Tuesday, 10 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

মহাসমারোহে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের শুভ পরিণয় অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 109 বার

প্রকাশিত: April 29, 2011 | 10:33 AM

ইউএসএনিউজ ডেস্ক:সারা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের অপেক্ষার পালা শেষ। মহাসমারোহে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের শুভ পরিণয় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটিশ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী  প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন স্বামী-স্ত্রী হিসাবে শপথ বাক্য পাঠ করেছেন। এর ফলে তাঁরা এখন থেকে স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বিবেচিত হবেন। বহু প্রতীক্ষিত ব্রিটিশ রাজপরিবারের এ বিয়ে কিছুক্ষণ আগে শেষ হয়েছে। বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, বর-কনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বিয়ের শপথ নিয়েছেন এবং তাঁদেরকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল ওয়েস্ট মিনস্টার অ্যাবেতে উপস্থিত হন প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর ভাই প্রিন্স হ্যারি। পরে কনে কেট মিডলটন উপস্থিত হন। সবশেষে আসেন রানি এলিজাবেথ ও ডিউক অব এডিনবরা।

 

এর আগে, সকাল থেকে এক এক করে বিয়ের এ রাজকীয় অনুষ্ঠানে হাজির হন বিশ্বের ৫০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ প্রায় দুই হাজার অতিথি। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, উপপ্রধানমন্ত্রী নেক ক্লেগ ও সুইজারল্যান্ডের রাজাসহ অনেক নামকরা ব্যক্তি রয়েছেন এঁদের মধ্যে। এসেছেন সেলিব্রেটিসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রথম সেলিব্রেটি যুগল হিসেবে ঐতিহাসিক এ বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিখ্যাত ফুটবলার ডেভিড বেকহাম ও তাঁর স্ত্রী পপস্টার ভিক্টোরিয়া বেকহাম। বর-কনেকে একপলক দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ওয়েস্ট মিনস্টার অ্যাবের আশপাশের রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। তাঁদের হাতে রয়েছে ইংল্যান্ডের জাতীয় পতাকা ইউনিয়ন জ্যাক। এ ছাড়া আজ বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষ টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি রাজপরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানটি দেখছেন। বলা হচ্ছে, ১৯৮১ সালে ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লসের বিয়ের পর এটাই ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান। ওয়েস্ট মিনিস্টার অ্যাবের রাস্তায় গতকাল সারারাত তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আশা করা হচ্ছে, বর ও কনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ছয় লাখেরও বেশি মানুষ রাজপথের দুই ধারে উপস্থিত থাকবেন। এ জন্য লন্ডনের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার জুড়ে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছে, বিয়ের সময় পাঁচ হাজার নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া-আসার রাস্তায় নিয়োজিত থাকবেন ৯০০ জনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী। এ সময় কিছু নিরাপত্তাকর্মী সাধারণ পোশাকে জনগণের মধ্যে মিশে থাকবেন। পুরো লন্ডনের রাস্তাঘাট ভরে উঠেছে জাতীয় পতাকার ইউনিয়ন জ্যাকে। বিয়ে শেষে নব দম্পতি ব্যার্কিংহাম প্যালেসে ফিরে যাবার পথে ব্যাবহার করবেন ছাদ খোলা রাজকীয় বাহন। ১৯৮১ সালে উইলিয়ামসের মা প্রিন্সেস ডায়নাও ওই একই গাড়িতে চড়ে শ্বশুর বাড়ি গিয়েছিলেন। রাজ পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রিন্স উইলিয়ামসকে বিয়ের পর রানী নিজে ডিউক অব কেমব্রিজ খেতাবে ভূষিত করবেন। সেই সূত্রে তার স্ত্রী কেট মিডলটন হবেন হার রয়েল হাইনেস ডাচেজ অব কেমব্রিজ। রাজকীয় বিয়ের মধ্যদিয়ে ব্রিটেনে সমাজ পরিবর্তনের চিত্র দৃশ্যমান : ব্রিটেনে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের প্রেমে পড়া ও তাদের আজকের এ বিয়ে যে কেবল বিরাট জাতীয় গৌরবের জন্ম দিয়েছে তাই নয়, এর মধ্যদিয়ে দেশটির সমাজ পরিবর্তনের চিত্রও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। বিয়ে উপলক্ষে দেশটির পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নানা মন্তব্য ও প্রতিবেদনে বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। পত্রপত্রিকাগুলো বলছে, একটি সাধারণ ঘরের মেয়ে হয়ে মিডলটনের রাজপরিবারে প্রবেশ ব্রিটেন যে এক সময়কার কঠোর শ্রেণী কাঠামো থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে তারই সাক্ষ্য বহন করে। উইলিয়ামের মা প্রিন্সেস ডায়নার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিখ্যাত ট্যাবলয়েড সানের প্রথম পাতায় বলা হয়েছে, এ বিয়ের কারণে ডায়না খুবই গর্বিত হতেন। পত্রিকাটি তার স্যুভিনির সংস্করণে আরও বলেছে, বিশ্ব আজ এমন বিস্ময় প্রত্যক্ষ করবে যা পৃথিবীর যে কোন দেশের চেয়ে ব্রিটেনই ভালো দেখাতে পারছে। ডেইলি মেইলের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ব্রিটেন এখনও এমন আয়োজন করতে পারে যা বিশ্বকে চমকে দেবে। তবে পত্রিকাটি আরো বলছে, কারো ভ্রু না কুঁচকিয়ে দুই ভিন্ন অবস্থান থেকে আসা দুজন মানুষের বিয়ে করতে পারার অর্থ গত কয়েক দশকে ব্রিটেনের যে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে তারই আলামত। শুক্রবার যে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে প্রিন্স ও কেটের বিয়ে হতে যাচ্ছে সেখানে সমাধিতে শুয়ে আছেন উইলিয়ামের মা প্রিন্সেস ডায়না। ১৯৯৭ সালে প্যারিসে গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মধ্যডানপন্থী টেলিগ্রাফ পত্রিকা বলছে, এটি খুবই দুঃখজনক বিষয় ডায়না, প্রিন্সেস অব ওয়েলস পুত্রের বিয়ে দেখার জন্য আজ বেঁচে নেই। পত্রিকাটি আরও বলছে, রাজপরিবার ও জাতির জীবনে আজকের এ বিয়ে কেবল একটি অধ্যায়ই নয় বরং নতুন যুগেরও সূচনা করছে। টাইমস পত্রিকা বলেছে, এ বিয়ের মধ্যদিয়ে ব্রিটিশ রাজত্বের নতুন দিন এবং রাজপরিবার ও জনগণের মধ্যে নতুন সম্পর্কের যাত্রা শুরু হলো। 

 
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV