যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুলের নিরবতায় ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ‘গত নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নীতি-নির্দ্ধারকদের সীমাহীন ব্যর্থতা এবং বহুল বিতর্কিত ঐ নির্বাচনের পরও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখিনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সবসময় অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে আমি বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছি’-এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুৃল লতিফ স¤্রাট।
‘গণতন্ত্রের প্রতিক বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের বর্ষপূর্তির দিনের কর্মসূচি বাতিল করে চিকিৎসার নামে সিঙ্গাপুর গিয়ে সেখান থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি গোপনে ওয়াশিংটন ডিসিতে এসেছেন মীর্জা ফখরুল। গোপন কথাটি প্রকাশিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের স্বস্তি দেয়ার অভিপ্রায়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কে বিলাসবহুল এক হোটেল-স্যুইটে ৭ নেতাকে ডেকেছিলেন ফখরুল। সেটিও ছিল গোপন ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক। তাহলে বিএনপি কি নিষিদ্ধ কোন রাজনৈতিক দল’-এনআরবি নিউজের কাছে ১৬ ফেব্রুয়ারি এমন মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী।
ফখরুলের ঐ বৈঠকে সাড়া দেননি স¤্রাট এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ডা. মজিবর রহমান মজুমদার। ৫ জন সাড়া দিয়েছিলেন। এরা হলেন গিয়াস আহমেদ, শরাফত হোসেন বাবু, মোস্তফা কামাল পাশা বাবূল, জিল্লুর রহমান এবং জসীম ভ’ইয়া। তাদের বৈঠকের সময় মিল্টন ভ’ইয়া নামক অপর এক নেতা ছবি উঠালে ক্ষেপে যান ফখরুল। এক পর্যায়ে সেই ছবি ডিলিট করা হয় বলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারিরা এ সংবাদদাতাকে জানান। বৈঠকে অংশগ্রহণকারিদের অন্তত: দু’জন নাম গোপন রাখার শর্তে আরো জানান, ‘লন্ডনের গ্রীণ সিগন্যাল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার। এজন্যেই ফখরুল শীর্ষনেতাদের সাথে কথা বললেন। ঢাকায় ফিরেই নতুন কমিটি দেবেন।’ ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন প্রবাস থেকেই জোরদারের আহবান জানিয়েছেন ফখরুল। কারণ বাংলাদেশে ভয়ংকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রাণের ভয়ে কেউই রাস্তায় নামতে সাহস পাচ্ছে না’-ফখরুল উল্লেখ করেছেন বলেও নেতারা জানান।
বৈঠকে অংশ নেয়া এক নেতা জানান, ‘নির্বাচনে ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে লাগাতার ধর্মঘটের কর্মসূচি কেন দেয়া হচ্ছে না’-এমন এক প্রসঙ্গে ফখরুল বলেছেন, ‘সেটি সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অধিক বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশে। তারা এমন কর্মসূচিকে পছন্দ করছে না। সবদিক ভেবেই এগুতে হচ্ছে। তাই হতাশ হবার কোন কারণ নেই। বিএনপি অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে আগের মতোই’।
২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এরপর মীর্জা ফখরুল কয়েক দফা যুক্তরাষ্ট্রে এসে নতুন কমিটির আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেটি ঘটেনি। এজন্যে অধিকাংশ নেতা-কর্মীই ব্যথিত, ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। সকলেই লন্ডনে তারেক রহমানের নির্দেশের অপেক্ষা রয়েছেন। ‘এটি অবহিত হবার পরই ফখরুল এই ৫ নেতাকে জানিয়েছেন যে, নতুন কমিটির ব্যাপারে লন্ডনের গ্রীণ সিগন্যাল রয়েছে’-জানান ঐ বৈঠকে উপস্থিত বিলুপ্ত কমিটির এক নেতা।
ফখরুলের আমন্ত্রণ প্রত্যাখানকারি স¤্রাট ক্ষোভের সাথে এনআরবি নিউজকে আরো বলেন, ‘বিগত দিনে এই যুক্তরাষ্ট্রের নেতা-কর্মীরা অনেক ত্যাগ শিকার করেছেন। কখনোই ন্যূনতম ম্যলায়ন করা হয়নি। এমনি অবস্থায় ২০১১ সালে আমার নেতৃত্বাধীর কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। এরপর ৮ বছর অতিবাহিত হচ্ছে, নতুৃন কমিটি দেয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি হয়েছে, কিন্তু একজনকেও নেয়া হয়নি যুক্তরাষ্ট্র থেকে। অতি সম্প্রতি বৈদেশিক বিষয়ক একটি কমিটি ঘোষিত হলো, সেখানেও নেই যুক্তরাষ্ট্রের কেউ।’
ওয়াশিংটনে ‘৬৭তম বার্ষিক ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন মীর্জা ফখরুল। সে অনুষ্ঠানে শতাধিক দেশের সহ¯্রাধিক লোক অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন। ছিলেন সিনেটর, কংগ্রেসম্যানরাও। তবে ঐ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার সাথেই ফখরুলের সাক্ষাত ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির একজন নেতা। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক এবং বিভিন্ন এলাকা পরিভ্রমণ করেছেন ফখরুল। ‘তার ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়কে নিয়ে নিতান্তই বিলাসবহুল ঘোরাফেরা করার ঘটনাটি জানাজানি হলে তৃণমূলের কর্মীরা ক্ষেপে উঠেন। এথেকে পরিত্রাণের জন্যেই ৭ নেতাকে ডেকেছিলেন হোটেল স্যুইটে’-উল্লেখ করেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির নেতা সাঈদ।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ প্রসঙ্গে এ সংবাদদাতাকে আরো জানান, গত বছরও এসেছিলেন ঝটিকা সফরে। জাতিসংঘের নি¤œস্তরের এক কর্মকর্তা এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসারের সাথে বৈঠক করেছিলেন। সে সময় মির্জা ফখরুল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কাউকে পাত্তা দেননি। এমনকি এক পর্যায়ে বলেছিলেন যে, ‘এদেশে বিএনপি করার দরকার কী?’ এভাবেই তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়েন সীমাহীন কার্পণ্য করেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আরেক নেতা ও মার্কিন ডেমক্র্যাটিক পার্টির সংগঠক আকতার হোসেন বাদল ক্ষোভের সাথে এনআরবি নিউজকে বলেন, ‘ম্যাডাম জেলে। তার মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার হবার ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে বিএনপির তৎপরতার বিকল্প নেই। সে তাগিদেই যোগ্য নেতাদের সমন্¦য়ে নতুন কমিটির প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু সেটি না করে মাত্র ৫ জনকে নিয়ে মির্জা ফখরুল বৈঠকের নামে যা করলেন তা আরো হতাশ করবে সকলকে।’
যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন এবং জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম ফারুক শাহীন পৃথক পৃথকভাবে এনআরবি নিউজকে বলেন, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন জোরদার করার স্বার্থেই মির্জা ফখরুলের উচিত ছিল সকলকে নিয়ে একটি কর্মী সভা করার। তা না করে গোপনে ৫ জনের ঐ বৈঠকে দলীয় কোন্দল-বিভক্তিকে আরো উষ্কে দেয়া হলো।’ ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা মীর্জা ফখরুলের। এনআরবি নিউজ
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.
- New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements
- নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
- রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- মেরিল্যান্ডে বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউ জার্সির এগ হারবার সিটিতে শিবলীলা মঞ্চস্থ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল, স্টেট এ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদানের চেক হস্তান্তর এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমারের








