Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
সব ক্যাটাগরি

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা আদায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 101 বার

প্রকাশিত: February 19, 2012 | 4:25 PM

মিজানুর রহমান: বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চায় বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার এক যুগেও এ মর্যাদা না পাওয়ায় এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে শিগগিরই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করবে। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের ৬৭তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দাবির পক্ষে কথা বলার মুহূর্তে যাতে অন্য দেশের সমর্থন আদায় করতে পারেন সে জন্যই এ তৎপরতা বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য এ দেশের দামাল ছেলেরা রক্ত দিয়ে পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস গড়ে। বিশ্বের ইতিহাসে ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম। ইতিহাসবিদদের মতে, ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। সেই রক্তঝরা আন্দোলনের এবার ৬০ বছর হতে চলেছে। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো’র ৩০তম সভায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। এর পর ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো তার অনুমোদন দিয়ে ওই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরের বছর থেকে সারা বিশ্বে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্বীকৃতি পাওয়ার পর বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে দেখতে বাংলাভাষীদের মধ্যে নতুন আকাঙ্ক্ষার জন্ম নেয়। ২০০৯ সালের ৯ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবিটি উত্থাপন করেন। পরের বছরও জাতিসংঘের কাছে তিনি তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠকে বাঙালির স্বপ্ন ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। একুশে ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দিলেও জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এখনও এ বিষয়ে কোন রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়নি। কারণ রেজ্যুলেশন আকারে উত্থাপন করতে হলে জাতিসংঘের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশকে তা সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একা এ প্রস্তাব পেশ করতে পারে না। আবার রেজ্যুলেশন পাস করতে হলে জাতিসংঘের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি লাগবে। বাংলাদেশ এই কঠিন পথ পাড়ি দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে মাত্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতিসংঘের ছয়টি দাপ্তরিক ভাষা হলো- আরবি, চীনা (হান), ইংরেজি, ফরাসি, রুশ ও স্প্যানীশ। কোন ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দিতে চাইলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য প্রয়োজন। যেসব দেশের উদ্যোগে ওই ভাষাগুলোর দাপ্তরিক মর্যাদা আদায় হয়েছে তারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে খুবই শক্তিশালী। আবার অনেক দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও তাদের ভাষা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা পায়নি। যেমন- হিন্দি ও জাপানি। জাতিসংঘে চাঁদা প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জাতিসংঘের মোট বাজেটের ৩০ শতাংশ দিয়ে থাকে। আর দ্বিতীয় চাঁদা প্রদানকারী দেশ জাপান। জাপান বাজেটের ২৫ শতাংশ অর্থ প্রদান করে। কিন্তু তারপরও জাতিসংঘে দাপ্তরিক মর্যাদা পায়নি দেশটির ভাষা। একটি ভাষা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হলে সংস্থার সব দলিল সেই ভাষায় অনুবাদের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। এ ব্যয়ভারও সংশ্লিষ্ট দেশকে বহন করতে হয়। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি কঠিন বলে মনে করেন অনেকে। তবে যত কঠিনই হোক বাংলাদেশ তার দাবি আদায়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। আগামী ১৯শে সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের ৬৭তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষায় মর্যাদা দিতে জোর গলায় বলতে পারেন সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা শুরু করছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাদিয়া মোনা তাসনিম জানান, জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা পেতে বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত অধিবেশনে এ নিয়ে কথা হয়েছে, আগামী অধিবেশনে আরও জোরালোভাবে বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ। সাধারণ অধিবেশনে যাতে বিভিন্ন দেশের সমর্থন পাওয়া যায় এ জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বাংলা ভাষার ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ। এ জন্য বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা চাই এ ধারাবাহিকতায় দ্রুত বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হোক। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV