Saturday, 7 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ও সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম অব বাংলাদেশী কমিউনিটি’র ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
সব ক্যাটাগরি

মায়ের চরিত্রে অভিনয় সহজ, মা হওয়া কঠিন -কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 112 বার

প্রকাশিত: May 11, 2013 | 3:37 PM

ববিতা। যিনি আজীবন চলচ্চিত্রের পাশেই ছিলেন। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী শুধু তার অভিনয় জীবনেই সফল নন। একাধারে একজন মা হিসেবেও পরিপূর্ণ সফলতার মানুষ তিনি। নিজের কথা প্রসঙ্গে বারবার বলেন তাই ‘মায়ের চরিত্রে অভিনয় সহজ কিন্তু মা হওয়া কঠিন’। বিশ্ব মা দিবসে অভিনেত্রী ববিতাকে ছাপিয়ে একজন সফল মায়ের গল্প উঠে এসেছে তার কথায়। মা ও ছেলের এই ছবিগুলো ববিতার একেবারেই ব্যক্তিগত অ্যালবাম থেকে সংগৃহীত। বিনোদন পাঠকদের জন্য এই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রবি হাসান

আপনার মায়ের সাথে আপনার সম্পর্কটা কেমন ছিল?
এটা একেবারে খুব সহজভাবে বলা যায়, আজ আমি যে স্থানে এসে দাঁড়িয়েছি, তা শুধু আমার মায়ের অবদানের জন্যই। খুব বেশি বয়সে নয়, আমার মা ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সেই পৃথিবী ত্যাগ করেন। তারপরও সেই অল্প সময়ে মায়ের কাছ থেকে যা শিখতে পেরেছি তাই আমাকে আজকের এই স্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি একজন আদর্শ মা হওয়ার পাশাপাশি, কবিতাও লিখতেন, ডাক্তার ছিলেন। কথায় কথায় অনেক কিছুই বলতে হয়, আমি এ পর্যন্ত মিডিয়ার তেমন কারও সঙ্গে বিশেষ করে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে শেয়ার করিনি, তোমাকে বলছি—আমার একটা বোন মারা গিয়েছে, তার নাম জেলি। তার যখন চার বছর বয়স, ঠিক তখনই মারা যায়। তখন ভালো ডাক্তার ছিল না, ডাক্তারের চিকিত্সার দুর্বলতার কারণেই সে মারা যায়। আমার মা বলতেন, আমার জেলি নাকি এত সুন্দর ছিল যে, আমরা তিন বোন (আমিসহ সুচন্দা ও চম্পা) নাকি তার সৌন্দর্যের চারাআনাও পাইনি। জেলি মারা যাওয়ার পরই মায়ের মধ্যে এক ধরনের জেদ কাজ করে—শুধু ভালো চিকিত্সা না পাওয়ার জন্যই জেলি মারা গিয়েছে। জেলি মারা যাওয়ার পর মা ডাক্তারি বিষয়ে পড়াশোনা করে ডাক্তারি পাশ করেন এবং তার পাড়া-প্রতিবেশী যারা ছিলেন তাদের সবাইকে বিনে পয়সায় চিকিত্সা দিতেন। মায়ের ইচ্ছে ছিল আমিও ডাক্তার হবো, কিন্তু আমি পারিনি। কিন্তু মা আমাদের যেই শিক্ষা দিয়েছেন সেই একই শিক্ষায় আমরা সব কয়টা বোনই বড় হয়েছি। এত সুন্দর সম্পর্ক আমাদের মাঝে। আমিও শুধু চলচ্চিত্রে অভিনয় নয়, সামাজিক টুকটাক কাজগুলো করছি, ভালো সবকিছুর মধ্যে কিছুটা হলেও থাকার চেষ্টা করছি।
আপনার ছেলে অণিকের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা একটু শেয়ার করুন। বিশেষ করে মা-ছেলের সম্পর্কটার গভীরতাটা উল্লেখ করুন।
একইভাবে যদি বলতে চাই যে, আমার ছেলের কথা। তাহলে সেও আমার সেই আদর্শটাই পেয়েছে। আসলে একটা কমন জিনিস অনেকেই ভাবে যে, ববিতার ছেলে ফিল্মে আসবে হিরো হবে। অণিক ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়াতে সাংঘাতিক আগ্রহী ছিল। আমারও কথা ছিল যে, আগে লেখাপড়া করো, তারপরে দেখা যাবে বড় হয়ে কী হও না হও। নিজের চেষ্টায় কানাডায় চলে গেল, সেখানে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, কিছুদিন আগে খুব ভালো একটা রেজাল্টও করেছে। আমি বলব, নায়িকা হয়েও কিন্তু একজন আদর্শ মা হওয়া সম্ভব, যদি মন চায়। তবে মায়ের চরিত্রে অভিনয় সহজ, মা হওয়া কঠিন। আমার সন্তানের জন্য যতটুকু যা করার দরকার আমি তাই করেছি এবং সেও তার উত্তরটা বোধহয় ভালো রেজাল্ট করে আমাকে দিচ্ছে। মাঝেমধ্যেই ও আমাকে বলে যে, ‘মা তুমি আমার জন্য কত সেক্রিফাইস করেছ। নিজের গাড়ির জন্য কোনো ড্রাইভার রাখোনি, আমার জন্য ঠিকই রেখেছ। শুধু আমাকে বড় করার জন্য তুমি আরেকটা বিয়েও করোনি।’ অনেক সুন্দর করে বলে।
এমন কিছু ঘটনার কথা বলুন যা ভেবে আপনি নিজেকে গর্বিত মা মনে করেন।
গত মা দিবসে সে একটা কার্ড পাঠিয়েছে, সেখানে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা ছিল, যেমন একটা কথা লিখেছিল, ‘আই জাস্ট ওয়ান্টেড টু সে, হোয়াট এ গ্রেট মাদার আর ইউ’, আরেকটা কথায় লেখা ছিল, ‘আই অ্যাম সো লাকি ফর দ্যাট ইউ আর মাই মাদার’। আমি আমার মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি, ঠিক একইভাবে অণিকও তাই শিখেছে। একবার আমি অণিককে বললাম যে, তোমার পড়াশোনা হয়ে গেলে পিএইচডি কমপ্লিট হলে বিদেশে তোমাকে একটা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেব। কিন্তু সে বলে, ‘মা তোমার টাকা তুমি তোমার ইচ্ছেমতো স্বাধীনভাবে খরচ কর। আমি নিজের টাকায় করতে চাই। তোমার আছে বলেই যে, তুমি আমাকে দেবে আর আমি ইচ্ছেমতো খরচ করব, তা নয়।’ এটা শুনে সেদিন আমার মনে হয়েছে যে, আমি বোধহয় আমার ছেলেকে সত্যিকারের মানুষ করতে পেরেছি।
সন্তানের ক্ষেত্রে আপনার তারকাখ্যাতি কতটুকু কাজে লেগেছে?
আমি আমার জায়গায় আছি, কাজ করছি। সেটা যে ওর জন্য কাজে লাগিয়েছি তা কিন্তু নয়। আমিও চাইনি, অণিকও চায়নি। সে খুবই হ্যাপি যে, তার মা আন্তর্জাতিকখ্যাতিসম্পন্ন একজন শিল্পী। এ ছাড়াও সেদিন খুব খুশি হয়েছিল যখন জাতিসংঘ আমাকে বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আরও মজার কথা হলো—যখন ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে আমি স্পিচ রাখব তখন ওই স্পিচটা আমাকে সেই লিখে দিয়েছে। এত বড় মাপের একটি ইউনিভার্সিটিতে আমি বক্তব্য রাখছি, এটা ভেবেই সে অনেক খুশি। সেই বক্তব্যটা এত সুন্দর করে লিখেছে যে অবাক করার মতো। বাংলাদেশি একজন মায়ের জায়গা থেকে সম্পূর্ণ আবেগটা তুলে ধরেছে সে। আমি তার লেখা সেই স্পিচটাই ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে দিয়েছি।
বেশ ক’বছর ধরেই চলচ্চিত্রে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই চরিত্র নিয়ে শুটিং চলাকালীন কোনো একটি ঘটনা বলুন যা আপনাকে মাঝে মাঝেই ভাবায়।
সত্যি কথা বলি, আমি প্রথম দিকে যে ছবিগুলো করেছি তখন তো শুধুই নায়িকা। কিন্তু সত্যিকারের অভিনয়টা ফুটিয়ে তুলছি বোধহয় এখন। আগে নাচ-গান, হৈ-হুল্লোর-লাফালাফি বিভিন্ন ধরনের অভিনয় করেছি। এখন যেকোনো ছবিতে মায়ের ভূমিকায় ভালো ভালো ডায়লগ, ভালো ভালো সিক্যুয়েন্স থাকে। মাঝে মাঝে ভেতর থেকে কান্না আসে। এমন অনেক ঘটনাই আছে যখন শুটিংয়ে ছেলেকে ডায়লগ বলছি তখন অদ্ভুত এক আনন্দ উপভোগ করি। মাঝে মাঝে মন থেকেই কেঁদে দিতাম। মনে হতো যেন এই তো আমার অণিক। এতদিন কী অভিনয় করতাম, এখন তো মনে হয় আমি ঠিকমতো অভিনয় করতে পারছি। হ্যাঁ, অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছি, অসংখ্য অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও মনে হয় যেন, সঠিক অভিনয়টা বোধহয় আমি এখনই করছি।ইত্তেফাক

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV