Monday, 27 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

ভারত প্রশ্নে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 76 বার

প্রকাশিত: October 29, 2012 | 3:21 PM

মতিউর রহমান চৌধুরী: বাংলাদেশের রাজনীতি নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে, অন্তত ভারত প্রশ্নে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু নয়, গোটা দেশই ছিল স্পষ্ট দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে শেখ হাসিনা, অন্যদিকে বেগম জিয়া দ্বিধা-বিভক্ত দুই স্রোতের নেতৃত্ব দিতেন। মাঝে মধ্যে ভারত ছিল বড় অসহায়। একদিকে ভারত কখনও বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল ঐতিহাসিক সম্পর্ক। যদিও বঙ্গবন্ধুর জমানাতেই কিছুটা ফাটল ধরেছিল এতে। নানা প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ভারতকে সন্দিহান করেছিলেন তার নেতৃত্বের ক্যারিশমা দেখিয়ে। বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ছিল এর অন্যতম কারণ। ইন্দিরা গান্ধী চাননি এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তাকে বঙ্গবন্ধু অনুরোধ জানিয়ে বসবেন তা-ও নিজ দেশের মাটিতে। কলকাতা সফরকালেই বঙ্গবন্ধু এই অনুরোধ জানান। ইন্দিরা গান্ধী তার সেনা পরামর্শকদের অনুরোধ অগ্রাহ্য করে সায় দিয়ে বসেন। এরপর পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর সফর নিয়ে টানাপড়েন তৈরি হয়। এর চূড়ান্ত রূপ নেয় বঙ্গবন্ধু যখন ভারতীয় পরামর্শ উপেক্ষা করে লাহোরে ইসলামী সম্মেলনে যোগ দেন। ১৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনে দেখা গেল অন্য চিত্র। অনেকের এই ধারণা জন্মেছিল বঙ্গবন্ধুর কিছু হলে ভারত এগিয়ে আসবে। বাস্তবে ঘটলো উল্টোটা। সমর সেন ছিলেন তখন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার। ঢাকায় যখন সেনা অভ্যুত্থান ঘটে, বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন তখন সমর সেন কলকাতা হয়ে দ্রুত ঢাকায় এসে খোন্দকার মোশতাক আহ্‌মাদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। সে ছবি ঢাকার পত্রপত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছিল। পর্দার অন্তরালের অনেক খেলা চললো তখন। জেনারেল জিয়া এলেন রঙ্গমঞ্চে। শেখ হাসিনা জার্মানি থেকে দিল্লিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নিলেন। জোহরা তাজউদ্দিন তখন দলের দায়িত্বভার নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যৌথ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এমন এক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আসা হলো দলকে এক রাখার স্বার্থে। জিয়া জানতেন, আপত্তি করেননি। ভারত তাকে অব্যাহত চাপ দিয়ে আসছিল হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিতে। জেনারেল জিয়া তখন বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছেন। আওয়ামী লীগ তাতে অংশ নিয়েছে। জিয়ার সার্ক ধারণার সঙ্গেও ভারত একমত পোষণ করলো। প্রথম শীর্ষ সম্মেলন হলো ঢাকায়। জিয়ার অবদানকে মেনে নেয়া হলো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চালে। জিয়া নিহত হলেন চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে। বিচারপতি সাত্তার ক্ষমতায় এলেন। ভারত বললো সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। অল্পদিনের ব্যবধানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিচারপতি সাত্তারের সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেন। ভারত খুশি হলো বটে। কিন্তু ভারতবিরোধী জিগির উস্কে দিলো এই ঘটনায়। শেখ হাসিনা অল্পদিনের মাথায় বুঝতে পারলেন পরিবর্তনটা তার পক্ষে আসেনি। টানা নয় বছর এরশাদ ক্ষমতায় থাকলেন। দুই নেত্রী রাজপথে নামলেন এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জনতার সহযোগিতায়। ছিয়াশি সালের নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল পর্দার আড়ালের এক আলোচনায়। ড. কামাল হোসেন খেলেছিলেন অন্যের হয়ে। হাসিনা ওই নির্বাচনে লাভবান হননি বরং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। যার প্রমাণ মেলে নব্বই পরবর্তী প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে খালেদা জিয়া  ক্ষমতা কব্জা করেন। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে খালেদার সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। এমনকি বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীও যোগ দেয় সেই আন্দোলনে যুগপৎ কর্মসূচিতে। এর পরের ইতিহাস আরও ঘোলাটে। এরশাদ জেলখানায়। নির্বাচন হলো ছিয়ানব্বই সালে। আওয়ামী লীগের পক্ষে একা ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। রওশন এরশাদ সিদ্ধান্তহীনতায় আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ার প্রশ্নে। বিএনপি এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে জেলখানায়। এর মধ্যেই দলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শেখ হাসিনাকে সমর্থন জানালেন এক চিঠির মাধ্যমে। এরশাদ মামলা প্রত্যাহারে দরকষাকষির সুযোগও  পেলেন না। আসম আবদুর রব সমর্থন দিয়ে মন্ত্রী হয়ে গেলেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সরাসরি যোগাযোগ মন্ত্রী। এরশাদ যেখানে ছিলেন সেখানেই থাকলেন। ২০০১-এর নির্বাচনে আবার সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেল। দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে গেল বিএনপি। জনশ্রুতি বা বলাবলি আছে ভারতের প্রচ্ছন্ন সমর্থন নিয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগকে কাবু করেছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তাদের মোহভঙ্গ হলো। পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো হয়ে উঠলো অশান্ত। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই প্রকাশ্যে খেলতে লাগলো। কিন্তু খালেদা সরকার কোন ব্যবস্থা নিলোই না। তারা তখন মনে করলো এটাই বুঝি সঠিক কৌশল। এর মূল্য অবশ্য তাদের দিতে হয়েছে। এটা তো দিবালোকের মতো স্পষ্ট, ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুই নেত্রীকে মাইনাস করার খেলায় ভারত নীরব সমর্থন দিয়েছিল। জেনারেল মইনের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ যখন চলে গেল তখন তিনি আত্মসমর্পণ করলেন ভারতের কাছেই। মন্দের ভাল হিসেবে তারা আওয়ামী লীগকে বেছে নিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় এলো বিপুল ভোটে। খালেদা বাড়িছাড়া হলেন। দুই পুত্রের স্থায়ী নিবাস হলো বিদেশে। মামলা মোকদ্দমায় জর্জরিত খালেদা ভারতবিরোধী স্রোতকে উস্কে দিলেন আওয়ামী লীগের ভুল নীতি-কৌশলের কারণে। আড়ালে বা প্রকাশ্যে কিছু না পেয়ে সবকিছু ভারতকে দিতে রাজি হলেন। জনমত পাল্টে গেল রাতারাতি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হাতে ছিল তুরুপের তাস। তিনি খেলে দিলেন সবাইকে অবাক করে দিয়ে। হাসিনা অবাক হলেও দিল্লি হয়নি। কারণ, তারা আগেই জানতো মমতা তাতে রাজি হবেন না। ভারতীয় কূটনীতি একপর্যায়ে একপেশে হয়ে গেল। সাধারণ রীতিনীতি না মেনেই ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বিরোধীদলীয় নেত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন না। আওয়ামী লীগের নবিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি শেখ হাসিনাকে শোনালেন- দেখছেন তো কেমন খেলাটা খেললাম। দিন যায় সময় আসে। খালেদা চরম ভারতবিরোধী হয়ে ওঠেন। জনতার মধ্যেও অনেক প্রশ্ন জাগে। কি পেয়ে শেখ হাসিনার সরকার ভারত প্রশ্নে একতরফা নীতি গ্রহণ করলো। ড. গওহর রিজভী ও ড. মশিউর রহমানও শেখ হাসিনাকে এমন ধারণাই দিলেন- ভারত তাদের বলেছে রাষ্ট্রক্ষমতায় তাকে আনা হবে। শেখ হাসিনার পরামর্শকরা এটা বুঝতে পারলেন না ভারত যেখানে সুপার পাওয়ার হতে চলেছে তারা কোনমতেই এক ঝুড়িতে সব আম রাখতে চাইবে না। ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি ঢাকায় এসে সব উল্টে দিলেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, ভারত একক কোন দলের সঙ্গে নয়, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়। সাংবাদিকদের কাছেও এমন ইঙ্গিতই দিলেন। তখনই হিসাব-নিকাশ অন্যদিকে ঘুরতে থাকলো। খালেদা আশাবাদী হয়ে উঠলেন। যোগাযোগ স্থাপন করলেন নানাভাবে। কখনও লন্ডনে, কখনও দিল্লিতে। ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও বিএনপি নেতাদের যোগাযোগ বাড়তে থাকলো। খালেদা দিল্লি যাওয়ার টিকিট পেলেন। এ মুহূর্তে তিনি দিল্লিতে আছেন ফুরফুরে মেজাজে। খালেদা এখন বিশ্বাস করেন সস্তা ভারতবিরোধিতা নয়। আওয়ামী লীগের মতো গায়ে যাতে একতরফা ভারতপন্থি সিল না লাগে সে জন্য আগে গেলেন চীন। জাপানেও যেতে চেয়েছিলেন- সবুজ সংকেত সময়মতো না আসায় যাওয়া হয়নি। চীনা নেতাদের কাছে খালেদা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, তার শাসনকালে ঢাকায় তাইওয়ানের ট্রেড মিশন চালু করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ভুল। অনেকটা অবিশ্বাস্যভাবে খালেদা জিয়া এক নিবন্ধ লিখে জানিয়ে দিলেন তার অবস্থানের কথা। ভারতবিরোধী জিগির সমাধান নয়। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়াই হবে আজকের বাস্তবতা। স্বাভাবিক কারণেই হাসিনা শিবিরে হতাশা। চাণক্য কূটনীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে দীপু মনি যে একদম শিশু তার মূল্য দিতে হবে শেখ হাসিনাকে। এ রিপোর্ট যখন লিখছি তখন জয়ন্ত ঘোষালের একটি রিপোর্ট এলো হাতে। আনন্দবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক যিনি বাংলাদেশ বিষয়ে দক্ষ, তিনি লিখছেন, ভারতীয় নেতৃবৃন্দ তাকে বলেছেন অত্যন্ত সচেতন ও সুপরিকল্পিতভাবে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন আসন্ন। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধিতার হাওয়া বইছে। ফলে সেখানে যদি পালাবদলের ঘটনা ঘটে যায় তার জন্য তৈরি থাকতে চাইছে ভারত। জয়ন্ত ঘোষাল লিখেছেন, ভারতীয় এই কৌশলে হাসিনার সরকারের মধ্যে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। খালেদা যখন দিল্লিতে থাকবেন তখন বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক করিম গরহাজির থাকবেন। এটা কোন ধরনের কূটনীতি! কয়েক মাস আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন দিল্লিতে গিয়েছিলেন তখনও এক ধরনের অস্বস্তি ছিল। সুচতুর এরশাদ ভারতীয় নেতৃবৃন্দকে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন হাসিনাকে দিয়ে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা যাবে না। এক গাদা অভিযোগ করেছিলেন। তার প্রতি অমর্যাদা দেখানোর কথাও ঢাকাতেই বলেন। দিল্লিতে যে বৈঠকে হাইকমিশনার তারিক করিম উপস্থিত ছিলেন তখনই কেবল হাসিনাকে প্রশংসা করেছিলেন। অন্য বৈঠকগুলোতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। খালেদার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ছিল বড় অন্তরায়। ভারত এতে ভীষণ আপসেট হয়েছিল। তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার বীণা সিক্রি এ নিয়ে কম দেন-দরবার করেননি। বিএনপির শাসকরা তখন ক্ষমতার মোহে অন্ধ ছিলেন। শেখ হাসিনার জমানায় পাদুয়ার যুদ্ধের কথাও ভারত অনেক দিন মনে রেখেছিল। ওই যুদ্ধে ভারতের ১৪ জন বিএসএফ সৈন্য প্রাণ দিয়েছিল। প্রতিশোধের সুযোগ তারা হাতছাড়া করেননি। অনুপ চেটিয়াকে হাসিনার সরকারই গ্রেপ্তার করেছিল। ভারত শত চেষ্টা করেও তাকে ফেরত নিতে পারেনি। এ নিয়ে তারা বারবার হতাশাও ব্যক্ত করেছে। ভারত যেমন তার কৌশল পরিবর্তন করেছে, তেমনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন কূটনীতিতে ভারসাম্যের এক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব কতটুকু পড়ে তা-ই এখন দেখার বিষয়। তবে অনেক নাটকীয়তা যে অপেক্ষা করছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV