বিশ্বে ডলারের দাম কমলেও বাড়ছে বাংলাদেশে
জামাল উদ্দীন: বাড়ছে পণ্যমূল্য, উস্কে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি বিশ্বজুড়ে ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে বাড়ছে। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক দেশ হিসাবে ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মূল্যস্ফীতিও। যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাজারে ডলারের দামে অস্থিরতা চলছে। ব্যাংক এবং খোলা বাজারে চড়ে গেছে ডলারের দাম। বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডলারের দাম আরো বেড়ে যাবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রমতে, ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও ভাসমান বিনিময় হার নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিনই টেলিফোনে ডলার বাজারে হস্তক্ষেপ করে থাকে। ফলে প্রকৃত বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নিশ্চিত হচ্ছে না।
মূলত রেমিটেন্স ও রফতানি আয়ের কারণে ডলারের দাম বাড়তি দেখানো হচ্ছে। এর ফলে সার্বিকভাবে পণ্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। আমদানি ঋণপত্র খুলতে গিয়ে ডলারের পাশাপাশি ইউরোও ব্যবহূত হচ্ছে। কিন্তু তাতে করে গড় আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সূত্রমতে, সরকার পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। অথচ ডলার বাজার চড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম বেশি হলে বেশি মূল্যে পণ্য কেনার দায় পড়বে ক্রেতাদের ওপর। সেদিকে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না। ফলে দাম বাড়তে বাড়তে ব্যাংকেই ডলারের দাম এখন ৭৭ টাকার বেশি। কার্ব মার্কেটে তা ৭৯ টাকা পর্যন্ত গড়িয়েছে। অথচ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ডলারের কেনাবেচা হয়। ডিসেম্বরেও ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ছিল কমবেশি ৭০ টাকা। এ সময়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৭২ টাকা।
স্বাভাবিকভাবে আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। গত কয়েক মাস ধরেই চাহিদামত ডলার না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে তৃতীয় মুদ্রায় এলসি খুলতে হচ্ছে। থার্ড কারেন্সি (ডলারের পরিবর্তে ইউরো বা পাউন্ড) কিনতেও বেশি দাম দিতে হয়। তাতে গড়ে ডলারের দাম বেড়ে যায়।
ডলারের এ মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসাবে আরো বলা হচ্ছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে তারল্য সংকটের মতই ডলার সংকট দেখিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় এই সুযোগটি নিচ্ছে কোন কোন ডিলার ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হচ্ছে। আবার বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতেও ডলার জমা রাখা জরুরি। ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনাও কিনেছে।
বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম কমলেও বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে অনেকেই নেতিবাচক দিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেশি হবে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রকৃত বিনিময় হার কার্যকর করা হলে টাকার মান বৃদ্ধি পেত। টাকার বিপরীতে ডলার দুর্বল হত। তাতে আমদানি পণ্যের দামও কম হতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতির কারণে ডলারের বাড়তি দাম অব্যাহত থাকলে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়ে যাবে। তাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা যাবে না। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও কার্যকারিতা হারাবে।
ফিনান্সিয়াল ইকনোমিস্ট ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, এখন যেহেতু ডলার ছাড়াও অন্য মুদ্রায় আমদানি ঋণপত্র খোলা যাচ্ছে, তাই ডলারের বাড়তি দাম ধরে রাখার কোন যুক্তি নেই। বরং টাকা ও ডলারের মূল্যমান প্রকৃত বাজারভিত্তিক করে দেয়াই উত্তম। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ শেষে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমে যায়। মার্কিন অর্থনীতিতে ক্রান্তিকাল তথা আরেকটি বিশ্বমন্দার আশংকায় ডলারের দরপতন ঘটে।
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








