Wednesday, 11 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

মার্কিন বাহিনী : নারী সেনারা যৌননির্যাতনের শিকার

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 85 বার

প্রকাশিত: January 1, 2012 | 5:32 PM

 

Details

দেলোয়ার হোসেন :  বিশ্ব জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। বলা হয়ে থাকে, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই সেনাবাহিনী। তবে এই সেনাবাহিনীর এক আতঙ্কজনক চিত্র তুলে ধরেছে আল জাজিরা। আল জাজিরায় সম্প্রচারিত সারাহ লেজারের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীতে চাকরিকালীন প্রতি তিনজনের একজন নারী সেনা ধর্ষণের শিকার হয়।

ইরাকে যুদ্ধ করা সাবেক মেরিন অফিসার জেসিকা (ছদ্মনাম) বলেন, আমার ওপর চালানো যৌন নিপীড়নের ঘটনার অভিযোগ করায় তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরাই এ ধরনের ঘটনার জুরি, বিচারক, সাক্ষী। এদের নিজস্ব আইন রয়েছে। বাহিনীর সুনাম রক্ষার্থে এরা প্রয়োজনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকারীকে মুখ বন্ধ করে দেয়। তাই সামরিক আদালতের বাইরে গিয়ে ভার্জিনিয়া ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তথা সাধারণ আদালতে মামলা করেছেন জেসিকা। এ মামলায় যৌন নির্যাতনের শিকার সাবেক ১৬ নারী সেনা বাদী হয়েছেন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে করা এ মামলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড ও প্রতিরক্ষা সচিব রবার্ট গেটসকে আসামী করা হয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধানে যৌন নির্যাতনের ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত ও প্রতিকার করা হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। শিগগিরই এ মামলার শুনানি শুরু হবে। তাই মার্কিন সেনাবাহিনীতে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা যৌন নির্যাতিত নারী সেনা, তাদের স্বামী ও আইনজীবীরা।

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ নারী সেনা রয়েছে যা মোট সেনার ১৫ শতাংশ। ইরাক ও আফগান যুদ্ধে নিয়োজিত মার্কিন সেনার ১১ শতাংশ ছিল নারী। মর্যাদাসম্পন্ন এক গবেষণা বলছে, সেনাবাহিনীতে চাকরিকালীন সময়ে প্রতি তিনজনের একজন নারী সেনা ধর্ষণের শিকার হয়। পাশাপাশি ৬০ শতাংশ নারী সেনা কোন না কোন যৌন নিপীড়নমূলক আচরণের শিকার হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুরুষ সেনাদের ওপরও। গবেষণা প্রতিবেদনটির মতে, ২৭ শতাংশ পুরুষ সেনাও যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনীতে। এসব ঘটনার যথাযথ বিচার না হওয়া এবং অধস্তন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অব্যাহতি পাওয়ার ফলে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ আরো বাড়ছে।

সামরিক বাহিনী ও মার্কিন কংগ্রেস স্বীকার করেছে, সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌন নিপীড়নমূলক ঘটনা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এ সমস্যা সমাধানে তারা যথাসম্ভব চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ২০০৫ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট প্রিভেনশন এ্যান্ড রেসপন্স অফিস বা যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকার কার্যালয় (সংক্ষেপে স্যাপ্রো) চালু করে। স্যাপ্রোর প্রধান কাজ হচ্ছে সেনাবাহিনীতে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ঘটনা লিপিবদ্ধকরণ, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া এবং বাত্সরিক প্রতিবেদন পেশ করা। এ ধরনের একটি প্রতিবেদন কংগ্রেসে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্যাপ্রোর প্রতিবেদন বিক্ষিপ্ত, অগোছালো, অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্ট তৈরিতে প্রভাব খাটানো হয়েছে। স্যাপ্রো নিয়ম করে, গোপনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করতে হবে। গোপনে অভিযোগ করলে অভিযোগকারীকে বৈরী পরিবেশের শিকার হতে হয় না।

সামরিক বাহিনীতে কর্মরত নারী সেনাদের বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে থাকে সার্ভিস উমেন্স একশন নেটওয়ার্ক বা সোয়ান। সাবেক মেরিন সেনা ও সোয়ানের পলিসি ডিরেক্টর গ্রেগ জ্যাকব বলেন, গোপনে অভিযোগ করার নিয়ম করার কারণে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। বরং অনেক সময় আমরা দেখছি যৌন নির্যাতনের অভিযোগকারীকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। স্যাপ্রোর মিডিয়া মুখপাত্র সিনথিয়া স্মিথ বলেন, ডিফেন্স টাস্কফোর্স রিপোর্ট ২০০৯ প্রকাশের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স বা কোন ক্ষমা নয় নীতি গ্রহণ করেছে। গত দুই বছর যৌন নির্যাতনমূলক ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তাছাড়া এ ধরনের তদন্তকারী ও বিচারকদেরও যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এরপরেও দেখা যাচ্ছে, সামরিক আদালতে মাত্র ৮ শতাংশ যৌন নির্যাতনের বিচার হচ্ছে। যা দুঃখজনকভাবে অত্যন্ত কম। বলা হয়ে থাকে, অধিকাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার নারী অভিযোগ করে না। অন্যদিকে সিভিল কোর্টে ৪০ শতাংশ যৌন নির্যাতনমূলক মামলার বিচার হয় যা সামরিক আদালতের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। ২০১০ সালে দেয়া স্যাপ্রোর বার্ষিক প্রতিবেদন মতে, ঐ বছর সামরিক বাহিনীতে ৩ হাজার ১৫৮টি যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে ৫২৯ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের ৪১ শতাংশ খালাস পেয়েছে। ছয় শতাংশ অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে যাতে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে না হয়।

যৌন নির্যাতনের শিকার অনেকেই স্যাপ্রোর জিরো টলারেন্স নীতির সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এর ফলে এসব ঘটনার বিচার করার পরিবর্তে লুকানো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিত জেসিকা বলেন, জিরো টলারেন্স মানে হচ্ছে কেউ অভিযোগ করলে তা যেকোনো প্রকারে লুকিয়ে ফেলা। অনেকে স্যাপ্রোর প্রশিক্ষণ ও তদন্ত পদ্ধতিরও সমালোচনা করেন। কেননা স্যাপ্রোর তদন্তকারী দল যৌন নিপীড়িতদের অনেক বেশি বিব্রতকর ও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে। সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌন নির্যাতন কমাতে সচেতনমূলক এক পোস্টার ছেপেছে স্যাপ্রো। এখানে সৈনিকদের প্রতি বলা হয়েছে, নারীদের যৌন মিলনের প্রস্তাব দেয়ার আগে অপেক্ষা কর যতক্ষণ না তারা তোমাদের প্রতি কোমল হয়। জ্যাকব বলেন, সেনাবাহিনী মনে করে, তারা এলকোহল/মাদক থেকে দূরে থাকলে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভূল ধারণা। অনেক সমালোচক অভিযোগ করেন, স্যাপ্রো সামরিক বাহিনীর মধ্যে ধর্ষণ মনোবৃত্তি ও ধর্ষণের সংস্কৃতি কমাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

সাবেক সেনা ও ইরাক যুদ্ধ ফেরত সেনারা মিলে গড়ে তুলেছে যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ইরাক ভেটেরানস এগেইনস্ট দ্য ওয়ার (সংক্ষেপে ইভাউ)। ইভাউ এর সদস্য ম্যাগি মার্টিন বলেন, যখন কোন নারী সেনা তার সহকর্মীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন তখন এটাকে প্রতিহিংসা বা বংশগত শত্রুতা বলে ধরে নেয়া হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। ইভাউ এর আরেক সদস্য সেলেনা কুপা। তিনি ৮ বছর আর্মি সার্জেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেছেন, মাদকাসক্ত এক সহকর্মী রাতে আমাকে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্ত করেছে। কিন্তু সকালে আমি অভিযোগ করলে সবাই বলতে লাগল—একি বলছ তুমি? এটাতো যৌন নির্যাতন নয়। তাদের কাছে একমাত্র ধর্ষণই যৌন নির্যাতন। সামরিক নীতি অনুসারে মেয়েদের সম্মতি ছাড়া যৌন মিলন করলেই যৌন নির্যাতন হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু বাস্তবে এর কোন মূল্য নেই যখন প্রকৃত নির্যাতনের অভিযোগও স্বীকার করা হয় বা লুকানো হয়। অপরাধীর বিচার না করে যখন খালাস দেয়া হয় তখন অন্যদের মাঝে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের উত্সাহ বৃদ্ধি পায়।

এতো প্রতিকূলতার পরেও যেসব নির্যাতিত নারী সামরিক বাহিনীর সদস্য বা অফিসারদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে মামলা করে তখন তারা এক অসম যুদ্ধের সম্মুখীন হয়। অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য তাদের ওপর বিভিন্ন দিক থেকে প্রচণ্ড চাপ আসে। এক ঊর্ধ্বতন অফিসার ও এক বন্ধু দ্বারা যখন জেসিকা ধর্ষিত হন, তখন সাথে সাথেই তা তার সামরিক কমান্ডকে জানান তিনি। কিন্তু সামরিক কমান্ড তদন্তের নামে জেসিকার সঙ্গে পাল্টা দুর্ব্যবহার করে এবং কমান্ডের সুনাম রক্ষার জন্য এ ঘটনার বিচার না করে তা গোপন করার ব্যবস্থা নেয়। জেসিকা বলেন, সামরিক তদন্তে বের করা হয় আমি সিনিয়র ও জুনিয়র সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিশ্রী নামে ডাকতাম এবং বিভিন্ন উগ্র পোশাক পরিধান করতাম। তদন্ত শেষে বলা হয়, আমার কথা ও উগ্র পোশাকের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তাই সেনা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা চেপে যেতে নির্দেশ দেয়। এ প্রসঙ্গে সার্জেন্ট কুপা বলেন, জেসিকা সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিলেন। সেনা কর্তৃপক্ষ বিচার তো দূরের কথা উল্টো জেসিকাকে এ ঘটনার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করায় জেসিকা একঘরে হয়ে পড়েন এবং প্রতিদিন বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে থাকেন। তখন তিনি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন, আফগান যুদ্ধের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠাতে; কিন্তু তা করতে অস্বীকৃতি জানায় সামরিক কর্তৃপক্ষ। এর পরেই জেসিকা মেরিন সেনা হিসাবে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। একজন অফিসার হিসাবে তার এ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিল। দেশে ফিরেই তিনি রামসফেল্ড ও গেটসের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সামরিক আদালতে ধর্ষণের বিচার না পেলেও বেসামরিক আদালতে তার ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন জেসিকা।

কিন্তু নিচু লেভেলের বা নিম্ন সারির নির্যাতিতাদের বাহিনী ছেড়ে যাওয়ার ক্ষমতা থাকে না। তাদেরকে কাজ করতে হয় নির্যাতনকারীদের সঙ্গেই। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও পাশাপাশি থেকে কাজ করতে হয়। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসাদের ২০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন জোহানা বোয়ালডা। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ সেনাদের এমন অবস্থায় রাখে যেখানে তাদেরকে সবসময় সহকর্মীর ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের সহকর্মীদের হাতে যখন নারী সেনারা ধর্ষিত হন তখন কর্তৃপক্ষ কিছুই করে না। নির্যাতিতদের যাওয়ার মত কোন নিরাপদ জায়গা থাকে না। এমনকি তারা সামরিক বাহিনী ছেড়েও যেতে পারে না। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে করা চুক্তি পূর্ণ করার বাধ্যবাধকতা থাকে।

সামরিক বাহিনীর নারী সদস্যদের ওপর যৌন নির্যাতনের প্রভাব পড়ছে বেসামরিক জনগণের ওপরও। বিশ্বজুড়ে আটশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে অবমাননার জন্যও যৌন নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর মধ্যে যৌন নির্যাতনকে যদি নির্দেশক হিসাবে ধরা হয় তাহলে বিশ্ব জুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যৌন নির্যাতনকে বলা যেতে পারে মহামারী।

গত এপ্রিলে জেনিফার (ছদ্মনাম) অভিযোগ করেন, তার বয়ফ্রেন্ড ও আফগান ফেরত মেরিন কর্পস সেনা কর্তৃক তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার সাবেক বয়ফ্রেন্ড সার্জেন্ট মেজর হওয়ায় জেনিফারের অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়। স্যাপ্রো এনসিআইসি ও পেন্টাগণ জেনিফারের অভিযোগ সত্য নয় বলে রায় দেয় এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, অভিযুক্ত সেনা অফিসার জেনিফারের অভিযোগের দুই মাস পর পদোন্নতি পান। তবে হাল ছাড়েননি জেনিফার। তার সাবেক বয়ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মামলার সুবিচার পাওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

জেনিফার বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তা প্রমাণ করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। যখন কেউ নির্যাতিত হয়ে অভিযোগ করে তখন তার পরবর্তী কাজ হয় দীর্ঘ ক্লান্তিকর, অপমানজনক কথাবার্তার পর অভিযোগ প্রত্যাহার করা। আমি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বিশ্বাস করি না। তাদের আইন-কানুন ছাপার অক্ষর ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি একজন নারী এবং এদেশের নাগরিক। কিন্তু আমার সাথে কুকুরের মত আচরণ করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ফেডারেল লটেনবার্গ এমেন্ডমেন্টে বলা হয়েছে, যেসব লোক গৃহে নির্যাতন করে তারা অস্ত্র বহন বা ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী এই ফেডারেল আইনকে থোরাই কেয়ার করে। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ চালাতে গিয়ে গৃহে নির্যাতনকারী ও যৌন নিপীড়ক বহু লোককে সেনা হিসাবে নিয়োগ দিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ এর পর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অনেক সৈনিকের অতীত জীবন নিয়ে মাথা ঘামায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর জন্য যৌন নিপীড়ক ও নির্যাতনকারীদেরও নিয়োগ দিয়েছে। যৌন নির্যাতন বেড়ে যাওয়া সামরিক বাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া নারীদের মানসিক সমস্যা বাড়ছে। জার্নাল অব রিহ্যাবিলিটেশন রিসার্চ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণা মতে, সামরিক বাহিনীতে কাজ করার পর নারীরা যেসব মানসিক সমস্যায় ভুগেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে চাকরিকালীন সময়ে যৌন নির্যাতনের ফলে সৃষ্ট বিষণ্নতা ও মনো বৈকল্যতা। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করার পরও নির্যাতিতরা বিভিন্ন অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য আরো নষ্ট করে দেয়। ইরাক এ্যান্ড আফগানিস্তান ভেটেরানস অব আমেরিকার এক গবেষণা মতে, সামরিক বাহিনীর ৪০ শতাংশ নারী যোদ্ধা যৌন নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

ইভাউ এর সদস্যরা সামরিক বাহিনীতে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন। মার্টিন বলেন, আমরা এমন এক কমিউনিটি তৈরির চেষ্টা করছি যেখানে যুদ্ধ ফেরত বা চাকরিরত নারী সেনারা সামরিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন এবং তাদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন-নিপীড়নের সুবিচার পাবেন। একজন সংগঠক হিসাবে আমি মনে করি, সামরিক বাহিনীর যৌন নির্যাতন কমানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে এ সম্পর্কে সত্য বলা। আমাদের বলতে হবে, সবধরনের মানুষই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, কিন্তু এ আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের নজর দিতে হবে যৌন নির্যাতনকারীদের দিকে এবং সেনাবাহিনীতে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে অপরাধীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেন। অপরাধ ঢেকে যেনতেনভাবে নির্যাতিতাকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতা বাদ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মার্টিন। তাহলেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশাবাদ মার্টিনের।ইত্তেফাক

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV