Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে এফবি লাইভস্ট্রিমে হজরত শাহ জালালের (রা) ৭০১তম উরস উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 67 বার

প্রকাশিত: July 16, 2020 | 2:20 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক. নিউইয়র্ক : হৃদয়ে বাবা শাহজালাল! আজ থেকে ৭০১ বছর আগে স্বীয় আধ্যাত্মিক গুরু মামা আহমদ কবীরের দেয়া এক মুটো মাটি ও মহাভারতের ওলীকুল শিরোমণি সম্রাট খাজা নিজামুদ্দীন ওলীর উপহার স্বরূপ দেয়া এক জোড়া কবুতর নিয়ে ৩৬০ আউলিয়া সহ সিলেটের মাটিতে যে মহা মণিষী তাঁর আগমন ঘটিয়ে আল্লাহর ওলীত্ব লাভে ধন্য হয়েছিলেন। শ্রীহট্টের ভূমিতে ইসলাম প্রচার শেষে সিলেটবাসীকে তাঁর আধ্যাত্মিকতায় ধন্য করে প্রতিটি সিলেটির অন্তরে স্থান করে নিয়ে পরিশেষে নিজ প্রভুর প্রতি মহাপ্রয়াণে ধাবিত হয়েছিলেন, তাঁর মোবারক নামটি হজরত শাহ জালাল মুজাররাদ আল-ইয়ামানী (রা)। যতটুকু জানা যায়, সিলেটে তিনি এসেছিলেন ১৩০৩ সনে। সিলেটের তদানীন্তন প্রভাবশালী ও হিংসুটে যাদুকর রাজা গৌড় গবিন্দের প্রতিটি ষডযন্ত্র ও আক্রমণকে মহান আল্লাহর রহমতের বলে নিজ কারামতে ধাপে ধাপে করেছিলেন নেস্তে নাবূদ। “আল্লাহ যার সহায় হোন, সকল প্রতিকুলতাই আসে তাঁর অনুকুলে” এই কথাটির বাস্তব প্রমাণ তিনি দেখিয়ে গিয়েছেন।

১৫ই মার্চ ১৩৪৬ সনে ৭৪ বছর বয়সে ৩৬০ আউলিয়া, ভক্তবৃন্দ ও সিলেটের আপামোর মানুষকে কাঁদায়ে তিনি তাঁর পরপারের শুভযাত্রা শুরু করেন। আরবের ইয়েমেনে জন্ম নেয়া ক্ষণজন্মা এই মহিয়ান বুজুর্গ আল্লাহর উপাসনা ও ভক্তবৃন্দের ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার খোরাক প্রদানে এমনি ব্যস্ত ছিলেন যে, জীবনে বিয়ে করে সংসার পাতার সময়টুকু পাওয়া তো দূরের কথা, চিন্তাও করেননি এমন কোন অধ্যায়ের। চিরযুবাদেরই আরবী ভাষায় বলা হয় মুজাররাদ, তাই তাঁর নামের সাথে বলা হয়ে থাকে মুজাররাদ আল-ইয়ামানী। ওলী আল্লাহদের মহা প্রয়ানকে উরস এজন্যই বলা হয় যে, তাঁদের মৃত্যুর পর যখন তাঁদেরকে কবরে রাখা হয়, এবং নাকির-মুনকির ফেরেশতার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর তারা প্রদান প্রদানের কারনে ফেরেশতারা তাঁদের প্রতি এতই সন্তুষ্ট হোন যে, চিৎকার করে তখন তাঁরা বলেন: “নাম নাউমাতা আরূসিন” অর্থাৎ এবার আর তোমার চিন্তার কোনই কারন নেই, উপভোগ করো এমন সুশীতল স্বাচ্ছন্দময়ী নিদ্রা, যা নব বিবাহিত দুলহা ও দুলহনরা উপভোগ করেন…!( হাদীসে ইবনে হিব্বান) পবিত্র হাদীসের শব্দ ‘আরূস’ থেকেই ‘উরস’ শব্দের উৎপত্তি। শান্তিময় সন্ত্রাস বিহীন ইসলামের বহু যুগের রীতি এই উরস উৎসব। যা, পালন ও উৎযাপন করে নিজ নিজ আধ্যাত্মিক ওলী, আউলিয়া ও পীর-বুজুর্গানের রূহানী অবর্ণনীয় ফায়জ লাভে ধন্য হয়ে থাকেন ভক্তবৃন্দ। যদিও কালের আবর্তনে উরসের সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা বুঝতে না পেরে কিছু সংখ্যক ভক্ত সীমাতিরিক্ত আচরণ করে উরস শত্রুদের তামাশার উপটোকন যোগাড় করে দেন,যা খুবই দু:খজনক। যার কারনে সুযোগ সন্ধানী ঐ আউলিয়া দুশমন মওদুদী/ব্রদারহুড/জাকির/সাঈদী/আজারীরা ঈমানের আধ্যাত্মিকতাকে সতেজ ও আলোকিত করার এই আমল উরসকে (নাঊূজুবিল্লাহ) কবরপূজা বলে তিরস্কার করে ওলী-আউলিয়াদের মাহাত্ম্য ও মর্যাদাকে হেয় ও খাটো করার সাহস দেখিয়ে থাকেন এবং মানুষের মনে উরস উৎসবের এক ভিন্ন ধারণার জন্ম দেন, যেনো মানুষ উরস শব্দ শুনলেই তার শিরকের ব্যথা শুরু হয়। উরস যেহেতু মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত, আর মৃত্যু হলো দু:খের চিহ্ন, তাই মুসলমানরা নবী মোহাম্মদের (সা) ওফাত দিবস পালন করেননা, বরং অন্ধকার দুনিয়াকে আলোকিত করে তাঁর শুভাগমনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে মুসলমানরা উদযাপন করেন, মহান ঈদে মীলাদুন্নবী (সা)। যদিও উপরে বর্ণিত ঐ কীটরা “নবীজীর মৃত্যুও তো হয়েছে ঐ একই দিনে, তবে তোমরা কেন তা উদযাপন করছোনা” ? বলে তিরস্কার ও চিৎকার দিতে থাকে। প্রকাশ থাকে যে, নবীজী সাহাবাদের নিয়ে প্রতি বছরই একটি নির্ধারিত সময়ে উহুদ যুদ্ধে শাহাদতপ্রাপ্তদের কবর জিয়ারতে যেতেন, তাঁদের প্রতি সালাম পেশ করে তাঁদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে করে তাঁদের জন্য দোয়া করতেন। নবীজীর ইন্তেকালের পর প্রধান চার খলীফা সে আমলটি অব্যাহত রাখেন। পক্ষান্তরে ওলীদের শান তো এমন, পবিত্র কোরানে যাদের সমালোচনাকারীদের সাবধান করে দেয়া হয়েছে। ( সূরা য়ূনুস/৬২)। হাদীসেও ওলী দুশমনদের সাথে আল্লাহ স্বয়ং যুদ্ধ ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। (বুখারী হাদীস নং ৬৫০২) শুধু তাই নয়, কাল কেয়ামতের দিন, ওলীদের সম্মানে মহান আল্লাহ এমন সজ্জিত মণ্চাদি তৈরি করে রাখবেন বলে হাদীসে উল্লেখ পাওয়া যায়, যা দেখে ফেরেশতারা অবাক হয়ে ভাবতে লাগবেন, এমন মণ্চ নবীদের জন্যও তো নয়, তবে তা কাঁদের জন্য? তখন তাঁদেরকে আশ্বস্ত করা হবে যে,এসব মণ্চ আউলিয়াদের জন্যই।(আবূ দাঊদ/হাদীস নং: ৩৫২৭) শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ সূরা ফাতিহায় আউলিয়াদের পথে পরিচালিত করার জন্য তাঁর নিকট প্রার্থনা করতে বলেছেন: ‘ছিরাতাল লাজীনা আনআমতা আলাইহিম’ এর অর্থ তাইই। অর্থাৎ, “চালাও সে পথে, যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি…!” কারা এই প্রিয়জন? আঊলিয়ারাও এই প্রিয়জন। যেহেতু সবকিছুই এখন ভার্চ্যুয়াল লাইভে চলছে, তাই ৭০০ বছর ধরে চলে আসা উরস শরীফটিও এবার হবেনা, তা কল্পনাও করা যায়না। তাই, সিলেটের রাজা ধিরাজ বাবা হজরত শাহ জালালের (সা) পবিত্র উরস মোবারকটি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারনে প্রতি বছরের ন্যায় এবার সিলেটের দরগাহ প্রাঙ্গনে উদযাপিত না হবার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই স্বল্প নোটিশে উক্ত উরস মোবারকটি নিউইয়র্কে জ্যাকসনহাইটসের মোহাম্মদী সেন্টার থেকে উদযাপিত হবার ঘোষণা দেয়ার পর গত রোববার, ১২ই জুলাই ২০২০ নিউইয়র্ক সময় রাত ১১:০০ টায় ফেসবুক লাইভস্ট্রিমে অত্যন্ত ধর্মীয় পরিবেশে তা উদযাপিত হয়। এতে উত্তর আমেরিকা সহ বিশ্বের প্রায় সর্বত্র থেকেই বাবার ভক্ত ও আশেকরা স্বতস্ফূর্তে তাতে যোগদান করে রূহানী ও ঈমানী ফায়দা হাসীল করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে নিউইয়র্কস্থ জালালাবাদ এসো: অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি জনাব বদরুল খান, পটুয়াখালীস্থ বদরপুর দরবার শরীফের আমেরিকাস্থ গদ্দিনিশীন পীরে তরীকত ড. ইমাম শাইখ সায়্যিদ মোতাওয়াক্কেল বিল্লাহ রাব্বানী ও তদীয় বড় ও মেঝ সাহেবজাদাদ্বয় সায়্যিদ মুসতানজিদ বিল্লাহ রাব্বানী ও সায়্যিদ মুসতায়ীন বিল্লাহ রাব্বানীও মহা পবিত্র এই ভার্চ্যুয়াল লাইভ উরস শরীফে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজক মোহাম্মদী সেন্টারের পরিচালক ইমাম কাজী কায়্যূমের সণ্চালনায় উক্ত মাহফিলে তেলাওয়াত করেন বড় সাহেবজাদা ও হজরতের জীবনীর উপর ইংরেজীতে একটি প্রবন্ধ পাঠ করে শোনান মেঝো সাহেবজাদা। আয়াতটির আলোকে ও ফাজায়েলে উরসের উপর সারগর্ভ আলোচনা, মীলাদ মাহফিল ও দোয়া পরিচালনা করেন ইমাম শাইখ রাব্বানী। জনাব বদরুল খান আগামীতে এই উরস প্রতি বৎসর আরোও বৃহদাকারে আয়োজনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তিনি মোহাম্মদী সেন্টার ও এর পরিচালক ইমাম কাজী কায়্যূমকে উক্ত উরস মাহফিলটি আয়জোন করে উরস সম্মন্ধে একটি সুষ্ঠু ধারণা উপস্থাপন করত উরস বিরোধীদের যথোপযুক্ত জবাব দিয়েছেন বলে মনে করেন। মীলাদ এবং সালাত ওয়া সালাম শেষে মাহফিলে ওলীকুল শিরোমণি বাবা শাহ জালালের দরজা বুলন্দী ও তাঁর ওয়াসীলা ধরে মহান আল্লাহর নিকট বিশ্ব মানবতার জন্য, করোনাভাইরাসে যারা শাহাদত লাভ করেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ও যারা অসুস্থ আছেন সকলের জন্য দোয়ার মাধ্যমেই উরস মাহফিলের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ