Monday, 27 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওবামার জয় আর রমনির পরাজয়ের নেপথ্যে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 82 বার

প্রকাশিত: November 14, 2012 | 11:12 PM

মোহাম্মদ আতাউর রহমান  : ৫৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী বারাক ওবামা পুনর্নিবাচিত হলেন।  ধারণা করা হয়েছিল নির্বাচন বৈতরণী পেরুতে ডেমোক্রেটদের কাঠখড় পোড়াতে হবে। সেটি হয়নি। পপুলার ও ইলেক্টোরাল উভয় ভোটেই একচেটিয়া জয় পেয়ে আগামী চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেন ওবামা। জয় হয়েছে ওবামার পররাষ্ট্রনীতি, অভিবাসননীতি, প্রতিরক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি আর সব শ্রেণীর মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তার দেয়া প্রতিশ্রুতির। সেদেশের হিস্প্যানিক জনগোষ্ঠী, তরুণ, নারী আর কৃষ্ণাঙ্গরা ওবামার জয়ে বড় অবদান রাখেন। শ্বেতাঙ্গ ও বয়স্ক ভোটাররা রমনির প্রতি আস্থা দেখালেও তার কট্টর রক্ষণশীল নীতি ও সঠিক নির্বাচনী কৌশল গ্রহণে ব্যর্থতা নির্বাচনে তাকে ডুবিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

ওবামা পুনর্নিবাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করেছে। প্রথমত, নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডি ওবামাকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ওবামা জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যে রাষ্ট্রনায়কোচিত দায়িত্বের পরিচয় দিয়েছেন তাতে ভোটাররা আকৃষ্ট হয়েছেন নিঃসন্দেহে। দ্বিতীয়ত, দেশীয় অর্থনীতিতে ঘাটতি পুষিয়ে আনতে উচ্চবিত্তদের করবৃদ্ধিকল্পে ওবামা যে করনীতির কথা বলেছেন, তা দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণী, মধ্যবিত্ত, কর্মজীবী, তরুণ ও মধ্যবয়সীদের আকৃষ্ট করেছে। তৃতীয়ত, ওবামার নির্বাচনী কৌশল। ডেমোক্রেট শিবির রমনির গায়ে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই যে নেতিবাচক তকমা লাগিয়ে দিয়েছেন, রমনি কিন্তু তা উত্রাতে পারেননি। ডেমোক্রেটরা সুকৌশলে ‘রমনিকে একজন ধনী ব্যবসায়ী যিনি মধ্যবিত্তের আশা-আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারেন না’- এমন মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্তের কাছ অনেকটা দূরে সরিয়ে রেখেছেন। স্যান্ডি চলাকালে রমনির ভূমিকা ডেমোক্রেটদের দেয়া তকমাকে আরও গ্রহণযোগ্য করেছে। চতুর্থত, রিপাবলিকানদের অতিমাত্রায় রক্ষণশীল নীতির চেয়ে ডেমোক্রেটদের উদারনীতি জনগণকে আকৃষ্ট করেছে। অন্যদিকে রমনির পরাজয়ের পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। ১. এক গোপন ভিডিওতে রমনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে সুবিধাবাদী ও সরকারের দায় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এ ইস্যুটি কাজে লাগিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির রমনির নেতৃত্ব গুণাবলী নিয়ে প্রশ্ন  তোলেন। এটি রমনির জন্য কাল হলে দাঁড়িয়েছে। ২. অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে তুলতে তার ব্যক্তিজীবনে ব্যবসায়িক সফলতা এবং উচ্চবিত্তদের সুবিধা দেয়ার কথা বলেছেন। সেটি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভোটারকে দীর্ঘমেয়াদে আর তরুণদের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে প্রভাব ফেলেছে। যার প্রমাণ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে ওবামার সঙ্গে সমান্তরালে দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু ভোটের প্রশ্নে মার্কিন জনগণ শেষ পর্যন্ত তার উপর আস্থা রাখতে পারেনি।

মার্কিন নির্বাচন অনেক কিছু চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেলো। এত বড় নির্বাচন। কোনো সহিংসতার অভিযোগ তো পাওয়া গেলো না। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছে দুই শিবির। কারচুপির অভিযোগও করেননি পরাজিত প্রার্থী। ফল মেনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রমনি বলেছেন, আমেরিকানরা তাদের যোগ্য নেতৃত্বকেই বেছে নিয়েছে। এটাইতো আধুনিক গণতন্ত্রের রীতি হওয়া উচিত। অন্যদিকে বারাক ওবামা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সহায়তার আহবান জানিয়েছেন। সেই আহবানে সাড়া দিয়ে রমনির পক্ষ থেকেও জানানো হলো ওবামার আমন্ত্রণ পেলে দেশের স্বার্থে তার নতুন প্রশাসনে কাজ করতে আপত্তি নেই রমনির। বিজয়ের পরপর ইলিয়নের শিকাগোতে ওবামার ভাষণটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। সেই বক্তৃতায় একজন দলীয় নেতার পরিচয়ের বাইরে এসে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের নেতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন। সাদা কালো বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ওবামা। বিজয়ী ওবামাক আগামীদিনে শক্ত হাতে অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা মোকাবেলায় মনোনিবেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি আনয়নে, পরিবেশগত হুমকি মোকাবেলায় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ওবামা সামনের দিনগুলোতে দৃঢ়পদে এগিয়ে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্ববাসীর। ইত্তেফাক, লেখক: বিএসএস (সম্মান), এমএসএস আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV