Sunday, 26 July 2026 |
শিরোনাম
DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রে ঘাতক ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 31 বার

প্রকাশিত: August 29, 2012 | 12:44 PM

Details

শহীদুল ইসলাম : যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ইস্ট হার্টফোর্ড প্রবাসী বাংলাদেশি লুত্ফর রহমান তরফদার বেলালের খুনি কৃষ্ণাঙ্গ যুবক কেজলিন মেন্ডেজকে গত সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মেন্ডেজকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করেছেন তারই মা লিয়াথা ম্যাকফারল্যান্ড। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টার দিকে বেলাল তরফদারকে (৪৭)  তার কর্মস্থলে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে মেন্ডেজ। এসময় সে ক্যাশও লুট করে।  এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে মেন্ডেজের মা সোমবার দুপুরে পুলিশ ডেকে ছেলেকে ধরিয়ে দেন।

লিয়াথা পুলিশকে জানান, বেলাল খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে লিয়াথার বেশ জানাশোনা ছিল। ছেলেকে অনেকদিন থেকেই তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। সম্প্রতি সে জেল থেকে মুক্তি পায়। ছেলে হলেও বেলালকে খুন করার পর তিনি বিবেকের তাড়নায় পুলিশকে জানাতে বাধ্য হন।

ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে লিয়াথা বলেন, এ খুনের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে  শোকাহত। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেলালের কর্মস্থল কনভিনিয়েন্ট স্টোর থেকে তিনি সবসময় কেনাকাটা করতেন। তিনি এ খুনের ঘটনায় ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। নিহতের পরিবারের কাছে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইবেন বলেও জানান।

কানেকটিকাটে শোকের ছায়া:বেলাল তরফদার খুনের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নয়, সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে কানেকটিকাটে শোক পালন করছেন সেখানকার বাসিন্দারা, যাদের বেশিরভাগই আমেরিকার জনগণ। বেলালের কর্মস্থল কনভিনিয়েন্ট স্টোর এইচ ফুড মার্টের প্রধান ফটকের সামনে শত শত মানুষ ফুল দিচ্ছেন এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যার পর কুইন্সের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে বেলাল তরফদারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী জানাজায় শরীক হন। পরে তার মরদেহ নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে দাফন করার কথা।

নিহত বেলাল তরফদারের ভাই গোলাম তরফদার বলেন, আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। তিনি বলেন, মার্কিন মুল্লুকেও জীবনের নিরাপত্তা নেই। তবে ঘটনার পর পুলিশের ত্বরিত পদক্ষেপে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বেলাল তরফদারের প্রতিবেশী হেলেন ডুপারি খুনি মেন্ডেজের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে বলেন, আমরা চাই না কানেকটিকাটে এ রকম আর কোনো ঘটনা ঘটুক।

বেলাল তরফদারের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলায়। দীর্ঘদিন তিনি নিউইয়র্কে ছিলেন। সন্তানের পড়ালেখার সুবিধার্থে ৩ বছর আগে নিউইয়র্ক ছেড়ে সপরিবারে পাশের কানেকটিকাট রাজ্যের ম্যানচেস্টার এলাকায় বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ বেলাল নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ক্যাব চালকদের অন্যতম সংগঠন ইয়েলো সোসাইটির সাবেক সভাপতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং কানেকটিকাট স্টেট আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়:এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে একের পর এক খুন ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মার্কিন মুল্লুকে বেশ তোলপাড় চলছে। সর্বশেষ বাংলাদেশি বেলাল তরফদার খুনের ঘটনাটি মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে। ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে ১৭৯১ সালে করা মার্কিন নাগরিকদের অস্ত্র বহন অধিকারের আইনটি। এই আইনটি বলবত্ থাকায় বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে প্রাণ হারাচ্ছে বহু মানুষ। এটি এখন আমেরিকার জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে এ সমস্যা আরও প্রকট। রাজ্যের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এর হিসাব মতে, শুধু ২০০৫ সালে নাগরিকদের হাতে বন্দুকের গুলিতে ওই রাজ্যে ৩০ হাজার ৬৯৮ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে, যার গড় হিসাব প্রতিদিন ৮৪ জন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV