বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মত: সময়ক্ষেপণই হুমায়ূনের জন্য কাল হয়েছে
সালমান ফরিদ: ৪৮ ঘণ্টা সময়ই নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জন্য কাল হয়েছে। এই সময়টুকু বিলম্ব না করে তাকে যথাসময় হাসপাতালে নিয়ে আসতে পারলে হয়তো বাঁচানো যেতো। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করতে না পারার কারণেই সম্ভবত তার শরীরের অবস্থা চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরিণতিতে তাকে হারাতে হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, হুমায়ূন আহমেদের যে ধরনের অপারেশন হয়, তা থেকে কোন সমস্যা দেখা দিলে তার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। প্রতি ঘণ্টায় খুব দ্রুত রোগী ক্রিটিক্যাল অবস্থার দিকে ধাবিত হয়। এজন্য প্রতিটি মুহূর্ত তার জীবনে খুবই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। হুমায়ূন আহমেদ সে মুহূর্তগুলোই অতিক্রম করেন। বাসায় যখন চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তখনই সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেয়া দরকার ছিল। সময়ক্ষেপণ করায় তার অবস্থা জটিল থেকে আরও জটিল হয়ে পড়ে। সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা চিকিৎসকদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এর জন্য নিশ্চয় কেউ না কেউ দায়ী। মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপকালে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, তার মৃত্যু নিয়ে কোটি বাঙালির মাঝে জাগা অসংখ্য প্রশ্ন পরিষ্কার করে দিতে পারে বেলভ্যু হাসপাতালের একটি রিপোর্ট। মেডিকেল অডিট, অর্থাৎ তার মৃত্যুর সময়ে শারীরিক অবস্থা, কেন মৃত্যু হলো, ভর্তির সময় কি অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল বা ভাইরাসটা কিভাবে তার শরীরে ছড়িয়েছিল তার একটা প্রতিবেদন চাইতে পারে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ চাইলে ওই হাসপাতাল অফিসিয়াল রিপোর্ট দেবে। তখন প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তারা প্রিয় লেখকের মৃত্যু নিয়ে দেশবাসীর হাজারো প্রশ্নের জবাব দিতে ওই রিপোর্ট আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদের দেহে ১০০ ভাগ সফল অস্ত্রোপচারের পর এ মৃত্যু সত্যি অস্বাভাবিক। তিনি ক্যান্সারের কারণে মারা যাননি। ক্যান্সারে তার মৃত্যু হওয়ার কথাও না। তার মৃত্যুর জন্য দায়ী অজ্ঞাত ভাইরাস। আর এই ভাইরাস তার দেহে সংক্রমণ সম্ভবত হাসপাতাল থেকেও হয়নি। কারণ আমেরিকার মতো উন্নত দেশে হাসপাতাল থেকে ভাইরাস ছড়ানো একটু কঠিনই। তাছাড়া তাকে অপারেশনের পর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাড়িতেই অসুস্থবোধ করায় তাকে আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসতে হয়। তবে যখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন করা হয় তখন তিনি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় চলে গেছেন। সেখান থেকে ফেরানো সত্যি দুরূহ ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ দিনের মাথায় হাসপাতাল থেকে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাসায় অনেক মানুষ যেতো। সেখান থেকে ইনফেকশন ছড়াতে পারে। এটি মানুষের কাশি, স্যান্ডেল, কাপড়, নিঃশ্বাস থেকে ছড়ায়। ঠিক এক বছর আগে আগস্টে হুমায়ূন আহমেদকে আমেরিকায় চিকিৎসার জন্য যাওয়ার বিষয়ে রিকোমেন্ডেশন দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, তখন কাগজপত্র দেখে মনে হয়নি তাকে এভাবে চলে যেতে হবে। তবে অবস্থা জটিল পর্যায়েই ছিল। তারপরও তার মৃত্যুটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যখন আমি তার রিকমেন্ডেশন দিই তখন আমার মনে হয়েছে, তিনি সম্পূর্ণ ভাল হয়েই ফিরবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তা হলো না। তিনি বলেন, ক্যান্সারের কারণে নয়, অজ্ঞাতে ভাইরাসে তার মৃত্যু হয়েছে। আর সেটি তিনি আক্রান্ত হয়েছেন সম্ভবত বাইরে থেকেই। তার মৃত্যুটা আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট-আইসিইউতে তখন যারা ছিলেন, তারা যা বলছিলেন তাতে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে তার অবস্থা এমন হবে, তিনি একেবারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন- একজন চিকিৎসক হিসেবে সেটা ভাবতে পারিনি। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম যে, উনি যেহেতু উন্নত চিকিৎসা নিতে গেছেন, ভাল হয়ে উঠবেন। দেশের বিশিষ্ট এই ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বলেন, হুমায়ূন আহমেদের পরিবার থেকে ওই সময় বলা হয়, আইসিইউতে থাকা অবস্থাই ভাইরাসটি ছড়ায়। কিন্তু উন্নত একটা হসপিটালে এটা কতটুকু সম্ভব তা ভাববার বিষয়। কারণ অনেক নিয়ম-কানুনে কড়াকাড়ি ও জীবাণু প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকে ওই সব হাসপাতালে। জীবাণু সেখানে ছড়ানো অস্বাভাবিক কিছু না হলেও সেখানকার পরিবেশ বিবেচনায় আমাদের মনে হচ্ছে এটা অন্য কোথাও থেকে হতে পারে। আর সেটা কেন হলো, তা খুঁজে দেখে স্পষ্ট করা দরকার বলে মনে করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপারেশনের রোগীকে তখনই হাসপাতাল থেকে ছাড় দেয়া হয়, যখন সার্জন মনে করবেন তাকে ছাড়া যায়। যদি আগেই বাসায় তিনি চলে যান আর সেখানে গিয়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাহলে সেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যের বিষয়। তার মতে, অপারেশনের পর যদি পরিপূর্ণ ভাবে হিলিং করা হয় তাহলে লিক হওয়ার কথা নয়। বলা হচ্ছে তিনি চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এটা হলেও মৃত্যু হওয়ার কথা না। বড় জোর ইনজুরি হতে পারে। হাসপাতালে ক্রস ইনফেকশন হতে পারে। বাতাসে জীবাণুর সংক্রমণ হয় বেশি বলে এটা হতেই পারে। কিন্তু আমার মনে হয়, হাসপাতাল থেকে রিলিজ হওয়ার আগে ভাইরাস আক্রান্ত হননি। হলে ছাড় পেতেন না। হয়েছে বাইরে। তিনি মনে করেন, হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব ছিল। হয়তো পরিবেশ এখনও আমাদের সে রকম হয়ে ওঠেনি। কিন্তু চিকিৎসা একই। এখানেই একই রকম চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। দেয়া হচ্ছেও। তাকেও চিকিৎসা দেয়া যেতে পারতো। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ আকরাম হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১৫ দিন তাকে হাসপাতালে রাখার কথা। সেখানে ১০ দিন পর নিয়ে যাওয়া হলো। আবার অসুস্থবোধ করার পরও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেয়া হলো না। প্রথম যখন নেয়া হলো সেটি ক্যান্সার হাসপাতালও না। আর যখন বেলভ্যু হাসপাতালে নেয়া হয়, ততক্ষণে তার অবস্থা জটিল পর্যায়ে। তাকে যদি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আনা যেতো তাহলে হয়তো তাকে হারাতে না-ও হতে পারতো। আমার মনে হয়, তার অপারেশনের পর সম্ভবত ভেতরে ময়লা ঢুকে গিয়েছিল। যে জন্য জীবাণু বিস্তার লাভ করে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ডা. আবদুল বারী বলেন, আমার কাছে প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে- হুমায়ূন আহমেদ কি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় গিয়েছিলেন না তাকে পরিবারের লোকজন নিয়ে গিয়েছিলেন। যদি নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কেন নেয়া হলো? আবার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর কেন তাকে দেরি করে আনা হলো? আরও আগে আনতে ব্যর্থ হলেন কেন? আর আনার পরপরই তাকে সঙ্গে সঙ্গে কেন আইসিইউতে নেয়া হলো? নিশ্চয় অবস্থা ছিল খারাপ। তা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় ১০ দিন পরে ছাড়পত্র দিতেন না। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, তাহলে কখন ভাইরাস আক্রান্ত হলেন তিনি? আসলে এসব প্রশ্নর উত্তর পেলেই তার মৃত্যুর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। যে মানুষটা অপারেশনের পর নিজে হেঁটে গাড়িতে উঠলেন- দিব্যি ভাল মানুষ- তার এভাবে মৃত্যু নানা প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে। এর উত্তর জানা দরকার। এর জন্য সরকার হাসপাতালের কাছে একটা ব্যাখ্যা চাইতে পারে। তিনি বলেন, তার এমন অবস্থা ছিল না যে অপারেশনের পর তিনি মারা যাবেন। এ ধরনের অপারেশনে রোগীর সফলতা শতকরা ৯৫ ভাগ। আর হুমায়ূন আহমেদের বেলায় সেটি ছিল শতভাগ সফল। যেখানে শতভাগ সফল সেখানে অপারেশন সমস্যায় তিনি মারা যাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এজন্য সময় লাগে। সুতরাং ক্যান্সার বিষয়টি এখানে একেবারেই গৌণ।মানবজমিন
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের