Monday, 27 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

বিষণ্নতা এক বৈশ্বিক সঙ্কট : অবহেলিত মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 61 বার

প্রকাশিত: October 31, 2012 | 7:35 PM

খন্দকার মর্জিনা সাঈদ :১০ অক্টোবর ছিল ২০তম বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বিষণ্নতা এক বৈশ্বিক সঙ্কট। বাংলাদেশও যে এ সঙ্কটের মধ্যে আছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে কিছুসংখ্যক বিত্তবান, শিক্ষিত, সচেতন নারী ছাড়া বেশিরভাগ মানসিক বিপর্যস্ত নারীই জানেন না মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি আছে বা তাদের মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে। আর যখন নিজ অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারেন, তখন ব্যক্তিগত অধ্যায় ছাপিয়ে বিষয়টি সামাজিক অধ্যায়েও সাড়া ফেলে। আর এরই ধারাবাহিকতায় ক’জন ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বললে অনেক অজানা তথ্য উঠে আসে। এদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে মাস্টার্স করা সানজিদা সিলভি। তিনি বেশক’বছর ধরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করছেন। বিস্তারিত জানতে চাইলে সানজিদা বলেন, নিজ ক্যারিয়ারে যথাযথ সফলতা না আসা ছাড়াও আছে কিশোরীকালীন ভালোবাসা সংক্রান্ত অর্থাত্ প্রেমিকের প্রতারণা। এতটা বছর পরও আমাকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে রাখছিল। পারছিলাম না, বাবা ভাই ব্যাতিত কোনো পুরুষের প্রতি আস্থা রাখতে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে। বিষয়টি যে মানসিক অসুস্থতায় পরিণত হয়েছে তা অনুধাবন করতে পারিনি। যখন অন্যদের দেখে বুঝলাম, আমি তাদের থেকে আলাদা। কোনো কিছুতেই আনন্দ পাই না। বেশিরভাগ সময় মন খারাপ ও মেজাজ খিটখিটে থাকে। অকারণেই হঠাত্ হঠাত্ রেগে যাই। অল্পতেই ক্লান্তিবোধ করি। কোনো কিছুতেই মনোযোগী হতে পারছি না। ঘুরে ফিরে কেবলই আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে। যা সহকর্মী-বান্ধবী শায়লা একদিন আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়। প্রথমে আমি ওর মন্তব্যকে অস্বীকার করলেও পরে ভাবি এবং ভেবে-চিন্তে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হই। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের চিকিত্সা নিই। নির্ধারিত ওষুধ ও সাইকোথেরাপি উভয়ের মাধ্যমে আমার মনোরোগ অনেকটা ভালো হতে চলেছে। ধীরে ধীরে নেতিবাচক চিন্তাধারা থেকে নিজেকে অনেকটাই সরিয়ে আনতে পারছি। তবে ব্যাপারটি যদি আগে বুঝতে পারতাম তাহলে এতটা বেগ পেতে হতো না বলেও জানান সানজিদা সিলভি। কথা হয় গৃহিণী নুরুনন্নাহার বেগমের সঙ্গে যার দাম্পত্যকালীন বয়স ১৮ বছর এবং নিজের বয়স ৪০। তার তিন ছেলে, অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামীকে নিয়ে পরিবার হলেও সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি বাবার ও শ্বশুরবাড়ি উভয়পক্ষ থেকে মেহমান লেগেই থাকে। যে কারণে নুরুন্নাহারের কোনো অবসর নেই। নিজেকে পারে না একমুহূর্ত সময় দিতে। যা তাকে মানসিক রোগীতে পরিণত করেছে। পরিবারের অন্যদের মতো যে নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারেনি। যখন বুঝতে পারল, তখন তাকে মনরোগ চিকিত্সকের শরণাপন্নই শুধু হতে হয়নি। তাকে পুরোপুরিভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন থাকতেও হয়েছে, এবং এখনও নিয়মিত মনোরোগ চিকিত্সকের কাছে যেতে হচ্ছে। কথা হয় ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষক সাবরিনা শেলির সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি শৈশব থেকে দেখে আসছি বাবা, মাকে সব সময়ের জন্য হেয় দৃষ্টিতে দেখে। প্রকাশ্যে তাকে সূত্র ধরে সব নারীকে নিয়ে কটূক্তি করতে। সেই শৈশব থেকে দেখে আসা এ অধ্যায়টি আমার মনে ভীষণভাবে প্রভাব বিস্তার করে। উচ্চশিক্ষিত, কর্মজীবী নারী হয়েও নিজেকে মোটেও মূল্যবান মনে হয় না। বাবার মুখ থেকে শোনা কথাগুলো নিজের মাঝে অগোচরে আওড়াতে থাকি। নিজেকে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর ভেবে যাবতীয় সামাজিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো এড়িয়ে চলি। এমন কি, যতটা পারি স্কুলের মিটিংগুলোতে নিজেকে গুটিয়ে রাখি। কোনো মতামত প্রকাশ তো করিই না, সম্মতি বা অসম্মতির ব্যাপারেও নীরব থাকি। যার জন্য আমাকে এরই মধ্যে সবাই মানসিক রোগী বলেই চিহ্নিত করেছে। তারপর থেকে প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে দুই দিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাচ্ছি, এবং কিছুটা সুফল পেতে শুরু করেছি বলেও জানান সাবরিনা শেলি। এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জাহানারা আহমেদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, কোনো নির্ধারিত কারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি মন খারাপ থাকাকেই মূলত বিষণ্নতা বলে। তবে এটি একটি আবেগজনিত মানসিক সমস্যা। যা কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে থেকে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন, কর্মতত্পরতা ও পারস্পরিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে। এতে মস্তিষ্কে সেরোটনিক জাতীয় রাসায়নিক পদার্থের গুণগত ও পরিমাণগত তারতম্য ঘটে। ফলে যে কেউ, যে কোনো সময়, ধর্ম-বর্ণ, আর্থসামাজিক অবস্থান যাই হোক না কেন আক্রান্ত হতে পারে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৪ দশমিক ৬ ভাগ নারী পুরুষের বিষণ্নতা রয়েছে। যে কোনো বয়সে এটি দেখা দিতে পারে। তবে ১৫ থেকে ১৮ ও ৬০ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে এর ঝুঁকি কিছুটা বেশি। তবে আশার কথা হচ্ছে, যদি সঠিক সময় মানসিক এ রোগটির চিকিত্সার আওতায় আনা যায়, তাহলে এ রোগ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদের আক্রান্তদের ধৈর্য ধরে, অনেক সময় নিয়ে চিকিত্সা প্রয়োজন। প্রয়োজন সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা। শুধু আবেগের ওপর ভর করে নয়, বাস্তবসম্মত জ্ঞানের, বুদ্ধির চর্চার মাধ্যমেই বিষণ্নতাজনিত এ সঙ্কট থেকে উত্তরণ সম্ভব। সে হোক নারী কিংবা পুরুষ।আমার দেশ

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV