বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি এবং সংকট: সাম্প্রতিক ভাবনা
অধ্যাপক ম. আমিনুল হক চুন্নু : মানুষের সহনশীলতা কী বৃদ্ধি পাচ্ছে? হয় তো তাই, তবে আরও বড় সত্য এই যে মানুষ ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, মানুষ অত্যন্ত ব্যস্ত থাকছে নিজেকে নিয়ে। ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। জীবিকার সমস্যা তাকে তাড়া করে বেড়ায়। প্রতিযোগিতা রয়েছে, আছে প্রদর্শনবাতিক। অসুবিধা আছে যোগাযোগের, সামাজিক যোগাযোগে যা আছে, তা বিকল্প হয়ে দাঁড়াচ্ছে মানবিক যোগাযোগের; তাতে ছায়া আছে, তাপ নেই। ওদিকে দার্শনিক ভাবে এই মত ও প্রচার করা হচ্ছে যে ছোট ছোট সমস্যাগুলোই তো ভীষণ বড়, সে গুলোর মীমাংসা করা না গেলে বড় বড় সমস্যা মীমাংসা করব কী ভাবে? দেখানো হচ্ছে যে ছোট সমস্যা গুলো আসলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ক্রেতা বিক্রেতা, স্বামী-স্ত্রী, ডাক্তার-রোগী, বাসের হেলপার-বাসের যাত্রী, উকিল-মক্কেল, স্কুল-কলেজের কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষক-ছাত্র হাজার হাজার দ্বন্দ্ব, এগুলোর দিকে না তাকিয়ে রাষ্ট্র, সমাজ, পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ এসব মস্ত মস্ত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামালে ব্যবস্থা বদল হবে না। বড় রয়েছে ছোটর ভেতরেই। ছোট কে তো আগে মোকাবিলা করা চাই। আবার এ তো ও বলা যাবে, এবং বলা হচ্ছেও যে সমস্যা তো কেবল আমাদের নয়, সারা বিশে^রই। বিশে^র সর্বত্রই রয়েছে বঞ্চনা ও অত্যাচার । হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষন কোথায় না ঘটেছে? কোথায় নেই দূর্নীতি? ভোগবাদিতা নিষ্ঠুরতা, সহিংসতা, প্রকৃতির সঙ্গে নির্মম শত্রুতার কোথায় অভাব? ইত্যাদি ইত্যাদি।
ভ্রান্তির এসব বিলাস কিন্তু বাস্তবতাকে বদলাবে না। ঝাড়ের মুখে বালিতে মুখ লুকালে বিপদ কাটে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা দেখছি, বড়াই করে বলি যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরও রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের এক উজ্জ¦ল ইতিহাস। একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছি, প্রাণ দিয়েছি, হাকিয়ে দিয়েছি হানাদারদের।
কিন্তু কই বেশিরভাগ মানুষের বেশি বেশি দুঃখ তো কাটল না, বাড়লই। ব্যাখ্যা কী, ব্যাখ্যা হচ্ছে শাসক বদলেছে, শাসন বদলায়নি। রাষ্ট্র আগের মতই রয়ে গেছে, বরং পুরনো হওয়াতে এবং বেপরোয়া চালকদের হাতে পড়ে রাষ্ট্রযন্ত্রটি আগের চেয়েও কষ্ট চালিত ও যন্ত্রনাদায়ক হয়ে পড়েছে। কিন্তু সেটাই বা কেন হলো? রাষ্ট্র তো ভাঙ্গল, আকারে গেল ছোট হয়ে, কিন্তু বদলাল না কেন স্বভাব চরিত্র?
সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচার, পরীক্ষার রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সার্টিফিকেট, কোচিং বাণিজ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ- বাণিজ্যের কারণে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আকাশে আজ অমাবর্ষার ঘোর কালো মেঘ বিরাজ করছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এসব অধঃপতনে জাতি আজ বড়ই চিন্তিত যে কোথায় যাচ্ছে আমাদের অতীত ঐতিহ্য আজ ট্রলারের মতো ডুবতে শুরু করেছে। যার ফলে চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের হতাশা ভারী থেকে আরও ভারী হতে শুরু করেছে। যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরির কারখানা হিসেবে বিবেচিত করা হয় কিন্তু সেই শিক্ষাব্যবস্থা এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে। স্বাধীনতার প্রায় ৪৯ বছরে এসেও আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ণ করতে পারিনি এবং পারিনি আমরা আমাদের জাতিকে একটি স¦চ্ছ শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দিতে। এরকম আক্রান্ত, ত্রুটিপূর্ন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে জাতি আর কতকাল খুঁরিয়ে খুঁরিয়ে চলবে। অন্যদিকে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, গত কয়েক বছরে যে পরিমান প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে তা অতীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো ঘটেনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআইবির (বাংলা পত্রিকা, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, যুক্তরাষ্ট্রের) এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত চার বছরে বিভিন্ন পরীক্ষায় মোট ৬৩ বিষয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ২০১২,২০১৩,২০১৪ সহ ২০১৮ সালকে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের হিড়িকের বছর হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। শুধু এখানেই শেষ নয় যেমন- সরকারের সর্বোচ্চ নিয়োগ পরীক্ষা তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিনে সমন্বিত ব্যাংকগুলোসহ বিসিএস পরীক্ষাতে ও এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা অহরহ ঘটে যাচ্ছে। তাছাড়া বিপুল সংখ্যক বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্তকরণ ও জাতীয়করণের দাবীতে আমরন অনশন সহ শিক্ষামন্ত্রীর পিওন এর অবৈধ ঘুষ বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিতের পথে। এমনিতেই আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক পিছিয়ে আবার তার ভিতরে যদি এরকম অনিয়ম, দূর্নীতি, অবৈধ শিক্ষা বাণিজ্য আর সার্টিফিকেট বাণিজ্য চলে তাহলে আমরাই কি লিখব আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মই বা কি লিখবে? তবে একটি কথা মনে রাখা জরুরি গতকাল যেমন আজকের নিয়ন্ত্রনে ঠিক তেমনি আজও কিন্তু আগামী কালের নিয়ন্ত্রনে। একটিই আমোঘ সত্য। তবে ইতিহাসের শিক্ষা এই যে ইতিহাস কেউ মনে রাখে না।
তবে বাংলাদেশে যে সভ্যতার চরম সংকট বিরাজ করছে, বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ সতীর্থদের হাতে জীবন দিয়ে জাতিকে সেই বার্তা দিয়ে গেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের জের ধরে ক্ষমতাশীন দলের সমর্থিত ছাত্র লীগের পরিচয় বহনকারী কতিপয় শিক্ষার্থী আবরারকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। এ বীভৎস ঘটনায় জাতি বিস্মিত হয়েছে। আতংকগ্রস্থ ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক, সুশীল সমাজ সহ সচেতন নাগরিক সমাজ। ভিন্নমত দমনের এ নারকীয় কৌশলকে কেউ মেনে নিতে পারছেন না এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অকর্ম ও কুকীর্তি জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সভ্যতার মাপকাঠিতে বাংলাদেশের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার কিছুটা আঁচ করা যায়। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের ও ছলো পুটিদেরও সম্পর্কে যে সব খবর মিডিয়ায় ছাপা হচ্ছে তাতে তাদের ও নেতারা কি করছেন তা বোঝা মোটেও কষ্টসাধ্য নয়। প্রশাসনে, রাজনীতিতে, বিচার বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সর্বত্রই একই অবস্থা।আবরার হত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ঠিক একই ভাবে এমন হত্যাকান্ড স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ^বিদ্যালয়ে আরো অনেক ঘটেছে তাছাড়া হলে হলে টর্চার সেলের অবস্থান আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে ওঠে এসেছে রাজনীতি, নির্বাচন,গণতন্ত্র ও বিচারহীনতা এবং সংস্কৃতি নিয়ে নানা মতামত ও সমালোচনা ।
১৯৮০ ও ১৯৯০ দশকে দেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝানি। স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ছাত্র সংগঠন গুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত সংঘর্ষে ক্যাম্পাস ছিল উত্তপ্ত। একদিকে শিবিরের অস্ত্র বাজি অন্যদিকে শিবির ঠেকাও এবং ছাত্রদল বনাম ছাত্রলীগের বিরোধে অনেক প্রান ঝড়ে গেছে। সেশনজট ছিল শিক্ষার্থীদের নিয়তি। সে পরিস্থিতি এখন নেই। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাত্ররা জড়িয়ে পড়েছে দূর্নীতিসহ নানা অপরাধে। শিক্ষা প্রদান বাদ দিয়ে সম্পদ গড়ে তোলার প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসিদের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। অধিকাংশ পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের প্রায় অভিন্ন চিত্র। তাছাড়া ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ কে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে ছাত্র আন্দোলন হচ্ছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের দলবাজির কারনে শিক্ষার মান নি¤েœর দিকে যাচ্ছে। যার জন্যই আন্তর্জাতিক র্যাংকিং এ বিশে^র একহাজার বিশ^বিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেই। অথচ নেপাল, পাকিস্তান, ভারতের বিশ^বিদ্যালয় গুলোর নাম ওই তালিকায় জ¦ল জ¦ল করতে দেখা যায়। বলা হয় আমরা মানবজাতি সৃষ্টির সেরাজীব। তবে এ জাতির মধ্যেও যে অনেক অমানুষ আছে, তা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে তারা। তবে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হওয়ার কথা শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শের মানুষ। কিন্তু নানা অনিয়ম দূর্নীতির অকর্মের কারণেই ইদানিং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে লামছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই ও ভিসি নিয়োগ নিয়েও সংকট আছে আবার প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, সুপার (মাদ্রাসা) ও ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ উন্নয়ন কাজের কমিশন নেওয়া সহ স্পর্শ কাতর নানা অভিযোগ। নানা সংকট ও জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। আন্দোলন চলছে এখনও এখনকার শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের অনৈতিকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। অসৎ শিক্ষকরাই যেন আজ অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে ‘‘জন প্রিয়” শিক্ষক হয়ে ওঠেন। যেসব শিক্ষক এ অবস্থার বিপরীতে চলেন, অধিক শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে ওঠেন চরম যন্ত্রনাদায়ক এবং অপছন্দের মানুষ। তাছাড়া গত ২ নভেম্বর ২০১৯ রাজশাহী সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমদ কে টেনে হিচঁড়ে পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। অধ্যক্ষ গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, অন্যায় দাবী না মানায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা এ কাজ করেছে। শুধু শিক্ষকদের লাঞ্চনা করাই নয়, ছাত্র শিক্ষকদেরকে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়। এই বিশ^বিদ্যালয়ে গত এক যুগে চারজন শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যাকান্ডে বিশ^বিদ্যালয়েরই কতিপয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগসাজশ ছিল; যা আদালতের মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে।
তাছাড়া দেশের ১৪ টি পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) অভিযুক্তদের মধ্যে একাধিক সাবেক ভিসি ও রয়েছেন। নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে ভিসিদের বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন নিয়ম না মেনে এবং দলীয় আনুগত্বকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়োগ দেওয়ার কারনে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় গুলোর ভিসিরা বেপরোয়া হয়েছেন। ক্যাম্পাসে বিশৃংখলার সৃষ্টি হচ্ছে, প্রতিবাদে ছাত্র ছাত্রীরা আন্দোলনে নেমেছে। ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা কান্ডের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে বুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ নেওয়ার প্রতিবাদে ভিসি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবীতে, তিন দফা দাবীতে আন্দোলন করে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের কারনে বন্ধ রয়েছে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়। নীতি মালা লংঘন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়েও আন্দোলনে আছেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে ফ্লাট, এসি কেনা ও নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ভিসির বিরুদ্ধে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দূর্নীতি, উন্নয়ন কাজে কমিশন, ছাত্রলীগকে চাঁদা প্রদানসহ নানা অভিযোগে আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের ওপর ভিসির পক্ষ হয়ে ছাত্রলীগ হামলা করার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। কিন্তু হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার পর ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি খন্দকার নাসির উদ্দিন ও আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি ড. কাজী শরিফুল আলম। দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোয় এখন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ছে নোংরারাজনীতি ও দূর্নীতিসহ নানা অপরাধে। শিক্ষা প্রদান বাদ দিয়ে সম্পদ গড়ে তোলার প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে।
কিন্তু একটা সময় যখন বেতন খুব কম ছিল, তখন শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীরা আসতেন না বললেই চলে। তখন একটি প্রবাদ প্রচলিত ছিল “যার নাই কোনো গতি, তিনি করেন পন্ডিতি” তবে শিক্ষকতা সম্মানিত পেশা হওয়ায় সেবার ব্রত নিয়ে অনেক সম্মানী লোক আগ্রহ করে আসতেন, যারা টাকা উপার্জনকে গুরুত্ব না দিয়ে সমাজের সম্মানী পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নিয়ে ছিলেন। নি¤েœ একটি উদাহরণ দেয়া যায়, ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সাহিত্য সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এক বক্তৃতায় বলেছিলেন,“ একটি সুষ্টু জাতি গঠনে শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য সব ক্ষেত্রে যেমন উন্নয়ন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন চিন্তা ও চেতনার ক্ষেত্রে। বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করা। বঙ্গবন্ধু প্রায়ই বলতেন সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। সোনার মানুষ আকাশ থেকে পড়বে না। মাটি থেকেও গজাবে না, এই বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্য থেকেই তাদের সৃষ্টি করতে হবে”। তাই শিক্ষাকে বলা হয় জাতির মেরুদন্ড আর শিক্ষককে বলা হয় জাতি গঠনের কারিগর। তবে একটা সময় মহৎ পেশা হিসেবে গর্ব করে বলা হত আমি শিক্ষকতা করি। এখনও সবচেয়ে সম্মানের পেশা শিক্ষকতা হলেও এ মহৎ পেশাটাকে তথাকথিত রাজনীতি আর কিছু সংখক সুবিধাভোগী শিক্ষক নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে এ মহৎ পেশার গায়ে কালি লেপন করছেন, যা মোটেই কাম্য নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা পাসের কেন্দ্র হবে না, হবে মনুষ্যত্ব বিকাশের জন্য অনুশীলন স্থল। নইলে আমরা এগোব কী করে? তবে বিদ্যাপীঠে জ্ঞান আহরনের পাশাপাশি শৃংখলাবোধ ও চরিত্র গঠনের জন্য যে বিদ্যাপিঠে প্রবেশ, সেই বিদ্যাপিঠে এহেন অবস্থাকে সভ্যতার সংকট হিসেবে দেখছেন অনেকে। আর এ সংকটের কারন হিসেবে উঠে আসছে নোংরা রাজনীতির প্রভাব কাজে লাগিয়ে স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন অনৈতিক কর্মকান্ড এবং মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের কথা। সর্বোচ্চ এসব বিদ্যাপিঠে প্রবেশকারী মেধাবী শিক্ষার্থী এবং মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের একাংশের অনৈতিক কর্মকান্ডে এবং বিত্তবৈভবের বিলাসিতা আজ দেশ ব্যাপী আলোচিত বিষয়।
কবি কাদের নেওয়াজ রচিত “শিক্ষকের মর্যাদা” নামক কবিতার বিষয় বস্তু ছিল এ রকম: দিল্লির এক মৌলভী (শিক্ষক) বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে পড়াতেন। একদিন প্রভাতে বাদশাহ লক্ষ করলেন, তার পুত্র ঐ শিক্ষকের পায়ে পানি ঢালছে আর শিক্ষক তার পা নিজেই পরিষ্কার করছেন। এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর বাদশাহ দূত মারফত ওই শিক্ষককে ডেকে নিয়ে যান। তারপর বাদশাহ ওই শিক্ষককে বললেন “আমার পুত্র আপনার নিকট থেকে তো সৌজন্য না শিখে বেয়াদবি আর গুরু জনের প্রতি অবহেলা করা শিখেছে। কারণ: সেদিন প্রভাতে দেখলাম আমার পুত্র শুধু আপনার পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছে আর আপনি নিজেই আপনার পা পরিষ্কার করছিলেন। আমার পুত্র কেন পানি ঢালার পাশা পাশি আপনার পা ধুঁয়ে দেয় নি। এ কথা স্বরণ করলে মনে ব্যথ্যা পাই। বাদশাহের মুখ থেকে এ কথা শোনার পর ঐ শিক্ষক অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলে উঠলেন “আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির; সত্যই তুমি মহান, উদার বাদশাহ আলমগীর”।
বাংলাদেশে একসময় সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা যে কত উঁচুস্তরেছিল তা ওই কবিতার মাধ্যমে অত্যন্ত সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। কিছুকাল আগে আমাদের দেশে ‘শিক্ষকের মর্যাদা কবিতাটিকেই অভিভাবকরা ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের আদর্শ রূপ বলে মনে করতেন। তবে সব এখন বদলে গেছে। আর এখনকার দিনে শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষকের ওপর হামলা চালানো, তাদের হুমকি দেয়া, হত্যা করা এবং লাঞ্চনা করার ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পিছনে ক্ষমতা ও স্বার্থকেন্দ্রিক নোংরা রাজনীতিই যে দায়ী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। অবশ্য আমাদের সমাজের সব শিক্ষকই ধোঁয়া তুলসি পাতা নয়। অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধেই অনিয়ম- দূর্নীতি, যৌন হয়রানি,শিক্ষার্থীদের ক্লাশে সঠিক ভাবে না পড়িয়ে প্রাইভেট বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকা, নিয়মিতভাবে ক্লাশ না নেয়া, সঠিক সময়ে খাতা না দেখা ও ফলাফল প্রকাশ না করে শিক্ষার্থীদের সেশন জটে ফেলা, মাদক গ্রহন, শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা, রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পূর্বক অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট করাসহ বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীও পরষ্পরের প্রতি এ ধরনের বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে লজ্জার। আর এ লজ্জা যে গোটা জাতির লজ্জা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক নিয়ে এডুকেশন ওয়াচ কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এখন আর শিক্ষকদের আদর্শ মনে করে না।
বাংলাদেশ সত্যই হুজুগের দেশ। একটা হুজুগ উঠলেই সেই হুজুগে গলা মেলাতে লোকের অভাব হয় না। স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা ও বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি এবং শিক্ষকদের অনিয়ম, দূর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা, উন্নয়ন কাজে কমিশন, ছাত্রলীগকে চাঁদা প্রদান, আন্দোলন-কারীদের ওপর হামলা চালানো এবং নানা সংকট ও জটিলতার আবর্তে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, তাছাড়া দলীয় ছাত্রনেতা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রী। ইদানিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যে মহামারী আকার ধারণ করেছে। কেউ তা ঠেকাতে পারছেন না। রব উঠেছে, শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। মন্ত্রীর পদত্যাগ দ্বারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের দূর্নীতি ফাঁসের কেলেংকারির অবসান অথবা সমস্যার সমাধান হবে না। এই মুহূর্তে সমস্যা মন্ত্রী বদল নয়। মহা মারীরমতো অবাধে নানা অনিয়ম- দূর্নীতি, অপকর্মের রোগের বিস্তার স্কুল থেকে বিশ^ বিদ্যালয় পর্যন্ত ঘটেছে তার প্রতি রোধ করা। শিক্ষা মন্ত্রীকেই এই ব্যাপারে আরো ব্যাপক ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিতে হবে। আমার ধারনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যে সভ্যতার চরম সংকট বিরাজ করছে এর ব্যাপকতার পেছনে শুধু দূর্নীতি নয়, রাজনীতি ও আছে। আমার আরো ধারনা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের ভেতরে এমন রাঘব বোয়ালেরা আছে পুলিশত্ত যাদের গায়ে হাত দিতে সাহস পায়না। মন্ত্রী বদল সমস্যা নয়। সমস্যা হলো এই সিন্ডিকেট কী করে ভাঙ্গা যায়। উপমহাদেশের রাজনীতির একটা বড় সমস্যা হলো, দেশে কোন সংকট দেখা দিলে সমস্যাটির গোড়ায় হাত না দিয়ে সমস্যাটির দায় চাপানোর জন্য আমরা কতজন স্কেপগোট বা বলির পাঁঠা খুঁজি। তার ঘাড়েই সব দোষ চাপিয়ে সমস্যার সমাধানের কোনো ব্যবস্থা করিনা। তাকে ঝুলিয়ে রাখি। একথা বাংলাদেশের ব্যাপারে ও সত্য। বছর তিন এক আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটা বড় ধরনের অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটে। এর সংঙ্গে ব্যাংকের সৎ ও দক্ষ গভর্ণর ড. আতিউর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতাই ছিল না। পরে তা-ই প্রমান হয়েছে। তিনি ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে লোকজানা জানির আগেই অপহৃত অর্থ উদ্ধারে উদ্যোগী হন। কিন্তু তাকে সফল হতে দেওয়া হয় নি। এই অর্থ কেলেংকারীর জন্য তাকে স্কেপগোট বানিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তাতে অর্থের কতটা উদ্ধার হয়েছে তা জানি না। কিন্তু আমরা একজন সৎ ও দক্ষ ব্যাংক কর্মকর্তাকে হারিয়েছি। দেশময় এই যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ভিসি নিয়োগ নিয়ে সংকট, উন্নয়ন কাজের কমিশন, ব্যাংকের ঋণ কেলেংকারীতে দেশে তোলপাড় শুরু, হলমার্ক এবং বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ কেলেংকারীর জন্য কাদের স্কেপগোট বানানো হবে? এই সব দূর্নীতি ঠেকানোর দায়িত্ব কি সরকারের নয়? এই ব্যাপারে পদত্যাগ দাবী করতে হলে কার পদত্যাগ দাবী করা উচিত? প্রশ্নটির জবাব কে দেবে?
কথায় আছে “দুঃখ বিনে সুখ লাভ হয় কি মোহিতে”? সমাজের বা রাষ্ট্রের জন্য বড় কিছু করতে গেলে লড়াই সংগ্রাম করতে হয়। দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, কোন জাতি বা সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোয়, নিচ থেকে উপরে টেনে তুলতে হলে সেই সমাজ গোষ্ঠীর মধ্য থেকেই কাউকে না কাউকে উপরে উঠে আসতে হয়। হাত এগিয়ে দিতে হয়। লড়াই-সংগ্রাম ছাড়া জীবনে আলো দেখানো যায় না। প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায় না। সবাই সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মগ্রহন করে না। আমরা পেয়েছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে, আমেরিকা পেয়েছে জর্জ ওয়াশিংটন কে, আফ্রিকা পেয়েছে নেলসন মান্ডেলোকে এবং ভারত পেয়েছে মহাত্মা গান্ধী কে।
তবে যুগে যুগে বিভিন্ন দার্শনিক বিভিন্ন দর্শনের আলোকে শিক্ষার স্বরূপ উম্মোচনের মাধ্যমে শিক্ষা চেতনার বিকাশ ঘটিয়েছেন। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবন,কর্ম, চিন্তা চেতনা, দর্শন ও মানস গঠনে বিভিন্ন শিক্ষকের গুরুত্ব পূর্ন অবদান ও প্রভাব রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ব্যাক্তি জীবন চর্চায়ত্ত শিক্ষক,কবি, শিল্পী ও সাহিত্যিকদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহু দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। চট্রগ্রামের শ্রমিক নেতা জহুর আহমেদের আচরনে শিক্ষক অপমান বোধ করলে বঙ্গ বন্ধু নিজে ওই শিক্ষকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। অবরূদ্ধ শিক্ষকদের মুক্ত করতে প্রধান মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত (বর্তমান গণভবন) মন্ত্রী সভায় জরুরি সভা বাদ দিয়ে তিনি ছুটে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভাকক্ষে। স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের পরিকল্পনায় ও তিনি শিক্ষকদের যুক্ত করেছিলেন। সাহিত্যিক আবুল ফজলকে চট্রগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য করেছিলেন। জয়নুল আবেদিন সহ সব শিল্পী ও শিক্ষাবিদকে তিনি শিক্ষক তুল্য সম্মান করতেন এবং উপদেশ শুনতেন। ইদানিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় গুলোর ভিসি ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছাত্ররা জড়িয়ে পড়ছেন দূর্নীতিসহ নানা অপরাধে। শিক্ষা প্রদান বাদ দিয়ে সম্পদ গড়ে তোলার প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এখন আর শিক্ষকদের আদর্শ মনে করে না।
একটি জাতি বা রাষ্ট্রের শিক্ষা দর্শন নির্ভর করে সে রাষ্ট্র বা জাতির শাসক বা জনকের নীতি আদর্শের ওপর। এ কারনে রাষ্ট্রের পথপদর্শক বা জাতির অগ্রনায়ক যত বেশি গুনের অধিকারী হন, সে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা তত বেশি উন্নত হয়। আমরা জানি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত বই পড়েন, বিশে^র অন্যতম বুদ্ধিভিত্তিক শাসকের স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শনের আলোকে একটি স্থায়ী সমৃদ্ধ ও সমুন্নত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন “শিক্ষাকে আমি খরচ মনে করি না; আমি মনে করি এটি একটি বিনিয়োগ, জাতিকে গড়ে তোলার বিনিয়োগ”। ঐতিহাসিক সমুদ্রজয়ের কারিগর শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিত্ব দেশীয় শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করতে তার বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন সংস্কারের পদোন্নতিও দৃষ্টি গ্রাহ্য হচ্ছে। স্বীকার্য যে, জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বর্ণাঢ্য জীবনের প্রতিটি স্তরেই রেখে গেছেন কালোত্তীর্ন মুক্তি দর্শনের পথ।
একটা কথা আমি অবশ্যই বলব, বাংলাদেশ কোনো ভাবেই ধর্ম বিরোধী রাষ্ট্র নয় বরং সত্যিকার ধর্মের আদর্শ নীতি হিসেবে গ্রহন করে এগিয়ে চলছে। তার পরও কেন এ ধরনের বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংকট, জটিলতা দূর্নীতি ও নাশকতা? আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায় কে কখনো ছাড় দেন না। দুঃখের বিষয় তার দল ও সংগঠনের অনেক নেতা কর্মী নানা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। নিজের দলে যারা অন্যায় করেছেন, দূর্নীতি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন প্রধান মন্ত্রী। নুসরাত জাহান রাফি’র মাদ্রাসার পিতৃতুল্য অধ্যক্ষ ফেনীর ব্যভিচারী মাওলানা সিরাজ-উদ-দৌলাসহ সবার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর কথার বাস্তবায়ন জনগন দেখেছেন। আগামীতে আমার দৃঢ় বিশ^াস আবরার হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের শাস্তি হবে। আমাদের সবাইকে মনে রেখে চলা জরুরী যে, শিক্ষা ব্যতিত কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। ধর্ম-বর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। ভীতি দূর করে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। সংকট, জটিলতা ও নোংরা রাজনীতি মুক্ত এবং আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে। শিক্ষা ব্যতিত নেলসন মেন্ডেলা হবে না, জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধীর সৃষ্টি হবে না। শিক্ষা ছাড়া কোন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হবে না।
আমরা যেন না ভুলি, শিক্ষাক্ষেত্রে দল ও বাণিজ্যের প্রভাব বাড়ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠার গুলো কেবল আয়োজনের দিক থেকে নয়, প্রাণের দিক থেকেও দূর্বল হচ্ছে এবং মূলধারায় তার ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। যারা প্রকৃত দেশ প্রেমিক তারা অবশ্যই চিন্তিত হবেন। রাজনৈতিক দলের দেশ প্রেমেরও বিচার হবে শিক্ষা সম্পর্কে তারা কী ভাবছেন সেই নিরিখে।
(লেখক অধ্যাপক ম. আমিনুল হক চুননু, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, নূরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সিলেট ও পি. এইচ. ডি ফেলো)।
- Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds
- বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং