যুক্তরাষ্ট্রে রাজ্য প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী ভান্ডারিয়ার আবুল
গত ৬ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে ভান্ডারিয়ার আবুল খান বিজয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক হিসাবে আবুল খানই প্রথম ব্যক্তি, যিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
আবুল খান ওই নির্বাচনে রাজ্যের সি ব্রুক শহর থেকে নির্বাচিত হন। তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী খান লজ বাড়ির মাহাবুব উদ্দিন খান কাঞ্চনের বড় ছেলে। মাহাবুব উদ্দিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী সচিব ছিলেন।
চাচাত ভাই বিএনপির নেতা মহিউদ্দিন খান দিপু জানান, আবুল খান প্রচার বিমুখ মানুষ। ছেলে বেলা থেকে তার নেতৃত্ব দানের আগ্রহ ছিল। বিদেশের বুকে তার এই নেতৃত্ব এবং সাফল্যের খবরে আমরা গর্ববোধ করছি।
আবুল খানের জন্ম ১ মার্চ, ১৯৬০। তারা দুই ভাই, দুই বোন। ভাই ও বোনদের মধ্যে তিনি সবার বড়। ঢাকার মুসলিম গভঃ হাইস্কুল থেকে ১৯৭৬ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৭৮ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে তিনবছর পড়ার পর স্টুডেন্ট ভিসায় ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। আমেরিকা বসবাসরত অবস্থায় ১৯৮৪ সালে নিজ জেলা পিরোজপুরের মরজিয়া খানকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির ঘরে ছেলে আতিক খান ও মেয়ে নূসরাত জাহান নামের দুই সন্তান রয়েছে ।
যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রথম জীবনে তিনি নিউইয়র্ক শহরে ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি নিউ হ্যাম্পশায়ার সিটির সি ব্রুক শহরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্রয় করেন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ছাড়া সেখানে একটি গ্যাস স্টেশনও ছিল।
২০০৫ সালে সি ব্রুকে প্লানিং বোর্ডের সদস্য হিসাবে প্রথম নির্বাচনে দাঁড়ান আবুল খান। চার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়ে সেটাই ছিল তার প্রথম জয়। এরপর ২০০৬ সালে ওই শহরের বাজেট কমিটির সদস্য পদে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে সি ব্রুক বোর্ড অব সিলেক্টম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তৃতীয় দফায় বিজয়ী হন। ২০১১ সালে সি ব্রুকে তিনবছর মেয়াদে ওই পদে পুনরায় তিনি নির্বাচিত হয়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টসহ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।
সর্বশেষ ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিউহ্যাম্পশায়ারে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্য পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এ পদে তিনিই একমাত্র বাঙালী যিনি প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হয়েই এ নির্বাচনে অংশ নেন। গত ৫ ডিসেম্বর ওই পদে তিনি আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন। এ শপথের পর তিনি ওই শহরের বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও এনার্জি বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
আবুল খান ইত্তেফাককে বলেন, আমি জীবনে কোন প্রচার চাইনি বলে আমার নিজের গ্রামে স্বজনদেরও আমার রাজনৈতিক পেশা সম্পর্কে জানাইনি। তবে দেশের হয়ে কাজ করতে চাই। সেবা করতে চাই। বাংলাদেশ আমার বাড়ি ঘর। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা আজও আমি ভুলিনি। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় কষ্ট পাই। আমি উত্কৃষ্ট গণতন্ত্র সি ব্রুকে দেখছি ওটা বাংলাদেশেও দেখার স্বপ্ন দেখি।
ভান্ডারিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার জানান, তার সাফল্যের খবরটি জানতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। অনেক খারাপ খবরের ভিতর একটি সুখবর এটি। ইত্তেফাক
- DRIVER CHARGED WITH MANSLAUGHTER IN DEADLY HIT-AND-RUN IN MARCH ON JAMAICA AVENUE
- নিউইয়র্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়াকে সংবর্ধনা, কুমিল্লা বিভাগ শুধু সময়ের ব্যাপার
- UN General Assembly Adopts Bangladesh-Led Culture of Peace Resolution
- বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests