বাবা হুমায়ূন আহমেদের কাছে লেখা নুহাশের শেষ চিঠি

[বাবার প্রথম অপারেশনের কিছুদিন পর জুলাইয়ে আমি তাকে একটি চিঠি লিখেছিলাম। ভেবেছিলাম, নিউইয়র্কে বাবার কাছে থাকা আমার চাচা ও চাচীকে এটা ইমেইল করবো। আমি চাইছিলাম, বাবার যখন জ্ঞান ফিরবে, তারা তাকে চিঠিখানি পড়ে শোনাবেন। তিনি পড়তে পারছিলেন না, মৃত্যুর আগেও তার পুরোপুরি জ্ঞানও ফেরেনি। আমার বুকটা সারাক্ষণ একটা অব্যক্ত ব্যথায় গুমরে মরে। কারণ আমি আমার কথাগুলো তাকে জানাতে পারিনি। এটি একান্তই ব্যক্তিগত চিঠি, কিন্তু আমি আমার কেবলই মনে হয়, এই কথাগুলো তাকে যদি জানাতে পারতাম, যদি পারতাম, আমার মনের এই হাহাকার হয়তো কিছুটা হলেও দূর হতে পারতো।]
বাবা,
আশাকরি ভালো আছো। আমার শরীরটা তেমন ভালো নেই। টাইফয়েড হয়েছিল। তারপর থেকে আমার পেটে কিছুই সহ্য হচ্ছে না। সারা সপ্তাহ জুড়ে কেবল নরম ভাতের জাউই খেয়ে চলেছি। এই বিশ্রী জাউ খাচ্ছি আর বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেবল ভাবছি কখন সুস্থ হয়ে ভালো ভালো খাবার খেতে পারব। এক সময় গলদা চিংড়ির জন্য আমার ভারি লোভ হচ্ছিল, সেই সঙ্গে মনে পড়ছিল একটা ঘটনার কথা।
মায়ের সঙ্গে তোমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর আমার সব কিছুই ওলটপালট হয়ে গেল। সারাক্ষণ ভাবতাম, সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি আমাদের কাছে ফিরে আসবে। কিন্তু পরে বুঝলাম, দরজাটা বন্ধ হয়ে গেছে চিরদিনের মত। রসায়নের ভাষায় বলতে গেলে বলা যায়, আমি দেখলাম একটি দহন ; একটি প্রজ্বলন, যা থেকে আর ফেরার কোন পথ নেই।
আমার সবচেয়ে ভয় ছিল, তোমার সঙ্গে আমার দূরত্বটা বেড়ে যাবে। তুমি আর আমাকে আগের মত তোমার ছেলে হিসাবে দেখবে না। ডিভোর্সের কিছুদিন পর তুমি আমাকে ডেকে পাঠালে। বললে, তুমি এইমাত্র বাজার থেকে কিছু বড় গলদা এনেছো। সেগুলো তুমি রান্না করে আমার সঙ্গে তোমার বাসায় বসে খেতে চাও। আমরা দু’জনেই জানতাম যে, তা সম্ভব নয়। আমাদের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপড়েন চলছিল, তার মধ্যে আমরা ভোজসভা বসাতে পারি না। ব্যাপারটা সেখানেই শেষ হলো না। প্রায় আধ ঘণ্টা পর ইন্টারকমটা বাজতে লাগল। দারোয়ান আমাকে জানালেন যে, বাবা গেটের বাইরে একটা জ্যান্ত গলদা চিংড়ি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমি হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। খানিকটা খুশি, খানিকটা উত্তেজনা নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলাম। তুমি বললে ‘বাবা, আমি সত্যিই এগুলো তোমার সঙ্গে বসে খেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব নয়। তবে আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, যাই ঘটুক, আমি সব সময় তোমার সঙ্গে আছি। একদিন আবার আমরা দু’জনে এক সঙ্গে বসে ভালো খাবার খাবো। কিন্তু এখন আমি চাই, এগুলো তুমি রেখে দাও।’ তুমি তখন আমাকে একটি জ্যান্ত গলদা চিংড়ি দিয়ে গেলে। ছোটো উজ্জ্বল চোখ ও লম্বা সরু পাওয়ালা সেই বিপজ্জনক প্রাণীটা আমার কাছে আশার বার্তা বয়ে আনল। যাই ঘটুক, তুমি সব সময় আমার পাশে থাকার চেষ্টা করবে- সেই আশায় বুক বাঁধলাম।
আমি কিন্তু পারিনি তোমার কাছে থাকতে, যতটা আমার থাকার দরকার ছিল। যখন তোমাকে আমি ফোন করেছি, বলতে গেলে তখন তুমি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলে না। যখনই তোমার সঙ্গে কথা বলতাম, আমি এমনই ভেঙে পড়তাম যে কিছুই গুছিয়ে বলতে পারতাম না। আমি তো তোমার মতো কথার কারিগর ছিলাম না! অপারেশনের আগে যখন ঢাকায় এলে, তোমার সঙ্গে দেখা করাটা ছিল আমার জন্য বেদনাদায়ক। তোমার বাড়ির দরজায় গেলে আমাকে থামিয়ে দেয়া হতো, এটা যে কত কষ্টের! কোনো সন্তানই চায় না তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রতিবার বাড়ির দারোয়ানের জেরার সম্মুখীন হতে। তবে এটা কোন অযুহাত নয়। আমার উচিত ছিল তোমার কাছে আমার আরো বেশি থাকা। কেবলই মনে হয়, সব কিছু যদি পাল্টে দিতে পারতাম! তোমাকে যদি বোঝাতে পারতাম, তোমাকে ছেড়ে কতটা কষ্ট হচ্ছে আমার, যদি তোমাকে বলতে পারতাম, তোমার কাছে থাকতে পারিনি বলে কতটা দগ্ধ হচ্ছি প্রতিমুহূর্তে! এই চিঠিটাই তোমাকে দেয়া আমার গলদা চিংড়ি।
তোমার ছেলে, নুহাশ [ডেইলি স্টারের সৌজন্যে] ইত্তেফাক
An unsent letter By Nuhash Baba I hope you’re feeling well. I haven’t been feeling great myself. I caught typhoid and the sickness made my stomach extremely sensitive. For an entire week I ate nothing but a disgustingly unappetising form of rice that I believe is called jau in Bangla. Bed ridden and stuck eating jau, I imagined all the delicious things I’d finally get to eat once I was better. At one point, I was really craving lobster and it reminded me of something. Right after you and Mom got divorced, things were pretty rough for me. For one thing, I always hoped that things might get back to normal and you would move back in with us. But after the divorce I realised that door is permanently closed. In chemistry terms, I witnessed a combustion; a burn. An irreversible process. What I was most afraid of was that you and I would get distanced and you wouldn’t see me as your son anymore. A few days after the divorce, you called me up. You said you just came back from the bazaar with some gigantic lobsters and you wanted to cook them and have them with me at your place. We both knew that wouldn’t be possible. You can’t have a feast during the Cold War. But that wasn’t the end of it. About half an hour later, the intercom started ringing. The guard told me my father was standing outside the gate holding a live lobster. I went downstairs puzzled, amused and slightly excited. You said, “Son, I really wanted to have this with you, but it just isn’t possible right now. I can assure you, however, that I’ll always be around. And someday, we can sit and have a good meal together again. But for now, I want you to have this.” And then you handed me a live lobster. That horrendous creature, with its beady eyes and slimy long feet, to me, meant hope. Hope that no matter the circumstances, you would always try to be there for me. I don’t think I’ve been there for you, at least not as much as I should have been. When I did call you, you were usually not in a state to talk. And even when we did, I’ve been too upset to express myself well. I was never the wordsmith you were. Coming to see you was painful when you returned to Dhaka before your surgery. It was painful to be stopped at the gates to your place every time. No son should have to answer to a security guard every time he wants to see his father. But none of that is an excuse; I should have been there for you more. I want all that to change. I want to let you know that I really miss you. I want you to know it still burns me that I can’t have you around as much as I’d like. This letter is my lobster to you. Your son, Nuhash
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল








