Monday, 8 June 2026 |
শিরোনাম
Low-Income, Rural Students Face Higher Dropout Risk Due to English Gaps and Cultural Shock, BUBT Study Finds বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কামালকে অব্যাহতি; ব্যারিষ্টার আকমাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শাবু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
সব ক্যাটাগরি

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ইলিয়াস ও আমিনুলের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত চাইলেন হিলারি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 137 বার

প্রকাশিত: May 5, 2012 | 11:52 PM

 কূটনৈতিক রিপোর্টার: দেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সব রকম ব্যবস্থা নিতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। একই সঙ্গে সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়া বিএনপি’র নেতা ইলিয়াস আলী ও পোশাক শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তিনি। ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান। বলেন, ‘শুধু সরকার নয়, সব দলের প্রতিই আমার আহ্বান আপনারা গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে এবং আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করবেন।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলীতে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সময় ধরে চলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এরপর দীপু মনিকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন হিলারি। দু’পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তৃতার পর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উন্নয়ন আইনের শাসনের ওপর নির্ভর করছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সব রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার, সুশীল সমাজের কাজে হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহিংসতা এবং সুশীল সমাজ ও মিডিয়ার স্বাধীনতা হরণ একুশ শতকের গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি লাখ লাখ নারীর জীবনমান উন্নয়নে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তা আজ কেবল বাংলাদেশ নয়, বিদেশেও প্রশংসিত। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে একজন যোগ্য লোকের নিয়োগ দেয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গ্রামীণ ব্যাংকে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর দেখতে চায় বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশংসা করে হিলারি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে চলা রোহিঙ্গা ইস্যুটি সমাধানে দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রা সহায়ক হবে। দেশটির সঙ্গে সম্প্রতি সমুদ্রসীমা বিরোধ মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের রায়ে বঙ্গোপসাগরের সম্পদে বাংলাদেশ তার যৌক্তিক সীমানা বুঝে পেয়েছে। আশা করি ভারতের সঙ্গে শিগগির সীমানা নির্ধারণ হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে সমুদ্রসীমা চিহ্নিত হওয়ায় এখন বাংলাদেশ সমুদ্রসম্পদ আহরণ করতে পারে উল্লেখ করে হিলারি বলেন, সাগরের সম্পদ আহরণে বিনিয়োগের সুরক্ষা ঢাকা-ওয়াশিংটন সহযোগিতার ক্ষেত্র হতে পারে।
বিরোধ নিরসনে সংলাপে বসার তাগিদ: রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়ে হিলারি ক্লিনটন বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখতে সংলাপ ছাড়া কোন বিকল্প নেই।  পারস্পরিক মতভেদ দূর করতে সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনা-বিতর্ক করতে হবে। এ সময় তিনি রাজনীতিবিদদের এক টেবিলে বসার জোর আহ্বান জানান। হরতালের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোন সহিংস ঘটনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভুল সঙ্কেত দেয়। তাছাড়া দেশের সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়ার আগে জন-দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখারও আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা এবং সংন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রশংসা করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশ চায় না, বাংলাদেশ কোনভাবে সন্ত্রাসীর চারণভূমি হয়ে উঠুক। সন্ত্রাসের প্রতি ন্যূনতম ছাড় না দেয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষ লগ্নে হিলারি বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশ ও ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ মনে করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ফ্রন্টে এ দুটি দেশের নেতৃত্বও প্রত্যাশা করে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিশ্বের বিভিন্ন গোলযোগপূর্ণ এলাকায় শান্তি মিশনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বিশ্ব নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর আমি আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবো না। তবে আমি বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে আমাদের অংশীদারিত্ব দেখতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দুটি দেশই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশকে ১৭ বছর ধরে চিনি। এ দেশের ব্যাপারে আমি খুবই আশাবাদী। অনেক বছর পর আবার আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। এ প্রসঙ্গে তিনি নিউ ইয়র্কের সিনেটরের দায়িত্ব পালনকালে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সঙ্গে তার সু-সম্পর্কের কথা জানিয়ে বলেন, নিউ ইয়র্কে অনেক বাংলাদেশী কাজ করছেন। আমি বাংলাদেশীদের সুখী দেখতে চাই। এদেশের নাগরিক সমাজের কাজের প্রশংসা করে বলেন, মানুষের অনুপ্রেরণার জন্য এদেশের সিভিল সোসাইটি বিশ্বের জন্য একটি মডেল। উন্নতি ও অগ্রগতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একই মানসিকতা পোষণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসনের সহায়তা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে একটি বড় দেশ। মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল বাস্তবায়নে মাতৃশিশু মৃত্যুহার কমানো, দারিদ্র্যবিমোচনে খুবই ভাল ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে হাইতিতে কলেরা প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় সংযোগের ভূমিকায় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হিলারি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারি সংলাপের যৌথ ঘোষণায় সই করেন। বাংলাদেশের পক্ষে এতে সই করে পরররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ছিলেন বাংলাদেশের ১০ সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন।
পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে বাংলাদেশ: ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে বাংলাদেশ। বৈঠকে শেষে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চাওয়া ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদ প্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠনো, বিশেষায়িত মার্কিন সহায়তা তহবিল মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্টে (এমসিএ) অন্তর্ভূক্তি গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে অংশ নেয়া এক কর্মকতা জানান, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা রূপরেখা চুক্তি (টিকফা) ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য বেশ ফলপ্রসূ ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ওই কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ করে নির্বাচনের পর ভবিষ্যতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, এটা চেয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধের বিচার, মানবাধিকার, সুশাসন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিমানে বৈঠক, নামার পর লাল গালিচা: হিলারিকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি বেইজিং থেকে বিকাল প্রায় ৪টা ৫০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি টারমার্কে পৌঁছার পর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেকের নেতৃত্বে ওই দলের কয়েকজন সদস্য এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিমানে উঠেন। প্রায় আধ ঘণ্টা তারা একান্তে কথা বলেন। সাড়ে ৫টার কিছু পরে বিমান থেকে নামলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ এম জিয়া উদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি  সরাসরি প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। হিলারি ক্লিনটন ১৯৯৫ ও ২০০০ সালে দু’বার বাংলাদেশ সফর করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে এটাই তার প্রথম সফর।
আজকের সূচি: সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ সকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ফজলে হাসান আবেদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার বাসায়। এরপর হিলারি ক্লিনটন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। যোগ দেবেন ইয়থ লিডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও। এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দুপুরের পর ঢাকা ছেড়ে কলকাতা যাবেন তিনি।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV