বাঁচাতে হবে প্রজন্মকে..
সামছুল ইসলাম মজনু : বাঁচাতে হবে প্রজন্মকে, সব শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে বলে চিৎকার করে যাচ্ছি পেপার পত্রিকায় দেদারছে লেখাগুলোতে হচ্ছে, টকশো গুলোতে বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ জনেরা বলে যাচ্ছে, বলা হয়ে থাকে মিডিয়ার কি করার আছে কি করবে মিডিয়া, যত দোষ আমেরিকার সংস্কৃতির খুব সহজই আমেরিকান সংস্কৃতির উপর দোষ দিয়ে এড়িয়ে নিজের দায়বদ্ধতাকে প্রকারন্তরে এড়িয়ে যাচ্ছি, অনেক বলা হয়, লিখা হয়, সমাধান নাই, না কি করে সমাধান বাহির করি, তবে আমি বা আমরা রাতারাতি সব ওলট পালট করে সব কিছু পরিবর্তন করব? না আমার এ ধরনের কোন চিন্তা নাই অথবা আমি ওভাবে চিন্তাও করি না। আমি চাই আমার ও আপনার সন্তান ভাল থাকুক। সুনাগরিক হয়ে সমাজে মাথা উচু করে দাড়াক এটাই আমার আপনার ব্রত হওয় উচিত।
প্রজন্মকে নিয়া বলতে গেলে প্রথমেই নিজের দায়বদ্ধতাকে মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে, সন্তান আপনার আপনিই পারেন আপনার সন্তানকে সহযোগিতা করে সুনাগরিক হওয়ার পথ এগিয়ে দিতে। আপনার চাইতে অন্যকেহ বেশী দায়িত্ব নিবে এটা ভাবা প্রকারন্তরে ভুল করে যাচ্ছেন, আপনিই আপনার সন্তানের বৈধ অভিভাবক, যদিও পশ্চিমা তথা আধুনিক বিশ্বে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়, তার পরেও পিতা মাতাই সর্বোচ্চ বৈধ অভিভাবক, এই অভিভাবকত্ব শুধু মাত্র সন্তান জন্ম দিয়ে স্বস্তির ঢেকুর নিলে হবে না, তাকে যথাযথ ভাবে বড় করে তোলাও আপনার প্রধান দায়িত্ব, আর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়া অনেক ক্ষেত্রে লেজে গোবর অবস্থা করে ফেলি, হতাস হলে চলবে না, আপনার সদিচ্ছা থাকতে হবে, চেষ্টা করতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজের অযোগ্যতা বা অপরগতার কারণে ভুল হয়ে যায়, মনে রাখা ভাল আজকাল স্কুল/কলেজ অথবা সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে পরামর্শ (কাউন্সিলিং) দেয়া হয়ে থাকে, সেই সকল প্রতিষ্ঠানের দারস্থ হওয়া যায়, পরামর্শ দানকারী প্রতিষ্ঠানের দারস্থ হওয়ার আগে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু ধারনা পূর্বে নেয়া থাকলে ভাল। তাদের সাথে খোলা মেলাভাবে কথা বলা যাবে, এতে উপকার হবে বৈকি ক্ষতি হবে না। আপনি আপনার সন্তানকে সু নাগরিক হওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাবেন। মনে রাখবেন আপনি নিজে হচ্ছেন সন্তানের কাছে একজন আয়না/দর্পণ। আপনার সন্তানের প্রথম শিক্ষক ও আপনার কাছে থেকেও অনেক কিছু শিখবে। আপনিই হচ্ছেন প্রথম শিক্ষক, আপনার কাছে থেকেই সে প্রথম শিক্ষা পায়/পেয়েছে। এক সময় হয়ত আপনার সন্তান নিজে থেকে কিছুটা দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত হবে তার পরেও তাকে আপনি একটু আগ বাড়িয়ে দায়িত্ববান হয়ে সামাজিক অবস্থানে সে তার নিজ আসন নিতে পারে সে ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করতে হবে, যার ফল স্বরূপ ইদানিং আমরা দেখি রত্ম গর্ভ মা ইত্যাদি ইত্যাদি। দায়বদ্ধতা হলো “আইন নৈতিক ও আদর্শিক আচরণের নিয়ম সাপেক্ষে কর্ম” বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সন্তানের বয়স ১৮ বৎসর পর্যন্ত পিতা মাতার দায়িত্ব বুঝায় বস্তুত পক্ষে সন্তানের ২১ বৎসর পর্যন্ত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রসারিত কারণ ঐ সময়ের মধ্যে আপনার/আমার সন্তান ¯œাতক ডিগ্রি অথাব সমতূল্য শিক্ষা অর্জন করে তার ভাল মন্দ যাচাই করার যোগ্যতা অর্জন করে।
মা বাবারা সাধারনত দেখা যায়, তারা তাদের সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার লইয়ার, ইত্যাদি ইত্যাদি হওয়ার জন্য জোর চেষ্টা করেন, যা নাকি অত্যন্ত খারাপ, উচ্চ আকাঙ্খা থাকাটা অন্যায় নয়,আপনাকে যোগ্যতা সম্পর্কেও ধারণা থাকতে হবে। আপনি আপনার সন্তানকে জন্ম থেকে দেখে এসেছেন তার জ্ঞান মেধা সম্পর্কে আপনিই বড় বিচারক তাকে সেভাবে পরামর্শ দিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় পড়া লিখা সাথে সাথে ঐচ্ছিক কার্যক্রমের জন্য সন্তানকে অতিরিক্ত চাপ সইতে হয়, এতে করে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং সন্তানরা তখন সিগারেট গাজা মদ ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে পড়ে, নিজেদের মনচাপকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য। আর তারা তাতে করে লাইনচ্যুত হয়ে যায় যা খুবই দুঃখজনক। আমাদের মনে রাখতে হবে মেধাবী, শিক্ষিত, বিত্তশালী ইত্যাদি হলো আক্ষরিক এবং ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তবে সুনাগরিক হওয়াই হলো প্রথম ধাপ, মেধার সাথে সমন্বয় করে শিক্ষিত হওয়ার সাথে সাথে অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে নিজের পায়ে দাড়ানোর যোগ্যতাই হলো সুনাগরিক হওয়ার প্রাথমিক ধাপ।
আমরা প্রায় বলি সুনাগরিক হতে হবে, সুনাগরিক মানে কি শুধু পড়া লিখায় ভাল হতে হবে? অবশ্যই না সুনাগরিক হতে হলে সবার আগে ভাল ব্যক্তিত্ব হতে হবে, ভাল আচরণ করতে হবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। সৎ ও ন্যায়বান হতে হবে। শ্রদ্ধাবোধ ও কর্তব্যবোধ থাকতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, নিজে দায়িত্ব নিতে হবে নিজের কর্ম উদ্যোগকে অন্যকে সম্মান করে তার কথা শুনতে হবে। বুঝার মত মানসিকতা নিয়ে অন্য কি বলতে চাইছে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে সু নাগরিকরাই সুন্দর সমাজ গঠণে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রজন্মের সবচেয়ে বড় আবিস্কার হলো একজন মানুষ তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে তার জীবনকে পরিবর্তন করতে পারে।
যুগের পরিবর্তন হয়েছে আগে বাবার কড়া শাসনে আমরা বড় হলেও এখন ঐ রকম শাসন হয় না, শাসনের ধরনে পরিবর্তন এসেছে, আগে বাবা মারা লাঠি পেটা করত, তার ভয়ে সন্তানরা তটস্থ থাকত, যা ঠিক ছিল না, আজকাল বাবা মারা ঐ রকম চিন্তাই করতে পারে না, তবে কি শাষনের দরকার নাই? ঠিক তা নয়, শাষন হতে হবে সহনশীল পর্যায়ে, আমি বলব সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে শাষন করতে হবে, বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক করতে গিয়ে অতি আধুনিকতায় গা ভাসালে চলবে না। মনে রাখতে হবে আপনি আপনার সন্তানকে জন্ম থেকে দেখেছেন আপনার সদিচ্ছার সাথে তার ইচ্ছার সমন্বয় করে তাকে গড়ে তুলতে হবে, আজকাল প্রায়ই খবর পাওয়া যায় অমুকের মেয়ে / অমুকের ছেলে ঘর থেকে রাগ করে বাহিরে চলে যায়, মা বাবার সাথে থাকতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে না এ জন্য আপনিই দায়ী, সন্তানের মন মানসিকতা না বুঝতে পারাতে এ ধরনের ঘটনা গঠেছে। এ বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় আপনার সন্তান আপনাকে এড়িয়ে চলছে যা খুবই দুঃখজনক। অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায় নিজেকে আধুনিক হিসাবে জাহির করতে গিয়ে গড্ডালিকা প্রবাহের মত গা ভাসিয়ে দেয়, যারা না মানে ধর্মীয় অনুশাসন না মানে নিজেস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি, এরা আসলে নিজেরাই নিজেদের হারিয়ে ফেলছে এক্ষত্রে তারা তাদের পরিবার তথা সন্তানদের কিভাবে গড়ে তুলবে? বস্তুত তাদের অবস্থা না ঘরকা না ঘটকা অবস্থা হয়ে যায়। তারা শিক্ষিত হলেও সুনাগরিক হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে, আগেই বলেছি সুনাগরিক বলতে তাই বুঝানো হয়েছে যা সমাজ/সমষ্টির সাথে মিশে নিজেকে এগিয়ে যেতে হবে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না আপনি যেমন পরিবারের একজন ঠিক তেমনি সমাজেরও অবিচ্ছেদ এটা একটার বিকল্প নয়, সমাজ ও সামাজিকতা নিয়ে বির্তক থাকতে পারে তার পরেও বলব এটা যে সন্তানের উপর প্রভাব ফেলে তা কিছুতেই উপক্ষো করতে পারবেন না। উল্লেখ্য প্রায়শ আমরা বলে থাকি পরিবেশ, পরিপাশ্বিকতা সন্তানের বেড়ে উঠার উপর প্রভাব ফেলে তা আমরা অস্বীকার করতে পারি না।
লিখাটাকে দীর্ঘায়িত না করে ব্যক্তিগত কিছু পরামর্শমূলক কথা বলে লিখার সমাপ্তি টানতে চাই, আমরা যারা প্রবাসে থাকি আমাদের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন পথ ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে পারে, আমরা সবাই সন্তানের ভাল চাই, তাই বলব মন্দকে পিছনে ফেলে ভালকে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাদেরকে প্রচুর সময় দিতে হবে, প্রবাস জীবনের প্রচুর ব্যস্ততার মাঝেও রুটি রুজির বিষয়টাকে সংকুচিত করে হলেও তাদের কথা চিন্তা করে এগিয়ে যেতে হবে, তাদের সহযোগিতা করতে হবে, তাদের কিছুতেই একা বা একাকিত্ব থাকতে দেয়া যাবে না, ভিন্ন ভিন্ন কর্ম তৎপরতা দিয়ে তাদের কর্ম চঞ্চল রাখতে হবে, শুধু গান বাজনা নয় অনেক ধরনের বিষয় রয়েছে যা করলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সেভাবেই তাকে কর্মচঞ্চল রাখবেন। পড়া লিখাটাকে মুল বিষয় হিসাবে মাথায় রেখে ঐচ্ছুক বিষয়ের সাথে সহযোগিতায় তাদের পথ চলার পথ প্রশস্থ করতে হবে। আমার আপনার সন্তান সবার সন্তান সুনাগরিক হউক এটাই হউক আমাদের ভ্রত।
-সামছুল ইসলাম মজনু, প্রাক্তন সভাপতি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন।
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests