Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীনকার্ড ও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়লো

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 11 বার

প্রকাশিত: June 23, 2020 | 2:08 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক. নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীনকার্ড ও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়লো। বিদেশী শ্রমিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যুতে আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আগেই তিনি গ্রিনকার্ডধারী এবং কিছু বিদেশী শ্রমিকের বিরুদ্ধে ভিসা ইস্যু স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবার তার মেয়াদ আরো বাড়িয়েছেন। করোনাভাইরাসের প্রকোপে বেকার হওয়া আমেরিকানদের অধিকাংশই এখন পর্যন্ত কাজে যোগদানে সক্ষম না হওয়ায় পারিবারিক কোটায় গ্রীনকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিরুদ্ধে গত ২২ এপ্রিল ৬০ দিনের যে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল তাকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলা হয়েছে, এসব ক্যাটেগরিতে এ বছর শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকবে। এর আওতায় পড়বেন উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মী, কৃষিনির্ভর নয় তবে মৌসুমী কাজে সাহায্যকারী এবং শীর্ষ স্থানীয় নির্বাহীরা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে যেসব মার্কিনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের জন্য কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, প্রশাসন যে ভিসা ইস্যু করার সিদ্ধান্ত ‘ফ্রিজ’ করেছে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষ। এর মধ্যে রয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ, বিদেশী এসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য নতুন গ্রিনকার্ড পেয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর আগে এপ্রিলে এমন স্থগিতাদেশ প্রথম দিয়েছিল হোয়াইট হাউজ। সেই নির্দেশই সোমবার নতুন করে বর্ধিত করা হলো। তবে এরই মধ্যে যারা ভিসা হাতে পেয়েছেন তারা সোমবারের ঘোষিত নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না বলে মনে করা হচ্ছে। এই নির্দেশের আওতায় থাকবেন এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারীরা। এর মধ্যে বেশির ভাগই ভারতীয় প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মী। সমালোচকরা বলছেন, এসব ভিসার মাধ্যমে সিলিকন ভ্যালির কোম্পানিগুলো কম বেতনের বিদেশী কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ দিয়েছিল। গত বছর এইচ১-বি ভিসার জন্য ৮৫ হাজার পদের জন্য আবেদন পড়েছিল প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার।

এ ছাড়া এই নির্দেশের অধীনে পড়বেন এইচ-২বি ভিসার আবেদনকারী মৌসুমী কর্মীরা। এর মধ্যে রয়েছেন হাসপাতাল বিষয়ক শিল্প, কৃষিখাতে নয় এমন মৌসুমী শ্রমিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবামুলক পেশা। এই নির্দেশে আওতায় আরো রয়েছেন জে-১ স্বল্পমেয়াদী এক্সচেঞ্জ ভিসা। এটি এমন একটি ক্যাটেগরি যার আওতায় রয়েছেন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী, বাসাবাড়িতে শিশুদের দেখাশোনাকারী কর্মী। তবে আওতার বাইরে রয়েছেন প্রফেসর ও স্কলাররা। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন এল ভিসার আবেদনকারীরাও। এর আওতায় রয়েছেন ম্যানেজার ও বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মীরা।

২২ জুন সোমবার অপরাহ্নে এক প্রক্লামেশনে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজারের জন্যে হুমকিস্বরূপ কোন বিদেশীকে অভিবাসন, নন-অভিবাসন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি দেয়া হবে না। কারণ, গ্রীনকার্ড নিয়ে যারাই আসবেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সকল সেক্টরে কাজে নিয়োজিত হবার অধিকার পান। তারা যদি স্বল্প মজুরিতে কাজে ঢুকে পড়ে তাহলে করোনার কারণে বেকার হওয়া আমেরিকানরা বেকারই থেকে যাবেন।’ এই ঘোষণাপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ১০০১৪ নম্বরের সেই ঘোষণাপত্র জারির পর শ্রম মন্ত্রণালয় এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয় নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রামের গতি-প্রকৃতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছেন। তারা অনুধাবন করেছেন, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আগতরাও বেকার হয়ে থাকা আমেরিকানদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় একটি হুমকি। করোনার তাণ্ডবে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার স্বার্থে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ব্যাপারটিও একই সময় পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হচ্ছে। 

ঘোষণাপত্রে উল্লখ করা হয়েছে, বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিদেশী শ্রমিকের মতোই আমেরিকান শ্রমিকেরাও অত্যন্ত যোগ্য যে কোন সেক্টরে কাজের জন্য। এমনকি যারা সাময়িক ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে প্রতি বছর কাজের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তাদের চেয়েও অনেক বেশী যোগ্য আমেরিকান শ্রমিক-কর্মচারিরা। 

উল্লেখ্য, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে আগতদের অনেকেই স্ত্রী/স্বামী-সন্তানসহ যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তারাও আমেরিকান কর্মজীবীদের জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে পড়েন। কারণ, তারাও বিভিন্ন সেক্টরে কাজে নিযুক্ত হন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে সাময়িক সময়ের কাজের জন্যে বিদেশী শ্রমিক-কর্মচারিদের অনুমতি প্রদানকে আইনসিদ্ধ করা হলেও বর্তমানের অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতিতে তা মোটেও কল্যাণকর হতে পারে না। 

উদাহরণ হিসেবে এই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় এক কোটি ৭০ লাখের অধিক আমেরিকান চাকরি হারিয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণের জন্যে এইচ ২-বি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর পক্ষে রয়েছে ঐসব কল-কারখানার মালিকেরা। একইসময়ে  আরও ২০ মিলিয়ন অর্থাৎ দুই কোটি আমেরিকান বেকার হয়ে পড়েছেন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-কারখানায়। সে সব স্থান পূরণে যদি এইচ-ওয়ান বি এবং এল ভিসায় বিদেশী লোক আনা হয় তাহলে আমেরিকানরা বেকারত্ব লাঘবের সুযোগ পাবে কোথায়? 

ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ইতিপর্বে জারিকৃত আদেশে যেভাবে বলা হয়েছে যে, করোনার তাণ্ডবে বেকার হওয়া আমেরিকানদের স্বার্থে ইমিগ্র্যান্ট এবং নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখতে হবে। বিশেষ করে বেকার হয়ে পড়া আফ্রিকান-আমেরিকান, যারা উচ্চতর ডিগ্রিধারি নন এবং ঐতিহাসিক কারণে যারা দক্ষতাপূর্ণ কর্মীতেও রূপান্তরিত হতে পারেননি, তাদের স্বার্থ আগে সংরক্ষণ করতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপরোক্ত ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ও নন-ইমিগ্র্যান্ট (বিশেষ পরিস্থিতি ব্যতিত, যেমন সিটিজেনদের স্বামী/স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা) ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে ২৪ জুলাই এবং তারপরের প্রতি ৬০ দিন অন্তর শ্রম মন্ত্রীর সাথে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী পরামর্শ করবেন এই স্থগিতাদেশের আলোকে। প্রয়োজনে তারা এই আদেশ বাতিল অথবা দীর্ঘতর করার পরামর্শ দিতে পারবেন হোয়াইট হাউজকে অর্থাৎ তাদের সুপারিশের ওপর নির্ভর করছে এই স্থগিতাদেশের কার্যকাল। বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ বহাল থাকবে। 

এই আদেশে আরো বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য-সামগ্রি সরবরাহের কাজের জন্যে বিদেশী শ্রমিকেরা আসার অনুমতি পাবেন। পররাষ্ট্রমস্ত্রী অথবা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী অথবা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ জাতীয় স্বার্থে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর অনুমতি দিতে পারবেন। একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, এর উদ্দেশ্য মহৎ এবং উজ্বল। এটা অর্থনীতির জন্য খুবই মূল্যবান সিদ্ধান্ত। সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক মার্ক ক্রিকোরিয়ান এই পদক্ষেপের পক্ষে। তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, মার্কিনিদের কর্মসংস্থানকে সুরক্ষিত রাখতে এটা একটি বড় পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আমেরিকান সিভিল ইউনিয়ন। তারা বলেছে, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে করোনা মহামারিকে ব্যবহার করে অভিবাসন আইনকে নতুনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে অনেক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, যারা বিদেশী শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। নতুন এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়ে এ মাসে একটি চিঠি লিখেছে চেম্বার অব কমার্স। তাতে বলা হয়েছে, অর্থনীতি যখন প্রত্যাবর্তন করছে তখন কর্মশক্তির চাহিদা মেটাতে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিশ্চয়তা প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন মেটাতে যেমন দেশের ভিতরকার, তেমনি বিদেশী মেধাবী শ্রমিক প্রয়োজন।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV