বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা হারাচ্ছে : ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বা জিএসপি বাতিল করার বিষয় বিবেচনা করছে ওবামা প্রশাসন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা বাতিল হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ‘ইউএস মাল এন্ডিং বাংলাদেশ ডিউটি ফ্রি অ্যাকসেস’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নভেম্বরে সাভারের তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুতে করুণ কর্মপরিবেশ উন্মোচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে দেয়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাতিল করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশকে দেয়া অগ্রাধিকামূলক বাজার সুবিধা জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস বা জিএসপি বাতিল, অথবা স্থগিত না কি সীমিত করা হবে আসন্ন বসন্তেই তা বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।’ তিনি বলেন, ‘গত ২৪ নভেম্বরে তাজরীন গার্মেন্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আগেই ওবামা প্রশাসন এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল যে বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর আমাদের উদ্বেগ বেড়েছে মাত্র।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা দেয় না। তবে জিএসপির আওতায় ২০১১ সালে বাংলাদেশ ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের (প্রায় ২১৩ কোটি টাকা) খেলাধুলার যন্ত্রপাতি, কিচেন অ্যাপ্লায়্যান্স (রান্নাঘরে ব্যবহার্য জিনিসপত্র) ও প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। এরই মধ্যে অনেক কোম্পানি সেই পথ অনুসরণ করেছে। নাইকি জানিয়েছে, তারা ২০১১ সালে যে ৮৯৬টি কারখানার সঙ্গে কাজ করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশের ছিল মাত্র ৮টি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও যাতে জিএসপি বাতিল করার পদক্ষেপ না নেয় সেজন্য বাংলাদেশ জোর প্রচেষ্টা চালাবে। বাংলাদেশ প্রতি বছর যে ১ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়ে তার দুই-তৃতীয়াংশই কিনে থাকে ইইউ। যুক্তরাষ্ট্রে রফতনি করা হয় এক-চতুর্থাংশ। বাংলাদেশের ৫ হাজারের মতো গার্মেন্ট কারখানায় প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিক কাজ করে থাকে। কম বেতনের কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। একজন শ্রমিক দৈনিক ১০০ টাকা আয় করে থাকে যা দিয়ে একটি মাঝারি মানের হোটেলে দৈনিক এক বেলা খাবার খাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রন কির্ক গত মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক চিঠিতে জানিয়েছেন, জিএসপি সুবিধা বহাল রাখতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্রুত উন্নতি করতে হবে। এর মধ্যে আছে গার্মেন্ট ও চিংড়ি শিল্পে শ্রমিক অধিকার, অগ্নি নিরাপত্তার আধুনিকীকরণ ও ইপিজেডের পরিবেশের উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন কংগ্রেস সদস্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ সম্পর্কিত একটি চিঠি লেখার পর বাংলাদেশে ওই চিঠি পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করার দাবি জানিয়ে আসছে।আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests