Thursday, 22 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম.কেনেডির সেই বটগাছ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 155 বার

প্রকাশিত: February 16, 2012 | 12:56 PM

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: গ্রীষ্মের রুক্ষতা থেকে রক্ষা পেতে একটু শান্তির আশায় ওই যে গাছটি দাঁড়িয়ে আছে তার নিচে যাওয়া। রোদের কবল ও গরমের মধ্যে একটু শান্তি খোঁজা। ৪০টি বছর ধরেই শান্তির পরম জাল পেতেছে গাছটি। সেই বটগাছ। কেনেডির সেই বটগাছ। এই বটগাছটি যিনি রোপণ করেছিলেন তিনিও অসহায় বাঙালির পাশে ১৯৭১ সালে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম. কেনেডি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্বদিকে যেতে অপরাজেয় বাংলার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সেই বটগাছ। যেখানে প্রতিদিনই অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী বসে আড্ডা দেন। গরমের দিন বটগাছটির নিচে ভিড় থাকে সর্বদা। গতকাল গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছেন। এই বট গাছটির রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৭২ সালে মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডি ঐতিহাসিক এক সফর করেন বাংলাদেশে। ওইসময় তিনি কলা ভবনের সামনে একটি বটগাছের চারা রোপণ করেন। সেটি আজ বিশাল বটগাছে রূপ নিয়েছে। মার্কিন সিনেটর কেনেডির বাংলাদেশে আগমনের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দানকারী এ মার্কিন রাজনীতিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডি। বাংলাদেশের প্রতি তার মমত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ প্রশংসনীয়। স্বাধীনতার পরের বছর ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে বট গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। সেই চারা আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কও উত্তরোত্তর সুদৃঢ় হচ্ছে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করলেও ডেমোক্রেট দলীয় তখনকার সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডি বাংলাদেশের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানিদের পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের প্রতি ঘৃণা জানান এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে যেসব আন্তর্জাতিক নেতা প্রথম দিকে বাংলাদেশ সফর করেন  কেনেডি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৭১ সালে এডওয়ার্ড  কেনেডি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে সিনেট জুডিশিয়াল কমিটিতে প্রতিবেদন পেশ করেন। সেখানে ‘ক্রাইসিস ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে শরণার্থী পরিস্থিতিকে তিনি আধুনিক সময়ে মানবতার সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেন। ২০০৯ সালের আগস্টে কেনেডি ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। বটগাছের ঐতিহাসিকতা বর্ণনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আহমদ কবির (এলপিআর) বলেন, কলাভবন ঢাকা মেডিকেলের পাশে থাকার সময় ছাত্রদের আন্দোলন কার্যক্রম পরিচালিত হতো আমতলায়। পরবর্তীতে কলাভবন স্থানান্তরিত হওয়ার পর বটতলায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এটি রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে যায়। এই বটতলায় থেকেই ছাত্ররা আন্দোলন সংগ্রাম ঘোষণা করেন। এই বটগাছটি পাকিস্তানি বাহিনীর চক্ষুশূলে পরিণত হয়। অধ্যাপক কবির বলেন, ১৯৭১ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তানি বাহিনী বটগাছটি উড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭২ সালে এডওয়ার্ড এম কেনেডি বাংলাদেশে সফর করেন। তখন তিনি বটগাছের চারাটি রোপণ করেন। আজ সেটি বিশাল গাছে পরিণত হয়েছে। অধ্যাপক কবির বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে বটগাছটিকে কেন্দ্র করেই ছাত্ররা আন্দোলন সংগ্রাম করতো। স্বাধীনতার পরও ছাত্ররা বিভিন্ন দাবিতে বটতলায় একত্রিত হয়। তারা আন্দোলন সংগ্রাম ঘোষণা করে। নানা কারণেই বটগাছটি ঐতিহাসিক রূপ পেয়েছে। এডওয়ার্ড এম কেনেডির স্মরণে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও. ব্লেক বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাসহ অন্যারা বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, সিনেটর কেনেডি আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ঐতিহাসিক এক সফর করেন। কলা ভবনের সামনে তিনি একটি বটগাছের চারা রোপণ করেন। সেই চারাটি আজ বিশাল গাছে পরিণত হয়েছে। মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ