বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন রাজনৈতিক দলেরই বিদেশে শাখা গঠনের বিধান নেই: আশরাফ
নিউইয়র্ক থেকে এনাঃ নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বার্তা সংস্থা এনার প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন রাজনৈতিক দলেরই বিদেশে শাখা গঠনের বিধান নেই। তবে যে সব রাজনৈতিক বার্তা সংস্থা এনার প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কোন রাজনৈতিক দলেরই বিদেশে শাখা গঠনের বিধান নেই।
তবে যে সব রাজনৈতিক দলের প্রবাসী সংগঠন রয়েছে সেগুলো পরিচালিত হবে ঐসব দেশের বিধি অনুযায়ী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে প্রবাসী সংগঠনগুলো হচ্ছে অর্গানাইজেশন অব ব্রাদার্স। সেগুলোর সাথে সাংগঠনিক কোন সম্পর্ক রাখার নীতিগত অধিকার না থাকলেও আমাদের আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে এবং এ সম্পর্ককে আমরা পারস্পরিক কল্যাণে ব্যবহার করে থাকি। সৈয়দ আশরাফ অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর কারণে সৌদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগের হার এক দশমাংস হ্রাস পেয়েছে বলে লন্ডনের দ্য ইকনোমিস্ট যে সংবাদ প্রকাশ করেছে তা আদৌ সত্য নয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী চলমান মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব বিদেশী লোক নিয়োগে আগের মত উদারতা প্রদর্শন করতে পারছে না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাস্তবতাকে উপলব্ধিতে না এনে অনেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানা খবর রটাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বে বর্তমানে ৫টি দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। বাংলাদেশের বিচারও হচ্ছে আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী। তিনি বলেন, ন্যূরেমবার্গ ট্রায়ালে বিচারের পর আপিলের সুযোগ ছিল না। আমরা সে সুযোগ রেখেছি। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা যে কোন দেশ থেকে আইনজীবী নিয়োগের অধিকার পাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকও থাকবেন বিচারালয়ে। বিচার নিয়ে কোন ধরনের সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হতে পারে এমন কোন ব্যাপার থাকবে না। তিনি বলেন, তবে এটা খুবই সত্য যে, সকল দেশেই গণহারে বিচার হয়নি। আমাদের দেশেও প্রতিকী বিচার হবে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিলের যে নির্দেশ উচ্চতর আদালত থেকে দেয়া হয়েছে। তা কার্যকরী করতে জাতীয় সংসদের ভূমিকা অপরিসীম। সংসদের অধিবেশন বসলে ঐ দুটি সংশোধনীকে কার্যকর করার স্বার্থে যুগোপযোগী কিছু বিষয় সংযোজন অথবা বিয়োজন হতে পারে। কেননা সবকিছুই করতে হবে জনগণের স্বার্থে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের আকাঙ্খার পরিপূরক সিদ্ধান্তই নেয়া হবে জাতীয় সংসদে। তাই সংসদীয় শূন্যতা সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই তবে সৈয়দ আশরাফ উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্যে ভবিষ্যতেও যে আবার কোন সামরিক জান্তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে নতুন কোন ফরমান জারী করবে না সে গ্যারান্টিও কেউ দিতে পারি না। এ ব্যাপারটি চিরতরে রোধ করা সম্ভব হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নবধারা সংযোজনের মাধ্যমে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ব্যাপারটি সদা জাগ্রত থাকলে সামরিক জান্তারা সুযোগ নিতে পারবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে একটি বিষয়ে সকলে একমত হবেন যে আন-র্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো কখনোই বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা দেয়নি। এবার আমরা সে ধরনের মনোভাব দূর করতে সক্ষম হয়েছি। কয়েক মাস আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে এসেছিলাম অর্থমন্ত্রীর সাথে। সে সময় বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে রেল যোগাযোগ্য ব্যতিত বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা ত্বরান্বিত করা সহজ হবে না। আমাদের বক্তব্য তারা আন্তরিক অর্থে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, জাপান এবং জার্মানী যুদ্ধ জয়ের পর অর্থনৈতিকভাবে সুপার পাওয়ারে পরিণত হতে পারলেও সামরিক সেক্টরে সে সুযোগ পাননি। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে ভারত ও চীন অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সামরিক-সকল সেক্টরে সুপার পাওয়ারে উন্নীত হওয়ার পথে রয়েছে। এ দুটি দেশ আমাদের নিকট প্রতিবেশী বিধায় আমরাও তাদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করেছি। আমাদেও প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ভারত ও চীন সফর করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই ঢাকায় আসছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রীও ঢাকা সফরে সম্মত হয়েছেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমরা শুধু ইউরোপ আর আমেরিকার উপর নির্ভর করে থাকতে চাই না, বিকল্প হিসেবে ভারত-চীনের সান্নিধ্যকে অটুট রাখতে চাই আমাদের জাতীয় স্বার্থে। ৪ সেপ্টেম্বর জ্যাকসন হাইটসের সন্নিকটে অনন্ত ঢাকা ক্লাবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এবং মঞ্চে উপবেশন করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি খালিদ হাসান। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্বাধীনতা চেতনামঞ্চের বিভিন্ন স-রের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে এসেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং মাহমুদুন্নবী বাকী। নিউজার্সী থেকে এসেছিলেন দেওয়ান বজলু,শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে কম্যুনিটির বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার লোকজনের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। উল্লেখ্য যে, সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দুইগ্রুপের দুই নেতা দলের সাধারণ সম্পাদকের দুপাশে উপবেশন করলেও সৈয়দ আশরাফ বিদায় নেয়ার পর উভয় গ্রুপে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মারদাঙ্গা পরিস্থিতিতে এক গ্রুপের নেতা-কর্মীরা দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করেন। তবে সভাপতি খালিদ হাসান ঢাকা ক্লাবেই ইফতার করেন অন্য সকলের সাথে। ইফতারের সময়েও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে তা প্রশমিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ, নিউজাসী থেকে আগত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কতিপয় নেতা-কর্মী জ্যামাইকায় ঘরোয়া রেস্টুরেন্টে পূর্বনির্ধারিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বানিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সাচ্চু এমপি বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন নিউইয়র্ক স্টেট শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন এবং আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. নূরন্নবী, অধ্যাপক খালেদ হাসান,হাকিকুল ইসলাম খোকন, শ্রমিক লীগের সমন্বয়কারী আব্দুর রহিম বাদশা, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি এম আর আমিন, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম প্রমুখ। এ সভা পরিচালনা করেন শ্রমিক লীগ সেক্রেটারী লস্কর মইজুর রহমান।
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








