Friday, 23 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

নগ্নতায় জার্মানি একত্রিত, মনোভাবে খণ্ডিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 23 বার

প্রকাশিত: May 14, 2012 | 1:04 PM

 

 নগ্নতা জার্মানির নাগরিকদের কাছে একটা সুপ্রতিষ্ঠিত আচার। অনেক বহিরাগত পর্যটকই জার্মানদের এই সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে সূর্যস্নান করার অভ্যাসটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন না। কিন্তু জার্মানদের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। দেশটি যখন বার্লিন দেয়াল দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি নামে বিভক্ত ছিল, তখনো আরও অনেককিছুর মতো এই নগ্নতাবাদ ছিল দুই জার্মানির একটা অন্যতম সাংস্কৃতিক মিল। পৃথিবীতে যেখানে অনেক দেশেই মেয়েদের এ রকম নগ্ন প্রদর্শনকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, সেখানে জার্মানির এই উদারতাকে নারীস্বাধীনতার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করেন অনেকে। কিন্তু নগ্নতাবাদের প্রতি সমর্থন থাকলেও জার্মানির বিভিন্ন অংশে কি এখনো নারীস্বাধীনতা প্রত্যয়টি নিয়ে বিভাজন ক্রিয়াশীল আছে? সম্প্রতি নিজের কিছু টুকরো অভিজ্ঞতার আলোকে এমন প্রশ্নই তুলেছেন বিবিসির বার্লিন প্রতিবেদক স্টিভেন ইভান্স।
নগ্নতাটা জার্মানদের কাছে একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। এ বিষয়ে কারও সংশয়ের কথা শুনলে তারা পাল্টা প্রশ্ন করে বসে, কেন একটা নোংরা, ঘর্মাক্ত সাঁতারের পোশাক গায়ে চাপাতে হবে? তাদের দৃষ্টিতে পুরোপুরি নগ্ন থাকাটার সঙ্গে যৌনতার কোনোই সম্পর্ক নেই। কিন্তু এই সংশয়মূলক দৃষ্টিভঙ্গিটা জার্মানিতেও ছিল। নািস ও কমিউনিস্ট, দুই আমলেই। কমিউনিস্ট আমলে তত্কালীন পূর্ব জার্মানির সংস্কৃতি মন্ত্রী নাগরিকদের সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছিলেন ‘জাতির চোখ রক্ষা’ করার জন্য। তার বিপরীতে নগ্ন-স্নান করাটা ছিল নাগরিকদের একটা ভিন্নমত প্রকাশের চিহ্ন। নািসরাও এই নগ্নতাকে সমর্থন দিয়েছিল। হেরম্যান গুরিং এটাকে আখ্যায়িত করেছিলেন জাতিকে আরও শক্তিশালী করতে ‘সূর্য ও বায়ুর নিরাময় ক্ষমতা’ হিসেবে। কিন্তু প্রকাশ্য-নগ্নতা প্রদর্শনকে পুরোপুরি মেনে নিতে পারেননি তিনি। এবং এটা নারীর শালীনতাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় বলে তিনি এটাকে আখ্যা দিয়েছিলেন ‘সাংস্কৃতিক ভ্রম’ বলে।
কিন্তু পরে এই দুই ধরনের যুক্তিই খারিজ হয়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংস-যজ্ঞের পর জার্মানিতে পুরুষের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যায়। সে সময় পুরুষদের থেকে ৭০ লাখ বেশি নারী ছিল। এই পরিস্থিতিতে জার্মানিতে বিশেষভাবে নারীকেন্দ্রিক এমন একধরনের শিল্প গড়ে ওঠে, যেটা অন্যান্য পশ্চিমা দেশের থেকে একেবারেই আলাদা। দেশটির বিপুলসংখ্যক নারীদের সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সেখানে গড়ে ওঠে একটা মেইল-অর্ডার ইন্ডাস্ট্রি। এর মাধ্যমে যে কেউ দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কোনো জিনিস কেনার অর্ডার করতে পারত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত অবস্থার ভেতরে অনেক জার্মান নারীই গর্ভধারণ এড়াতে চাইতেন বলে বিবিসির বার্লিন প্রতিবেদক স্টিভেন ইভান্সকে জানিয়েছিলেন বেটি উশে। একজন চিকিত্সকের মেয়ে হওয়ার সুবাদে জার্মান এই নারী অনেককেই কনডম দিয়ে সহায়তা করতেন। এটাই পরে জার্মানির একটি সফলতম বাণিজ্যে রূপ পায়। আর যেহেতু এই বেচা-কেনাটা সরাসরি দোকানে না গিয়েও করা যেত, সেহেতু নারীদের এটা কেনা থেকে বিরত থাকতে হয়নি। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের ক্যাথলিক নারীরাও মেইল-অর্ডারের মাধ্যমে কনডম কিনতে পারতেন। ফলে বোঝা যায় যে নারীরা অনেকাংশেই সাহসী ও নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন ঘটে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও শক্তি অর্জন করেছিল।
যুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানিতে পুরুষদের ব্যাপক অনুপস্থিতির মধ্যে নারীরা খুবই স্বাধীনচেতা ও সাহসী হিসেবে গড়ে উঠেছিলেন বলেই জানিয়েছেন ইতিহাসবিদ এলিজাবেথ হ্যানিম্যান। তবে পশ্চিম জার্মানিতে নারীদের ক্ষেত্রে আবার প্রথাগত নিষ্ক্রিয় ভূমিকাটাই পুনরায় আরোপিত হতে থাকে। অন্যদিকে পূর্ব জার্মানিতে নারীরা সত্যিকারের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভের স্বাদ পান। যেটা পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রেও নারীদের অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রাখে।
তার পর বার্লিন দেয়ালের পতন হওয়ার পর আবার একে অপরের সংস্পর্শে এসেছে দুই জার্মানির নাগরিকেরা। আর এখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাবের পার্থক্যটাও কিছুটা বুঝে ওঠা শুরু করা যাচ্ছে। পূর্ব জার্মানির নারীবিষয়ক একটা পত্রিকা ডি ম্যাগাজিনের লেখক সিমোন সমলোক বলেছেন, ‘যখন পশ্চিমের পুরুষেরা পূর্বের কোনো নারীদের সঙ্গে পরিচিত হন, তখন তাঁরা ভাবেন, বাহ! পূর্বের মেয়েরা কত ভালো, কত স্বাধীন, যৌনতার বিষয়ে কত উদার। কিন্তু তার পরও তাঁরা নারীদের সেই প্রথাগত ভূমিকাতেই দেখতে চান। গৃহবন্দী অবস্থায়।’
জার্মানির হাজারো রাজনৈতিক পালাবদল, নাটকীয় উত্থান-পতনের ভেতর দিয়েও অক্ষুণ্ন ছিল নগ্নতাবাদের জয়-জয়কার! যা নারীর অবাধ স্বাধীনতাকেই ইঙ্গিত করে। কিন্তু এরপর বার্লিন দেয়ালের পতন আর দুই জার্মানির মিলন ঘটার পর দেখা যাচ্ছে, নগ্নতার প্রশ্নে সবাই একত্র থাকলেও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নে বিভাজনটা থেকেই গেছে। এখানে এখনো মিলন ঘটেনি দুই জার্মানির।প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ