নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বর্তমানে নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোন কেটেরিং ক্যানসার সেন্টারের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে থাকা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও সম্ভাবনা না থাকায় এরই মধ্যে চিকিৎসকরা তার ক্যানসার চিকিৎসায় ক্ষান্ত দিয়েছেন। লাগাতার ওষুধ সেবনের ফলে তার মুখে ঘা হয়ে যায়। তিনি খাবার গ্রহণ করতে পারছিলেন না। সেজন্যে কয়েকদিন আগে তাকে ঐ হাসপাতালে ভর্তির পর গত ২৭ অক্টোবর খোকার শ্বাসনালীতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তাকে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে হাসপাতালেই।

কিন্তু পাসপোর্ট না থাকায় এই মুহূর্তে তিনি অনেকটা দেশহীন। এ অবস্থায় যদি তিনি চলে যান না ফেরার দেশে তাহলে তার মরদেহটিও দেশে পাঠানোর বিষয়টি অনিশ্চিত। এ পরিস্থিতিতে তার পরিবারের সদস্যরা প্রচণ্ড হতাশ।
নিউইয়র্কে খোকা পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের মে মাসে একজন ভিজিটর হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ঢাকার সাবেক এই মেয়র।নিউইয়র্কের স্লোন কেটেরিং হসপিটালে চিকিৎসা শুরুর পর প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের থেরাপি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাকে চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়েছে। সে কারণে লম্বা সময়ের জন্য নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে একটি বাসায় অবস্থান করে ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। কিন্তু ভিজিটর ভিসার নিয়মানুযায়ী প্রতি ছয় মাসের মধ্যে দু’চার দিনের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে হতো। এভাবেই চলছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের শেষদিকে তার নিজের এবং সার্বক্ষণিক সঙ্গী স্ত্রী ইসমত হোসেনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ওই অবস্থায় তারা নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদেরকে পাসপোর্ট না দেওয়ায় এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে খোকা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। তার সেই আবেদন এখনও অনিষ্পন্ন। এরমধ্যে দফায় দফায় কনস্যুলেটে খোঁজ নিয়েও পাসপোর্টের কোনও হদিস মেলেনি। সর্বশেষ মাস ছয়েক আগে ইসমত হোসেন সশরীরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে গিয়ে পাসপোর্টের দায়িত্বে থাকা প্রথম সচিব শামীম হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু তিনি পাসপোর্টের বিষয়ে কোনও সদুত্তর দেননি। অগত্যা হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। এদিকে, শেষ ইচ্ছাটিও পূরণ হচ্ছে না সাবেক এই মন্ত্রীর। প্রিয় স্বদেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার প্রচণ্ড আঁকুতি নিয়েই দেশ থেকে বহুদূরে।
ওই সূত্র জানায়, বিরতিহীন চিকিৎসার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক মাস ধরে সাদেক হোসেন খোকা দেশে ফেরার জন্য অনেকটা পাগলের মতো হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বলতেন, ঢাকায় যাওয়ার পর জেলে যেতে হলে যাবো, চিকিৎসার জন্য আর আসতে না দিলেও সমস্যা নাই। দেশে গিয়েই মরবো। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়া দেশে যাবো কি করে? উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। ২০১৪ সালে ১৪ মে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্যে খোকা সপরিবারে নিউইয়র্ক এসেছেন।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests