Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের নিবন্ধ: বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 170 বার

প্রকাশিত: December 21, 2011 | 11:15 PM

ডেস্ক: আমি পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে ১৯৭১ সালের ঘটনায় বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাই। পাকিস্তান সরকারেরও এটা করা উচিত। অধঃপতনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে- এটাই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ। মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনলাইন দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকায় এ আহ্বান জানিয়েছেন ড. আকমাল হুসেইন। ওই পত্রিকায় ‘দ্য শ্যাডো অব ১৯৭১’ শীর্ষক এক আবেগঘন নিবন্ধে এসব কথা বলেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের শিক্ষা হলো- সামরিক বাহিনীকে কখনও শাসনক্ষমতা দিতে নেই। তাদেরকে নিজের দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করাও উচিত নয়। তিনি লিখেছেন, যখন ১৯৭১ সালে সামরিক সরকার তার নিজের দেশ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালায়। তাদের যেসব বিষয় মেনে চলতে বলা হয়েছিল তা তারা হেয় করেছে। পশ্চিম পাকিস্তানে জনমনে ভ্রান্ত ধারণা উস্কে দেয়া হয়েছিল রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র থেকে। এটা ছিল ধর্মীয় ও জাতিগত উন্মাদনা। ওই সময়ে বাঙালিরা ছিলেন পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদেরকে হিন্দুদের প্রভাবে প্রভাবান্বিত একটি জাতি হিসেবে গণ্য করা হতো। তীব্র আন্দোলনের সময় জেগে উঠতে ব্যর্থ হয় পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ। এর ফলেই মানবতার তন্তুতে ছেদ পড়ে। যে মানবতা সমাজকে জাতীয় চেতনার ভিত্তিতে একত্রিত করে বেঁধে রাখে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধপরবর্তী পাকিস্তানের মানুষজন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। এর ফলে তারা যে অপরাধ করেছে তা তাদের জাতীয় অন্তরাত্মায় এক রকম ছায়া ফেলেছে। সুশাসনে মানবতার মূল্যবোধ থেকে সরে যাওয়ায় সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে ক্ষয় ধরেছে। কারণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবলম্বন হলো আদর্শ ও সভ্যতার মূল্যায়ন। ১৯৭১ সালের অধঃপতনের মূলে প্রধান যে বিষয়টি ছিল তা হলো- ক্ষমতায় ছিল একটি সামরিক সরকার। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তা নিয়ে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধান হওয়া প্রয়োজন ছিল রাজনৈতিকভাবে। কিন্তু ওই সরকার সেক্ষেত্রে বেছে নেয় সামরিক শক্তি। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে জড়িত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পেশাগত শৃঙ্খলা, আইন ও নৈতিকতার আস্তে আস্তে অধঃপতন হতে থাকে। এই বিষয়টি হামদুর রহমান কমিশন রিপোর্টের প্রকাশিত সংস্করণে পরিষ্কার বলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে: ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসনের সময় থেকেই সামরিক শাসনে সেনাবাহিনীকে জড়িত করা আমাদের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে নৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বড় কারণ। ওই কমিশন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। যেমন: ‘১৯৭১ সালের ২৫ ও ২৬শে মার্চ রাতে ঢাকায় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।’ ‘হত্যা করা হয় বুদ্ধিজীবী,  ডাক্তার, প্রকৌশলীদের মতো পেশাদার ব্যক্তিদের’। ‘হত্যা করা হয় পূর্ব পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের।’ ‘পূর্ব পাকিস্তানের বিপুল সংখ্যক নারীকে ধর্ষণ করা হয়।’ সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের বিবৃতির উপর ভিত্তি করে হামদুর রহমান কমিশন তার রিপোর্ট সম্পন্ন করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জেনারেল নিয়াজির কথা। তিনি বলেছেন- প্রাথমিকভাবে শক্তি প্রয়োগের জন্য সামরিক পদক্ষেপকে নেয়া হয়। ব্রিগেডিয়ার শাহ আবদুল কাসিম বলেন- ওই রাতে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেনা কর্মকর্তারা প্রতিশোধ নেয়ার ও ক্ষোভের কারণে প্রভাবিত হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তান সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী বলেন: ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ, হয়রানি, অবমাননা ঘটেছে প্রায় ক্ষেত্রে। পেশাদার সেনাবাহিনী এত নিচুতে নেমে আসা থেকে দেখা যায় যে, একটি সংস্থা তার নৈতিক অবস্থাকে ত্যাজ্য করে তখনই। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকে পাকিস্তানি সেনারা একটি যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠার চেষ্টা করছে। এর মূল লড়াইটা হলো শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, ক্যারেক্টারকে শক্তিশালী করতে এবং নৈতিকতা ফেরাতে। এ বিষয়গুলো সেনাদের প্রশিক্ষণকালে শিখানো হচ্ছে। ১৯৭১ সালের শিক্ষা হলো- সেনাবাহিনীকে কখনও সরকার চালাতে অথবা জনগণের বিরুদ্ধে তাদের ব্যবহার করা উচিত নয়। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ