যখন একটি সরকার বিশ্বের যেকোনো স্থানে, যেকোনো সময় ও যে কারো ওপর হামলার ক্ষমতা আছে বলে দাবি করে, তখন তারা আসলে আইনের শাসনকেই খাটো করে
ডেস্ক : ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলা চালিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মানুষ হত্যা করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বে ঘৃণার মাত্রা বাড়ছে। বিপরীতে জনপ্রিয়তা বাড়ছে আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর। গত মঙ্গলবার এক শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা এমনই অভিমত দিয়েছেন। সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে ‘ড্রোন ওয়ারস : দ্য কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড কাউন্টারটেরোরিজম ইমপ্লিকেশনস অব টার্গেটেড কিলিং’ শিরোনামের শুনানিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সিনেটরদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ড্রোন হামলার বৈধতা এবং এ ধরনের হামলার পরিণাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দুপক্ষের সিনেটররাই রণক্ষেত্রের বাইরে ড্রোনের ব্যবহারের ওপর কড়া নজরদারির দাবি করেন। ইয়েমেনের ফারিয়া আল-মুসলিমি নামের এক ড্রোনবিরোধী আন্দোলনকর্মী সিনেট কমিটিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার কারণে ইয়েমেনে আল-কায়েদার সমর্থন বাড়ছে, ইয়েমেনিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব জোরালো হচ্ছে এবং ইয়েমেন সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি বলেন, ‘আমার গ্রামের অধিবাসীরা সব সময়ই আতঙ্কে থাকেন, কখনো না কখনো নিজের বা প্রতিবেশীর বাড়ি মার্কিন ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়। মৌলবাদীরা যা পারেনি, একটি ড্রোন হামলাই তা করতে সহায়তা করছে। গ্রামবাসীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রাগ ও ঘৃণা বাড়ছে।’ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেও ড্রোনবিরোধী জনমত প্রকট হচ্ছে। সন্ত্রাসী সন্দেহে যে কারো ওপর ড্রোন হামলার বৈধতা নিয়েও মার্কিন প্রশাসন কংগ্রেসের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন সিনেটর রিচার্ড জে ডারবিন। তিনি জানান, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মতো যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ চালাচ্ছে না, সেসব স্থানে ড্রোন হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আরো স্পষ্ট করে যদি বলি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণহানি ও সম্পদ লোকসানের হিসাব করলে ড্রোনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড অনেক সহজ ও সস্তা। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণামও আছে, বিশেষ করে যখন এ ধরনের হামলায় বেসামরিক লোকজন মারা যাচ্ছে।’ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার এক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ড্রোন হামলার নীতিমালা-সংক্রান্ত এক প্রস্তাব পাস হয়। সামরিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন বাস্তবতার কারণেই ড্রোন ব্যবহারের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ড্রোনসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন। পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা ও জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক রোজা ব্রুকস বলেন, স্পষ্ট আইনি কাঠামো থাকলে ড্রোন ব্যবহার নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ‘এখন পর্যন্ত যারা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক বা নিহত হয়েছে, হয়তো এটা তাদের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু যখন একটি সরকার বিশ্বের যেকোনো স্থানে, যেকোনো সময় ও যে কারো ওপর হামলার ক্ষমতা আছে বলে দাবি করে, তখন তারা আসলে আইনের শাসনকেই খাটো করে।’ সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।কালের কণ্ঠ
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests