Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

প্রসঙ্গ কোভিড-১৯ এবং শিক্ষা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 66 বার

প্রকাশিত: April 15, 2020 | 10:35 PM

দিলারা বেগম : সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির সাথে হার-জিতের লড়াই করতে করতে উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছেছে। পাথরে পাথর ঘঁসে আগুন তৈরী থেকে শুরু করে চাঁদ অবধি আরোহন করেছে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সফল প্রোয়োগের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহে জনবসতি স্থাপনের গবেষন্র্ওা অগ্রগতি চলছে। প্রাকৃতিক দুষন ্ও দূর্যোগ প্রতিরোধ কল্পে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে নানা ধরনের গবেষনা। বার বার মানুষ হারতে হারতে জিতে গেছে বা যাচ্ছে। যদ্ওি মানুষ, মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুকে জয় করতে পারেনি। পারবে কিনা এ স্বমভবনার বিষয়ট্ওি এ পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। তবে মানুষ ইচ্ছে করলেই ্একক বা একের অধিক মৃত্যু ঘটিয়ে দিতে পারে। কেউ আত্মহত্যা করে, কেউ হত্যা করে , কেউ মৃত্যু দ- দিয়ে, কেউ যুদ্ধে বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে। উন্নত দেশের একদল মানুষ আর একদল মানুষকে নিমিষেই এই পৃথিবী থেকে চির বিদায় দিতে পারে। নির্বোধ শিশুর্ওা এদের হাত থেকে রক্ষা পায়না।

২০২০ সালে এ সময়ে এ মহাশক্তিধর মানুষগুলোই বন্ধ করেছে যুদ্ধ, মহামরিতে মৃত্যু ভয়ে কাতর। নিরলস গবেষনা চলছে প্রকৃতির এই লীলা-খেলার রহস্য উৎঘাটন ্ও উৎপাটনের জন্য। কত লক্ষ মানব জীবনের বিনিময়ে এবং কত বছরে এ (কোভিড-১৯) মহামারির প্রতিশেধক কার্যকর হবে সে দিকট্ওি এখন্ও পরিস্কার নয়। বহু বছর সময় লেগেছিল বিগত শতাব্দীর মহামারীগুলোকে নিমূল করতে।
১৮৮০ সালে ম্যালেরিয়ার কারন ্ও নিধন প্রক্রিয়ার গষেনা শুরু হয় এবং ১৮৯৮ সালে স্যার রোনাল্ড রস প্রমান করেন যে মশা থেকেই ম্যালেরিয়া রোগের সৃষ্টি হয় এবং ১৯০২ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। র্এও বহু পরে ১৯৩৪ সালে জার্মানীর এক বিজ্ঞানী হ্যান্স আ্যা-ারসন ম্যালেরিয়ার ঔষধ কুইনাইন আবিষ্কার করেন। ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রেরে ম্যালেরিয়া নিমূল হয়।
২০১৫ সালে ্ওর্য়াল্ড হেলথ ্অরগানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে সারা বিশ্বে ম্যালেরিয়ায় ৪৩৮,০০ মানুষ মারা যায় কিন্তু ইনসইষ্টটিউট অফ হেল্থ মেট্রিকস ২০১৭ সালের পরিসংখানে এই সংখ্যাকে ৬২০,০০ বলে উল্লেখ করে। ২০১৮ সালে সারা বিশ্বে ৪০৫,০০ মানুষ ম্যালেরিয়ায় মারা যায়।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে গুটি বসন্ত বা স্মল পক্স এ প্রতি বছর ৪০০,০০ মানুষ মৃত্যু বরন করেছিল। এ রোগে প্রতি দশজনে একজন মারা যেত। ১৭৯৬ সালে এড্ওয়ার্ড জেন প্রথম সফল গুটি বসন্তের ভেকসিন আবিষ্কার করেন। ১৯৩৪ সালে যুক্তরাজ্য, ১৯৪৬ সালে কানাডা, ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৫১ সালে জাপান এবং ১৯৬১ সালে চীন দেশ থেকে গুটি বসন্ত বা স্মল পক্স নির্মূল হয়। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে ৩ বছর বয়সী একজন বালিকা এবং ১৯৭৮ সালে বার্মিংহামে ৪০ বছর বয়সী মহিলা ফটোগ্রফার সর্ব শেষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে এশিয়া ্ও ইউরোপে বুবোনিক প্লেগ হানা দিয়েছিল এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে এই মহমারীতে (ব্ল্যাক ডেথ) ইউরোপে ৭৫ থেকে ২০০ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়।
এই সময়কালে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এখনকার মত উন্নত ছিলনা কিন্তু মানুষ তার সাধ্যাতীত চেষ্টা চালিয়ে এইসব মহামারীর কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এর পরে আধুনিক যুগে ১৯৭৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টিকে থাকে ইবোলা, ১৯৮০ সালে আসে ডেঙ্গু। ২০০৩ এ আসে সার্স কোভ-২, আর বর্তমান মহামারী কোভিড-১৯। এ মহামারী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরেছে। মানুষ চোখ খুলে মৃত্যু সংবাদ দেখে, ঘুমোত্ওে যায় মৃত্যু সংবাদ দেখে। এ বিভৎস সময়ের এটাই এখন রুটিন।
ছোট বেলায় কোন মানুষের মৃত্যু দেখলে, মুরগী এবং কোরবানীর সময়ে গরু-ছগল জবাই করা দেখলে মাকে প্রশ্ন করতাম এগুলো ঘটে কেন। মা বলতেন এগুলো ধর্মীয় এবং প্রাকৃতিক নিয়ম। পৃথিবীর ভারসম্য রক্ষা করে। পরে যখন বড় হলাম, মা দেখলেন আমার বাসায় দুটি বিড়াল নিউটার করা, খাঁচায় পাখি, খরগোশ, গিনিপিগ তখন্ও মা খুব ব্যথিত হলেন, বললেন, এরা প্রকৃতির জীব, এরা এদের মত করে বাাঁচবে-মরবে। এদেরকে আটকে রাখায় পৃথিবীর ভারসম্য নষ্ট হচ্ছে। আমার মায়ের কথাগুলো আজ বড় বেশি মনে পরছে। কোন এক অদৃশ্য শক্তি কি কোভিড-১৯ এ মহামারীর মাধ্যমে মানুষ কমিয়ে পৃথিবীতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করছে? বিধাতা যদি থেকেই থাকে তবে কেন মানুষকে নিয়ে এত খেলা?
মাইকেল টিনেসা- ‘‘হোয়াট সো ইক্যুয়াল এ্যাবাউট ইক্যুলিব্রিয়াম” শিরোনামে একটি গবেষনা মূলক প্রবন্ধে লিখেছেন ‘‘পৃথিবীতে সামগ্রিক পরিবর্তনে প্রভাব হচ্ছে ভারসাম্যহীনতার পরিবর্তন এবং পৃথিবীর মেরুতে ্ওজন স্তরের হ্রাস। বৈশ্বিক স্তরে, এ ভারসাম্য গুলো খুবই জটিল হয়ে যায়। প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবর্তনগুলি খুব জটিল, কখন্ও কখন্ও প্রকৃতির নিয়মে অপ্রত্যাশিত উপায়ে ঘটে থাকে, প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতে এবং কখন্ও কখন্ও মানুষের ক্রিয়াকলাপের কারন্ওে ঘটে থাকে”। অনেক গবেষকগন মনেকরেন প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষনে মানুষের অসাবধনতাও এইসব ভারসাম্যহীনতার একটি বড় কারন।
আসলে কি কোভিড-১৯ এর সংক্রমনের ভয়বহতা এবং এ ভয়াবহতা রোধ কল্পে জাতির কর্নধারদের তুখর বুদ্ধি-মত্তা, চিন্তা-ভাবনা, যুক্তি-তর্কে পারদর্শিতার ক্ষেত্রে ভারসাম্যতা রক্ষায় অপারগতার কারইে পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এ রোগে। নিউ ইয়র্কের কথাই ধরা যাক যে দিন থেকে লকডাউন করা হল এর দুসপ্তাহ আগে করেলেই হয়তবা বহু মানুষ বেচেঁ যেত। এত বড় বড় বিজ্ঞানীরা, দেশের সর্বচ্চ নেতৃবৃন্দ সত্যিই কিন্তু এবার হেরে গেছে। জিতেও যাবে কিন্তু কত সহ¯্র মানুষের মৃত্যুর মধ্য এ জয় হবে এ অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও কতদিন কে জানে।
তবে আশার কথা এই মানুষেই মহাশুন্যে উপগ্রহের মাধ্যমে ডাটা সংগ্রহ করছে বায়ুম-লকে বুঝে প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষা কল্পে তথা সমগ্র মানব জীবনকে উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছে দিতে। কোভিড-১৯ এ মহামারী রোধে মানুষের জয় হবেই হবে। আর এ সংকটের মধ্য দিয়ে মানুষ হয়তবা শিক্ষা নিবে এ পৃথিবীর সকল মানুষ সমান কেউ ছোট কেউ বড় নয়।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV