তারাই আমার ছবি এফবিআই’র কাছে দিয়েছে?
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন : ২৬ জানুয়ারী (২০১৮) সকাল ৮টার দিকে ডুবাই হতে আসা ইমিরাট্স’এর বিমান জেএফকে’তে অবতরণ করে। আমার বহুদিনের অভ্যাস আমি আগেভাগে বিমান হতে নামার চেষ্টা করা। সে জন্য আমার আসন ছেড়ে সামনে চলে আসি। দেরিতে নামলে সামনে অনেক যাত্রীর ভীড় হবে । ল্যাগেজ নিতেও সময় লেখে যাবে । তাই তাড়াতাড়ি নামাই ভালো। কিন্তু ১৫/২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পরেও সামনের যাত্রীরা এক ইঞ্চিও আগাচ্ছিলেন না। জানতে পারলাম বিমানের দরজা খোলা হয় নি। তাই দাঁড়িয়ে থাকা।
একটু পরেই জনৈক ইমিগ্রেশন অফিসার হাতে একটি ছবিওয়ালা কাগজ নিয়ে আমাদের লাইনের বামদিক দিয়ে পিছনের দিকে গেলেন। পিছনে গিয়ে খুঁজলেন: হু ইজ ফিফ্টি ফোর? আমার আসন নম্বর। ফিফ্টি ফোর’কে আসনে না পেয়ে জোরে বললেন: হু ইজ ফিফ্টি ফোর?
আমি সামনের দিক থেকে হাত তুলে জোরে বললাম: আই এ্যাম ফিফ্টি ফোর। অফিসার আমার কাছে আসলেন । হাতের কাগজে থাকা ছবি ও আমার চেহারার দিকে তাকালেন: তুমি আবেদীন। হাঁ, আমি বললাম। ‘তুমি আমার সাথে আস। তোমার কি কোন অসুবিধা হচ্ছে? তোমার বুকে কোন সমস্যা হচ্ছে?’ আমি না বোধক উত্তর দিলাম। আমার হাত থেকে হ্যান্ড লাগেজ নিলেন। একটু দূরত্ব বজায় রেখে অফিসার আমাকে রেখে সামনে হাঁটতে বললেন।
বিমান হতে নামার পর বললেন: তুমি কী ভয় পাচ্ছ? বললাম: মোটেই না। যাত্রীরা যে জায়গা হতে ল্যাগেজ সংগ্রহ করেন তা হাতের ডাইনে রেখে একেবারে ঐ সময়ে আমার দিকজ্ঞান মতে আমাকে সোজা পূর্বদিকে নিয়ে গেলেন।
কিছুটা সরু তবে বেশ লম্বা একটি কক্ষ। ডানপাশে মেঝে থেকে কিছু উচ্চতায় পাশাপাশি অনেকগুলো ডেক্স। বামপাশে আমার মতো লোকদের বসার জন্য চেয়ার। ক’টি ডেক্স খালি। আমাকে দুই নম্বর ডেক্সের অফিসারের সামনে থামানো হলো। চেয়ারে বসামাত্রই তিনি জানতে চাইলেন আমার অস্বস্তি লাগছে কিনা ? হার্টে কোন সমস্যা অনুভব করছি কি না? আমার উত্তর না বোধক ছিল।
তিনি আমার ছবি তুললেন। আমার পাসপোর্ট চাইলেন। বললেন Ñ এমডি মানে মোহাম্মদ কিনা? বললাম Ñ হাঁ। আইডি চাইলেন। নিউইয়র্ক সিটির আইডি দিলাম। বললেন: ব্ল্যাজিও’র দেয়া আইডি? আর কোন আইডি আছে কি? পেনসালভেনিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স দিলাম। কোথায় কাজ করি জানতে চাইলেন। প্রথম আলো’র নাম বললাম। প্রথম আলো’র আইডি দিলাম। সাথে নিউইয়র্ক মিডিয়া সেন্টারের আইডিও ।
নিউইয়র্ক মিডিয়া সেন্টারের আইডি অনেকক্ষণ খুতিয়ে খুতিয়ে দেখললেন। কীভাবে পেয়েছি? এ আইডি কে ইস্যু করেছেন? ইত্যাদি প্রশ্ন করলেন। আমার উত্তর শুনে অফিসার চুপ হয়ে গেলেন। তিনি হয়তো কিছু বুঝে ফেলেছেন। হয়তো যেনো তেনো নমনীয় জবাবই তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন Ñ যা তিনি পান নি। শুরু হতেই আমার চেহারায়, কথায় কিংবা আচরণে সামান্যতম ভীতির ছাপ প্রতিফলিত হয় নি। আমি আমার নিজঘরে কিংবা কোন বৈঠকে যেমন থাকি তেমনই স্বতঃস্ফূর্ত ছিলাম। (তবে সারাক্ষণই মনে মনে বড় খতমের দোয়া Ñ লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা ছুবহানাকা ইন্নি কুনতুম মিনাজ যোয়ালেমি) পড়ছিলাম। কোন কিছুই যে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে নি, তা অনুভব করেই তিনি হয়তো বাড়তি কিছু জানতে চাইলেন না।
জানতে চাইলেন পাকিস্তানে কেন যাওয়া? বললাম: পাকিস্তান মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আমাকে করাচিতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া কনফারেন্সে দাওয়াত দিয়েছিল। পৃথিবীর ২৪টি দেশের ৪৩জন সাংবাদিক ঐ সম্মে লনে অংশ নেন। আমি তাদের একজন।
কোথায় কোথায় গিয়েছি? লাহোর, ইসলামাবাদ, পেশোয়ারসহ বিভিন্ন শহরে। কার কার সাথে দেখা হয়েছে? সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, লেখক, আইনজীবী, এপিপি (এসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান)’র দু’একজন বন্ধু-বান্ধবের বাইরে কেউ নন। তবে বহু সাধারণ পাকিস্তানীদের সাথে তো অনেক কথা হয়েছে। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে, এমনকি তাদের ঘরে দাওয়াতে গিয়েছি। বিভিন্ন ডিনারে অংশ নিয়েছি। তাদের পারিবারিক, সামাজিক জীবন ও সংস্কৃতি দেখেছি।
এতো ভিজিটিং কার্ড কেন? যাদের সাথেই দেখা হয়েছে, সবাই ভিজিং কার্ড দিয়েছেন। এটা তো একটা স্মৃতি Ñ কাউটিসি সৌজন্যতা । প্রতিটি কার্ড সতর্কতার সাথে পরখ করা হলো। আমি বসে বসে অনেকবার হাসলাম। তিনি আড় চোখে একবার আমার দিকে তাকান। আবার ওইগুলো দেখেন। তিনি হয়তো কার্ডগুলোর ওজন বুঝেই আমার দিকে তাকান।
ভদ্রলোক দীর্ঘক্ষণ বেশ ক’বার ফোন করলেন। কিছুক্ষণ পরপরই ডেক্স হতে উঠে অন্যত্র যান। আবার এসে ফোন করেন। আমার সাথে কোন কথাই বলেন না। আমি শুধু একবার জানতে চাইলাম আমাকে এখানে কেন আনা হয়েছে। তিনি কোন গ্রহণযোগ্য উত্তর না দিয়ে বললেন: অপেক্ষা কর।
এমন অনাহুত পরিস্থিতি হতে বের হতে কতো সময় লাগতে পারে, এমনকি আদৌ বের হওয়া যাবে কী না তা নিয়ে সন্দিহান থাকায় আমি জনৈক ভারতীয় সাংবাদিকের লেখা একটি ইংরেজী বই অনুবাদের কাজে লেখে গেলাম। বিমানে যাওয়া আসার সময়, পাকিস্তানে থাকা দিনগুলোতে সময় পেলে অনুবাদই করেছি । কখনোই বিমানে তেমন ঘুমাই না।
অনেক সময় পেরিয়ে যায়। ক্ষুধা না পেলেও ঔষধ খাবার সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। একটু পরে জানতে চাইলেন আমার আর কোন ল্যাগেজ আছে কিনা। বললাম: আরো দুটি। আমি বাড়িয়ে বললাম: এ দুটির একটি আমার। অন্যটি জনৈক পাকিস্তানী বন্ধুর। তার নামও বললাম। তার পরিচয় জানতে চাইলেন। তাও বললাম। তার ল্যাগেজে কি কি আছে, বিশেষত পানের খয়েরের কয়েকটি প্যাকেটের কথাও বললাম। সেগুলো তো সংগ্রহ করা হয় নি। আমি বোর্ডিংপাস দিলাম। কিছুক্ষণ পর দুটি ল্যাগেজই অক্ষত অবস্থায় আমার কাছে আনা হলো। বসে থাকলাম। ঘন্টা দেড়েক চলে যায়।
একটু পরে বললাম: আমি ঔষধ খাব। পানি লাগবে। ঔষধ খাবে? তিনি কিছুটা হতবাক হলেন। বামদিকে পিছনে পানির ট্যাপ দেখিয়ে দিলেন।
আমি হ্যান্ডল্যাগেজ হতে ঔষধ বের করলাম। তিনি ঔষধগুলো খুবই সাবধানতার আমার কাছ থেকে নিলেন। মনে হলো হয়তো তিনি কোন বিপদজনক কিছুতে হাত দিচ্ছেন। বেশ সময় নিয়ে প্রতিটি ঔষধের নাম ও কার্যকারিতা পড়লেন। ইতস্ততার সাথেই তিনি ঔষধগুলো আমাকে ফেরত দিলেন।
তার ভাব দেখে আমি অনুমান করলাম: তিনি হয়তো ভাবছেন আমি হয়তো জঙ্গী। কিংবা জঙ্গীপনার সাথে হয়তো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে তেমন সন্দেহ থেকেই তো আমাকে বিমান থেকে নিয়ে আসা হয় । আর এতোক্ষণ মূলত আটক রাখা হয়। ঔষধ সেবনের নামে আমি কোন সুইসাইডাল ক্যাপসুল খাচ্ছি কি না Ñ তা-ই ঔষধগুলো খতিয়ে খতিয়ে দেখা।
ঔষধ খেয়ে আবার অনুবাদ। কিছুটা ক্ষুধা অনুভব করছি। কিছুই করার নেই। তার কাছেও ক্ষুধার কথা বলি নি। আমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে না। জানতে চাইলাম: আর কতোক্ষণ এখানে থাকতে হবে। তিনি কিছুই বললেন না। ইতোমধ্যে বেশ ক’বার আমার ফোন বেজেছে । আমি কল ধরি নি। একটি কল ধরলেই বললেন: ফোন বন্ধ কর।
প্রায় আধাঘন্টা পরে জানতে চাইলেন ল্যাগেজগুলোতে কী কী আছে ? বললাম: কাগজপত্র, বই, কাপড়-চোপড়, পান খাওয়ার শুকনো খয়ের ইত্যাদি।
আমার পিছনে সরু একটি ওয়াকওয়ে দেখিয়ে তিনি বললেন: ল্যাগেজগুলো ওখানে নিয়ে যাও। কোন প্রশ্ন না করেই আমি তা-ই করলাম। ফিরে এসে আবার অনুবাদে মন দিলাম। তিনি আমার দিকে অনেকটা অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন। আমি ভাব-লেশহীন। সবকিছু তক্দিরের উপর ছেড়ে দিয়েছি। মনে মনে যেকোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমার মানসিক বল ছিল: আমি কোন অন্যায় করি নি কিংবা কোন অন্যায়ের সাথেও আমার সম্পর্ক নেই। আমাকে আটকে রাখার কোন আইনী অজুহাত কেউই পাবেন না। তাই দুঃশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয় নি? চিন্তিত হলেই কি দুর্দশা যাবে ? ভাগ্য খারাপ হলে কিংবা কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার ক্ষতি করতে চাইলে বিনা দোষেই সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা সবক্ষেত্রেই ৫০ শতাংশ।
সাড়ে নয়টার দিকে বললেন: তোমার ল্যাগেজ খুলতে হবে। আমি তার দিকে চাবি বাড়িয়ে দিলাম। বললেন: তোমাকেই খুলতে হবে। আমি মেঝেতেই খুলতে গেলে বললেন: টেবিলের উপর উঠাও । আমি ধরামাত্র তিনি বুঝলেন Ñ বেশ ভারী। নিজে দুইহাত লাগিয়ে দুটি ল্যাগেজই টেবিলে রাখলেন।
ল্যাগেজ খোলার সময় তার সতর্কতা দেখে আমি সত্যিই বিস্মিত ও নিশ্চিত হলাম Ñ তারা আমাকে জঙ্গী কিংবা জঙ্গী-সম্পৃক্ত ব্যক্তি সন্দেহে বিমান হতে নামিয়ে এনেছেন। ল্যাগেজ খোলার সময় তিনি সরে গিয়ে সম্ভবত নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়ালেন। আমি একটা একটা করে ল্যাগেজ খুলে দিলাম। আর তিনি প্রতিটি লাগেজে রাখা সবকিছু তন্ন তন্ন করে দেখলেন। বই কাগজপত্র কিছুই বাদ দেন নি। সবকিছুই ইংরেজীতে লেখা Ñ তার বুঝতে অসুবিধা হয় নি। জামা-প্যান্টের ভাঁজে ভাঁজে পরতে পরতে খুঁজে খুঁজে সবকিছু Ñ চিরকুট, ভিজিংটি কার্ড, ক্যাশমেমো Ñ বের করলেন। আমি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলাম। সবকিছু দেখে সেগুলো ভিতরে রাখলেন । তালা লাগাতে বললেন। ল্যাগেজগুলো টেবিলেই পড়ে থাকলো। আগের জায়গায় ফিরে আবার অনুবাদ ।
প্রায় ২০/২৫ মিনিট পরে ওই অফিসার হ্যান্ডল্যাগেজ ও হাতে থাকা আরেকটি ব্যাগ নিয়ে ল্যাগেজ রাখা ওয়াকয়ে দিয়ে সামনে গিয়ে ডানদিকের কক্ষে যেতে বললেন। ডানদিকে অনেকগুলো কক্ষ। আমি দ্বিধান্বিত। ঠিক কোনটিতে ঢুকতে বলা হয়েছে? অফিসার এগিয়ে আসলেন। দেখিয়ে দিলেন কোন কক্ষে যেতে হবে। একেবারে শেষ প্রান্তে ডানদিকের কক্ষে।
ওই কক্ষে ঢুকার সময় ভাবনা এলো হয়তো আমার সামনে বড় বিপদ রয়েছে। ভয়ও উদয় হলো Ñ হয়তো আমাকে অকারণে আটকে রাখা হবে। বড় খতমের দোয়া পড়তে পড়তে ঢুকলাম। সাহসী হওয়া ছাড়া অন্যকোন পথ নেই।
৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী দু’জন অফিসার বসা। গুড মর্নিং বলে নির্ভয়ে আমি এগিয়ে গেলাম। একজন বললেন : ‘হ্যালো, হাউ আর ইউ?’ “গুড”, বললাম।
তারা আমার সাথে করমর্দন করলেন। আমার দিকজ্ঞানানুযায়ী তারা পশ্চিমমুখী হয়ে বসা। সামনে একটি ছোট টেবিল। তাদের মুখোমুখি হয়ে বসার জন্য একটি চেয়ার। ‘প্লিজ সিট অন’। আমি বসলাম। আমার পিছনে একটু ফাঁক । তারপরেই, অর্থাৎ আমার পিছনে একটি টেবিল।
আবার ল্যাগেজ খুলতে হলো। তারা বইগুলো দেখলেন। সবগুলোই ইংরেজিতে লেখা। কোন কোন বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টালেন। নেহেরুর আত্মজীবনী উল্টে-পাল্টে দেখলেন। ভারতীয় সাংবাদিকের বইটিও দেখলেন । যে খাতায় অনুবাদ লিখছি তাও দেখলেন। বই নিয়ে কোন কথা বললেন না।
তারা একই ধরনের প্রশ্ন দিয়ে কথা শুরু করলেন। পাকিস্তানে কেন গেলাম, কোথায় থাকলাম, কোন কোন জায়গায় গেলাম, কার কার সাথে দেখা হয়েছে ইত্যাদি। আমি আগের জবাবের পুনরাবৃত্তি করলাম। এটাও বলতে ভুলি নি যে, লাহোরে হোটেলে না থেকে একটি পরিবারের সাথেই বেশি দিন থেকেছি।
প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশে কি পেশায় ছিলাম। বললাম: ১৯৭২ সন হতে সংবাদপত্রের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলাম। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ১৯৮০ সনে শিক্ষকতায় প্রবেশ করি। ঢাকার দুটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে Ñ প্রথমে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে এবং পরে আমেরিকায় আসার আগ পর্যন্ত মিরপুর এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজে Ñ শিক্ষকতা করেছি।
জানতে চাইলেন: ‘আমেরিকাকে ভালোবাসি কী না?’ “অবশ্যই। আমি এদেশের নাগরিক। এ দেশে আসার অনেক আগে Ñ সে-ই ১৯৭২ থেকে আমি আমেরিকার জন্য পরোক্ষভাবে হলেও কাজ করেছি। মূলত ঢাকাস্থ তথ্য কেন্দ্র ইউএসআইএস আমাকে প্রতিষ্ঠিত লেখক সাংবাদিক হতে সাহায্য করেছে। বইপত্র, সাময়িকী দিয়েছে। আমি একেবারে বিনা স্বার্থে বিনা পয়সা কমিউনিজম আর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে লিখেছি। সেটা ছিল আমার আদর্শিক লড়াই। সেগুলো আমেরিকার পক্ষে গিয়েছে। বিশেষত আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণের পর হতে বাংলা ইংরেজিতে অসংখ্য তথ্যভিত্তিক প্রবন্ধ লিখেছি।
তারা আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। একটু থেমে বললাম, সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়াও কিউবা, পূর্ব জার্মান, এমনকি ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, নিকারাগুয়াসহ ল্যাটিন আমেরিকার যেসব দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলন চলছিল Ñ কোনকিছুই বাদ যায় নি। বাদ যাননি লেক ওয়েলেসা, আঁদ্রে শাখারব, আনাতোলি কারপভ, সলঝনেতসিনসহ সোভিয়েত ইউনিয়নের ভিন্নমতাবলম্বী কবি-সাহিত্যিক, গণিতবিদ, বিজ্ঞানীদের করুণ জীবনের কথা। বাদ যায় নি কীভাবে মাত্র সাত শতাংশ সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও সমর্থক বাকী ৯৩ শতাংশ জনগণকে শুধু হত্যা ও নির্যাতনের নির্মমতা দিয়ে লোহযবনিকার অন্তরালে নিষ্পেষিত করেছিল। বাদ যায় নি সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি এবং সাধারণ সোভিয়েত জনগণের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বিশাল পার্থক্যের কথা কিংবা বুর্জোয়া জার আমল থেকে কমিউনিস্ট জারদের মুসলিম দেশ দখলের নিন্দনীয় কাহিনী।
তারা নীরবে শুনছেন। আমি যোগ করলাম: আফগানিস্তানে সোভিয়েত হামলার পর ১৯৮০ সনের জুন মাসের দিকে ‘শ্বেত ভল্লুকের থাবা’ শিরোনামে আমার একটি প্রবন্ধ ঢাকার একটি দৈনিকে মুদ্রিত হয়। প্রবন্ধটি ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ, বিশেষত কীভাবে কমিউনিস্টরা জার রাজবংশকে উৎখাত করে তাদের মতোই ‘মিঠা পানি’র অন্বেষায় দক্ষিণমুখী আগ্রাসী নীতি অব্যাহত রাখে । ওই নীতিরই অংশ হিসেবে ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তান দখল করে। ক’মাস পরে ওই দৈনিকের চেয়ারম্যান আমাকে একটি ম্যাগাজিন দেন। ম্যাগাজিনটি বাংলা, ইংরেজী, আরবী, ফার্সিসহ বেশ ক’টি ভাষায় ছিল। আমি দেখে বিস্মিত হলাম ওই ম্যাগাজিনের প্রথম প্রবন্ধটি ছিল আমার লেখা Ñ ‘শ্বেত ভল্লুকের থাবা’। আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্ব প্রসঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় লেখাগুলোর মধ্যে বাছাইকৃত মাত্র পাঁচটি প্রবন্ধকে বিভিন্ন ভাষাভাষীদের জন্য এ ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা হয়।
আমি বললাম: দীর্ঘদিন যাবত স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছি। কেউই আমাকে লিখতে বলে নি। কোন পারিশ্রমিক চাই নি। কোনদিন আমেরিকার ভিসা চাই নি। কেবল ইউএসআইএস থেকে কিছু বই, ম্যাগাজিন বই পেয়েছি। কিছু কিছু অনুষ্ঠানের দাওয়াতে অংশ নিতাম। এ ধরনের একটি উচ্চ পর্যায়ে অনুষ্ঠান হয়েছিল গুলশানের ৫০ নং সড়কে লিলি হাউজে। ওটা ছিল টেলি কনফারেন্স। ঢাকা, কলম্বো এবং কাঠমুন্ড থেকে সাংবাদিকদের সাথে (সম্ভবত ওয়াশিংটনে) কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নেতা ওয়াসির দীন মোহাম্মদের আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটি বিষয়ক সংলাপ। ওই সংলাপের ভিত্তিতে আমি বাংলায় ‘আমেরিকায় ইসলাম’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখি। ওটি বাংলা দৈনিক ‘ইনকিলাব’এ প্রকাশিত হয়। একই প্রবন্ধের ইংরেজী অনুবাদ ‘ইসলাম ইন আমেরিকা’ শিরোনামে তৎকালীন ইংরেজী দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’এ প্রকাশিত হয় । তাদের চোখ বড় হয়ে যায়।
আমার দীর্ঘ বক্তব্যে তারা দু’জনেই আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। আমি থামলে ডানপাশের অফিসার বললেন: তুমি আমেরিকাকে ভালোবাস? আবার একই প্রশ্ন। বললাম: অবশ্যই। এদেশ এখন আমার অস্তিত্বেরই অংশ।
এক পর্যায়ে ১৯৭১ সনে আমার ভূমিকা জানতে চাইলেন। বললাম: আমি মুক্তিযোদ্ধা । আমি ভারতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সেখানে নাটক লিখে তা মঞ্চস্থ করেছি।
প্রশ্ন ছিল: পূর্ব পাকিস্তানে ভারতের হস্তক্ষেপকে আমি স্বাগত জানিয়েছিলাম কী না। অবশ্যই এ ছাড়া আমাদের অন্যকোন বিকল্প ছিল না। তবে আমি ভারতের বর্তমান ভূমিকার তীব্র বিরোধী। ভারত আমাদেরকে গিলে ফেলতে চায় । তা’ আমরা হতে দেব না। প্রায় তিন মিলিয়ন জীবনের বিনিময়ে অর্জিত দেশ ভারতের অংশ হতে পারে না। তোমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স তোমাদেরকে সাহায্য করেছে। ফ্রান্সের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী তোমাদের হয়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। ঐ সময়ে ফ্রান্স আমেরিকাকে তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল, যে ঋণ আমেরিকা এক পর্যায়ে পরিশোধ করতে অস্বীকার করে। আমেরিকার মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য তোমরা কী ফ্রান্সকে তোমাদের দেশকে অবাধে ব্যবহারের সুযোগ দিবে? ফ্রান্সের কর্তৃত্ব মেনে নিবে? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা কী ফ্রান্স ঠিক করবে?
তারা কোন জবাব দিলেন না । কোন মন্তব্যও করলেন না। বললাম: তোমাদের বন্ধুত্বকে ব্যবহার করে ভারত এখন বাংলাদেশসহ তার প্রতিবেশী দেশসমূহের উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে। ভারত আমাদেরকে নদীর পানি হতে বঞ্চিত করছে। আমাদের সীমান্তে কাাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। বিভিন্নভাবে আমদের দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
ভারতের সাথে এ সখ্যতা তোমাদের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে। ভারত কখনই তোমাদের স্বার্থের পক্ষে কাজ করে নি। ভবিষ্যতেও করবে না। চূড়ান্ত পর্যায়ে ভারত এ অঞ্চলে তোমাদের উপস্থিতি চায় না। চট্টগ্রাম বন্দরে আমেরিকান একটি কোম্পানী টার্মিনাল নির্মাণে আপ্রাণ চেষ্টা করে। কেবল ভারতের বিরোধতিার কারণে তা ব্যর্থ হয়। চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র মহীউদ্দিন এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু তার দল ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর অবাধে ব্যবহার করার সুযোগ দিলে মহীউদ্দিনরা এর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেন নি।
(কথা বলার এক পর্যায়ে সামান্য বাঁমদিকে ঘুরে দেখি আমার পিছনের টেবিলে প্রথম ব্যক্তি আমার কাঁধ বরারব চুপচাপ বসে আছেন। তিনি যে কখন ঐ জায়গায় বসেছেন তা আমি অনুভবই করি নি। আমেরিকাতে টেবিলে বসাকে আমি অস্বাভাবিক মনে করি। আবার পরের দুইজন অফিসারই বয়সে প্রথম ব্যক্তির চেয়ে কম হলেও ক্ষমতা এবং পদমর্যাদায় তার চেয়ে যে অনেক উপরে তাদের সাথে দু’মিনিট দুয়েক কথা বলেই বুঝেছি। এ দুটি কারণে তাদের সামনে ঐ ব্যক্তির টেবিলে বসা আমার কাছে উদ্দেশ্যমূলক মনে হয়েছে ।)
ভারত চায় না আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠুক। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে গেলে কেবল ভারতের চাপের মুখে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার সন্ত্রাসী হামলার জুজু দেখিয়ে তাকে আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যেতে দেয় নি। ক্লিনটন সারাদিন আমেরিকান দূতাবাসে মূলত আটকা ছিলেন। আমি ঐ সময়ে (ডেইলি নিউ নেশন) ক্লিনটনের সাথে এমন আচরণের জন্য ভারতকে দায়ী করে প্রবন্ধ লিখেছি। এরপর আর কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করেন নি। ভারত পর্যন্ত গিয়ে তারা আমাদের দিকে তাকান না।
ভারত চায় না আমেরিকার কোন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করুক। ভারত বাংলাদেশ থেকে আমেরিকাকে দূরে রাখতে চায় । কিন্তু আমি মনে করি ভারতের থাবা হতে বাঁচতে হলে আমেরিকা কিংবা চীনের সাথে আমাদের সরাসরি সামরিক চুক্তি থাকা জরুরী। যদি ভারত এ ধরনের সামরিক চুক্তি আমেরিকা এবং একই সাথে রাশিয়ার সাথে করতে পারে, তবে আমরাও আমেরিকা এবং চীনের সাথে তা করার অধিকার রাখি। কারণ ভারত আমাদের ভূমি নিয়ে যেতে চায়। ভারতই আমাদের জন্য বড় বিপদ। আমাদের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না এমন শর্তে আমাদের কোন দ্বীপে আমেরিকার ঘাঁটি থাকলে ভারত আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। কিন্তু চীনকে ঘেরাও করার জন্য আমেরিকার নীতি-নির্ধারকরা ভারতকে আমাদের অঞ্চলের অঘোষিত মোড়ল বানিয়েছেন।
আমি না থেমেই বললাম: ভারত সব সময়ই আমেরিকান বৈশ্বিক নীতির প্রতিদ্বন্ধী সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে কাজ করেছে। এখনো করছে। ইউক্রেন প্রশ্নে ভারত আমেরিকার নীতির বাইরে অবস্থান নেয়। পুরো ঠান্ডা লড়াইয়ে, এমনকি আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখতে ভারত সোভিয়েত বরকন্দাজ হিসেবে কাজ করে। আমেরিকাকে হেয় করে প্রচারণা চালায়। আমি বিস্মিত সে-ই ভারতকে আমেরিকা এখন কোলে টেনে নিয়েছে। কিন্তু ভারতের প্রতি এমন ছাড় একদিন আমেরিকার বিপক্ষেই যাবে। নব্বইয়ের দশকে ভারতীয় বুদ্ধিজীবী ও পরবর্তীকালে মন্ত্রী সুব্রামনিয়াম স্বামীর লেখা একটি প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদেরকে বললাম: ভারত মহাসাগরকে তাদের নিজস্ব হ্রদ মনে করে। সুব্রামনিয়াম স্বামী সরাসরি লিখেছেন: ভারত মহাসাগরে আমেরিকার অবাধ চলাচলের অধিকার নেই। এটা ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের লালিত স্বপ্ন।
আমার দীর্ঘ বক্তব্য শুনে তারা কোন মন্তব্যই করেন নি। বাধাও দেন নি। চুপচাপ শুনছিলেন। তবে মাঝে মাঝে নোট লিখেছেন। আমি বললাম: ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে ব্যবহার করে তোমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার চীনে গিয়েছিলেন। তোমরা চীনকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিলে সোভিয়েত ইউনিয়েনকে মুকাবিলা করতে। ঐ সময়ে আজকের ভারত তোমাদের বিপক্ষে সোভিয়েত কমিউনিস্টদের তাবেদারি করতো। চীনে তোমাদের ব্যাপক বিনিয়োগ গিয়েছে। আজ সেই চীন তোমাদেরকে পাত্তা দেয় না। আর তোমাদের প্রতিপক্ষ ভারত এখন তোমাদের বন্ধু। একদিন ভারতও তোমাদের সাথে ঠিক এ আচরণই করবে। চীনের চাইতেও মারাত্মক ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়াবে। এ কথাগুলোও তারা লিখেছিলেন।
আমি বললাম কোন দেশের সাথে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে আমেরিকার ঠিক হবে না। আমেরিকাকে তার অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ করার দিকে তাকাতে হবে। আমেরিকার এমন নীতি হওয়া উচিত: আমেরিকা কোন দেশে যুদ্ধ করবে না এবং অন্যদেশকেও যুদ্ধ করতে দিবে না। এ ধরনের নীতি শান্তি ও গণতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে আমেরিকা গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবকে বিশ্বব্যাপী সুদৃঢ় করবে।
আমি আমার প্রসঙ্গে বললাম: আমি শান্তিপ্রিয়। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী উদার মুসলিম। আমাদের ধর্মে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই Ñ মানুষ হত্যাকে নিষিদ্ধ করেছে। আইএসএস’কে কারা মাঠে নামিয়েছে, কোন সূত্র থেকে তারা অর্থ-অস্ত্র পায় তা কেউই খুঁজে বের করে না।
আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। সে গণতন্ত্র আমাদের দেশে নেই। ভারতের কারণে সে গণতন্ত্র চর্চা ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ঢাকায় নিযুক্ত তোমাদের রাষ্ট্রদূত ডেন মজিনা অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছিলেন । ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং মজিনার সাথে কূটনৈতিকসুলভ আচরণ করেন নি। সুজাতা সিংহ তাকে জানিয়ে দেন ভারত আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চায়। ভারতের আসকারা পেয়ে অবাধ নির্বাচনের পক্ষে কথা বলার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিনাকে ‘দু’আনার কূটনীতিক বলে উপহাস ও অপমানিত করতে দ্বিধা করেন নি। আমি এ ধরনের আচরণের বিপক্ষে লিখেছি। ভারত আমাদের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায় । আমরা এটা মেনে নিতে পারি না। আমাদের জনগণ ভারতের কর্তৃত্ব পছন্দ করেন না।
এগারটার কিছু পরে তারা উঠলেন। আমি ল্যাগেজগুলো নিয়ে বাইরে এলাম। ভাবলাম: তারা কেন আমাকে প্লেন থেকে নিয়ে এলেন? এতোক্ষণ এতো কথা শুনলেন। তারা কী পেলেন? কী তথ্য পেলেন? আমাকে এতোক্ষণ ধরে রাখলেন কেন? বহুদিন থেকেই আমি অনেককেই বলে আসছি ভারতীয় গোয়েন্দারা আমার প্রতিটি কদম অনসুরণ করে, এমনকি আমেরিকাতেও । পাকিস্তানেও কেউ না কেউ তা-ই করেছে। তারাই আমার ছবি এফবিআই’এর কাছে দিয়েছে? আমেরিকার মতো দেশে যদি আমার এ অবস্থা হয় তবে দুনিয়ার কোন দেশেই কী আমার যাবার জায়গা নেই। আমি কী ভয়ঙ্কর কিছু? আমার দেশপ্রেম কী আমার অপরাধ যা আমাকে লেখায়, লিখতে বাধ্য করে। আমি আমার স্বদেশকে ভালোবাসি। এটা আমার দায়িত্ব। এ ভালোবাসা কারো বিরুদ্ধে নয়। আমার স্বদেশপ্রেম তাদেরকেই পীড়িত করে যারা আমার দেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না কিংবা যারা স্বার্থের বিনিময়ে ঐ আগ্রাসী শক্তির হয়ে করেন। তাই হয়তো আমার দেশপ্রেম তাদের দৃষ্টিতে অপরাধ। যদি তা-ই হয়, তথাপি আমি আমার অবস্থান হতে বিন্দুমাত্র নড়বো না। সব হারাতে চাই, তবুও দেশ থাকুক। এটা হারাতে দেবো না।
তবে ওই অজানা চরদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাকে হেনস্তা করতে গিয়ে আমার, আমার দেশ ও জাতির উপকার করেছেন। উপকার করেছেন আমার নতুন দেশ আমেরিকার। এই জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমেরিকার নীতি নির্ধারকদের কাছে আমার মতো অধমের কিছু বার্তা পৌঁছিয়ে দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, যা তারা লিখে নিয়েছেন। হয়তো সে বার্তাগুলো আমেরিকার জন্য বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে হলেও সুখকর কিছু বয়ে আনতে পারে।*
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক
Emai: [email protected]
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








