Wednesday, 10 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কমার্শিয়াল পার্কিং প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবু সাইদ আহমদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি অ্যাকশন বোর্ড এর প্রতিনিধি নির্বাচিত আব্দুস শহীদ Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে বাউল দাদার ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন : আশু রোগ মুক্তির জন্য সকলের দোয়া কামনা (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 70 বার

প্রকাশিত: January 16, 2020 | 2:05 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাউল দাদা খ্যাত অশীতিপর সানোয়ার আহমেদের ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারী মঙ্গবার সন্ধ্যায় মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে বলে বাউল দাদা ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান। কমিউনিটির প্রিয়মুখ বাউল দাদা তার আশু সুস্থতা কামনায় বাংলাদেশী কমিটি সহ দেশ ও প্রবাসের সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ১৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, সানোয়ার আহমেদের ওপেন হার্ট সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, সানোয়ার আহমেদ (বাউল দাদা) বর্তমানে ওই হাসপাতালের ১ম তলার আইসিও (কার্ডিয়াক) রুম নম্বর ৩ এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে যেকোন সময় এ হাসপাতালের জিপি বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার কেবিনে স্থানান্তর করা হবে বলে মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান।
সানোয়ার আহমেদ (বাউল দাদা) ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, গত ৫ জানুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে এলমহার্স্ট হাসপাতালে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার হার্টে ব্লক রয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে জানান। বাউল দাদা চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে তাৎক্ষণিক এলমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার হার্ট সার্জারি হয় গত ৭ জানুয়ারী মঙ্গলবার। তার হার্টে পরানো হয় ১টি রিং। পরে এলমহার্স্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১১ জানুয়ারী শনিবার তাকে স্থানান্তর করা হয় মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে। এ হাসপাতালেই তার ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্টিটে ব্যস্ত এলাকায় বহু বছর ধরে রাস্তার ধারে ঝালমুড়ি আর পান বিক্রি করে সবার নজর কেড়েছেন বাউল দাদা। রোদ-বৃষ্টি-শীত-বরফ উপেক্ষা করে বছরের পর বছর বাংলাদেশ প্লাজার সামনের জায়গাতে বাউল দাদার সরব অবস্থান। এই প্রবাসে তিন-চার ফুট পরিসরের এই খোলা জায়গাটিই যেন বাউল দাদার আপন আস্তানা। দীর্ঘ সময় ধরে ৭৩ স্ট্রিটে ঝাল মুড়ি আর পান বিক্রি করছেন। এক সময়ে রেস্টুরেন্টে শেফের কাজ করেছেন। বৃদ্ধ বয়সে কেউ কাজে রাখতে চায় না। তাই বাধ্য হয়েই রোদ-বৃষ্টি-ঝড়, প্রচন্ড গরম ও ঠান্ডার মধ্যেও সপ্তাহে সাত দিন ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাউল দাদা খ্যাত সানোয়ার আহমেদ জানান, দীর্ঘ ৩৯ বছর একাকী প্রবাস জীবন যাপন করছেন তিনি। যুবক বয়সে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি আমেরিকায় এসেছিলেন। সে সময় কাজকর্মেরও সুযোগ ছিলো, পেয়েছিলেন ওয়ার্ক পাপরমিটও। কিন্তু পাননি এদেশে বসবাসের আইনি অধিকার। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন, তাতেও সফল হননি। শেষ জীবনে এসে ওয়ার্ক পারমিটও হারিয়েছেন আইনি জটিলতায় পড়ে। যে সোনার হরিণের জন্য এসেছিলেন সেটির নাগাল না পেয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপনকে বেছে নিতে হয়েছে তাকে। যে আমেরিকান স্বপ্নের জন্য স্ত্রী, সন্তানকে ছেড়ে আসলেন, সেই গ্রীণকার্ড নামক সোনার হরিণটি আজো মিলেনি।
সানোয়ার আহমেদ ওরফে বাউল দাদার জন্ম সিলেটের মোলভী বাজারের দক্ষিণ বালিগ্রামে। বিয়ে করেছিলেন ১৯৭১ সালে। ৩৯ বছর আগে দালাল ধরে ভ্রমণ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সেই সময় দালালকে তিনি তিন লাখ টাকা দিয়েছিলেন। দেশে রেখে এসেছিলেন স্ত্রী ছায়া বেগম, দুই মেয়ে ছানারা বেগম, রায়না বেগম, ছেলে ছোবান মিয়া, পারভেজ মিয়া এবং মজনু মিয়া। এর মধ্যে ছেলে মজনু মিয়া নিখোঁজ রয়েছে। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় মেয়ের স্বামী মারা যায়। সেই সময় তিনি অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। ৩৮ বছরে এই একবারই স্ত্রী এবং সন্তানদের দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশে ছিলেন সাড়ে ৪ মাস। আবারো চলে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে। অনেক দিন পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ছিলো, কিন্তু কয়েক বছর আগে তাও বাতিল হয়ে যায়। সিএসএস লুলাকে আবেদন করে অনেকে গ্রীণ কার্ড পেলেও তার ভাগ্যে তা জোটেনি। আবার কারো কারো পরামর্শে রাজনৈতিক আশ্রয়ও চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও সফল হননি।
বাউল দাদা জানান, ম্যানহাটানের ৬ স্ট্রিটের ক্যালকাটা রেস্টুরেন্ট, গান্ধি রেস্টুরেন্ট, রক ফেলার সেন্টারের বোম্বে মাসালায় শেফ হিসাবে কাজ করেছেন। পেনসিলভেনিয়া এবং মিনিসোটায় গান্ধিমহল রেস্টুরেন্টেও শেফের কাজ করেছেন তিনি। ৮ বছর আগে নিউইয়র্কে চলে আসেন। কাজ খুঁজেছেন, কিন্তু বয়সের কারণে কেউ তাকে কাজ দেয়নি। অবশেষে সংসার এবং জীবন চালাতে জ্যাকসন হাইটসের এ ফুটপাথে ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করেন সবার প্রিয় বাউল দাদা। জ্যাকসন হাইটসেরই একটি বেসমেন্টে থাকেন আরো কয়েকজনের সাথে শেয়ার করে।
বাউল দাদা জানান, দেশের বাড়িতে থাকার জন্য শুধু একটি ঘর করেছেন। তবে অন্যদের সহযোগিতায় পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দুটো পৃথক মসজিদ করেছেন। (বাউল দাদা ফোন : ১-৬৪৬-৭০৪-৫০৪৬)

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV