বাংলাদেশের চাঞ্চল্যকর জয়

সামন হোসেন ও ইশতিয়াক পারভেজ: শচীনের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিয়েছেন বাংলাদেশের তারুণ্যোদীপ্ত ছেলেরা। শততম শতকের উৎসবটা নিশ্চয়ই করতে পারেননি শচীন। আরও একবার প্রমাণ হলো শচীনের সেঞ্চুরি মানেই ভারতের পরাজয়। কুইন্স পার্ক ওভালের সেই স্মৃতিটা আবার বাস্তবতা পেল মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে ভারতকে হারালো বাংলাদেশ।
আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তও বাংলাদেশের জয়কে ঠেকাতে পারেনি। ২০০৭ সালের ১৭ই মার্চ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও ব্যবধানটা সেই ৫ উইকেটেই। ভারতের ২৮৯ রানের স্কোরটাও তারা জেতে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যেই। ব্যাটিংয়ের প্রায় পুরোটা সময়ই বাংলাদেশ ছিল চালকের আসনে। মুশফিক ঝড়ে ভারতকে হতাশার চাদরে মুড়িয়ে এশিয়া কাপে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। দলপতি মুশফিকের ২৫ বলে ৪৬ রানের কল্যাণে ফাইনালের আশাও বাঁচিয়ে রেখেছে তারা। অবদান কম ছিল না সাকিব, তামিম, নাসির, জহুরুলদের। সাবিকের ৩১ বলে ৪৯, তামিমের ৭০, জহুরুলের ৫৩ ও নাসিরের ৫৪ রানের সুবাদেই চার বল হাতে রেখে পাঁচ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ভারতের বিরুদ্ধে ২৪ ম্যাচে এটা বাংলাদেশের তৃতীয় জয়। এর আগে ২০০৪ ও ২০০৭ সালে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীরে এসে তরী ডুবেছিল সাকিবদের। ওই ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যচ্যুতিই কাল হয়েছিল। গতকাল মিরপুরে তেমনটা করেননি সাকিব-তামিমরা। ভারতের ছুড়ে দেয়া ২৯০ রানের টার্গেটকে মাথায় রেখেই ব্যাট চালিয়েছেন তারা। ইরফান পাঠান, প্রবীণ কুমারদের তুলাধুনা করে জয় ছিনিয়ে এনেছে তারা। জয়টা আরও আগে পেতে পারতো বাংলাদেশ। ওভারপ্রতি রান নিয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাচ্ছিলেন নাসির ও সাকিব। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার রুচিরা পাল্লিগুয়াংয়ে একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পাল্টে দিয়েছিল দৃশ্যপট। ২২৪ রানে অশ্বিনের বলে বিতর্কিত স্টাম্পিংয়ে বিদায় নেন সাকিব। এরপরই সকল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বাংলাদেশ দলপতি মুশফিক। শেষ তিন ওভারে ৩৩ রানের প্রয়োজন হলে ইরফান পাঠানের ৪৮তম ওভারেই ১৭ রান সংগ্রহ করে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন তিনি। ওই ওভারে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান মুশফিক। প্রবীণ কুমারের পরের ওভারের প্রথম বলে নো বল থেকে পাঁচ রান সংগ্রহ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরের বলে ছয় মেরে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ম্যাচের শেষ ওভারে চার মেরে বাকি কাজটুকু সারেন মাহমুদুল্লাহ। ২০০৭ সালে ১৬ই মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন মানজারুল ইসলাম রানা। তার পরের দিনই মানজার রানার শোককে শক্তিতে পরিণত করে ভারতের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল সে অনুপ্রেরণায় আবারও বধ হলো ভারত। এ জয়টি তাকেই উৎসর্গ করেন মুশফিক। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান সাকিবই।
২৯০ রানের টার্গেটে ১৫ রানেই অবিবেচকের মতো আউট হলেন নাজিমউদ্দিন। এরপরেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট। বহু নাটকের পর দলে সুযোগ পাওয়া তামিম ওয়ানডাউনে খেলতে নামা জহুরুল ইসলাম অমিকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই শুরু করেন। দ্বিতীয় উইেেকট মুশফিকের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ দিতেই মরিয়া হয়ে ব্যাট চালান এই দুই ব্যাটসম্যান। একে একে ফিফটি তুলে নেন দু’জনেই। শুরুতে তামিম ইকবাল ৭৬ বলে ভারতে বিরুদ্ধে পঞ্চম এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২১তম হাফ সেঞ্চুরি। পরের ওভারেই প্রথম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান জহুরুল। ৬৪ বলে ৪ চার ও এক ছয়ে এই রান করেন তিনি। এরপর বেক্ষিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি জহুরুল। ৫৩ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার বলে রোহিম শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। এবারও তামিম ভারতের বিরুদ্ধে ৭০ রানের গণ্ডি পেরুতে পারলেন না। ভাল খেলতে থাকা এই ওপেনার দলীয় ১৫৬ রানে ৯৯ বলে ৭০ রান করে প্রবীণ কুমারের বলে জাদেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপরেই উইকেটে থিতু গেড়ে বসেন নাসির ও সাকিব। ম্যাচের ৩৭তম ওভারে পেসার অশোক ডিন্ডাকে পিটিয়ে ১৮ রান তোলেন সাকিব। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনই চলে আসে স্বাগতিকদের দিকে।
এক বছরের গল্প-গাথা, কাব্য, আর সংবাদ জুড়ে ভারতের ম্যাচ হলেই লিখা হতো ‘এবারও হলো না’। আর এই হল না শব্দটি ছিল শচীনের শততম সেঞ্চুরিকে ঘিরেই। ঠিক এক বছর ৪ দিন পর পাল্টে গেল সব। বাংলাদেশের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে ‘হলো না’ শব্দটিকে দূর করে দিলেন। মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের প্রার্থনা ছিল ‘হোক, ওর শততম সেঞ্চুরিটা হোক। তবে আমাদের বিপক্ষে নয়।’ কিন্তু সেই প্রার্থনা আর পূরণ হয়নি। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। গৌতমকে ২৫ রানে বিদায় করার পর বাংলাদেশ শিবিরে উল্লাস বইতে থাকে। কিন্তু শচীন বিরাট কোহলির দৃঢ়তায় ধীরে ধীরে তা মিলিয়ে যায়। বিরাট কোহলি আর শচীন টেন্ডুলকারে ১৪৮ রানের জুটিতে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২৮৯ রান। শচীন বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম শতরান দিয়ে স্পর্শ করেন ১০০ শতকের মাইলফলক। ১৪৭ বলে ১১৪ রান। ৬৬ (৮২) রান করা কোহলিকে আব্দুর রাজ্জাক ফিরিয়ে দেন। তবে পরের দিকে রায়নার ৩৮ বলে ৫১ ভারতের স্কোরকে সমৃদ্ধ করে। ধোনি ১১ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে ৪৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মাশরাফি। একটি করে উইকেট নেন রাজ্জাক ও শফিউল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: বাংলাদেশ, ফিল্ডিং
ভারত: ৫০ ওভার; ২৮৯/৫ (শচীন ১১৪, কোহলি ৬৬, রায়না ৫১, ধোনি ২১*, মাশরাফি ২/৪৪, সফিউল ১/২৪, রাজ্জাক ১/৪১)।
বাংলাদেশ: ৪৯.২ ওভার; ২৯৩/৫ ( তামিম ৭০, জহুরুল ৫৩, নাসির ৫৪, সাকিব ৪৯, মুশফিক ৪৬*, মাহমুদুল্লাহ ৪*, প্রবীণ ৩/৫৬, অশ্বিন ১/৫৬, জাদেজা ১/৩২)।
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)। মানবজমিন
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests