Tuesday, 9 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

পাঠকের হূদয় বিজয়ী হুমায়ূন আহমেদ : নজরুল ছাড়া কোনো বাঙালি সাহিত্যিকের ভাগ্যে জোটেনি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 60 বার

প্রকাশিত: August 3, 2012 | 5:37 PM

ড. গুলশান আরা  : জনপ্রিয়তা যাঁর চরণে মাথা ঠেকিয়ে ধন্য হয়েছে সেই বিরল ব্যক্তিত্ব হুমায়ূন আহমেদকে হারিয়ে সমগ্র জাতি আজ শোকাকুল। তাঁর জন্য শোকে মূহ্যমান হবার পেছনে রয়েছে তাঁর আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে চোখের পলকে জনপ্রিয়তা একমাত্র কাজী নজরুল ইসলাম ছাড়া কোনো বাঙালি সাহিত্যিকের ভাগ্যে জোটেনি—এর ব্যতিক্রম কেবলমাত্র হুমায়ূন আহমেদ। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার যেমন বলেছিলেন—vini, vidi, vici—এলাম,দেখলাম, জয় করলাম—হুমায়ূন আহমেদের ক্ষেত্রেও একই কথা—তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। এ বিজয় ভূমি বিজয় নয়—পাঠকের হূদয় বিজয়।

তাঁর এই বিজয়ের মূলে কাজ করেছে জীবনদর্শন। জীবনকে তিনি  যেভাবে দেখেছেন এবং সেই দেখাকে ঊর্ণনাভের মতো কথার পর কথার জাল বুনে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যা সর্বশ্রেণির পাঠকের মনকে ছুঁয়ে গেছে—আলোড়ন তুলেছে। সবচেয়ে বড় কথা পাঠকের মনে সেই সম্বন্ধে ভাববার চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ পাঠক তাঁর লেখায় খুঁজে পেয়েছে মনের চাহিদা পূরণের খোরাক।

তিনি অসম্ভব জনপ্রিয়—বললেও যেন সবটুকু বলা হয় না। যে দুটো শিল্পকর্ম তাঁকে একেবারে দেশ-জনতার শিকড়ে নিয়ে গেছে তা হলো টিভিনাটক ও জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র। আশির দশকের টেলিভিশন নাটক হুমায়ূন আহমেদের নাটকের স্বর্ণযুগ। তাঁর নাটক প্রাণভরে উপভোগ করেননি এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া ভার। একই কথা খাটে তাঁর চলচ্চিত্রের ব্যাপারেও। সিনেমা দেখা যাঁরা ছেড়েই দিয়েছিলেন এমন দর্শককেও হুমায়ূন আহমেদ তাঁর জাদুকরী আকর্ষণে হলমুখী করেছেন। এটা কম কথা নয়।

ধুকধুকে প্রাণ নিয়ে কোনোমতে টিকে থাকা প্রকাশনা জগতে নবপ্রাণ—নব উন্মাদনা দিলেন হুমায়ূন। সৃষ্টি করলেন এমন সব চরিত্র যার জন্য উন্মুখ হয়ে প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে থাকলো তরুণ পাঠক। একুশে ফেব্রুয়ারির বইমেলায় হিমু সেজে তারা আসে হিমুর নতুন কোনো কর্মকাণ্ড উপভোগ করতে যার দ্বারা তারা প্রভাবিত হতে পারে। মুগ্ধ এইসব নতুন প্রজন্মের পাঠকের চাহিদা মেটাতে হুমায়ূন সচল রেখেছেন তাঁর লেখনী এবং প্রকাশক অসম্ভব আগ্রহভরে তা প্রকাশ করে ক্ষুধা মিটিয়েছেন পাঠকের। এটাও উল্লেখযোগ্য অবদান হুমায়ূন আহমেদের।

একটি নাটকে হুমায়ূন আহমদ বলেছেন, বুদ্ধি আম গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখার জিনিস না—বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে হয়। আসলেই তাই। এইজন্যই তাঁর তরল হাস্যরসেও মিশে থাকে বুদ্ধির চমক। যে চমক তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন সবখানে। জনপ্রিয় এবং শুদ্ধচারী লেখক শরত্চন্দ্র সম্বন্ধে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘তোমার মতো সার্বজনীন আতিথ্য আর কেউ পায়নি।’ এ কথাটি আমরা আমাদের একান্ত প্রিয় লেখক হুমায়ূন সম্বন্ধেও বলতে পারি। সত্যি, হুমায়ূন আহমেদের মতো সার্বজনীন আতিথ্য আর কোনো লেখক পেয়েছেন কি এই বাংলাদেশে? গল্পে, উপন্যাসে, চলচ্চিত্রে, সংগীতে যেখানেই হুমায়ূন সেখানেই সাফল্য— সেখানেই হূদয় উজাড় করা জনপ্রিয়তা। হিমু, মিসির আলী, ‘অয়োময়ের’ মির্জা, ‘কোথাও কেউ নেই’- এর বাকের ভাইসহ অসংখ্য হূদয়ছোঁয়া চরিত্র সৃষ্টি করে সাফল্যের সোনালি দিগন্তে পৌঁছেছেন হুমায়ূন আহমেদ। যা আমৃত্যু ধরে রেখেছিলেন এই প্রথিতযশা লেখক।

রবীন্দ্রনাথের‘জীবিত ও মৃতু’ গল্পের কাদম্বিনী ‘মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।’ হুমায়ূন আহমেদও মরে প্রমাণ করলেন— তিনি মরেননি। তিনি বেঁচে আছেন বাংলাদেশের কোটি জনতার হূদয়কন্দরে। যে জনতাকে তিনি সৃষ্টির আকর্ষণে, সৃষ্টির মুগ্ধতায় এক বিন্দুতে এনে দাঁড় করিয়েছিলেন। শ্রাবণ মেঘের ভেলায় চড়ে অজানায় পাড়ি জমিয়েছেন সত্য তবে তাঁর সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন ধরার আঙিনায়। যাদের জন্য তিনি বেশি করে ভেবেছেন সেই তরুণ প্রজন্ম যদি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে তাঁকে স্মরণ করে তাঁর লেখা বই পড়ে তাহলে হুমায়ূন আহমেদ পাঠকপ্রিয়তা নিয়ে বেঁচে থাকবেন শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে।

নাজিম উদ্দীন রোড, ঢাকা

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV