Friday, 13 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাউল দাদা হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন: পূর্ণ বিশ্রামে, দোয়া কামনা (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 160 বার

প্রকাশিত: January 21, 2020 | 11:48 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : হৃদরোগে আক্রান্ত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাউল দাদা খ্যাত অশীতিপর সানোয়ার আহমেদ হাসপাতাল ছেড়ে বর্তমানে তার জ্যাকসন হাইটসের বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। তবে তিনি অনেকটা সেড়ে ওঠলেও বাসায় স্বাস্থ্য বিভাগের হোম কেয়ারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। আরো বেশ কিছু দিন হোম কেয়ারের তত্ত্বাবধানে বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ রয়েছে ডাক্তারদের। পুরোপুরি সুস্থ্যতা লাভের পর তিনি শুভাকাঙ্খিদের সাথে মিলিত হবেন বলে জানান ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে।
সানোয়ার আহমেদ (বাউল দাদা) ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭ দিন চিকিৎসা শেষে ২১ জানুয়ারী মঙ্গবার বেলা ২টায় তাকে ম্যানহাটান মাউন্ট সিনাই হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারির পর সেখানেই সিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
বাউল দাদা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার আশু রোগ মুক্তি কামনাসহ তার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র মাধ্যমে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে আরো বলেন, পুরোপুরি সুস্থতা লাভের পর তিনি তার শুভাকাঙ্খিদের সাথে মিলিত হবেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে এলমহার্স্ট হাসপাতালে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার হার্টে ব্লক রয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জানান। বাউল দাদা চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে তাৎক্ষণিক এলমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার হার্ট সার্জারি হয় গত ৭ জানুয়ারী মঙ্গলবার। তার হার্টে পরানো হয় ১টি রিং। পরে এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ জানুয়ারী শনিবার তাকে স্থানান্তর করা হয় মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে। ওই হাসপাতালেই তার ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়।
সানোয়ার আহমেদ ওরফে বাউল দাদার দেশের বাড়ি সিলেটের মোলভী বাজারের দক্ষিণ বালিগ্রামে। বিয়ে করেছিলেন ১৯৭১ সালে। ৩৯ বছর আগে যুবক বয়সে দালাল ধরে ভ্রমণ ভিসায় এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশে রেখে এসেছিলেন স্ত্রী ছায়া বেগম, দুই মেয়ে ছানারা বেগম, রায়না বেগম, ছেলে ছোবান মিয়া, পারভেজ মিয়া এবং মজনু মিয়া। এর মধ্যে ছেলে মজনু মিয়া নিখোঁজ রয়েছে। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় মেয়ের স্বামী মারা যায়। সেই সময় তিনি অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। ৩৮ বছরে এই একবারই স্ত্রী এবং সন্তানদের দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশে ছিলেন মাত্র সাড়ে ৪ মাস। আবারো চলে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে। অনেক দিন পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ছিলো, কিন্তু কয়েক বছর আগে তাও বাতিল হয়ে যায়। সিএসএস লুলাকে আবেদন করে অনেকে গ্রীণ কার্ড পেলেও তার ভাগ্যে তা জোটেনি। আবার কারো কারো পরামর্শে রাজনৈতিক আশ্রয়ও চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও সফল হননি। বাউল দাদা খ্যাত সানোয়ার আহমেদ জানান, দীর্ঘ ৩৯ বছর একাকী প্রবাস জীবন যাপন করছেন তিনি। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি আমেরিকায় এসেছিলেন। সে সময় কাজকর্মেরও সুযোগ ছিলো, পেয়েছিলেন ওয়ার্ক পাপরমিটও। কিন্তু পাননি এদেশে বসবাসের আইনি অধিকার। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন, তাতেও সফল হননি। শেষ জীবনে এসে ওয়ার্ক পারমিটও হারিয়েছেন আইনি জটিলতায় পড়ে। যে সোনার হরিণের জন্য এসেছিলেন সেটির নাগাল না পেয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপনকে বেছে নিতে হয়েছে তাকে। যে আমেরিকান স্বপ্নের জন্য স্ত্রী, সন্তানকে ছেড়ে আসলেন, সেই গ্রীণকার্ড নামক সোনার হরিণটি আজো মিলেনি বাউল দাদার।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্টিটে ব্যস্ত এলাকায় বহু বছর ধরে রাস্তার ধারে ঝালমুড়ি আর পান বিক্রি করে সবার নজর কেড়েছেন বাউল দাদা। রোদ-বৃষ্টি-শীত-বরফ উপেক্ষা করে বছরের পর বছর বাংলাদেশ প্লাজার সামনের জায়গাতে বাউল দাদার সরব অবস্থান। এই প্রবাসে তিন-চার ফুট পরিসরের এই খোলা জায়গাটিই যেন বাউল দাদার আপন আস্তানা। এক সময়ে রেস্টুরেন্টে শেফের কাজ করেছেন। বৃদ্ধ বয়সে কেউ কাজে রাখতে চায় না। তাই বাধ্য হয়েই রোদ-বৃষ্টি-ঝড়, প্রচন্ড গরম ও ঠান্ডার মধ্যেও সপ্তাহে সাত দিন ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংসার এবং জীবন চালাতে জ্যাকসন হাইটসের এ ফুটপাথে ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করেন সবার প্রিয় বাউল দাদা। জ্যাকসন হাইটসেরই একটি বেসমেন্টে থাকেন আরো কয়েকজনের সাথে শেয়ার করে।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV