বুদ্ধপূর্ণিমা : ‘পরিহার করো পাপ, শ্রেয়কে করো সঞ্চয়’
মুহম্মদ সবুর: শান্তি, মানবতা, কল্যাণ, অহিংসার মূর্তপ্রতীক গৌতম বুদ্ধ। আড়াই হাজারের বেশী বছর আগে জন্মেছিলেন এই উপমহাদেশে। দুঃখবাদ থেকে বুদ্ধের দর্শনের উত্পত্তি। আর এই দুঃখবাদই তাঁর ধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য। রাজকুমার সিদ্ধার্থ মানুষের নিত্যসঙ্গী জরা, ব্যাধি, মৃত্যু, দুঃখ দেখে তা থেকে মুক্তির উপায় উদ্ভাবনের জন্য রাজঐশ্বর্য, ভোগবিলাস, স্ত্রী-পুত্র সবই ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন গহীন বনে। একাগ্র মনে ছয় বছর কঠোর ধ্যান করে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমায় বোধিজ্ঞান লাভের মাধ্যমে তিনি আবিষ্কার করলেন দুঃখ মুক্তির উপায় বা পথ। দুঃখ কী ? জন্ম-জরা, ব্যাধি, মৃত্যু, প্রিয় বিয়োগ, অপ্রিয় সংযোগ, ঈপ্সিত বস্তুর অপ্রাপ্তি দুঃখ-সংক্ষেপে পঞ্চউপাদান স্কন্ধই দুঃখ। অর্থাত্ জন্মগ্রহণ বা দেহধারণ করাটাই দুঃখ। বুদ্ধ বললেন, এই দুঃখের কারণ আছে। কারণ কী ? তৃষ্ণাই দুঃখের কারণ। তৃষ্ণা ত্রিবিধ-কামতৃষ্ণা, ভবতৃষ্ণা, বিভবতৃষ্ণা। অবিদ্যার কারণে তৃষ্ণার উত্পত্তি হয়। এই তৃষ্ণার নিবৃত্তি বা নিরোধ অবশ্যই আছে। দুঃখ নিরোধগামিন প্রতিপাদ্য বা আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই তৃষ্ণা এবং দুঃখ নিরোধের উপায়। এই মার্গে বিচরণ করলে জরা, ব্যাধি, মৃত্যুর অবসান ঘটিয়ে পরম শান্তিনির্বাণ লাভ সম্ভব হবে।বুদ্ধ জন্মেছিলেন নেপালের লুম্বিনী বনে যখন এই উপমহাদেশে হানাহানি, বর্ণবাদ, বৈষম্যবাদ ও ধর্মের নামে পশুবলি, গোত্রে গোত্রে যুদ্ধবিগ্রহ চলছে। মানবতার এই চরম দুর্দশা দেখে বুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, মানুষ মাত্রেই সমান, মানুষের প্রতি মানুষের হিংসা ও বৈষম্য পরিহার করতে হবে। ধর্মের বা দেবতার নামে প্রাণীবধ বন্ধ করতে হবে। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চলবে না। মানুষকে তার আপন মর্যাদা দিতে হবে। কোনো প্রাণীকে হিংসা করা যাবে না। সব প্রাণীর প্রতি দয়া ও মৈত্রী পোষণ করতে হবে।বুদ্ধ মনে করতেন; মানুষের মৃত্যুর পর তার আত্মা পুনরায় নতুন দেহে জন্মলাভ করে। নতুন জন্মলাভ করলেও তাকে গত জন্মের কর্মফল ভোগ করতে হয়। বুদ্ধ প্রায় ২১ বছর কোশল দেশে ধর্মপ্রচার করেন। কোশলের জেতবন নামে এক কাননের এক কুটিরে বাস করতেন। সেই কুটিরে ভোরের ধর্মসভায় একদিন ভিক্ষুরা বুদ্ধের সন্ন্যাস গ্রহণ ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সন্ন্যাসীদের একজন বললেন, তথাগত শাক্যসিংহ যদি সন্ন্যাস গ্রহণ না করতেন, তবে তিনি শাক্যবংশের রাজা হতেন। যশোধরার মতো রূপসী স্ত্রী, রাহুলের মতো প্রিয়পুত্র ও রাজসুখ পরিত্যাগ করে তথাগত ত্যাগের পথ অনুসরণ করেছেন। যেইমাত্র তিনি সংসারের অনিত্যতা বুঝতে পেরেছেন, সেইমাত্র তিনি সংসার ত্যাগ করেছেন। রাজচক্রবর্তী হয়ে পৃথিবীর অধিপতি হওয়ার পরিবর্তে তিনি একাকী ছন্দকের সাহায্যে রাত্রির অন্ধকারে গৃহত্যাগ করেছেন। গৃহত্যাগের পর সেই আদরে-যত্নে লালিত-পালিত দেহকে অসীম কষ্ট দিয়ে দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর তপস্যা করেছেন। এতো কষ্ট স্বীকার করে তবেই তিনি বুদ্ধত্ব লাভ করেছেন।বৌদ্ধশাস্ত্রে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণকে বলা হয় ‘মহাভিনিষ্ক্রমণ’। সন্ন্যাস জীবন গ্রহণের পর অরাড় কালাম নামে এক সাধক সন্ন্যাসীর কাছে গৌতম সাংখ্যযোগ, ধ্যান ও তপস্যার বিদ্যাশিক্ষা নেন। দিব্যজ্ঞান বা বোধিলাভের পর প্রায় ৪৫ বছর বুদ্ধ উপমহাদেশের নানাস্থানে পরিভ্রমণ ও ধর্মমত প্রচার এবং দীক্ষা দেন। বুদ্ধ বছরে ৮ মাস নানা স্থানে ভ্রমণ করতেন এবং বাণী ছড়াতেন। বাকী ৪ মাস বর্ষার সময় কোনো একস্থানে স্থায়ীভাবে বাস করতেন।
জন্মগ্রহণ করলেই মানুষকে কর্ম করতে হয় এবং কর্মের ফল মানুষকে ভোগ করতে হয়। কর্ম থেকে আসে আসক্তি ও তৃষ্ণা এবং তার থেকে আসে দুঃখ। মানুষ নিরন্তর বিভিন্ন জন্মে কর্ম করছে। আর তাঁর কর্মের ফল হিসেবে দুঃখ ভোগ করছে। সুতরাং যদি তার পুনরায় জন্মগ্রহণকে রদ করা সম্ভব হয়, তবে মানুষ দুঃখের হাত থেকে মুক্তি পাবে। তার আত্মা নির্বাণ লাভ করবে। বুদ্ধ মনে করতেন, তাঁর দর্শনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল দুঃখভোগ থেকে মানুষের মুক্তিলাভের পথ নির্দেশ করা। বলেছেনও, “সমুদ্র জলের যেমন মাত্র একটিই স্বাদ, তাহল লবণের স্বাদ, তার ধর্মের একটিই লক্ষ্য- তাহল দুঃখের হাত থেকে মানুষের মুক্তি। নির্বাণ হলো পুনর্জন্মের আকাঙ্ক্ষায় নিবৃত্তি। নির্বাণ লাভ করলে মানুষকে দুঃখ স্পর্শ করতে পারে না।”সব ধর্মের শিক্ষিত প্রবক্তাদের কাছে তিনি সমাদৃত এবং অনন্য। রাজত্বের লোভ ত্যাগ করে তিনি সত্যের সন্ধানে ব্রতী হয়েছিলেন। সেই সত্য সন্ধান এখনো চলছে মানবের, মানুষের। বৈশাখী পূর্ণিমায় গৌতম বুদ্ধ জন্ম, বুদ্ধত্ব ও নির্বাণ লাভ করেছিলেন। পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধ আজো জাগরণের মহাবাণী শুনিয়ে যান ।লেখক :কবি, প্রাবন্ধিক।ইত্তেফাক
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








