Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

পপগুরু আজম খান ও ক্রান্তির মাহবুবুল হায়দার মোহনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 73 বার

প্রকাশিত: June 5, 2020 | 4:49 PM

মাহবুব জামান : ১৯৯৪ সালের কথা, আমি দেশে এসেছি এক মাসের জন্য বেড়াতে। বন্ধু মাহবুবুল হায়দার মোহন এর সাথে দেখা হলে সে বলে মাহবুব কাল একটু সময় করে চল বসি কথা আছে। পরদিন শাহবাগে কোহিনূরে বন্ধু হাসেমের দোকানে বসলাম। আমি, মোহন এবং মঞ্জুর কাদের আমাদের আরেক বন্ধু, সোনালী ব্যাংকে ছিল বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। মোহন বললো মাহবুব ক্রান্তি কিভাবে চলছে খবর-টবর রাখো? তখন আমি বললাম তুমি আছো মানে ক্রান্তি তো ঠিকঠাকই চলছে। তুমি ছাড়া ক্রান্তি নামের এই সংগঠন কেউ চালাতে পারবেনা। মোহন বললো কোনো রকম চালিয়ে যাচ্ছি। টাকা-পয়সার খুবই সমস্যা হচ্ছে। পকেটের পয়সায় সংগঠন তো চালিয়ে  নিচ্ছি কিছু একটা কর। আমি বললাম কি করতে চাও, ক্রান্তির একটা ফান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে, আমি বললাম কি করতে হবে বল। মোহন বললো পুশিং সেল এর মাধ্যমে একটি চ্যারিটিশো করলে কেমন হয়।

আমি এবং মঞ্জুর কাদের দুজনেই মোহনকে উৎসাহ দিয়ে মোহনকে বললাম ঠিক আছে । মাহবুবুল হায়দার মোহন ক্রান্তির সভাপতি হিসাবে সাংগঠনিক কমিটির মিটিং ডাকলো, আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মিটিং শুরু করতে বললো, একেক জনের একেক মত শেষে সবাই সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে হবে একক সংগীতা অনুষ্ঠানের শিল্পী আজম খান। পরদিন আমি আর মোহন গেলাম পপ সম্রাটের বাসায়, গিয়ে দেখি আজম খান খুবই অসুস্থ।

মাহবুবুল হায়দার মোহন এর সাথে পপ গুরু’র সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের ময়দান থেকে পরিচয় আমার জানা ছিল না। দুজনের সে কি ভাব নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না, আমার সাথে কয়েকবারই পপ সম্রাটের দেখা হয়েছে কিন্তু ঐ ভাবে পরিচয় হয় নাই, তিনি আমার নাম জানতে চাইলে আমি আমার নাম বলি উনি দড়াজ গলায় হেসে উঠেন বাহ্ তুমিও আমার মিতা! আমি তো অবাক, আমার নাম মাহবুব আর উনার নাম আজম খান। পপ সম্রাট বললেন  আমার আসল নাম মাহবুবুল হক খান, আমি তো অবাক, তাকে তো বাংলাদেশের মানুষ আজম খান নামেই চিনে ।তিনি বললেন বাহ্ তিন মাহবুব ই আমরা একসাথে বসেছি সেকি হাসি আজও আমার চোখের সামনে ভাসে। খুবই সুন্দর মনের মজার একজন মানুষ ছিলেন। কিন্তু পপ সম্রাট এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে তাকে নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান করা একেবারেই অসম্ভব ছিল। তার মাঝেও পপ সম্রাট আমাদের ২/৪ লাইন করে অনেক কয়টা গান শুনিয়েছেন। আমি আমার পছন্দের একটি গান শুনতে চাওয়ায় শুনিয়ে দিলেন —- ও চাঁদ সুন্দর ঐ রুপ তোমার — তার চেয়ে রুপে রাঙ্গা প্রিয়া আমার  — ও চাঁদ  ——-। আমি আর মোহন মুগ্ধ নয়নে আকুল হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম কিছু সময়ের জন্য।

পপ সম্রাট আজম খানের কন্ঠ এতোটাই জোড়ালো ছিল যে আধা কিলোমিটার দূর থেকেও মাইক ছাড়া স্পস্ট শুনা যেতো। যাই হোক আমরা বিদায় নিবার আগে মোহন তার পকেট থেকে কিছু বেড় করে হাত মিলিয়ে চলে আসি। বাইরে এসে মোহন বললো দুই হাজার টাকা দিয়ে এসেছি, আমিও খুব তৃপ্ত  হলাম। পরেরদিন আবার আমি মোহন সহ ৩/৪ জন আবার বসলাম কাকে দিয়ে প্রোগ্রামটা করা যায়। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল  নজরুল সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমকে দিয়ে একক সংগীতা অনুষ্ঠান করানোর। আমি মোহন এবং নজরুল সংগীত শিল্পী নিলুফার বানু লিলিকে নিয়ে শ্রদ্ধেয়া ফিরোজা বেগম এর বাসায় যাই,  উনার সাথে কথা হয়, ফিরোজা বেগম ২০ হাজার টাকার এক পয়সা কমেও গাইতে রাজী হয়নি। আরও উনি আমাদের বললেন তোমরা তো আমাকে দিয়ে পয়সা কামাবে তাহলে আমাকে কম দিবে কেন । যাক, আমাদের বাজেট কম ছিল, এখন চিন্তা শিল্পকলা একাডেমির হল ভাড়া নিয়ে। শিল্পকলায় তখন শফি কামাল ভাই চাকরি করতেন, উনি আমার মহল্লায় থাকতেন (আগামছিহলেন)। তাকে আমি আর মোহন ধরি হল ভাড়ার ব্যাপারে কিছু একটা করতে পারে কিনা শফি কামাল ভাই  হল ভাড়া ৫০% করে দিল। আমাদের খুশি আর কে দেখে।

অনুষ্ঠান ভালোই জমজমাট হলো যেহেতু পুশিংসেল আমরা সব টিকিট বিক্রি করেছিলাম, ক্রান্তির একটা ভাল ফান্ড হয়েছিল। সবাই একবাক্যে বলেছিল মাহবুব ভাই আর মোহন ভাই ক্রান্তি’র প্রাণপুরুষ, তাদের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা ও অভিনন্দন। আমি এক মাস পর প্রানের চেয়ে প্রিয় সংগঠনটি ছেড়ে সবাইকে বিদায় জানিয়ে আবার সাত সমুদ্র তের নদী পাড় হয়ে চলে আসি। আজ প্রিয় বন্ধু মাহবুবুল হায়দার মোহন নেই পপ সম্রাট মাহবুবুল হক খান  (আজম খান) ও নেই, আজ পপ সম্রাট আজম খানের নবম মৃত্যু দিবসে এই লেখাটি উৎসর্গ করছি। বন্ধু মাহবুবুল হায়দার মোহন এবং মাহবুবুল হক খান (আজম খান)
যেখানেই থাকুক শান্তিতে থাকুক, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ তিনি যেন এই দেশের অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বেহেস্ত নসীব করেন।সাংবাদিক ও লেখক মাহবুব জামান।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV