রামে হিজরত করেন। ঐ বংশীয় সৈয়দ সাহেবগণ বর্তমানে গুণিয়াউক সৈয়দ বাড়ীতে বসবাস করছেন। সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেবের দুই বিবির গর্ভে জন্ম গ্রহনকারী মোট তিন পুত্র ও চৌদ্দ কন্যা সন্তান ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী প্রতীয়মান হয় যে, নি¤েœাল্লেখিত ১৭জন ভাইবোনদের মধ্যে প্রথম বিবির দিকে তিনভাই ও ছয়বোন ছিলেন।
প্রথম পুত্র সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, তিনি বিবাহ করেন ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের অন্তর্গত আমির উদ্দিন মুন্সির হাট সংলগ্ন-ঐতিহ্যবাহী আহমদপুর মুন্সি বাড়ী নিবাসী মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ সাহেবের কন্যা জহুরা খাতুন আব্দুল্লাহকে। জহুরা খাতুনের সহোদর ছিলেন বিচারপতি আমিন আহমেদ। উল্লেখ্য যে, তাঁদের পূর্বপুরুষ মুন্সি আমিরউদ্দিন আহমদ ছিলেন এই মুন্সি বাড়ীর প্রতিষ্ঠাতা। দ্বিতীয় পুত্র এডভোকেট সৈয়দ আবুল ফজল, তিনি বিবাহ করেন কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার অন্তর্গত তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী ভাউকসার চৌধুরীবাড়ী মুলত তরফের ঐতিহ্যবাহী পইল সাহেববাড়ী নিবাসী সৈয়দ এমদাদুল হক ওরফে লালমিয়া সাহেবের ্ঔরসে এবং আজিজুন্নেসা চৌধুরাণীর গর্ভে জন্মগ্রহনকারী কন্যা সৈয়দা ফয়জুন্নেসাকে। তৃতীয় পুত্র সৈয়দ আব্দুল হাই বিবাহ করেন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী নরপতি সাহেববাড়ী নিবাসী সৈয়দ নুরুল হাসান ওরফে ইউসুফ মিয়া সাহেবের কন্যা সৈয়দা রোকেয়া আক্তারকে। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচঙ্গ উপজেলোর ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর দেওয়ান উসমান রাজার সহোদর জমিদার দেওয়ান হুমায়ূন রাজা সাহেহেবের কন্যা দেওয়ান সালেহা খাতুনকে।
প্রথমাকন্যাঃ সৈয়দা আম্মাতুল এলা রাজিয়া খাতুন, তাঁর বিবাহ হয় কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হয়বতনগর দেওয়ানবাড়ী নিবাসী সৈয়দ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ (মূলবাড়ী-সুলতানশী) সাহেবের পুত্র সৈয়দ আজিজ উল্লাহ সাহেবের নিকট। উনাকে খানেদামান্দ হিসেবে কুমিল্লা সৈয়দবাড়ীর পরিবারভূক্ত করা হয়। (৫) সৈয়দা মাসুদা খাতুন, তাঁর বিবাহ হয় সিলেট জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী হাওয়াপাড়া মৌলভী বাড়ী নিবাসী ফেরাজী মৌলভী মুহাম্মদ জাবিদ আলী সাহেবের পুত্র শামসুল ওলামা মাওলানা আবু নসর মোহাম্মদ ওয়াহিদ (মন্ত্রী) সাহেবের নিকট। (৬) সৈয়দা রহিমা খাতুন, তাঁর বিবাহ হয় নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোপালপুর জমিদারবাড়ী নিবাসী আলী হায়দার চৌধুরী সাহেবের পুত্র তোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সাহেবের নিকট। (৭) সৈয়দা ফাহিমা খাতুন, তাঁর বিবাহ হয় ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার অন্তর্গত তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা হাবিলী নিবাসী সৈয়দ আবুল ফজল সাহেবের পুত্র সৈয়দ সাঈদ বখত সাহেবের নিকট।
(৮) সৈয়দা আম্মাতুল বতুল নান্নী বেগম তাঁর বিবাহ হয় তাঁর ভগ্নির মৃত্যুর পর ভগ্নিপতি সিলেট জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী হাওয়াপাড়া মৌলভী বাড়ী নিবাসী কাজী মৌলভী মুহাম্মদ জাবিদ আলী সাহেবের পুত্র শামসুল ওলামা মাওলানা আবু নসর মুহাম্মদ ওয়াহিদ (মন্ত্রী) সাহেবের নিকট। (৯) সৈয়দা সালেহা বেগম, তাঁর বিবাহ হয় ঢাকা শহরের শাহ সাহেব লেনস্থ বিখ্যাত মুশরীখলা শাহ সাহেববাড়ী নিবাসী সুফী শাহ আহসান উল্লাহ সাহেবের পুত্র শাহ আবুল হোসেন সাহেবের নিকট। (১০) সৈয়দা শামসে জাহান, তাঁর বিবাহ হয় কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী অশ্বতলা চৌধুরী বাড়ী নিবাসী এনায়েত গাজী চৌধুরী সাহেবের পুত্র আহমদ গাজী চৌধুরী সাহেবের নিকট। (১১) সৈয়দা কামরে জাহান, তাঁর বিবাহ হয় চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মঘাদিয়া জমিদার বাড়ী নিবাসী অলী আহাম্মদ চৌধুরী সাহেবর পুত্র জমিদার নুরুল আবছার চৌধুরী সাহেবের নিকট। (১২) সৈয়দা জাহানারা বেগম, তাঁর বিবাহ হয় ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আহমদপুর মুন্সীবাড়ী নিবাসী মোহম্মদ আব্দুল আজিজ সাহেবের পুত্র এ,বি সামসুদ্দিন হায়দার এডভোকেট সাহেবের নিকট।
(১৩) সৈয়দা মেহেরুন্নেসা, তাঁর বিবাহ হয় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভান্ডারীকান্দি খান বাড়ী নিবাসী আসলত রহমান খান সাহেবের পুত্র বিচাবপতি আব্দুল হাকিম খান সাহেবের নিকট। উল্লেখ্য তাঁর সহোদর খানবাহাদুর আব্দুর রহমান খান সাহেব ঢাকা জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীট জগন্নাথ কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন। (১৪) সৈয়দা হাসিনা বেগম, ( চিরকুমারী) (১৫) সৈয়দা শওকতআরা বেগম, তাঁর বিবাহ হয় বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বামনা জমিদারবাড়ী নিবাসী সৈয়দ আবি মুহাম্মদ আহসান সাহেবের পুত্র সৈয়দ জিয়াউল আহসান সাহেবের নিকট। তিনি আইন সভার স্পীকার ছিলেন। (১৬) সৈয়দা আয়েশা হক, তাঁর বিবাহ হয় ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার আখাইড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাওড়া জমিদার বাড়ী নিবাসী মৌলভী জহুরুল হক সাহেবের পুত্র কবি আল মামুন ছানাউল হক সিএসপি, রাষ্ট্রদূত সাহেবের নিকট। (১৭) সৈয়দা হেলালী বেগম, তাঁর বিবাহ হয় ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাতুভূঁঞা চৌধুরী বাড়ী নিবাসী করিম উল্লাহ সাহেবের পুত্র রহিম উল্লাহ চৌধুরীর নিকট।
এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, কুমিল্লা সৈয়দ বাড়ীর সাথে সংপৃক্ত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেব বিয়ে করার পর যখন দেখলেন যে, তাঁদের ঔরসে শুধুমাত্র কন্যা সন্তানই জন্ম গ্রহন করছেন। কোন পুত্র সন্তান লাভ করতে পারছেন না। তখন তাঁর জমিদারী পরিচালনাসহ ভবিষ্যৎ দায়-দায়িত্বের ব্যাপারে দুঃচিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তখন তিনি তাঁর বড় মেয়ে সৈয়দা আম্মাতুল এলা রাজিয়া খাতুনকে বিবাহ দিয়ে তাঁর স্বামী সৈয়দ আজিজ উল্লাহ সাহেবকে খানেদামান্দ হিসেবে কুমিল্লা সৈয়দবাড়ীতে নিয়ে আসেন। তাছাড়া তিনি শুধুমাত্র মেয়ের স্বামী বা দামান্দই নন। তিনি ছিলেন তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের ছেলে, সেই সম্পর্কে ভ্রাতুষ্পুত্রও বটে। বিয়ের পর সৈয়দ আজিজ উল্লাহ কুমিল্লা সৈয়দ বাড়ীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এই দম্পতি তিন পুত্র ও তিন কন্যা সন্তান লাভ করেন। প্রথমপুত্র সৈয়দ হাবিব উল্লাহ, দ্বিতীয়পুত্র সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ এবং তৃতীয়পুত্র সৈয়দ আহমদ উল্লাহ। প্রথমাকন্যা ঃ সৈয়দা রোকেয়া আক্তার, দ্বিতীয়াকন্যা ঃ সৈয়দা সেলিনা আক্তার এবং তৃতীয়াকন্যা ঃ সৈয়দা নজিবা আক্তার।
প্রথমপুত্র ঃ সৈয়দ হাবিব উল্লাহ্ সাহেব বিবাহ করেন———-তাঁদের তিনপুত্র——-ছিলেন। প্রথমপুত্র ঃ সৈয়দ সেলিম উল্লাহ্, দ্বিতীয়পুত্র ঃ সৈয়দ শফিক উল্লাহ্, তৃতীয়পুত্র ঃ সৈয়দ এনায়েত উল্লাহ্ ।
দ্বিতীয়পুত্র ঃ সৈয়দ-ওয়ালী উল্লাহ্ সাহেব বিবাহ করেন সৈয়দ আবুল ফজল সাহেবের প্রথমা কন্যা সৈয়দা দুলালী বেগমকে। তাঁদের একপুত্র ও দু’কন্যা সন্তান ছিলেন। পুত্র ঃ সৈয়দ রহমত উল্লাহ ওরফে সিজুমিয়্ া, প্রথমাকন্যা ঃ সৈয়দা কানিজ ফাতেমা ও দ্বিতীয়া কন্যা ঃ সৈয়দা কানিজ জহুরা। সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ সাহেবের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন-কুমিল্লা জেলাল দাউদকান্দি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খিড়ারচর/সোনারচর খন্দকার বাড়ী নিবাসী মৌলানা শামসুদ্দিন খন্দকার সাহেবের কন্যা-খন্দকার হামিদা খাতুনকে। এইপক্ষে একপুত্র ঃ সৈয়দ মাহবুব উল্লাহ ওরফে কাঁকনমিয়া এবং তিন কন্যা ঃ
তৃতীয়পুত্র ঃ সৈয়দ আহমদ উল্লাহ বিবাহ করেন সিলেট জেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী হাওয়াপাড়া মৌলভীবাড়ী নিবাসী শামসুলওলামা আবুনসর মুহাম্মদ ওয়াহিদ (আসামের শিক্ষামন্ত্রী) সাহেবের কন্যা আফসারী বেগমকে। তাঁদের ঔরসজাত এক পুত্র ও তিন কন্যা ছিলেন। একমাত্র পুত্র ঃ সৈয়দ জহির উল্লাহ্, প্রথমাকন্যা ঃ সৈয়দা ফেরদৌসী বেগম, দ্বিতীয়াকন্যা ঃ সৈয়দা কানিজ জহুরা, তৃতীয়াকন্যা ঃ সৈয়দা কানিজ খোদেজা।
তাঁদের প্রথমাকন্যা ঃ সৈয়দা রোকেয়া আক্তার, তাঁর বিবাহ হয়-চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মনাকষা জমিদার বাড়ী নিবাসী জমিদার জেহাদ আহমদ চৌধুরী সাহেবের পুত্র মর্ত্তুজা রেজা চৌধুরী এম,এল,এ এবং পাকিস্তান সরকারের অর্থমন্ত্রী সাহেবের নিকট। তাঁর পিতামহ ছিলেন———এই দম্পতি দশ সন্তানের জনক। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি তাঁদের প্রথমপুত্র ব্যারিষ্টার মাইনুর রেজা চৌধুরী, তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধান বিচারপতি ও তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বিবাহ করেন-হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পিটুয়া, সদরাবাদ চৌধুরীবাড়ী নিবাসী ইঞ্জিনিয়ার ইমামুজ্জামান চৌধুরী সাহেবের কন্যা-তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. নাজমা চৌধুরীকে। উল্লেখ্য যে, তাঁদের পূর্বপুরুষ ছিলেন-৩৬০ আওলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ সদর উদ্দিন কোরেশী (রঃ)। ব্যারিষ্টার মাইনুর রেজা চৌধুরী সাহেবের প্রপিতামহ ছিলেন-ভারত বিহার রাজ্যের বিখ্যাত ‘কোটালপুকুর’ এস্টেটের প্রখ্যাত জমিদার ঈসমাইল হোসেন চৌধুরী। উল্লেখ্য যে, তাঁদের জমিদারী এস্টেটের ম্যানেজার ছিলেন মিঃ———একজন ইংরেজ কর্মচারী।——– দ্বিতীয়পুত্র ঃ ইঞ্জিনিয়ার কামরান রেজা চৌধুরী, স্ত্রী ঃ নাসরীন রেজা চৌধুরী। তৃতীয়পুত্র ঃ ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ রেজা চৌধুরী- স্ত্রী ঃ ইরফাত রেজা চৌধুরী। চতুর্থপুত্র ঃ কায়ূম রেজা চৌধুরী বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ, স্ত্রী ঃ ইয়াসমিন রেজা মজুমদার, দরগামহল্লা-সিলেট। পঞ্চমপুত্র ঃ ইরতিজা রেজা চৌধুরী, ডেপুটি ম্যানিজিং ডাইরেক্টর, ব্যাংক অব এশিয়া। প্রথমাকন্যা ঃ গীতিয়ারা রহিম চৌধুরী, স্বামী মোহাম্মদ আনোয়ার রহিম। দ্বিতীয়াকন্যা ঃ জর্জিনা আহমেদ চৌধুরী, স্বামী ঃ হেদায়েত আহমেদ, সচিব ও রাষ্ট্রদূত, সাং-ভাদেশ্বর-সিলেট। তৃতীয়াকন্যা ঃ ফরহাদী খান চৌধুরী, স্বামী ঃ আবেদ হোসেন খান। চতুর্থ কন্যা ঃ মুনীরা কুদ্দুস চৌধুরী, স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস। পঞ্চমকন্যা ঃ রুবাইয়া আলী চৌধুরী, স্বামী ঃ মোহাম্মদ আলী তেহরানী।
দ্বিতীয়াকন্যা ঃ সৈয়দা সেলিনা আক্তার, তাঁর বিবাহ হয়-চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাহিরা জমিদার বাড়ী নিবাসী আব্দুল জব্বার চৌধুরী সাহেবের ঔরসে ও বেগম ফাতেমা খাতুন চৌধুরাণীর গর্ভে জন্মগ্রহনকারী পুত্র এ,কে,এম, ফজলুল কাদের চৌধুরী সাহেবের নিকট। তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পীকার এবং একটিং প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এই দম্পতির ঔরসজাত ছয়জন সন্তান ছিলেন। প্রথমপুত্র ঃ বিশিষ্ট পার্লামেন্টেরিয়ান ও রাজনীতিবিদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এম,পি, সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পার্লামেন্ট বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। দ্বিতীয়পুত্র ঃ সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী। তৃতীয় পুত্র ঃ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সাবেক সংসদ সদস্য। চতুর্থপুত্র ঃ জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিশিষ্ট শিল্পপতি। প্রথমা কন্যা ঃ জোবায়দা কাদের চৌধুরী, দ্বিতীয়াকন্যা ঃ হাসিনা কাদের চৌধুরী।
তৃতীয়কন্যা ঃ সৈয়দা নজিবা আক্তার, তাঁর বিবাহ হয়-জামালপুর জেলার সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নরুন্দি জমিদার বাড়ী নিবাসী ভারতের প্রথম একাউন্টেন্ট জেনারেল মোহাম্মদ আবুল হাসেম জায়েদী ডাবল এম,এ,সাহেবের পুত্র আব্দুল আলীম জায়েদী সাহেবের নিকট। এই দম্পতির ঔরসজাত আটজন সন্তান ছিলেন। তাঁদের চারপুত্র ও চার কন্যা ছিলেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল-ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার-রামপুরহাট ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ী। প্রথমপুত্র ঃ ফারুক উজ্জামান জায়েদী, তিনি বাংলাদেশ বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। দ্বিতীয়পুত্র ঃ ফরহাদ উজ্জামান জায়েদী। তৃতীয়পুত্র ঃ এরফান উজ্জামান জায়েদী। চতুর্থপুত্র ঃ ইমরান উজ্জামান জায়েদী। প্রথমা কন্যা ঃ মুহতারামা আক্তার-মুক্তা। দ্বিতীয় কন্যা ঃ আলীমা আক্তার-মসীহা। তৃতীয়া কন্যা ঃ মরিয়ম আক্তার-কুমকুম। চতুর্থ কন্যা ঃ ফারজানা আক্তার।
বিয়ে-শাদীর ব্যাপারটা আসলে উপর ওয়ালা কর্তৃক নির্ধারিত। এবিষয়ে অন্য কারো হাত নেই এঁটাই সত্য। কথিত আছে যে, সৈয়দ ওয়াসেলুল হক সাহেবের ঔরসে ও আরশাদুন্নেসা চৌধুরাণীর গর্ভে জন্ম গ্রহনকারী কন্যাগণ অপরূপ সুন্দরী ছিলেন। তাঁদের দ্বিতীয়াকন্যা একজন দুরদৃষ্টি সম্পন্না, সকল বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। মজার ব্যাপার হলো-এইকন্যার সাথে পশ্চিম গাও বাগিচা বাড়ী নিবাসী এয়াকুব আলী চৌধুরী সাহেবের পুত্র প্রভাবশালী জমিদার সেকান্দর আলী চৌধুরীর সাথে সাক্ষাত লাভের পর তিনি অস্বাভাবিক সম্পর্ক হলেও তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন। পারিবারিকভাবে এমন প্রস্তাব কারো কাছেই গ্রহন যোগ্য নয়। কেননা- প্রস্তাবিত পাত্রী সম্পর্কে পাত্রের আপন ফুফাতো বোনের মেয়ের দিকে ভাগ্নী। উদ্ভট পরিস্থিতিতে যেহেতু ইসলামিক শরা-শরিয়ত মতে এই বিবাহে কোন বাঁধা নেই, তাই জাঁকজমকপূর্ণভাবেই তাদের বিয়ে হয়।
তাঁদের তৃতীয় কন্যা সৈয়দা সাজিয়া খাতুনকে বিবাহ করেন তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী লস্করপুর হাবিলী নিবাসী সৈয়দ মুফাজ্জল হুসেন সাহেবের পুত্র সৈয়দ আব্দুল আগফার ওরফে ছওয়াবমিয়া সাহেব। বিয়ের পর তিনি পশ্চিম গাও নবাব বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। বাগিচা বাড়ী নিবাসী জমিদার সেকান্দর আলী চৌধুরীর প্রথমবিবি অকালে মৃত্যু বরন করায় তিনি তাঁর শ্যালিকা সৈয়দা সাদিয়া খাতুনকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। সৈয়দ ওয়াসেলুল হক পরবর্তীকালে আরো দুটি বিয়ে করেন। একপক্ষের পুত্র সৈয়দ আব্দুস সামাদ, তিনি তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী পইল সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ———–সাহেবের কন্যা———-কে বিবাহ করে মূল বাড়ীতে ফিরে যান। তাঁরই অধস্তন বর্তমান পুরষ হলেন——–।
পরিশেষে সৈয়দ ওয়াসেলুল হক তৃতীয়বারের মত বিবাহ করেন তাঁরই জ্যেষ্ঠভ্রাতা সৈয়দ জহুরুল হক সাহেবের বিধবা পতœী বদরুন্নেসা চৌধুরাণীকে। কেননা এই বিধবা স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে দু’ পুত্র প্রথমপুত্র————, দ্বিতীয়পুত্র ———– ও এক কন্যা ————কে সঙ্গে নিয়ে সৈয়দ ওয়াসেলুল হকের কাছে আশ্রয় গ্রহন করেছিলেন। এইপক্ষে আরো এক কন্যা জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর নাম সৈয়দা রাজিয়া খাতুন। তাঁর বিবাহ হয় তরফ সৈয়দ বংশীয় নরপতি সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ আতিকুল হাসান সাহেবের পুত্র সৈয়দ জোয়াদুল হাসান ওরফে লুদামিয়া সাহেবের নিকট। তাঁদের এক পুত্র সৈয়দ নূরুল হাসান ওরফে ইউসুফমিয়া সাহেব তিনি বিবাহ করেন সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামপাশা সাহেব বাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরী এম এল এ, সাহেবের কন্যা দেওয়ান পরীবদন বানু ওরফে সাজেদা খাতুনকে। তাঁর ভাই স্বনামধন্য দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরী এমএলএ এবং মন্ত্রী ছিলেন। তাঁদের জ্যেষ্ঠ কন্যা সৈয়দা রোকেয়া আক্তারের বিবাহ হয় কুমিল্লা সৈয়দবাড়ী নিবাসী সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেবের কনিষ্ঠপুত্র সৈয়দ আব্দুল হাই সাহেবের নিকট। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচঙ্গ উপজেলোর ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর দেওয়ান উসমান রাজার সহোদর জমিদার দেওয়ান হুমায়ূন রাজা সাহেবের কন্যা দেওয়ান করিমুন্নেসাকে।
ঐতিহ্যবাহী ভাউকসার চৌধুরীবাড়ী নিবাসী মোহাম্মদ এনায়েত গাজী সাহেবের পুত্র প্রখ্যাত জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী সাহেব ১৮৮৯ সালে মৃত্যু বরন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির ছয় আনা অংশের মালিক হন ভ্রাতুষ্পুত্র মোজাফফর গাজী চৌধুরী এবং নয় আনা অংশের মালিকানা পান পশ্চিমগাঁও নিবাসী কনিষ্ঠকন্যা বদরুন্নেসা চৌধুরাণী । ভাউকসার চৌধুরী বাড়ীর সামনে পশ্চিম পার্শ্বের মসজিদ ও তৎসংলগ্ন পুকুরটি বদরুন্নেসা চৌধুরাণীরই সৃষ্টি। মোহাম্মদ এনায়েত গাজী চৌধুরীর সাহেবের অন্যতম পুত্র বক্তার গাজী চৌধুরীর পুত্র মোজাফফর গাজী চৌধুরী প্রথম বিবাহ করেন দেওভা-ারের ওমদা বিবিকে, তিনি অকালে মৃত্যু বরন করেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন———-কে। এই দু‘পক্ষের মধ্যে কারো কোন সন্তানাদি ছিলনা। তিনি তৃতীয় বিবাহ করেন কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেওভান্ডার মীরবাড়ী নিবাসী ——– সাহেবের বিধবা কন্যা বিবিজান চৌধুরাণীকে। তাঁর গর্ভে এককন্যা জন্ম গ্রহন করেন।
বিবিজান চৌধুরাণীর পূর্বস্বামীর ঔরসজাত সঙ্গে নিয়ে আসা দু’কন্যাকেই বিয়ে দেয়া হয় ভাউকসারের দেওয়ান বাড়ীতে। বিবিজান চৌধুরাণীর গর্ভে মোজাফর গাজী চৌধুরীর ঔরসে একমাত্র কন্যাসন্তান আজিজুন্নেসা চৌধুরাণী। তাঁকে বিয়ে করেন পইলবংশীয় সৈয়দ জহুরুল হক সাহেবের পুত্র সৈয়দ এমদাদুল হক ওরফে লালমিয়া সাহেব। তাঁর ভ্রাতা সৈয়দ বজলুল হক পইল সাহেব বাড়ীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তাঁর তিনপুত্র যথাক্রমে ঃ সৈয়দ আতাউল হক, সৈয়দ আবিদুল হক এবং সৈয়দ আব্দুল আজিজ। তাঁদের একমাত্র বোন নান্নী বিবিকে বিয়ে দেয়া হয় কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী বর্তমান মিঠামইন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঘাগরা দেওয়ান বাড়ী নিবাসী —————নিকট। সেই পক্ষের এক কন্যা করিমনকে বিবাহ দেয়া হয় পশ্চিম গাঁও বাগিচা বাড়ী নিবাসী মহছুদ আলী চৌধুরী সাহেবের পুত্র —————-নিকট।
বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব সৈয়দ এমদাদুল হক ওরফে লালমিয়া সাহেব ১২ ই এপ্রিল ১৮৭৮ সালে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা ছিলেন-তরফ সৈয়দ বংশীয় পইল সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ জহুরুল হক। তিনি স্বনামধন্য একজন সমাজবেক এবং বহুবিধ জনকল্যাণ মূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দু’বার আসাম বেঙ্গল কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য থাকা কালীন সময়ে তিনি বহু আইনের সংস্কার করেন। বিশেষ করে জেলখানার কয়েদীদের জন্যে পোশাক সরবরাহ, তাদের দাফন কার্য্য সম্পাদন ও নামাজের ব্যবস্থা ইত্যাদি তাঁরই প্রস্তাবিত আইনে পরিণত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে তিনি ‘প্রজাবন্ধু’ উপাধীতে ভূষিত হয়েছিলেন। তাঁর জন্মভূমি পইল গ্রামে। একইগ্রামে জন্ম গ্রহনকারী বিপিন চন্দ্র পাল নামে আরো এক ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ বিপিন চন্দ্র পাল একসময় তিনি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন।
কথিত আছে সৈয়দ এমদাদুল হক সাহেবের বিশেষ অনুরোধে একবার ভারতীয় প্রধান মন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ঐতিহ্যবাহী পইল গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। সৈয়দ এমদাদুল হক ওরফে লালমিয়া সাহেব বিবাহ করেন-কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাউকসার চৌধুরী বাড়ী নিবাসী এনায়েত গাজী চৌধুরীর দৌহিত্র মোজাফর গাজী চৌধুরীর ঔরসে ও বিবিজান চৌধুরাণীর গর্ভে ধারনকারী একমাত্রকন্যা আজিজুন্নেসা চৌধুরাণীকে। তিনি বিয়ে করে ভাউকসার জমিদার পরিবারে পরিবারভূক্ত হন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে জমিদাদীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ‘হোমনাবাদের ইতিহাস’ নামক একখানি ইতিহাস ভিত্তিক পুস্তক রচনা করেন। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ‘বঙ্গদর্পন’ নামে আরো একখানি বই তিনি লিখেছিলেন বলে জানা যায়। মহান ব্যক্তিত্ব সৈয়দ এমদাদুল হক সাহেব ৭৫বছর বয়সে ১৯৫৩ সালে পরলোক গমন করেন।
আজিজুন্নেসা চৌধুরাণীর গর্ভে ও সৈয়দ এমদাদুল হক সাহেবের ঔরসে দুই কন্যা জন্ম গ্রহন করেন। এক কন্যা অকালে মৃত্যু বরন করেন। অপর কন্যা সৈয়দা ফয়জুন্নেসার বিবাহ হয় কুমিল্লা সৈয়দ বাড়ী নিবাসী সৈয়দ আব্দুল জব্বার সাহেবের দ্বিতীয় পুত্র এ্যাডভোকেট সৈয়দ আবুল ফজল সাহেবের সাথে। বিয়ের পর তিনি ভাউকসারে স্থানান্তরীত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। স্বনামধন্য সৈয়দ এমদাদুল হক ওরফে লাল মিয়া সাহেবের প্রথমা স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট উপজেলার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী দেওভান্ডার মীরবাড়ী নিবাসী সৈয়দ মনোহর আলী সাহেবের কন্যা সৈয়দা ইয়াকুতুন্নেসা চৌধুরাণীকে। এই পক্ষে তাঁর তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। জ্যেষ্ঠপুত্র সৈয়দ এনায়েতুল হক সাহেব বিবাহ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঘাগড়া (মালীচর দরগাহ) শাহসাহেব বাড়ী নিবাসী শাহ আব্দুল মোতাল্লিব সাহেবের প্রথমা কন্যা নুরুন্নেহার খানমকে।
মেঝোপুত্র সৈয়দ আমিনুল হক বিবাহ করেন সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধরাধরপুর নিবাসী সৈয়দ সাজ্জাদ আলী সাহেবের প্রথমা কন্যা সৈয়দ উম্মে কুলসুম রেখা বেগমকে। তাঁর ভায়রাভাই হলেন হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী ফকিরাবাদ সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ মিফতাহ উদ্দিন আহমদ সাহেব। কনিষ্ঠপুত্র সৈয়দ আহসানুল হক প্রথম বিবাহ করেন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার অন্তর্গত তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী মৌজপুর সাহেববাড়ী নিবাসী ——–সাহেবের কন্যা সৈয়দা শওকতআরা বেগমকে। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেনÑব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী মাছিহাতা সৈয়দবাড়ী নিবাসী সৈয়দ হাম্মাদুল ওদুদ সাহেবের কন্যা সৈয়দা কুমকুমআরা বেগমকে। ভাইদের মধ্যে সৈয়দ আমিনুল হক সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। একমাত্র কন্যা সৈয়দা বশিরুন্নেসা মঞ্জু সাহেবার বিবাহ হয় হবিগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলার অন্তর্গত তরফ সৈয়দ বংশীয় ঐতিহ্যবাহী ফকিরাবাদ সাহেব বাড়ী নিবাসী হযরত শাহ সৈয়দ আব্দুল গণী সাহেবের ঔরসে ও শামসুন্নেসা ভূঁঞা সাহেবার গর্ভে জন্মগ্রহনকারী সৈয়দ শফিক উদ্দিন আহমদ সাহেবের নিকট। তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, কুমিল্লা জোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন।
ঐতিহ্যবাহী ভাইকসারে বসবাসকারী এ্যডভোকেট সৈয়দ আবুল ফজল সাহেবের তিন কন্যা। জ্যেষ্ঠ কন্যা সৈয়দা দুলালী বেগম। তাঁর বিবাহ হয় কুমিল্লা সৈয়দবাড়ী নিবাসী সৈয়দ আজিজ উল্লাহ সাহেবের পুত্র সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ সাহেবের সাথে। দ্বিতীয়া কন্যা সৈয়দা মসিহা বেগমের বিবাহ হয় বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উলানিয়া জমিদার বাড়ী নিবাসী ইউসুফ আলী চৌধুরী সাহেবের পুত্র মহিউদ্দিন চৌধুরী ওরফে সুরুজমিয়া সাহেবের সাথে। বিয়ের পর তিনি ভাউকসারেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কনিষ্ঠাকন্যা সৈয়দা নিলুফা বেগমের বিবাহ হয় কিশোরগঞ্জ জেলা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী খয়েরপুর চৌধুরীবাড়ী নিবাসী আব্দুল হাই চৌধুরী ওরফে আলাই মিয়া সাহেবের পুত্র আব্দুল হক চৌধুরী ওরফে ঝলাইমিয়া সাহেবের সাথে।
সৈয়দা মসিহা বেগমের দু’পুত্র ও তিন কন্যাসন্তান জন্ম গ্রহন করেন। জ্যেষ্ঠপুত্র মইন উদ্দিন চৌধুরী বিবাহ করেন সিলেট শহরস্থ ঐতিহ্যবাহী মজুমদার বাড়ী নিবাসী এ,এম, সোলেমান বখত মজুমদার সাহেব এবং সাহেদা মজুমদার সাহেবার জ্যেষ্ঠকন্যা সুলতানা বখত মজুমদার এলীকে। কনিষ্ঠপুত্র শাফকাত মাহমুদ চৌধুরী ওরফে শাহরিয়ার চৌধুরী, তিনি বিবাহ করেন কুমিল্লা জেলার ব্রাম্মণপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাধবপুর মিয়া বাড়ী নিবাসী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এবং আশরাফুন্নেসা চৌধুরাণী ওরফে ফরিদা বেগমের কন্যা মাইনুরা চৌধুরীকে। জ্যেষ্ঠকন্যা মেসবাহুন্নেসা রহমান নার্গিস, তাঁর বিবাহ হয় বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার কলাতলা নিবাসী শামসুদ্দিন আহমদ সাহেবের পুত্র শহিদুর রহমান ওরফে খোকন সাহেবের সাথে। মেঝোকন্যা মোহসেনা হাবিব নাসরীন, তাঁর বিবাহ হয় কুমিল্লা শহরস্থ রাজাপাড়া সাহেববাড়ী নিবাসী মোহাম্মদ আলী নওয়াব সাহেবের পুত্র মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ওরফে খোকন সাহেবের সাথে। কনিষ্ঠাকন্যা মাহতাব বেগম চৌধুরাণী ওরফে সুপ্তি বেগমের বিবাহ হয় তরফ সৈয়দ বংশীয় হবিগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলার অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী পইল সাহেববাড়ী নিবাসী বিশিষ্ট আলেম পীরে কামেল হযরত শাহ সৈয়দ জাহেদুল হক সাহেবের ঔরসে ও সৈয়দা ইদ্রিছুন্নেসা খাতুনের গর্ভে জন্মগ্রহনকারী তাঁদের দ্বিতীয় পুত্র ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মাহমুদুল হক সাহেবের সাথে।
কুমিল্লা সৈয়দবাড়ীতে বসবাসকারী বিশিষ্ট ব্যক্তি¡ এ্যাডভোকেট সৈয়দ আবুল ফজল সাহেবের প্রথমা স্ত্রী সৈয়দা ফয়জুন্নেসার মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়চঙ্গ উপজেলার অন্তর্গত নকলারআব্দা চৌধুরীবাড়ী নিবাসী আব্দুল হক চৌধুরী সাহেবের কন্যা হামিদা খাতুন চৌধুরাণীকে। দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি ভাউকসার ছেড়ে নিজবাড়ী কুমিল্লা সৈয়দবাড়ীতে ফিরে আসেন। এই পক্ষে তাঁর একপুত্র সৈয়দ ফজলে এলাহী ফয়সল, তিনি বিবাহ করেন ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার অন্তর্গত নরহা চৌধুরী বাড়ী নিবাসী মহি উদ্দিন চৌধুরীর কনিষ্ঠা কন্যা কামরুন্নেসা চৌধুরাণীকে। এককন্যা সৈয়দা রওনক জাহান। তাঁর বিবাহ হয় কুমিল্লা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোয়াগাজী জমিদার বাড়ী নিবাসী মকবুল আহমদ চৌধুরী সাহেবের পুত্র মোরশেদ আহমদ চৌধুরীর নিকট। সৈয়দ আবুল ফজল সাহেব ৮৫ বৎসর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ১৯৮৯ সালের ২৬শে জানুয়ারী কুমিল্লা নিজবাড়ীতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইন্নালিল্লাহে —–রাজেউন।
নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণীর দ্বিতীয় কন্যা বদরুন্নেসা চৌধুরাণীরও বিবাহ হয় ঐতিহ্যবাহী পইল সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ নাজিরুল হক সাহেবের তৃতীয় পুত্র অর্থাৎ সৈয়দ ওয়াসেলুল হক সাহেবের অনুজ সৈয়দ আজহারুল হক সাহেবের সাথে। বদরুন্নেসা চৌধুরাণীকেও বিবাহ দিয়ে খানেদামান্দ হিসেবে নবাব পরিবারের পরিবারভূক্ত করা হয়। উল্লেখ্য যে, বড়ভাই সৈয়দ ওয়সেলুল হক অরশাদুন্নেসা চৌধুরাণীকে বিবাহ করে ভাউকসারের জমিদারী লাভ করেন এবং ছোটভাই সৈয়দ আজহারুল হক বদরুন্নেসা চৌধুরাণীকে বিবাহ করে পশ্চিমগায়ের জমিদারী লাভ করেন। তাঁদের পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যাসন্তান ছিলেন। প্রথমপুত্র খাঁনবাহাদুর সৈয়দ মোহাম্মদ গাজীউল হক দ্বিতীয়পুত্র সৈয়দ আহমদ গাজীউল হক তৃতীয়পুত্র সৈয়দ সিরাজুল হক চতুর্থপুত্র সৈয়দ ফায়জুল হক পঁঞ্চমপুত্র সৈয়দ সাইদুল হক এবং প্রথমাকন্যা সৈয়দা খায়রুন্নেসা দ্বিতীয়কন্যা সৈয়দা ফখরুন্নেসা। প্রথমপুত্র খানবাহাদুর সৈয়দ মোহাম্মদ গাজীউল হক বিবাহ করেন-কুমিল্লা শহরস্থ ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণচর্থা নবাববাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর নবাব সৈয়দ হুচ্ছাম হায়দার সাহেবের কন্যা সৈয়দা জোবেদা খাতুনকে।
দ্বিতীয়পুত্র সৈয়দ আহমদ গাজীউল হক প্রথম বিবাহ করেন-লাকসাম-পশ্চিম গাঁও বাগিচাবাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর নবাব আলী নওয়াব চৌধুরী সাহেবের কন্যা——-কে। তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন-হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নরপতি সাহেববাড়ী নিবাসী সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস হাসান সাহেবের কন্যা সৈয়দা সাহার বানুকে। তাঁদের পুত্র সৈয়দ মাহবুবুল হক বিবাহ করেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাটিপাড়া জমিদার বাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর সহোদর গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী সাহেবের কন্যা লায়েকা খাতুন চৌধুরাণীকে। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন শ্যালিকা সাফেয়া খাতুন চৌধুরাণীকে। তাঁদের কন্যা সৈয়দা আজিজুন্নেসার বিবাহ হয় কুমিল্লা জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদার বাড়ী নিবাসী জমিদার সৈয়দ হাবিবউল্লাহ সাহেবের পুত্র খানবাহাদুর সৈয়দ আব্দুর রসিদ চৌধুরী সাহেবের নিকট।
উল্লেখ্য যে, তাঁর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন বৌলাই জমিদার বাড়ী নিবাসী সৈয়দ জিয়াউল হক সাহেবের কন্যা সৈয়দা হাবিবা খাতুনকে। উল্লেখ্য যে, সৈয়দ জিয়াউল হক সাহেবের অপর কন্যা সৈয়দা লাবিবা খাতুনের বিবাহ হয় লাকসাম বাগিচাবাড়ী নিবাসী জমিদার আবু আলী চৌধুরী সাহেবের পুত্র বেলায়েত আলী চৌধুরী সাহেবের নিকট। তৃতীয়পুত্র সৈয়দ সিরাজুল হক বিবাহ করেন-ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর মীর বাড়ী নিবাসী এডভোকেট সৈয়দ নূরুর রহমান সাহেবের কন্যা সৈয়দা আসিয়া খাতুনকে। তাঁর মাতামহ ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী বৌলাই জমিদার বাড়ী নিবাসী জমিদার মুসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ওরফে জোয়াদ মিয়া সাহেব। সৈয়দা আসিয়া খাতুনের ছোটবোন সৈয়দা তাহেরা খাতুনের বিবাহ হয় চট্টগ্রাম জেলার মেরাসানী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মগাদিয়া জমিদার বাড়ী নিবাসী ——————————–নিকট।
চতুর্থপুত্র সৈয়দ ফায়েজুল হক বিবাহ করেন সিলেট শহরস্থ ঐতিহ্যবাহী মজুমদার বাড়ী নিবাসী খানবাহাদুর মোহাহাম্মদ বখত মজুমদার সাহেবের কন্যা হামিদাবানু মজুমদারকে। তাঁর মাতামহ ছিলেন ব্রাম্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুনীয়ক মিয়া বাড়ী নিবাসী মৌলভী মসউদ আলী মিয়া সাহেব। পঞ্চমপুত্র সৈয়দ সাইদুল হক বিবাহ করেন——-নিবাসী——–সাহেবের জ্যেষ্ঠকন্যা সৈয়দা খায়রুন্নেসার বিবাহ হয় শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কার্তিকপুর জমিদারবাড়ী নিবাসী মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী সাহেবের নিকট। কনিষ্ঠকন্যা সৈয়দা ফখরুন্নেসার বিবাহ হয়-একই পরিবারে মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী সাহেবের অনুজ মিসবাহউদ্দিন চৌধুরী সাহেবের নিকট। উনাদের দুজনকেই লাকসাম নবাব বাড়ীতে খানেদামান্দ হিসেবে পবিারভূক্ত করেন। সৈয়দা ফখরুন্নেসা ও মিসবাহউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর একমাত্র পুত্র নাসিরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ওরফে খান্দানী মিয়া সাহেব বিবাহ করেন কুমিল্লা নবাববাড়ী নিবাসী সৈয়দ ফরহাদ হায়দার সাহেবের ভগ্নী——কে বিবাহ করে খানেদামান্দ হিসেবে নবাব বাড়ীতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁরই একমাত্র পুত্র অস্ট্রলিয়া প্রবাসী তারেক আহমদ চৌধুরী বিবাহ করেন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচঙ্গ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মীরমহল্লা সাহেব বাড়ী নিবাসী সৈয়দ জাফর ইমাম জামাল সাহেবের দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা ফাহিমা আক্তারকে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তাঁদের পূর্ব পুরুষের পরিচয় সম্পর্কে আরো জ্ঞাত হওয়া যায় যে-১৭১৩ সালে দিল্লীর স¤্রাট শাহ আলম বাহাদুর শাহ দ্বিতীয় এর রাজত্বকালে স¤্রাট তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রীর স্বামী আব্বাসীয় খলীফাদের বংশধর শাহজাদা আব্দুল আজিজের পুত্র শাহাজাদা আমীর মির্জা আগোয়ান খা ওরফে জাহান্দার শাহকে তৎসময়ের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৈন্য-সামন্ত দিয়ে এক বিশাল বাহিনীসহ ত্রিপুরা রাজ্যে প্রেরণ করেন। তখন শাহাজাদা আমীর মির্জা আগোয়ান খা তাঁর পুত্র শাহাজাদা আমীর মির্জা হুমায়ূন খাকে সঙ্গে নিয়ে এই বঙ্গদেশে আগমন করেন। ত্রিপুরাতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনয়নসহ শান্তি প্রতিষ্ঠার পর শাহাজাদা আমীর মির্জা আগোয়ান খা বীরবিক্রমে দিল্লীতে ফিরে যান। তৎসময়ে তিনি ত্রিপুরা পাহাড়ের অরণ্য জঙ্গলে ফাঁদ পেতে বন্য হাতি ধরে পোষ মানিয়ে সঙ্গে করে দিল্লীতে নিয়ে যান এবং সেই সমস্ত হাতী স¤্রাটকে উপহার স্বরূপ প্রদান করে স¤্রাটকে সম্মানীত করেন এবং নিজেও সম্মানীত বোধ করেন। তাঁর পুত্র শাহাজাদা আমীর মির্জা হুমায়ূন খা এতদাঞ্চলের মনোরম পরিবেশে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর পিতার ত্রিপুরাস্থ বসতিতে স্বীয় বসতি স্থাপন করেন এবং তাঁর নামানুসারে সেই মৌজা বা পরগণার নাম রাখেন হুমায়ূনাবাদ। তাঁর পিতার অনুরোধে দিল্লীর স¤্রাঠ হুমায়ূনাবাদ ও তৎসংলগ্ন অন্যান্য অঞ্চলের জমিদারী তাঁকে প্রদান করেন। দিল্লীর স¤্রাট কর্র্তৃক শাহাজাদা আমীর মির্জা হূমায়ূন খাকে প্রদত্ত জমিদারীর অন্তর্গত মোট ১৪টি পরগণা ছিল। ধারনা করা যায় যে, এই সব নিয়ে একটি বিশাল বড় এলাকা জুড়ে যে ভূসম্পত্তি ছিল, এর নাম হুমায়ূনাবাদ থেকে কালের বিবর্তনে হোমনাবাদ নামকরণ করা হয়।
আমীর মির্জা হুমায়ূন খা ওরফে ভুরু খা, তাঁর পুত্র আমীর মির্জা মাসুম খা এবং তাঁর পুত্র আমীর মির্জা মোতাহার খা পর্যন্ত অধস্তন বংশধরগণ তাঁদের পূর্বপুরুষ শাহজাদা আমীর মির্জা আগোয়ান খা কর্তৃক চান্দিনা থানার অন্তর্গত মহিচাইলে প্রকাশ্যে হোমনাবাদে নির্মিত বিশাল জমিদার বাড়ীতেই বসবাস ছিল। অতঃপর মোতাহার খান সাহেবের পুত্র জমিদার সুলতান খান ওরফে গোরাগাজী চৌধুরী লাকসাম পশ্চিমগাঁও নিবাসী আদি জমিদার সাধুবর গাজী সাহেদার অধস্তন পুরুষ খোদাবক্স গাজীর কন্যা ফেদাই বিবি তাঁর কন্যা পাশা বিবি ও তাঁর কন্যা বিখ্যাত সৈয়দা ভানু বিবিকে বিবাহ করার সুবাদে মহীচাইল থেকে স্থানান্তরীত হয়ে পশ্চিমগাঁও গিয়ে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। তাঁদের পুত্র হোসেন আলী চৌধুরী প্রভাবশালী জমিদার গাজী মুজাফফর সাহবের কন্যা ময়মুন্নেসা চৌধুরী ওরফে ময়না বিবিকে বিবাহ করেন। তাঁদেরই দুই পুত্র আশরাফ আলী চৌধুরী ও আহমদ আলী চৌধুরী। আর দুই কন্যা আফিয়া চৌধুরাণী ও আমেনা চৌধুরাণী। আহমদ আলী চৌধুরীই নবাব ফয়জুন্নেসার পিতা।
নবাব ফয়জুন্নেসার মাতৃকুলের ইতিহাস পর্যলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ভুলুয়া। এই ভুলুয়ার অন্তর্গত ধলিয়া গ্রামে মিনা মাহতাব নামে এক সম্ভ্রান্ত বংশীয় ব্যক্তি ছিলেন। ত্রিপুরা রাজ্যের রাজার খাজনা আদায়কারী গোমস্তা, পাইক পেঁয়াদাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মিনা মাহতাব প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে ত্রিপুরার মহারাজ মিনা মাহতাবকে শায়েস্তা করার জন্যে লাঠিয়াল বাহিনী পাঠান। তখন সেখানে তুমুল সংঘর্ষের পর দাদরা এলাকায় মহারাজার জমিদারীর অবসান ঘটে। মীনা মাহতাবের বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে মুর্শিদাবাদের নবাব দাদরার জমিদারী মিনা মাহতাবের নামে পত্তন ঘটে এবং তাঁকে চৌধুরী খেতাব দান করেন। মিনা মাহতাব জনদরদী জমিদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মিনা মাহতাবের পুত্র ফজিল মোহাম্মদ চৌধুরীর শেষ বংশধর বেজুমিয়া চৌধুরী। তাঁরই ভগ্নিপতি জমিদার আমজাদ চৌধুরী ওরফে ডেঙ্গু মিয়া। তাঁর পুত্র জমিদার আসজদ চৌধুরীর কন্যা আরফাননেসা চৌধুরানী। তাঁর কন্যাই নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ঃ
এখানে উল্লেখ করা অত্যাবশ্যক যে, উপরোল্লেখিত ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবারের পারিবারিক বিষয়ের উপর লেখা আমার এই প্রবন্ধখানা সংকলনে অতি প্রাচীনকাল থেকে অদ্যাবধি সঠিক তথ্যাদি অনুসন্ধানের ব্যাপারে আমাকে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন বিশেষ করে আমার ছোট ভাই বানিয়াচঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মীরমহল্লা সাহেববাড়ী নিবাসী “সিলেট সিটি কর্পোরেশন”এর বারবার নির্বাচিত ‘কাউন্সিলর’ বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিকড় সন্ধানী লেখক, ইতিহাস-ঐতিহ্যের গবেষক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট এর সাবেক পাঠাগার সম্পাদক এবং নজরুল একাডেমী সিলেট এর সভাপতি সৈয়দ মিসবাহ্ উদ্দিন সহ সকলের নিকট আন্তরিক ধন্যবাদ ও তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ।
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements








