বেনগাজী হামলায় ব্যর্থতার দায়িত্ব স্বীকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির
ডেস্ক: লিবিয়ার বেনগাজীতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভকারীদের হামলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ চার জনের নিহত হওয়ার ঘটনার সব দায়িত্ব এবার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটন। পেরু সফরকারী হিলারি সোমবার লিমাতে সিএনএন এবং ফক্স নিউজ নেটওয়ার্ককে বলেছেন ১১ই সেপ্টেম্বর যা ঘটেছে, তার সব দায় আমি নিচ্ছি। হিলারি বলেন- আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছি। সারাবিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৭৫টি পোস্টে কর্মরত ৬০ হাজারেরও বেশি জনবলের দায়িত্বও আমার। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য দায়ী নন বলে হিলারি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নেয়া সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত নন। তারা কখনও কখনও গুরুত্বপূর্ণ হুমকি ও ঝুঁকি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে থাকেন। বেনগাজীর ওই হামলার কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামা সমালোচকদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ দল থেকেও তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী মিট রমনি রাষ্ট্রদূতকে রক্ষা করতে ব্যর্থতার জন্য সরাসরি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার অযোগ্যতাকে দায়ী করেছেন। এ হামলা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থতার জন্য ওবামার তীব্র সমালোচনা করে মিট রমনির পক্ষ বলছে, এর জন্য বারাক ওবামার ভ্রান্ত পররাষ্ট্রনীতিই দায়ী। এমতাবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের এ দায় নেয়ার ঘটনাকে প্রেসিডেন্টকে সমালোচনা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা বলেও অনেকে মনে করছেন। হিলারির দায়িত্ব গ্রহণ ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন-পূর্ব বর্তমান নাজুক সময়ে বারাক ওবামার ওপর জেঁকে বসা চাপ থেকে তাকে রক্ষার একটি উপায় হিসেবে বিশ্লেষকরা বিবেচনা করছেন। হিলারি নিজেও সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি যে কোন ধরনের রাজনৈতিক ব্লেম গেম (দোষারোপের রাজনীতি) এড়াতে চাই। হিলারি ক্লিনটনের এ দায়িত্ব স্বীকারের ঘটনাকে জন ম্যাককেইনের নেতৃত্বে রিপাবলিকান সিনেটরদের দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে- হিলারির এ দায়িত্ব স্বীকারের বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে হোয়াইট হাউস যখন কোন ধরনের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করছে তখন এ ধরনের বক্তব্য সত্যি প্রশংমার দাবিদার। তবে এতে আরও বলা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ওবামা যদি এ ধরনের হামলার বিষয়টি আগেই জেনে থাকেন তাহলে নিরাপত্তা ব্যর্থতার পুরো দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। এতে বলা হয়েছে পৃথিবীর যেখানেই কোন মার্কিন নাগরিক দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হচ্ছে কমান্ডার ইন চিফের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইতিমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেস ওই হামলার ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য ঘটনার পরপরই ওবামা ও ক্লিনটন উভয়ই এ ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অঙ্গীকার করেছেন। এ বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই হামলার পরপরই ওবামা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছিলেন মুসলিম বিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণের কারণে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভের প্রেক্ষিতেই বেনগাজীতে হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতীয়মান হয়েছে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদ্রোহীরাই পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা করেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহে কংগ্রেসের শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেখানে বেনগাজীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেটা নাকচ করে দিয়েছেন। ওই হামলার সময় কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যর্থতা ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে হিলারি ক্লিনটন একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে এফবিআই এবং লিবিয়া কর্তৃপক্ষও এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছেন।মানবজমিন
সর্বশেষ সংবাদ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests