Tuesday, 9 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

পাবলিক চার্জ নীতিমালা সুপ্রিম কোর্টে বহাল : যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রান্ট ভিসায় কড়াকড়ি, কঠিন হচ্ছে গ্রীনকার্ডপ্রাপ্তি ; সরকারি সুবিধা নিলেই বিপদ!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 200 বার

প্রকাশিত: February 2, 2020 | 5:11 PM

সৈয়দ আফতাব আহমেদ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাবলিক চার্জ আদেশ সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। চিফ জাস্টিস জন জি রবার্টস ট্রাম্প প্রশাসনের সপক্ষে এ রায় দেন গত সোমবার। এর ফলে নতুন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে ফুডস্ট্যাম্প, মেডিকেইড এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা ভোগ করলে গ্রীনকার্ড বা স্থায়ী অভিবাসী হওয়ার সুযোগ পাবেন না। একই কারণে গ্রীনকার্ডধারীরা সিটিজেন হওয়ার পথেও বাধার মুখে পড়বেন। ট্রাম্পের নতুন এই নীতিমালার কারণে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট হওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গ্রীনকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কোন ব্যক্তি যেন পাবলিক রিসোর্সের উপর নির্ভরশীল না হয়ে তার নিজের অথবা পরিবারের সদস্যদের অথবা তার জন্য ফর্ম আই-৮৬৪ অ্যাপ্লাই করা অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট প্রদানকারী স্পন্সরের উপর নির্ভরশীল থাকেন সেটা নিশ্চিত করতে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি একটি চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এর আগে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালার আদেশ দেওয়া হলে তা আদালতের নির্দেশে স্থগিত ছিল। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আদেশ বহাল রেখেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরই ইউএসসিআইএস থেকে পাবলিক চার্জের চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাক্ট, ১৯৫২ এর ২১২ (এ) (৪) ধারায় সংশোধনী আনার মাধমে গৃহীত নতুন নীতিমালার আলোকে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগেই কনস্যুলার অফিসার (ভিসা অফিসার) যদি মনে করেন যে ভবিষ্যতে কখনো ওই ব্যক্তির পাবলিক চার্জ অর্থাৎ সরকারি সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে, তাহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশযোগ্য নয় বা ইনঅ্যাডমিসিবল হিসেবে বিবেচনা করতে পারবেন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন কোনো ব্যক্তি তার নিকট আত্মীয়-স্বজনদের জন্য অভিবাসনের আবেদন করলে একটি প্রক্রিয়ার পর তারা সবাই নিজ দেশ থেকে ইমিগ্রান্ট ভিসা নিয়ে এদেশের প্রবেশ করতেন। পরে ইউএসসিআইএস থেকে সেই ব্যক্তির নামে গ্রীনকার্ড ইস্যু করা হতো। কিন্তু নতুন নীতিমালায় আবেদন করা ব্যক্তির নামে ইমিগ্রান্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র নিজ দেশের দূতাবাসে পাঠানো হলেও ভিসার জন্য সাক্ষাতকারের সময় কনস্যুলার অফিসার যদি মনে করেন ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন তাহলে তিনি ভিসা ইস্যু নাও করতে পারেন।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা বিয়ে কিংবা কর্মসূত্রে ফর্ম আই-৪৮৫ (অ্যাপ্লিকেশন ফর অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) এর মাধ্যমে গ্রীনকার্ডের আবেদন করবেন, এই নীতিমালায় তাদের থেকে কমপক্ষে ৮,১০০ ডলার পাবলিক চার্জ বন্ড আদায় করার জন্য ইউএসসিআইএস’কে বাড়তি অধিকার দেয়া হয়েছে। এমনকি যেসব নন-ইমিগ্র্যান্ট অ্যালিয়েন যেমন স্টুডেন্ট কিংবা ভিজিটর একটা নির্দিষ্ট পরিসীমার বাইরে সুনির্দিষ্ট কিছু পাবলিক বেনিফিট নিয়েছেন, নতুন নীতিমালায় তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির (এক্সটেনশন অব স্টে) অথবা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (চেঞ্জ অব স্ট্যাটাস) অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
নতুন নীতিমালায় ‘পাবলিক চার্জ’-এর সংজ্ঞায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বশেষ ৩৬ মাসের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি ১২ মাসের বেশি সাপ্লিমেন্টারি সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই), টেম্পরারি অ্যাসিসট্যান্স টু নিডি ফ্যামিলি (টিএএনএফ), ফুড স্ট্যাম্প বা সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশনাল অ্যাাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম (স্ন্যাপ) ও মেডিকেইডের মতো কোনো পাবলিক বেনিফিট গ্রহণ করে থাকেন তাহলে তাকে এই নতুন সংজ্ঞায় পাবলিক চার্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এখানে উল্লেখ্য, মেডিকেইড এবং অ্যাসেন্সিয়াল প্ল্যান এক নয়। কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রথম পাঁচ বছর ইন্সুরেন্সের মাধ্যমে যে চিকিৎসা সেবা পান সেটা অ্যাসেন্সিয়াল প্ল্যান, পাঁচ বছর পর তিনি হাউজহোল্ড ইনকামের উপর ভিত্তি করে মেডিকেইডের জন্য যোগ্য হতে পারেন। নতুন নীতিমালায় পাবলিক চার্জ হিসেবে অ্যাসেন্সিয়াল প্ল্যানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রথম পাঁচ বছর ইন্সুরেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করলেও যেহেতু পাবলিক চার্জ হবেন না, সেহেতু পাঁচ বছর পর ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে সিটিজেন হতে কোন বাধা থাকবে না।
এছাড়াও ২১-এর কমবয়সী কেউ, গর্ভবতী মা এবং ইমার্জেন্সি মেডিকেল সুবিধার আওতায় কেউ মেডিকেইড নিলেও তাকে পাবলিক চার্জ হিসেবে গণ্য করা হবে না। রিফিউজি, অ্যাসাইলি, ভিক্টিমস অব ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, ইউ-ভিসা নন-ইমিগ্রান্টস এবং স্পেশাল ইমিগ্রান্ট জুভেনিলদের ক্ষেত্রেও এই নীতিমালা প্রযোজ্য হবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী যত নীতিমালা প্রণয়ন করেছে ‘ওয়েলথ টেস্ট রুলস ফর ইমিগ্রান্টস’ বা ‘ইমিগ্রান্টদের সম্পদ যাচাই’ তার অন্যতম। আইনটি প্রণয়নের পর বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে বিশেষত নিউইয়র্কের জনৈক ডিস্ট্রিক্ট জজ প্রদত্ত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতীয় পর্যায়ে আইনটির কার্যকারিতা স্থগিত থাকে। তবে আইনটি কার্যকর করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনও নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। উচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবং নিম্ন আদালতের রায়ের সপক্ষে মতামত দিলে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয় সরকার। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়। এই রায়ের ফলে পাবলিক অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় পাবলিক বা সরকারি সাহায্য গ্রহণ করতে পারে এমন অজুহাতে ইমিগ্রান্ট ভিসাপ্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদন নাকচ করা সহজ হবে।
ইমিগ্রান্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইনটির প্রয়োগ শুরু হলে ইংরেজি যাদের ভাষা নয় এমন সব দেশের দরিদ্র অভিবাসীদের জন্য এটি মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। এতে করে বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীরা ব্যাপক হারে ইমিগ্রান্ট ভিসা বা গ্রীনকার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
আইনটি প্রসঙ্গে আমেরিকান ইমিগ্রেশন ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এডেড ডেভিড লিয়োপল্ড বলেন, এ আইনটি বৈধ ইমিগ্রেশনের ওপর চরম আঘাত। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সিনিয়র স্টাফ অ্যাটর্নি ক্লডিয়া সেন্টার বলেন, আইনটি অক্ষম আমেরিকানদের বৈষম্যের মুখে ঠেলে দেবে এবং হুইলচেয়ার বা শ্বাসযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল মেডিকেইডধারীদের ভয়াবহ শাস্তির মুখে ঠেলে দেবে। নিউইয়র্কের স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, নতুন আইনটি শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা সংবিধিবদ্ধ আইনটিকে নির্বাসনে পাঠাবে। অবশ্য লেটিশিয়া এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর ৫ লাখ ৪৪ হাজার ইমিগ্রান্ট গ্রীনকার্ডের জন্য আবেদন করে থাকেন। এদের মধ্যে ৩ লাখ ৮২ হজারকে নতুন রিভিউর আওতায় আনা হতে পারে বলে ধারণা করছেন ইমিগ্রান্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV