পুঁজিবাজার তদন্ত, অনেক ক্ষেত্রে ধারণা ও অনুমান নির্ভর:কোন সম্পাদনা না করেই পুরো প্রতিবেদন প্রকাশ

ইউএসএনিউজ ডেস্ক : অবশেষে কোন ধরনের কাটছাঁট ছাড়াই ২৮৪ পৃষ্ঠার পুঁজিবাজার নিয়ে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদন, ২০১১ প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রতিবেদনটি পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ সময় তিনি পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের নানা সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের আস্থা নিশ্চিত করতে পুরো সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। আগামী দু’চার দিনের মধ্যে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ হবে। এছাড়া সদস্য হিসেবে আরও দু’জন যোগ দেবেন। বর্তমানে যে দু’জন সদস্য আছেন তাদের চলে যেতে হবে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের প্রকাশনা নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই পুরো প্রতিবেদনটি কোন সম্পাদনা না করেই সরকার প্রকাশ করছে। এই প্রকাশনার সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজার সংস্কার ও সংহত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ দিয়েছে। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি ব্যর্থ হয়েছে বলে কমিটি যে অভিমত দিয়েছেন সরকার তা গ্রহণ করছে না। সরকার দেখছে যে, এতে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও যথাযথ পদক্ষেপ সব সময় নেয়নি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২৮৪ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রিপোর্টটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন ছিল। এজন্য রিপোর্টটি প্রকাশে খানিকটা বিলম্ব হলো। রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়, কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পর্যালোচনা, রিপোর্টের সংক্ষিপ্তসার প্রস্তুত, প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নসহ অযাচিত বা অন্যায়ভাবে কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ বা পর্যবেক্ষণ নিয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেদনের অনেক ক্ষেত্রে কমিটি তাদের ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারও দোষ খুঁজে পেয়েছে বা সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা যায় না। এতে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন। কারণ, অনুমান নির্ভর কোন তথ্যের ভিত্তিতে কারও চরিত্র হনন হোক এটাও যেমন কাম্য নয় তেমনি কোন না কোনভাবে মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাদের কারসাজিতে তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাক এটাও সরকার চায় না। অর্থমন্ত্রী বলেন, দুইটি ক্ষেত্রে তদন্ত কমিটি ফৌজদারি অপরাধ শনাক্ত করেছে। এ ব্যাপারে সরকার তদন্ত কমিটির পরামর্শ অনুসরণ করে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ সিরাজউদ্দৌলা গং, আবু সাদাত মো. সায়েম এবং আবদুল মোবিন মোল্লা এসইসি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কমিটি অতিরিক্ত তদন্ত বা অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে। ওই সব সুপারিশ সরকার মেনে নিয়ে অতিরিক্ত তদন্তের পদক্ষেপ নিচ্ছে। কমিটি দুই বা একটি বিধিমালা বা ব্যবস্থাপনা সংস্কারের জন্য সুপারিশ করেছে। এসব বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যান্য সুপারিশগুলো সবই বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অর্থমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি নয়টি অধ্যায় এবং তিনটি পরিশিষ্ট পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদনে মোট ২৫টি সুপারিশ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণের আলোকে অতিরিক্ত ১১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে অবিলম্বে ১১টি, স্বল্প মেয়াদে (এসইসি পুনর্গঠনের পর এক মাস) ১৭টি এবং মধ্য মেয়াদে ৮টি (এসইসি পুনর্গঠনের পর চার মাস) বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির সুপারিশ বা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ৩৬টি বিষয়ের মধ্যে ১৪টি বিষয়ে অধিকতর তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কমিটি স্টক মার্কেট ডিমিউচুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করেছেন। সরকার এক বছর আগে থেকেই এ বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। সে লক্ষ্যে সরকার স্টক এক্সচেঞ্জকেও সচেতন করেছিল। এখন স্টক এক্সচেঞ্জই ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নতুন অর্থবছরে এই প্রক্রিয়াটি শুরু হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনের বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য তদন্ত কমিটি একটি টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দিয়েছে। এ রকম একটি টাস্কফোর্স গঠন করতে সরকার ঠিক করেছে। এই টাস্কফোর্স শুধু প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নই পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ করবে না। তারা পুঁজিবাজারের সংস্কার কার্যক্রমেরও মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ করবে। এর আগে পুঁজিবাজারের সামপ্রতিক উত্থান-পতনের ঘটনা সুনির্দিষ্ট কার্য পরিধির আলোকে তদন্তের জন্য গত ২৬শে জানুয়ারি কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির অনুরোধে ২২শে ফেব্রুয়ারি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








