নতুন চিন্তাকে গুরুত্ব দাও
স্টিভ বলমার : মাইক্রোসফটের সিইও স্টিভ বলমার ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থায় ১৯৮১ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেন। ২০১১ সালের ১৩ মে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন স্টিভ বলমার২০১১ সালের স্নাতকদের অভিনন্দন জানিয়ে আমার নিজের কথাগুলো শুরু করব। সবাই অনেক ভাবের কথা বলবে যে এটা পথচলার শুরু, নতুন জীবনের শুরু—এই সব। কিন্তু আমার কাছে এটা হলো আনন্দ উদ্যাপনের উপলক্ষ। কারণ এটা তোমাদের প্রাপ্য ছিল এবং তোমাদের পরিবারের সদস্যরাও এই কৃতিত্বের অংশীদার।
দুই বছর আগেও আমি তোমাদের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া সম্পর্কে কিছু জানতাম না। আমি এখানে কোনো দিন আসিওনি। দুই বছর আগে এখানে এসেছিলাম আমার সন্তানের গ্র্যাজুয়েশনের দিন। একটা গল্প বলি তোমাদের। কিছুদিন আগের কথা, আমি এখানে আসছিলাম, তখন আমার এক বন্ধুর ছেলে আমাকে দেখিয়ে বলল, ইউএসসি (ইউনিভার্সিট অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া) ভুয়া, আর ওর নিজের ইউসিএলএ (ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস) হলো সেরা। আমি তখন নিমেষের মধ্যে পকেট থেকে আমার উইন্ডোজ মুঠোফোন বের করে ওকে দেখিয়ে দিলাম যে র্যাংকিংয়ে ইউএসসির অবস্থান হলো ২৩ আর ইউসিএলএর অবস্থান ২৫। হাহ্ হাহ্ হাহ্!
আমরা এখন বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কারের ৬০ বছর পার করে এসেছি। আজ প্রযুক্তি ছাড়া যে বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি তা ভাবতেই অবাক লাগে। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, যোগাযোগ—সবকিছুতেই আজ প্রযুক্তি ঢুকে গেছে। আমি আমার সামনে উপবিষ্ট অভিভাবকদের প্রশ্ন করব, আপনারা কি ছাত্রজীবনে কখনো ওয়ার্ড প্রসেসর, কম্পিউটার এসবের সাহায্যে কোনো টার্ম পেপার বা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছেন?
আমি যখন মাইক্রোসফটে যোগ দিই তখন আমার পড়াশোনা শেষ হয়নি। আমি তখন এমবিএ পড়ছিলাম। তখন আমার এক বন্ধু, ওর নাম বিল গেটস, আমাকে বলল, ‘আ রে পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমার সাথে যোগ দাও না কেন?’ পড়াশোনা বাদ দেওয়াটা আমার বাবা-মা সহজে মেনে নেবেন না এটা জানতাম। যা-ই হোক, বাসায় গিয়ে এ কথা তুলতেই আঁতকে উঠল বাবা-মা। বাবা-মার জেরা শুরু হলো, ‘পড়াশোনা বাদ দিয়ে কার সঙ্গে যোগ দিচ্ছ? কী করে ওরা?’ আমি বলি, ‘সফটওয়্যার তৈরি করে।’ মা বলে, ‘সফটওয়্যার জিনিসটা কী?’ ভেঙে বলি আমি। শুনে মা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে, ‘মানুষ কম্পিউটার নিয়ে কী করবে? এটার আবার কী দরকার!’ সময়টা ছিল আশির দশক। আর এখন কী অবস্থা দেখো। এখনো আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
আমি তোমাদের শুধু তিনটা বিষয় নিয়েই ভাবতে বলব।
প্রথমত, নতুন ভাবনা, মৌলিক চিন্তাকে গুরুত্ব দাও।
মাইক্রোসফট কিন্তু শুধু একটা মৌলিক চিন্তাকে, নতুন ভাবনাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। সেই সঙ্গে ছিল বিল গেটস আর পল অ্যালেনের অসাধারণ নেতৃত্ব যা আর কোনো প্রতিষ্ঠান পেয়েছে কি না সন্দেহ। মাইক্রো প্রসেসর চালানোর মতো সফটওয়্যার দিয়েই কম্পিউটার হলো। সেই কম্পিউটার ছড়িয়ে গেল সবখানে। গবেষণাগারে, অফিসে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এরপর প্রতিটি বাসায় স্থান করে নিল এই প্রযুক্তি। এখন এই প্রযুক্তি তো পকেটেও চলে এসেছে, ছড়িয়ে যাচ্ছে টেলিভিশনেও। আর এ সবই কিন্তু একটা ছোট্ট ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়েই হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সুপ্ত আগ্রহ। এটা কিন্তু খুব সহজ জিনিস নয়। অনেকেই মনে করে, এটা হয়তো নিজে থেকেই চলে আসে। অনেকের ধারণা, এটা যার থাকে তার এমনিতেই থাকে, আবার যার থাকে না তার থাকেই না। আমি তোমাদের বলব, এই ধারণাটা ভুল ছাড়া আর কিছুই না। নিজে মন, প্রাণ, মস্তিষ্ক দিয়ে খাটলে এটা কিছুই না। নিজের আসল আগ্রহ কিসে সেটা তোমাকে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। এমন কিছুর সঙ্গে জড়িত হও, কাজ করার সময় নিজের পছন্দের ক্ষেত্র এমনভাবে বেছে নাও, যেন দুর্দিন এলেও মাথা উঁচু করে বলতে পারো, ‘যত সমস্যাই হোক না কেন, আমি আমার নিজের কাজ ভালোবাসি।’
এবং শেষটি হলো, লেগে থাকতে হবে সব সময়। কোনো কিছুতে হার মানা যাবে না।
চলার পথ কখনোই সহজ হবে না। কিন্তু হেরে গেলে চলবে না। লেগে থাকতে হবে সব সময়। আমাদের কথাই ধরো, আমাদের সময় শুধু মাইক্রোসফট একা নয়, একই সময় আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশই আজ ধুলোয় মুছে গেছে। অথচ আজও মাইক্রোসফট টিকে আছে। এর কারণ একটাই, আমরা কখনো হার মানতে রাজি ছিলাম না। আমাদের অনেক কঠিন সময় এসেছে, যখন মনে হয়েছে বাজার থেকে ছিটকে পড়তে হবে আমাদের, কিন্তু আমরা ঠিকই ফিরে এসেছি আবার। কারণ আমরা সব সময় আমাদের কাজের পেছনে সময় দিয়েছি, দিন-রাত লেগে থেকেছি কাজের পেছনে। ঠিক একই ধরনের ইতিহাস অ্যাপল, গুগল, ফেসবুকেরও রয়েছে।
কথাগুলো শুধু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যারা কাজ করবে তাদের বলছি না। যারা চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করবে, ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়বে, বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করবে, তাদের সবাইকে বলছি কথাগুলো। কখনো হার মেনে বসে থাকা যাবে না। সব সময় চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, লেগে থাকতে হবে নিজের কাজের পেছনে। আমি জানি তোমরা পারবে। বিদায়।
সূত্র: ইন্টারনেট, ইংরেজি থেকে অনুবাদ:
ফয়সাল হাসান,প্রথম আলো
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency